সুগন্ধের ঘরবাড়ি

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের

পুয়ালঘর

খড়বিচালি দিয়ে মাথার উপর একটা ছাতা
ভিজে যাচ্ছে বর্ষাঘুম তবু
স্বপ্নের ভেতর জল পড়ে


কাঁথা সেলাই করতে করতে ছেঁড়াখোঁড়া স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে থাকে তার মা
ফুল তুলতে তুলতে


মেঘ ভরে যায় অর্চনায় , নদীর ভেতর পালতোলা ঋতুজ্যোৎস্না
খিল খিল এক খিলি পান পান্তাপরবের পর

আনন্দ ভিজিয়ে দেয় এক জনমের নদীপথ ।




শুভজ্যোতি অন্ধকারে

দৃশ্য আঁকতে আঁকতে আরও কত রঙ

আমি তার বর্ণনা থেকে কেঁপে কেঁপে উঠি
বিস্ফোরণ ঘটে যায় চারপাশে ।

শব্দে কি এই ক্ষুধা আয়োজন ধরে ফেলা যায় ?

পথ চলে যাচ্ছে দূরে
কিছু নেই, ছায়া নেই , অস্তিত্বের স্পন্দনে শুধু প্রগলভ অন্ধকার ।
মুখোমুখি বসে থাকি তার

পুকুরের জলে মাছ ঝাঁক ঝাঁক আসে যায়
চার ফেলে অপেক্ষা সাজাই
এই অন্ধকার ব্যাখাতীত বর্ণহীন

একটি প্রাণের বিন্দু শিল্পময় বিদ্যুৎচমক
তার জন্ম বারবার পথ অপচয় ।



সুগন্ধের ঘরবাড়ি

নেমে যাচ্ছি
নেমে যাচ্ছি আরও এক গহ্বরের দিকে

ডিমের আশ্চর্য স্পর্শে কেঁপে উঠে সুগন্ধের ঘরবাড়ি
ঝর্ণাজল , অদ্ভুত ফোয়ারা ।

গ্রন্থি শিথিল হয়
অর্থহীন বৃষ্টিপাত খসে পড়ে বিগত বাকল

পাতায় পাতায় কেউ নতুন জন্মের রঙ ছড়িয়েছে
সেতুপথ

আবার নির্মাণে এসো , ভুলগুলি ফেলে দাও নর্দমায় রিসাইকেল বিনে

প্রতিটি সৃষ্টির সুখ সম্ভাবনাময় ।




জ্যোৎস্নার বীজ


ভুল শব্দ বারবার
দূরে গন্তব্যে যাচ্ছে ইশারার ছায়া

মেঘ ভাসে , মেঘের শরীরে কিছু অমোঘ মাদক

রঙে রূপে নেমে আসে অসীম আঁধার ।