বাইশে জুলাইয়ের কষ্ট কথন

আকতার জাভেদ

বাইশে জুলাইয়ের কষ্ট কথন

টোল পড়া সেই ত্বকে পৃথিবী বিমুখ-
নতুবা সাঁতরে যেতো
অর্হনিশ
এক
দূর্মুখ-

চুপচাপ ! দাঁড়িয়ে দেখছি পাখা ঝাপটানি-
শেকলের আড়ালে শেকল, বলি না তো-
শব্দ কি এমনি হতে পারে, দেয়ালের আড়ালে দেয়াল
তবুও রাতের গভীরে লৌহজাল; পাখি কী ওড়ে ?
না বোধ হয় না ! এমন করে করেই পালক
কারাবাসে প্রাণ যায়- নিস্তব্ধ বালক তবে কী
রাতের পাটাতনে অশ্রুজল
ডুবোয়, কেউ কি ডোবে ?

তর তর করে ডেসিমাল কমতে থাকে,
জানোই তো এই চৌরাস্তায় শব্দদূষণ সংরক্ষিত।

শুনে নিয়েছি হর্ণ,
অবেলায় কঠিন হয়েছে
হেয়াঁলী শব্দঋণ-
ভুল, সবই ভুল-
[হাবিজাবি, ২২ জুলাই, ২০১৭]

কবিতার অপভ্রংশ
যার কথা আজ বলছি,
একদিন সে ঘৃণা করতে শুরু করলো কবিতাকে
এবং
আরো অনেক কিছুর মতো প্রিয় বিকেল,
এক প্রস্থ গোধূলী- অথবা গান,
কবিতা কিংবা কথোপকথনও -
কোথাও কোথাও পুরো একটা দুটো নয়;
অনেকগুলো পৃষ্ঠা ছিড়ে ফেলে সে বললো সেদিন-
আজকাল কিছুই না, কিছুই ভালো লাগেনা- এমনকি তোকেও
আমি মৃদু হেসে বললাম, চল বৃষ্টি দেখি,
অনেকদিন দেখা হয়নি রংধনু,
একজন ছায়া দেবতা নাকি এদিকে উঁকি দিচ্ছেন,
সে বললো- রাখ তো তোর হেয়ালী,
অনেক হলো ছায়া কিংবা কায়া,
মেঘ অথবা কোন পাখি
আজকাল যা’ই দেখি, দেখলেই ইচ্ছে হয়- ডানা ছিঁড়ি,
দু, দুটো শুকনা পাতা ছিড়তে ছিড়তে
অভিশপ্ত হতে মন চায়,
মনে মনে জানালায় উড়তে থাকা পর্দার আড়ালে পার করি রাত।
বুঝলি ! এই হলাম আমি, আরামে তো কিছুই নাই
ভেবেছিলাম, শিমুল তুলো তোষকটায় মোড়ালেই হাওয়ায় উড়বে,
আঁচল উড়ে উড়ে নামবে,
চন্দন কাঠে জোছনা-
তাও হলো না।
এই জীবনে কিছুই হলো না।
একটা কবিতাও না,
নিয়নলাইটে চুপচাপ বসে থাকা জ্যাম দেখা ছাড়া কিছুই না,
পুরো সন্ধ্যায় তাকিয়ে তাকিয়ে অনেকগুলো বিতন্ডা,
অনেকগুলো চেনা-অচেনা মুখ
অথবা
শক্ত ব্রেক ধরা একটা অসম্পূর্ণ জীবন।
বুঝলি, আজকাল কিছুই না, কিছুই ভালো লাগে না- এমনকি তোকেও
বললাম, হমম! বুঝলাম-
চল এবার হাঁটতে হাঁটতে লেকের ধারে যাই,
এক কাপ চা খাই,
বহুদিন পুরোনো সেই চায়ের স্বাদ পাইনিরে,
চা খেতে খেতে পানিতে মাছ কিংবা সেই স্মৃতিচারণ,
অনেক কাল আগে বোধ হয় এখানে একটা কৃষ্ণচূড়া ছিলো,
একটা মাছরাঙ্গা আসতো এদিক জুড়ে;
কথা বলতাম আমরাই- কিংবা অন্য অনেকে,
আচমকা বৃষ্টি নামতো প্রায়শই,
অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে সে বলে, হমম।
হয়তো, তাই তো !
তবুও কিছু ভাল লাগে না-
বৃষ্টির ফোটা টিনের চালের শব্দ,
একটা সাদা-কালো ডোরাকাটা স্বপ্ন
এমনকি গভীর দীঘির মতো টলটল চোখে কিচ্ছু না,
কিছুই না রে- এমনকি তোকেও না।
কাউকেই কিছুতেই ভাল লাগে না, কিছুকেই কিছু্তেই না !
শূণ্য আকাশের দিকে আজকাল শুধু মরুভূমি দেখি,
ভেঙ্গে পড়া নক্ষত্র অথবা অনেকগুলো কালো রং
ছাড়া কিছুই না-

ভ্রমণ
কবিতাটি তাহার জন্য,
যিনি গোমরা মুখে সরে গেছেন উত্তর গোলার্ধে।
- ভুলে গেছেন আটপৌরে শব্দ চয়ন।
কবিতাটি তাহার জন্য,
যিনি ক্রমেই ভুলতে বসেছেন,
দক্ষিণে এক পশলা বৃষ্টিতে হেঁটে গেলে-
কে ডেকে দেবে,হাঁটু জলে?
আলতো স্বরে - বলে নেবে-
এই ওঠো, চলো আরো উত্তরে সরে গিয়ে বৃষ্টির জল উড়িয়ে নেই-
ভিজতে ভিজতে আরো একটা কবিতা লিখে নেই
কাগজের নৌকোয় ভাসিয়ে দেবো দূর অন্তর -
[২২/০৭/২০১৬]


ভাস্কর্য

সুন্দরী কাঠ নেমে আসলে হাতের মুঠোয় রেফ্রিজারেটারে জমা হতে থাকে বরফকিউব। এমন এক দূরতম দ্বীপের বেড়িবাঁধ জুড়ে ছড়ানো এলুমিনিয়াম বাড়তে বাড়তে আরো উঁচু হতে আরো উঁচুতে পৌছায় । দূর গভীর দিগন্ত রেখায় এক চিলতে দ্বীপ যেখানে নেই আকরিক স্থাপত্য।
[১৮ / ০৬ /২০১৭]

বিষাদের কল্পকথা

এক বিষাদ সৌন্দর্য্যের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম,
এই বেশ ! এভাবেই না হয় কাটুক অনন্ত বছর-
এক আধটু কালির রেখা, এক আধটু দীঘি
এলোমেলো চুল অথবা- পৃথিবী গড়ানো
কষ্টনদী'র বুকে নিশ্চুপ সেই দ্বীপ-
অথবা, সেই হাত- হাতের রেখাগুলো ছুঁয়ে বলেছিলাম,
এই বেশ ! এভাবেই না হয় কাটুক অনন্ত বছর
নিথর শিরা- উপশিরা হয়ে উষ্ণতা যতটা কমে
তার চেয়ে অধিক কোন এক উষ্ণ প্রসবনের আশায়
আশায় তাহার আকাশে একাকী বেদনা নীল-
[১৪ জুন, ২০১৭]