এমনও হয়

জয়শীলা গুহ বাগচী

রাস্তা

যেখানে হেঁটে গেছি

চোখ আর খিদে আর সর্বনাম

আর অমিত্রাক্ষর

বড় শঙ্খ দিয়েছে

বড় রক্তস্রোত দিয়েছে

যার উহ্য থেকে আমি

চেতনায় ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাই

যুক্তির ভেতর অন্ধকার শানিয়ে তুলে

অঙ্কের থেকে অনন্ত তুলে নিয়ে

কেমন ব্যথায় ব্যথায় পারাপার ধরে থাকি

আমি ওকে খুঁজবো না আনন্দ

আমার প্রব্রজ্যা নেই

জন্ম থেকে এ যাবত মুহূর্তস্রোতে

ছোঁয়াবো না ব্রহ্ম

ইন্দ্রিয়ে ইন্দ্রিয়ে এই তো আমার

নিপাট ভাঁজ

কেমন পুতুল পুতুল গড়ন

পাতা থেকে কাশীরাম দাস

যখন বড় হয়ে উঠছেন

অনেক বড় হয়ে

ব্যারিটোনে কথা বলছেন মধুসূদন

এই অক্লান্ত সূর্য দেখে

আমি ফেঁপে উঠেছি

গুহাচিত্র মুছে মুছে

যাবতীয় ভানের ভেতর জড়িয়েছি উল্কি

এই আদিম এই মাতাল দ্রিমিদ্রিমি

কীলকাকৃতি সরলতা

শুকিয়ে উঠেছে ঘামে

কীভাবে হেঁটে যাচ্ছি আদিনাথ

যকৃত থেকে কর্টেক্সের ভাঁজে

স্নায়ুর মাথায় মাথায়

এই নিরাকার চলা

খোঁজের ভেতর ঝুলন্ত বেদানা

একটা স্নান হয়তো

অথবা নিরহংকার হাড়গোড়

আর কিভাবে বিশ্বাস থেকে

পেড়ে নেব ওই কমলালেবু

আমি পারি না কিছুই দেবদারু

না পারার ভেতর হেঁটে যেতে যেতে

জড়িয়ে নিই মাঝারি

জড়িয়ে নিই শীত সর্বস্ব আকার


এমনও হয়

আমি ছেড়ে এগিয়ে যায় পায়ের গল্প

যেন জীবন থেকে খবরের বেপরোয়া লাফ

আমিটি তখন লেজি লেজি

আশ্বিন মাসের বই এর মলাট

পা এর পাশে কতকাল তিথির ঝিকমিক

বুধ কে সাজিয়ে তুলেছে মা

ঝালমুড়িওয়ালা অবাক ছেটাচ্ছে

আমি তো মাথায় নেই জেনেও

পায়ে নেই জেনেও

স্বয়ং বুধ

স্বয়ং অবাক

দিগন্ত টেনে তুলছে গলা থেকে

আমি যাইনি... সত্যি

শুধু বুকের দরজাটা ফাঁক ছিল