ক্ষিতিশ ও পারিজাত

রাজর্ষি দাশ ভৌমিক

ক্ষিতিশ ও পারিজাত
৫.
মধ্যরাতে পারিজাতের বন্ধ দরজার ওপার থেকে ‘করুণানিধান’ শব্দটি
শুনতে পায় ক্ষিতিশ। সে তখন ড্রয়িংরুমে, সোফায় চাদর পেতে শুয়ে আছে।
এই শব্দটি ক্ষিতিশের অপরিচিত। দুটি মানুষের, পারিজাত ও মন্দিরার
দুটি বিপরীতধর্মী দাম্পত্য ঘরের-অতিথির অন্তরালে সোচ্চার হয়।

ক্ষিতিশ সিলিং এর বন্ধ পাখার দিকে তাকিয়ে কল্পনা করে কানে মোম ঢুকছে
ছেলেবেলায় বৃষ্টির মধ্যে কচুপাতা, বাবামায়ের মুখ, ভক্তিযোগ ইত্যাদি।
যখন বৃষ্টিধ্বনি ধরে এসেছে, পারিজাত হতাশার কথাগুলি বলে কিন্তু রাতের শব্দক্ষমতা অপার।

ক্ষিতিশের কানে জমা মোমগুলি পারিজাতের আক্ষেপের উত্তাপে গলে পড়ে।
পারিজাতের প্রমোশানের পালটি নিজের একটি হতাশার কথা ভাবে, পারিজাতের
হাতখরচের সঙ্গে মেলাতে চায় ভেজা কয়লার জ্বালা।
পরেরদিন পাগলের মত ক্ষিতিশ মন্দিরাকে খোঁজে, অথবা কোন নারী, যার
কানে তপ্ত মোম ঢেলে, হাত উলটে, বলা যেতে পারে-বয়স ত্রিশ, অথচ করুণানিধান
শব্দের অর্থ আমি আজো জানি না।


একটা ভুল বাড়ির মুখোমুখি

কারোর বাড়ির ঠিকানা খোঁজ করে করে চলে যাওয়া শুরু ১৪ বছর বয়েসে
পৌঁছে যেতে পারলে, বাচ্চাছেলেটিকে গৃহকর্তারা আপ্যায়ন করতেন
চা বিস্কুটের আড়ালে তাদের বিস্ময়। তাদের একটি ছোট লেখা
যেন পুরোহিতের থলেতে একথালা চাল-আলু।এখনো খোঁজ করি
প্রখ্যাত কবিদের ঠিকানা।যারা কিছুদিন আগে জন্মেছিলেন
যারা আগেই পৌঁছে গেছে তারা ঠিকানাগুলি বলতে পারে
যারা কোনদিনই যাবে না তারা নিরস্ত করে।এই দুইয়ের মাঝে
পৌঁছে যাওয়ার নির্লোভ ইচ্ছেরা-১৫ বছর বয়েসে পৌছতে পারলে
গৃহকর্তাকত্রীদের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে-এখন তাদের সন্তানহীন বাড়ি
এমন এক সময়ে পৌছন হল যখন তারা প্রেমিক প্রেমিকা
আর বাড়িখানা দীঘার সমুদ্র, দেওয়ালের নোনাগুলি সাদাকালো
ছবির মাখনসুলভ গ্রেইনস্।নিজেদের সুখের অনুভূতিগুলিকে
তারা দুঃখ বলে ভ্রম করছেন, দুঃখের অনুভূতিগুলিকে
একরাশ নকল ডিমের বৃথা কারুকাজ দিয়ে ড্রেসিংটেবিলে সাজিয়ে রাখছেন।
চুপিচুপি লেখার কথা বলাতে তারা বেজায় দ্বিধাগ্রস্ত।
বুড়োবুড়িকে একা পেয়ে আগুন্তকটিকে নিয়ে সন্দিহান
দুজন লেখকলেখিকাকে জীয়ন্ত মৃত্যুতে ঝুলিয়ে সে চলে যাবে
অথবা সব লেখাগুলিই নেই।আগে যারা পৌঁছেছে তারাই নিয়ে গেছে
পকেটে দুখানা বিস্কুট আমি পুরে নিতেই পারি।হ্যাঁ, সাক্ষাৎকারও চলতে পারে
নিরাপ্যায়নের মোড়কে তিনটে ঢলে আসে-
উঠি উঠি করে উঠে যাওয়ার আগে আরেকবার ঠিকানা
হয়তো বহুকাল আর বহুবার বাসাবদলে একটা ভুল বাড়ির মুখোমুখি