ত্রাণ

শামীম আজাদ


১।
নবীভাব
সময়াতীর্ণ, তবু তীর
কোথাও না কোথাওতো বিঁধেছ
সরৎ সারথী
সিথানে এখনো কিছু রাত বাকি
চল, এ পুষ্পরাতে বসে
উভয়েই উচ্চস্বরে পাখিরে ডাকি
পাখি তোর কসম লাগে আয়
দু’হাজার দীর্ঘশ্বাস হত্যা করেছি
এর বেশি আর মানায় না
তোর আছে ডিজিটাল ডানা ...
ম্যাজিকহীন মাংসস্তুপের মানেও আর অজানা নেই
আমরা ইস্পাতের ট্রেন ধরেছি
দীর্ঘ দৌড়ে হাড় লাগে, হাড়
শক্ত পোক্ত জরায়ূবিহীন।

হাড়খুলে মোনাজাতে আছি
আয় ম্যাগপাই, যাবার জন্য হলেও...

২।
দ্বিতীয় দ্যাখা

কাঞ্চঞ্জঙ্ঘা থেকে লাফিয়ে পড়ছে কুয়াশা ও কামনা
আমরা কি বধ্যভুমি থেকে একটু সরে বসতে পারিনা?
দেখোনা কী ভাবে ভেজা ভেজা ভুল,
বাতাসের ব্লেড, মৃত্যুমুখী মরু
সবই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে সজারু সজারু।
ওখানে কাকাতুয়ার ফেলে যাওয়া পালকের কাছে
কুমুদীনি ডাঙায় এখনো
আমাদের রক্ত সময়ের রঙণ!

যতবার তোমার ঘ্রান পাই
ওই পায়রার পাহাড় নেমে আসে
হাত ভরে ওঠে সোনালী কদমে
কতকাল কবিতা আর আমরা একসাথে বেরুইনি!

তুমি কেনো এখনও রানীর দেশের মগজে মজে আছো
ওখানের ক্যাসেল কবুতরদের ডানায়তো কেবল যুদ্ধের ডুগডুগি
বেটোভ্যান থেকেও বারুদ উগড়ায়
বর্ষা বা বকুলের বদলে যে রোয়ান আর রাজহাঁস আছে
উইন্সরের প্রসাদ তার কোন পরিসংখান কি চেয়েছে কখনো?
আমাকে আর সেই মিশরীয় মমীর উপাখ্যান বলোনা
সকল ‘জনৈক’র খবর জানি
ইস্টারে ঈগলের ডিম খুঁজতে গিয়ে ঢের দেখেছি
গগন ভেঙে ক-ত কিচ্ছা গন্ডুস ভরে তুলেছি
পান করেছি কাঁটা কাঁটা দ্বন্দের দাগ আর দূর্বলতা
দেহ বাঁধা পড়ে গেছে বেদনার ব্যান্ডেজে
তবে এখনো জানিনা তা সত্যি না স্বপ্নে …

.৩।
পরিষেবা
বাতাসে বারি খেয়ে খেয়ে অবশেষে দরোজায় এসে দাঁড়িয়েছো
কড়াতো খসে গেছে কবে এখন কি করে আওয়াজ তুলবে

মাইমুনাও এক দিন দৌড় দিয়েছিলো
অধিকাংশ মানুষের বাচ্চার মতই সেও জানতো না কোথায় থামতে হবে
জানেনি স্নানের পরেও সুষ্রুশা লাগে

তুমি কি বুঝেছিলে
জীবন মানেই মিঞা কি টোরি বা কোমল গান্ধার না
এ আসলে ভাত উৎপাদনের যৌথ খামার
লুইচ্চারা যতই লেকচার দিক
কোন মৃত্যু সংবাদই দুমিনিটের বেশি স্থায়ীত্ব পায় না।

এসে যখন গেছোই তুড়ি বাজিয়ে সীমের বিচি ফোটাও
ক্যান্সারের পদতলে পয়োধর রেখে এসেছি
কবিতার খাতা পুড়িয়েই মাইমুনার দুধ জ্বাল দেব
কিন্তু কড়াটা তোমাকেই খুঁজে পেতে হবে জান!

৪।
উপবাস

র্হামনহীল বন্দী বালিশে
ঘণ জল গভীরতা
যতবার শুই দীর্ঘ দাগ পড়ে যায়
মাথা জুড়ে শূণ্যতা।

একি আর্শ্চয মহানুভবতা!

বালিহীন ঝড়ে
পাখিপাল ভাসে
দূরত্ব ভরে মদে
অহ কবি, মরে যাই
আমৃত্যু
উর্বী রিপু নদে।




ত্রাণ

বাতাসের বুদবুদে পরিচয় পরিত্যাগ করে
আশ্রয়হীণ উদ্বাস্তুরা এমন কাঁদছে
যেনো তাদের মা মারা গেছে
ওরা গুইসাপের মত এঁকেবেঁকে যাচ্ছে
প্রত্যেকে প্রত্যেকের লেজ হয়ে
সপ্রাণ ও নিস্প্রাণ দেহ নিয়ে টলে টলে
চলছে যতদূর দূরের মদ দেখা যায় ততদূর।

কেউ কাউকে শুনতে চায় না
কেউ নিজেকেও শোনে না
মানুষের স্তুপের নিচে আরো মানুষ
অস্পষ্ট আর্তনা্দের পিঠে সুষ্পষ্ট চিৎকার
আস্তিক, নাস্তিক ক্যাল্টিক হার্মাদ বুর্বক বোঝা যায় না
দেখা যায় না হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টান ভেজিটেরিয়ান
শুধু দেখা যায় প্রাণ নিবু নিবু আখ্যান।

তখনই হঠাৎ নিরবতা শব্দটি হয়ে গেল মহান
তুলে ফেল্ল জগদ্বল ভেদ রেখার স্ল্যাব
সবাই পান করতে লাগল পাগল উদ্ধার ।।