হনুজ দিল্লী দূর অস্ত্

ভাস্বতী গোস্বামী

বছরের এই সময় আকাশ বড় ম্লান। রোশনী বুজে আসে মিনারের গম্বুজে। চিড়িয়ারা চঞ্চল হয়ে ওঠে------ আসমানপার আলোর আগেই পংখ জুড়িয়ে নিতে ফিরে আসে বাবুল-পিপুলের ডালে ডালে। কত কিসিমের চিড়িয়াই যে আছে হিন্দুস্তানে-----তিতির,ব টের,ময়না,কবুতর,তোতা,বু বুল। এছাড়া তাসখণ্ড, সমরখণ্ড, বুখারা,জাঁস্করের উপর দিয়ে উড়ে আসা বিদেশী চিড়িয়ারা কিছুদিনের মেহমান হয়ে র’য়ে যায় আরাবল্লীর লাগোয়া তালাওগুলোয়। আবার ফিরে যায়। ফি সাল একই কহানী। আলখাল্লার জেবে হাত ঢুকিয়ে পদচারণা করছিলেন দীর্ঘ মানুষটি।কুতুব মিনার থেকে মুয়াজ্জিনের আজান ভেসে আসে। মগরীবের ওয়াক্ত্ হল। ধর্মপ্রাণ মানুষটি হেঁটে চললেন সান্ধ্য প্রার্থনার উদ্দেশ্যে।
পশ্চিম দিগন্ত, ওই যেখানে সূরয কী সাতোয়াঁ ঘোড়া রোজ হারিয়ে যায়------আল্লার নয়া দুনিয়ায় রোশনী ঢালতে--------সেখান থেকে পথচলা শুরু। ঘরে কিছুতেই মন টিঁকল না এই মরোক্কো যুবকের। হজের পথে বেরিয়ে পড়লেন আব্বু আম্মীর অনুমতি নিয়ে। প্রতিশ্রুতি মতো মায়ের কাছে ফিরেও গেলেন। কিন্তু আম্মীজানের আঁসু বেশীদিন ধরে রাখতে পারল কই? আফ্রিকা মহাদেশ, সিরিয়া, প্যালেস্তাইন, মক্কা মদীনা, তুরস্ক, ‘স্টেপ্ স’ ও চাঘতাই প্রদেশ পিছনে ফেলে, কঠিন হিন্দুকুশ পার হয়ে মূলতানে পৌঁছলেন ইবন বতুতা। গন্তব্য দিল্লী দরবার। সন ১৩৩৩। তখন দিল্লীর মসনদে মহম্মদ-বিন্-তুঘলক রাজত্ব করছেন দোর্দণ্ডপ্রতাপে। তাঁর ভয়ে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়। অবশ্য এ সবই শোনা কথা।
একটু ইতিহাসের দিকে চোখ রেখে চলে আসি তুঘলক বংশের গোড়ার কথায়। তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠাতা গাজী মালিক, দিল্লীর খানদানী মালিক ও আমীরদের সহায়তায় সুলতান খসরু খাঁকে সরিয়ে মসনদ দখল করেন ১৩২০ খৃস্টাব্দে। গাজী মালিক হয়ে ওঠেন সুলতান গিয়াসুদ্দীন তুঘলক। ১৩২৪ সালে বাংলা মুলুক দখলের পর দিল্লী প্রত্যাবর্তনের পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গিয়াসুদ্দীন। কথিত আছে পুত্র জুনা খাঁয়ের সাজিশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিংবদন্তী, সুফী সাধক নিজামুদ্দীন আউলিয়া রাজরোষের শিকার হন। বাংলা মুলুক থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে সুলতান তাঁকে দিল্লী ত্যাগের হুকুম দিলে, সাধকের মুখ নিঃসৃত “হনুজ দিল্লী দূর অস্ত্”(এখনও দিল্লী বহুদূর) চরম সত্য হয়ে ওঠে গিয়াসুদ্দীনের জীবনে।
পিতার তখ্ তে জুনা খাঁ আসীন হন। সন ১৩২৫। জুনা খাঁ অথবা মহম্মদ-বিন্--তুঘলক ছিলেন পণ্ডিত অথচ চরম অত্যাচারী সুলতান। ১৩৫১ পর্যন্ত রাজত্বকালের সময়সীমায় তাঁর কোষাগার শূন্য হয়ে গিয়েছিল বিদ্রোহ দমনে। ইতহাসের পাতায় মধ্যযুগীয় বর্বরতার শীর্ষস্থান অধিকার করেছে মহম্মদ-বিন-তুঘলকের শাসনকাল।

