মাকে নিয়ে জলবায়ুকথা

অরবিন্দ চক্রবর্তী

১.



সরাইখানা ত্যাগের প্রসঙ্গ এলে ঋতুদের পায়ে পড়ি, প্রথমত
ফাল্গুনের
একদিন অথই সত্য নিয়ে কর্মশালা হলো; ছায়া
লিখল কারাতে-কথন-রোদ গাইল
কুংফু-সঙ্গীত
আর আমি হেমন্তমাঠে লাটিমবালক...

অবশিষ্ট কিছু মিথ্যা সৈকতে ছিল-তাদের আঙুল
দেখালে তুমিও জলের পোশাকে নাস্তানাবুদ
এ সৌরকয়েদে সবার এল ডাক-সুন্দরকে যত দিন
দেখিয়েছি লাল-আমাদের সে দিয়ে চলেছে
শরৎমেঘ-আস্কারা

আমার মাকে কোনো এক বিকেলে এ গল্প
শোনাতে চাইলে আমার ঠোঁটে দিয়েছে
শিউলির বোঁটা
আজ তাই রাতের দেয়ালে লিখে নিচ্ছি শরীরহীন
ঘুমের জার্নাল ও সকল জন্মসত্যের জলবায়ুকথা।



২.
সমুদ্রকে আকাশের লেখা অবদমনের খণ্ডাংশ

গল্পের লেজটুকুু থাক আকাশরঙে ছড়ানো;
সমুদ্রকে শিক্ষার চরমপত্রদানে লিখি
স্থলবিরোধী উপাখ্যান।
দেশলাইয়ের মন্ত্রে উর্মীর শাড়িতে কুফরি ছুঁইয়ে
করতলরেখায় দেখি আগুন কর্মশালা।
বারে বানোয়াট পৃথিবীর তলপেট থেকে
বেরিয়ে আসছে ঝাঁকডানা পিঁপড়ে-বিড়াল
যারা পূর্বজন্মে গাঁধা ছিল-আগামীতে হবে
মেঘসমৃদ্ধ বলদ।
এসব হেঁদারামদের ভার্সিটিতে নিয়ে
বেতানো শেষে খেতে দেয়া যেতে পারে
রঙধনুর মতো কিছু অবদমন।

৩.

বিছানাকে রচিত অঙ্কমাস্টারের স্মারকলিপি

রাত্রির গায়ে দুর্গন্ধমাখা গ্রীষ্ম, ঘুমোতে যাবার আগে
শরৎ-স্প্রে বিষয়ক প্রসঙ্গ
বরাবর
মাননীয় বিছানা
প্রযত্নে হাসনাহেনা

আমরা অঙ্কের মাস্টার ঘুমরাতে স্বপ্ন দেখতে চাই না বলে
অমনোযোগী রসাতলবাসীরা
দিনবদলের হুইসল বাজাই
পছন্দের রজনীগন্ধাকে ভালোবাসার আলটিমেটাম
শাসিয়ে আঁকি-তোমাকে না পেলে
ব্যস্ত শহরের রাস্তায় তাগড়াজেদি অক্ষরেখা শুইয়ে
একশ বছরের ট্রাফিক জ্যাম ছড়িয়ে দেব, জ্বলবে
রোদের শাওয়ার।

আর মেয়েটি ব্র্যান্ডি শ্যুটার, থিতু বসে দাবা চালে
গুলশান-বারিধারা কোর্টে।