একটি পাহাড়ের মুখোমুখি

অনুরাধা বিশ্বাস

আমাদের পথক্লেশ দেবতাকে তুষ্ট করেছে। শ্যাওলাপড়া নৌবহরের
ইঞ্জিন হতে ঐ তার ধোঁয়াধূসর হাসি – শত শত মিতবাক বাহন, পরিচর্যাহীন সাম্পান
ও ট্রলার বৃদ্ধ কুমিরের মতো ভেসে রয়েছে। এরপরে চাঁদ উঠবে গোটা সমুদ্র আলো
করবার মত জনপ্রিয়, স্পীডবোটের দুর্দান্ত শব্দ জ্যোতস্নার সর ভেঙে দেবে।
জীর্ণতার প্রতি তার অনুমোদন আছে,
আমাদের স্বেদ ও ঈর্ষা, নীল ফুলের মতো তিক্ত হৃদয়ের পরে হাত রেখে
জানালেন এই পথশ্রম, মেঘের ঘন বিপদ এক স্থায়ী ও সহনীয় পীড়ার
মতই সুন্দর। যে দেশের বর্ষা মনে ধরে, সেইখানে ঘর বাঁধা যায় – এ নিরীহ
বিশ্বাসে আমরা এসে পড়েছি সমুদ্রশহরে। মানুষের পোশাকে রুমালে চেরিফুল,
হাওয়ায় মাছের গন্ধ। কাঁটাতার বাগান পেরিয়ে সুদৃশ্য পাহাড়ি পথ গেছে
হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরের সন্ধানে। একটি ফুলের হাসি, এই অসময়ে কিছুমাত্র
পাথেয় নয়। ভালো নয় হাওয়ার সখ্য, মসৃণ ফলের বন্ধুতা। আমাদের দূর্লংঘ্য স্মৃতি,
বেঁকে যাওয়া পিঠ ও আঙুলের অবশ রূপ দেবতাকে তুষ্ট করেছে। কাপড়জড়ানো ক্ষতে
ঐ তার নিঃখুত সজল হাসি।


প্রিয়জনের অনিদ্রা লেগেছে দুহাতে। তার জেগে থাকার নিদারুন শোভায়
ঘর ভেসে যাচ্ছে – ভাঙা দরজার মতো অপরূপ এক স্নেহের কথা
লিখতে বসে অঞ্জলি ভরে উঠেছে রঙ্গনে। লাল ফুল, তাকে হৃদয়ের মুকুটে রেখেছি।
একটি পায়রার ডিম ছুঁয়ে নেশা হয়েছিল আমাদের। প্রাণ,এত প্রকৃত
ও নিরুপদ্রব, কি অসম্ভব ছিল আমাদের বন্ধকামরায় তার ঠাঁই । সেইদিন
ঠান্ডা তালুর ছোঁয়া লাগে এক শিশুনক্ষত্রে – সে জ্বলে ওঠে অন্তর্জ্বালা রূঢ় হলে –
সে রঙ ধরে আমাদের ধবধবে জামা পড়া আনন্দের মতো।
পাতার ত্বকে আলো পিচ্ছিল হয়ে এল – দেবতার অস্ত্রের মতো মেঘ ও বিদ্যুৎ।
দীর্ঘ জেগে থাকা হতে জেগে উঠেছে সে পক্ষীশাবকের মতো উজ্জ্বল ও করুণ -
তার পবিত্র হাসির ওপর বৃষ্টি পড়ে।
আর তখনই ছোটো সাদা ফুল ফুটে ওঠবার মতো সরল হতাশা শুরু হয়।