আবার ফিরে যাই মূলতানের পথে। মুসাফির ইবন বতুতা শুনেছেন নতুন সুলতানের নানা কহানী। সুলতান দান করেন দরাজ হস্তে আবার মত্ত হাতীর পদতলে পিষ্ট করতেও সময় নেন না। সুলতান পণ্ডিত,সুলতান জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক। অথচ হিন্দুস্তান মুলুকের সুফী ও শিয়া সম্প্রদায়ের উপর সুলতানের রোষ সর্বজনবিদিত। করের বোঝায় ন্যুব্জ ও লঘু অপরাধে নির্মম দণ্ড পেতে অভ্যস্ত হিন্দু প্রজারা গোপনে সুলতানের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন। এ ছাড়া আমীর, মালিক, ওয়াজির ও দিল্লীর রইসদেরও অবিশ্বাস করেন সুলতান। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত জ্ঞানী গুণীজনের অভ্যর্থনায় কোনো ঘাটতি রাখেন না তিনি। ইবন বতুতাকে ২০০০ রৌপ্য দিরহামে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে, তাঁকে ৫০০০ রৌপ্য দিরহাম মাসিক আয়ে দিল্লীর প্রধান কাজী হিসেবে নিযুক্ত করলেন সুলতান। সেইসঙ্গে নিঃশুল্ক বসবাসের বন্দোবস্ত হল কুতুব মিনার ও মসজিদ লাগোয়া এলাকায়। সুলতানের কাছের মানুষ হয়ে উঠলেন ইবন বতুতা। আলাপ হল সুলতানের নাদিম জিয়াউদ্দীন বারানীর সাথে। তাঁর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞানের পরিধিতে মুগ্ধ হলেন ইবন বতুতা।
জিয়াউদ্দীন বারানীর উপর সুফী সাধক হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার প্রভাব ছিল প্রগাঢ়। প্রায় নিত্য যাতায়াত ছিল এই প্রেমের সাধকের কাছে। সেই সুবাদে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছিল নিজামুদ্দীনের প্রিয় শিষ্য ও আত্মভোলা সঙ্গীত সাধক আমীর খসরুর সাথে। যে সময়কার কথা বলছি, তার কিছু পূর্বে ১৩২৫ খৃস্টাব্দে হজরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার দেহান্ত্ হয়েছে। প্রিয় শিষ্য আমীর খসরুরও এন্তেকাল হল গুরুর মৃত্যুর অনতিকাল পরে। হিন্দুস্তানী গজলের প্রাণপুরুষ খসরুর সঙ্গীতজগতে আরেক অবদান হল সেতার যন্ত্রের উদ্ভাবন। তার সুরিলি আওয়াজে মিঠাস ঝরত দরগার পাথুরে দিওয়ারে। খসরু ছিলেন মসনবী এবং শায়েরীর শাহেনশাহ্। দরগার দিওয়ারে কান পাতলে বারানী নির্ঝরের কলতানের মত শুনতে পান খসরুর সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর----
সখী না দেখে যে তাকে
আঁধার না কাটে
অবশ তনু মোর, নিঘুমে নয়ন
কোথা তুমি প্রিয় কোথা প্রিয়স্বর


