কাকতাড়ুয়া

জিনাত জাহান খান

শরৎ সমগ্র

শরৎ এলেই আমার জ্বর হত। শরীরের ভেতরে কেঁপে কেঁপে উঠত অসম্ভব শীতলতা । যেন বাঁকানো ছুরি কেটে যাচ্ছে সমস্ত শিরা। রক্ত জমে জমে বরফ । আর বরফের ভেতরে একটা মাছের মত ছটফট করতাম আমি । জিহবা শুকিয়ে আসত । তখনই , মুখের কাছে লেবুর গন্ধমাখা বাটিভর্তি সাদা বার্লি তুলে ধরতে তুমি ।

আমার কাছে শরৎকালের স্মৃতি এরকমই


কাকতাড়ুয়া

আমাকে ঘিরে ধরেছে যে ঘর, তার পাশে বারান্দা; আমি বেড়িয়ে যেতে চেয়েছি এইসব প্রচলিত থেকে যাওয়া থেকে; কারণ আমার আলাদা ভ্রমণের ফ্যাঁকাসে শীতকাল কনকন করে কেঁপে এলোমেলো করে স্বচ্ছতার ধরন! ভ্রমণ, পাশে শুয়ে থাকো; ঘনিষ্ঠ জড়াজড়ি করে তুফান আনি জলে । তোমাকে যে তাড়াতে চায় তাকেই ভালোবাসো, কাক । তাহলেই ফসল বাঁচানোর একঘেয়ে প্রতিরোধ থেকে বেঁচে যাবে কৃষক ।
জীবন, দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোমার খোলস হয়ে! আমাদের কোন ব্যথা নেই একথা আমি বসন্তকে বলে রেখেছি।


মৌলিকত্ব

আমার শৈশবে তুমি এসেছিলে , উড়ন্ত কাছিম । স্কুল ব্যাগে রেখে , হারমোনিয়াম জুড়ে বাজিয়েছি ঢেঊ ঢেঊ সুর সেই সমস্ত বিকাল । তোমায় আড়াল করি। ব্যাগের অন্ধকার থেকে, ঘষে ঘষে মুছে দিই দৈনন্দিন ইরেজারে। তবুও এখন , নির্জনতার দাগ ধরে ধরে উঠে আসো। আমার আশ্চর্য রান্নাঘরে

ভয় করে , আজ আমার সত্যি ভয় করে