রন্ধনভাগ

অগ্নিজিৎ

গপ্পো
সেই চাতালে সপ্তাহ মানেই রোববার। পত্রপাঠ গুটিয়ে রাখা। বুড়ো, খুড়ো এবং আরোদের জমায়েত। এইসব না শহরগুলোর আশেপাশে, মন্দির মানেই, ভেঙে পড়া দেবতা। স্থানীয় দেবতাদের মহিমা বাড়ে, স্বাস্থ্য নয়। নামে আর মানে পুরনো রয়ে যায়।
চাতালে ঝুড়ি নামায় বট। উত্তরাধিকার সূত্রে ছায়া পায় প্রজন্ম। মিঠা, কড়া, চাখা চা বারবার। উড়ে উড়ে যাওয়া পার্বণ। নতুন খবরে কার বাড়ি, তোড়জোড়ে দুগ্‌গাঠাকুর, কুশীলবহীন নাটকের মঞ্চভাবনা। কটা বইএর ঢুকে পড়া লাইব্রেরীর তাকে।
এখানে যান এবং বাহন মানেই সাইকেল। কার পালা এবারে হিজবুলের হাসপাতাল ভ্রমণের!!!
আর কিছু না হোক দিন গড়িয়ে যায়। ফুটবলে পাম্প দিলেই সংকেত বৃষ্টির। পুকুর ডুবে থাকে কাদামাখা ঝাঁপ ধরবে বলে। ইঁটভাটার পেছনে তখন দেরি হওয়ার কৈফিয়ত। বাদলের মা এখনও ভাবে চিঠি আসবে। গোবর জলে উঠোনের flooring। শুধু শীতলপাটির গায়ে ধুলো জমে ওঠে।
যা কিছু দেখা যায় না তা আসলে ঘটেই না এখানে। শামুক খোলের বাইরে মানেই সন্ধ্যা ছুঁয়েছে মাটি। এ-ঘর ও-ঘর থেকে শাঁখ আর নামতার সুর বদল হয়। আকাশ দেখা মাদুর। তুলসিতলা অভিমান ভাঙে। বাল্মিকি প্রতিভায় ব্যাসদেব হন। মহাভারত আলো করে হ্যাজাক। ঘরে ঘরে পিতামহ শিড়দাঁড়া সোজা করেন। এখানে অনুষ্ঠান হলেই নিমন্ত্রিত, না হলে ধুনোর গন্ধ পালটে ভাত। ঝিঁঝির শিসে রাত গায়।
না শহরগুলো ঝিমিয়ে পড়ে। দূরে ট্রেনের আওয়াজ। কেউ এলো, না চলে গেলো, বোঝা যায় না।
প্রথম গাড়ির ঘুম ফেরত একটা লোকাল ভোর উঠে পড়ে। রেডিয়োর স্টেশন আর দাঁতন খুঁজতে খুঁজতে সেই চাতালে, ঝুড়ি বেয়ে আরও একটা সপ্তাহ অথবা রোববার নেমে আসে।

অলৌকিক
শব্দের নীল থেকে গ্রহ নামে
ফেরতাই রঙের উপবাস ভাঙে
আয়েসি উপত্যকা
সামান্য স্থলভাগেও অভিযোগী আকাশ
জলাজল থাকে প্রসঙ্গে

আয়
তোকে পাঠের হাজিরা দিই
কেতাবের জানলা উপুর হয়ে আসে
পরিচিত ভাঁজের পিছু পা
বেলা ডিঙিয়ে আসে চৌকাঠ

চাঁদখোর একটা তারিখ
সেদিন গাছালিরাও নিঃসন্তান
তোর রূপ থেকে

অধ্যায় খসে পড়ে

রন্ধনভাগ
তুমিও বাজার মোতাবেক ধার্য
তোমারও রন্ধনপ্রণালী আছে
স্বাদ
গুণ
মাপ আছে
বাসিমুখ সেঁকা আছে
রুচি বুঝে পালটে যাওয়াও

যে খাদ্য তার পাচন বোঝে না
তাকে অরন্ধন দিই ব্যঞ্জনবর্ণে

স্বল্পাহারে বিষক্রিয়া দেয় রাষ্ট্র
গুরুতর হয় পাক

যদি বিষের বদলে ভাবো ঈশ্বরকণা
জেনো আবিস্কারকেরও গ্রাহক আছে