সুফী সাধকদের উপর প্রসন্ন নন নতুন সুলতান। আখি-সিরাজ-আইনে-হিন্দ্, চলে গেছেন বাংলা মুলুকের গৌড়ে। বুরহানুদ্দীন গরীব দক্ষিণে যাত্রা করেছিলেন। কানে এসেছে মারাঠা প্রদেশে কবরের মাটি পেয়েছেন তিনি। নিজামুদ্দীনের শিষ্যদের মধ্যে দিল্লীতে রয়েছেন শুধু নাসিরুদ্দীন-চিরাগ-দেল ী আর জালালুদ্দীন ভাণ্ডারী। ইতিমধ্যেই সুলতানের বিরাগভাজন তাঁরা। মানুষের মধ্যে প্রেমের বাণী, মনুষ্যত্বের দিয়া জ্বালিয়ে দেওয়া এই সাধকদের উপর সুলতানের কিসের এত আক্রোশ? হতাশ বারানী। শহরের রাজপথ প্রায়শই লাল হয়ে ওঠে শিয়া বা সুফী সম্প্রদায়ের কোন সাধকের খুনে। গ্রামে গ্রামে হিন্দু প্রজারা ক্ষুব্ধ। বিদ্রোহের দাবানল ফুঁসে উঠছে থেকে থেকে। আমীর, মালিক, ওমরাহ্, কোতোয়াল স্বস্তিতে নেই কেউ। সুলতান অবিশ্বাস করেন প্রত্যেককেই। লঘু বা বিনা অপরাধে অগ্নিদগ্ধ করা, মত্ত হাতীর পদতলে পিষ্ট করা, শূন্যে হাতীর শূঁড়ে লোফালুফি করা বা শূলে চড়ানো সুলতানের প্রাত্যহিক বিলাস। বারানীর কপালে চিন্তার রেখা গভীর হয়। লিপিবদ্ধ করেন ঐতিহাসিকের নির্ভুল নিষ্ঠায় তারিক-ই-ফিরোজশাহীর পাতায়। কালের সাক্ষী থাকুক ওই মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল। অন্য সময় এসে তালাশ নিক সেদিনের নির্মম ইতিহাসের।
দোস্ত চিনে নিলেন দোস্তকে। বারানীর অশান্ত মনের ইলাজ হল ইবন বতুতার সঙ্গলাভে। বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় হল। একদিন হৃদয়ের গোপন অভিলাষ ব্যক্ত করলেন বন্ধুর কাছে। মুসাফির জীবন আর ভালো লাগে না। জীবনের বাকি দিন দিল্লীতেই কাটিয়ে দিতে চান। সুলতানের অপার কৃপা ইবন বতুতার উপর। দিল্লী নগরীর প্রধান কাজী তিনি। রইস্ আদমীদের অন্যতম। আরবী ভাষায় সুপণ্ডিত এবং কোরান হাদিশ তাঁর নখদর্পণে। দিল্লী সুলতানেৎ-এ শরিয়তি কানুনের যথাযথ প্রয়োগের জন্য তিনি নিযুক্ত হয়েছেন। যদিও হিন্দুস্তানে আসার পর সুফী সাধনার প্রভাব তাঁর উপরেও পড়েছে, এবং এ খবর সুলতানের অজানা নয়। তবু ইবন বতুতার উপর সুলতানের রাজ অনুগ্রহ তিলমাত্র হ্রাস পায় নি। দোস্তের এই প্রস্তাবে সানন্দে ইবন বতুতাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন বারানী। সুযোগ বুঝে সলজ্জ ইবন বতুতা আরেকটি গোপন কথা ফাঁস করলেন। মেহরৌলির এক প্রয়াত আমীর কন্যার সুর্মা টানা চোখ ঘরমুখো করেছে এই মুসাফিরকে। তাই বন্ধুর কাছে তিনি এ ব্যাপারে সাহায্যপ্রার্থী। হাজার হলেও জেনানাওয়ালী কিস্ সা.........ইত্যাদি। বন্ধুর সংকোচ বুঝে অট্টহাস্য করলেন বারানী। তারপর জানতে চাইলেন মেয়েটির পরিচয়। ইবন বতুতা অনেক দিন এমন প্রাণ খুলে কথা বলেন নি। প্রগলভ হয়ে উঠেছেন দোস্তের কাছে। সেই ঘনঘোর জুলফেঁ, রাতকলি মুসকান, হিনায় রাঙানো নাজুক অঙ্গুলি আসমান জুড়ে আলো আঁধারির খেলা খেলছে। নিজের সাথেই যেন কথা বলছেন তিনি। বন্ধুর দিকে খেয়ালই নেই।
মেয়েটির পরিচয় পেয়ে স্থানুবৎ বারানী। চিনতে ভুল হয় নি তাঁর। সত্যিই সে রাতফোটা কলি, দিল্লী দরবারের এক আমীর কন্যা। বিদ্রোহের সাজিশে সুলতান সেই হতভাগ্য আমীরের প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন। ইবন বতুতার এই গলতির মাফ নেই সুলতানের কাছে। তাঁর মত পরিবর্তন হয় হাওয়া কী ঝোঁকার সাথে। শংকায় দুলে উঠল বারানীর মন। তবে বুঝলেন বন্ধুকে নিরস্ত করা যাবে না। আবার মনে পড়ল খসরুকে-------------

প্রেম দরিয়ার আজব ধারা
নামলে পরে কূল যে হারা
খসরু বলে ঐ অতলে
ডুবলে রে মন হয় কিনারা

কিছুকাল পরেই সত্য হল বারানীর আশংকা। ততদিনে ইবন বতুতা এক ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জনক। তলব করলেন সুলতান। রাজ দরবার থেকে তাঁকে কয়েদ করে নিয়ে আসা হল। অপরাধ, তিনি রাজদ্রোহীর কন্যার সাথে পরিণয়ে আবদ্ধ এবং সুফী সাধকদের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বেশক্ না-পসন্দ সুলতানের। কারাবন্দীর নবম দিনে তাঁকে মুক্ত করে সুদূর চীনের পথে যাত্রা করার হুকুম দিলেন সুলতান। আপাতদৃষ্টিতে দৌতকার্য মনে হলেও ইবন বতুতার কাছে এর অর্থ প্রাঞ্জল। হুকুমের অবমাননা হলে সুলতানের কোপানল থেকে রেহাই পাবেন না দিল্লীর প্রাক্তন কাজীসাহেব।

