বারমুডা ট্রায়াঙ্গল প্রহর

ফেরদৌস নাহার

ক.
অবাক হয়নি, শুধু চলে গেছি করতল শূন্য করে
আঁধারের লীলাবালি ঘাটে রঙ্গিণী নাচ দেখি
বাজি পোড়ার গন্ধ লাগে নাকে
এত যে উৎসব, এত যে ঘনঘটা বিমূর্ত নহবৎ
কিছুই তো পারছে না ঢেকে দিতে ঘোলাটে পরিচয়
আসামী বাতাস হাত ধরে পৌঁছে দেয় জীবাশ্ম ধসে
ঘন ধোঁয়া তপ্ত রোদ বিছানায় পড়ে থাকে

হেঁকেছে খিস্তি খেউর
গলা চড়িয়ে বলেছে, কারাগারে এসেছ যখন, এইবেলা
কবিতার শত্রুতা দেখে নাও চোখে
রক্ত থেকে বের হয়ে রক্ত-কণিকারা হেসে ওঠে


খ.
নিশ্বাস ঘন হয়ে আসে। আরও একটু অপেক্ষা এসে মেখে দেয় নিঃশব্দ উত্তাপ। রুদ্ধ আলোর অভিমানে ঝরে পড়ে পরস্পরের চোখ। নাম নিয়ে মনে পড়া, খেলা খেলা চৌদিক খোলা। যাত্রা করার আগে তুমুল তুষার ঝড়ে ডুবে যায় পৃথিবীর শরতের ছায়া। মাঠে চৌরাস্তায় আগামী বাতাস এসে বলে যায় একরাশ উত্তাপের গল্প। তার আগে মেপে মেপে জানতে চাই, স্থানীয় গ্লোবাল মেইলে যে ছবি ছাপা হল তার মুখ আসলেই কি তার মুখ ছিল! নিষণ্ন প্রশ্ন আসে, কী করে ঠেকাই তারে। তবে কি এগিয়ে থাকব স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একা


গ.
কোনো দিন যদি কারও মন খারাপের বনে ঢুকে যাই
যেখানে দীর্ঘ গাছের নিচে একটি নির্লোভ স্টেশন চুপচাপ
দাঁড়িয়ে আছে
ভুল হয়েছিল বুঝতে, তাহলে বলো চলে যাই অন্ধকারে
যাব নাকি ভাবতে ভাবতে হরিয়ালের ডাক উত্তরবঙ্গের স্টেশনে
ঘুরে আসে। বাকি দিনগুলো পড়ে থাক

বন, শনশন শব্দে মনের খবর বলে, বারুদ পোড়াবে নাকি
বলে যাওয়া, চলে যাওয়া বনের উড়ন্ত পাখায় সাত জনমের কথা
বলে বলে ছবি আঁকে
পোড়া বারুদের গন্ধ লাগে নাকে


ঘ.
তোমার শুক্রবারের রাত, আমি গভীর গহন আলোর উত্তাপ, বেড়ে উঠি বিক্ষুব্ধ আগুনের পঞ্চতপা শিখা, গনগনে হুইস্কির প্রণয় চপেটাঘাত। তোমার কী ছিল বলার জানি না কিছু, দেবার মতো ছিল দৈব অহম, ঘাটে বাঁধা উলঙ্গতা, ঘনঘোর অরণ্যিক স্বাদ, বিশুদ্ধ মাখামাখি ত্রিভঙ্গ রাত। এসব চিত্র ঘেঁটে হেঁটে আসি ঘূর্ণিকাল চণ্ডাল অভিসার, বিছিয়ে বন্য-দিনের জলজ প্রপাত। হাপিত্যেশ দূরে ছিল, নাভিবাসের বসত ছেড়ে বেরিয়ে এলো আঁধারের গোপন কারুকাজ। তরল যজ্ঞাগ্নি সাথে করেছি খেলা গেয়েছি গান। সে খেলায় চুমু খায় আবহমান


ঙ.
প্রতিদিন এক একটি নতুন গল্প। প্রতিদিন মন উচাটন
পুকুরের জলতলে যে ভ্রমর কৌটাতে ঘুমিয়ে থাকে
তার একটি নাম রাখা হোক
চেনাজানা চেহারার নতুন মুখোশ কিনে রেখে দেই
সময় হলে পরে নেব। তখন খুব সুন্দর দেখাবে জানি
আচ্ছন্ন রক্তে স্বপ্নযান এঁকেবেঁকে চলে, দুফোঁটা শিশির
জানালায় অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শুকিয়ে যায়

প্রতিদিন নতুন গল্প-নাবিক জাহাজে পাল তুলে দিয়ে
চলে যায় দূরদেশে ভ্রমর-কৌটোর সন্ধানে
বাইরে ভীষণ কুয়াশা, দূরবীণ ঝাপসা হয়ে ওঠে
কিছুতেই দেখা যাচ্ছে না কিছু
সংযোগ বিচ্ছিন্ন বারমুডা ট্রায়াঙ্গল প্রহর


xxxxxxxxxxx