মগরীবের ওয়াক্ত্ হল। প্রেয়সীর কাছে বিদায় নিয়ে প্রার্থনায় যোগ দিতে গেলেন ইবন বতুতা। আহ্ চিড়িয়ারা বড় চঞ্চল আজ শাখায় শাখায়। আঁসু ভরি ইয়ে দিল্। পরছাই লম্বা হচ্ছে মিনারের--------হারিয়ে যাবে একসময়। মসজিদে প্রার্থনার সুর-----
“ইন্নী ওয়াজ্জাহ্ তু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাছ্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশ্ রিকীন”
বিষণ্ণ বারানীও। সেই নবীন বয়স থেকে দেখছেন দিল্লীর মসনদ। পিতামহ, পিতা, পিতৃব্য প্রত্যেকেই ছিলেন দিল্লী সুলতানেৎ-এর আস্থাভাজন ও উচ্চপদস্থ কর্মচারী। দেখেছেন শাসন যন্ত্রের নির্মম যাঁতাকলে মানুষ মনষ্যত্ব হারিয়ে ফেলছে দ্রুত। রাজন্যবর্গ হঠকারী, শাসন ব্যবস্থা হয়ে উঠছে একপেশে ও নির্মম। কেল্লার অলিন্দে অলিন্দে গুঞ্জ্ ওঠে সাজিশের ফিসফাস। দরবারে বিদগ্ধজন সত্যদ্রষ্টা পরামর্শদাতারা মুখ ফিরিয়ে থাকেন। দিল্লীর মসনদে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়েছে মামলুক ও খিলজী বংশ। সেই একই ক্ষমতার প্রতি লোভ আর অসহিষ্ণুতার করুণ সমাজদর্পণ। তুঘলক বংশও সেই প্রবাহে গা ভাসিয়ছে। সমাজে বুদ্ধিজীবি ও চিন্তাশীল সম্প্রদায় বিতাড়িত, অপমানিত অথবা আতঙ্কিত। স্রেফ ক্ষমতার জোরে তখ্ ত দখল করে বেশীদিন রাজত্ব করা যায় না। এ সত্য যতদিন না বুঝবে দিল্লী সুলতানেৎ, ততদিন ধরা ছোঁওয়ার বাইরে রয়ে যাবে শাহী দিল্লীর দিল্।
দ্রুত শেষ করতে হবে তাঁর সমাজদর্পণ। বারানী নথিভুক্ত করে যান তারিক-ই-ফিরোজশাহী নির্ভুল তত্ত্বে ও তথ্যে। বেশীদিন সময় নেই তাঁরও, এ কথা যেন বড় বেশী মনে হয়। ভাঙন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আবার লেখা হবে নতুন ইতিহাস, নতুন রাজপুরুষের হাতে। তবে মানুষের রক্তপাতে কোন সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে না। শুনতে পান ইতিহাসবিদ্ জিয়াউদ্দীন বারানী “হনুজ দিল্লী দূর অস্ত্”। কি ছিল এর প্রকৃত অর্থ? ভেবে পান না প্রাজ্ঞ মানুষটি।
কেল্লার কয়েদীদের আলো –আঁধিয়ার মেহসুস হয় না। খোদাতাল্লার দুনিয়ায় জরিওয়ালে শামিয়ানা বিছানো থাকত যেন! রোশনীর লেহর উঠত ওখানে! আজ আর মনে করতে পারে না তারা। ওদের মধ্যে রয়েছেন এক বুজুর্গ। কি নাকি এক কিতাব লিখে সুলতান ফিরোজ-শাহ্-তুঘলকের কাছে গুনাহ্ হয়েছে তাঁর। বেশীরভাগ সময়েই শান্ত থাকেন আর মাঝে মাঝে কোন রসুলের কথা মৃদুস্বরে বলে যান। কয়েদখানায় সত্তরোর্ধ কয়েদী জিয়াউদ্দীন বারানীর আজ আর ইয়াদ্ থাকে না কিছুই। কারারক্ষীরা কান পাতলে শুনতে পান মৃদুস্বরের শায়রী-------

নৈঃশব্দও কথা বলে যায়
বেদনা জাগাতে স্মৃতি রয়ে যায়
ঘৃতে-চন্দনে তফাত কি বা
পুড়ে গেলে শুধু ছাই রয়ে যায়

কয়েদখানার বাইরে তখন শুরু হয়ে গেছে দিন বদলের ইতিহাস।