পরম্পরা

সুদীপ চট্টোপাধ্যায়


অভ্যর্থনা বলতে একটা কাচের দরজা, যেদিকে তাকালে আমাদের প্রতিবিম্ব ভিজে যায়। ইতস্তত আলাপ ও নেশার পর অভ্যর্থনা ফেরত দিয়ে বাড়ি ফেরা। তখন হাতের মুঠোয় একটা প্রবীণ রাত থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে ভোর পড়ছে আর একটু একটু করে দৃশ্য থেকে দৃশ্যে সরে যাচ্ছে বাড়ি। তবে কি ফেরা হবে না আর
যদিও আজ অব্দি কেউই ফিরতে পারেনি ঠিকঠাক। যদিও আজ অব্দি প্রতিটি সফল অভিনয়ের পর পড়ে থাকে রঙিন হাততালি অথবা প্রথামাফিক মুগ্ধতা
আর পায়ে একজোড়া ফিরে আসা পরতে পরতে আমরা গল্প করি কতটা আলো পড়েছিল মঞ্চে কতটাই বা অন্ধকার পরিকল্পনামাফিক পৃথক করা গেল


জিভ রাখার আগে গভীরতা মেপে নেওয়া দরকার ছিল, দরকার ছিল ক্যামেরার সঠিক দূরত্ব, অবশেষে ছোট্ট একটা কাট। দর্শক বলতে ম্যাজেন্টা রঙের আবহাওয়া, একটা বেদনাদায়ক অ্যাক্সিডেন্ট
বাকি আয়ু কোনও একটা অ্যাসাইলামের চারপাশে ঘোরাফেরা করবে, মাঝে মাঝে মৃত পাখিদের শক্ত খড়খড়ে ডানা জমিয়ে জমিয়ে গড়ে উঠবে বেশ কয়েকটা নাইটমেয়ার
কখনও যদি ফিরে আসা যায়, তা হবে অবশ্যই মৃত্যুর দু-এক বছর আগে। তখন বাড়ির পাশে একটা সার্কাসের দল তাঁবু ফেলবে আর রিংমাস্টার ও ক্ষুধার্ত বাঘের খেলা দর্শকের চাপে কিছুতেই মুলতুবি করা যাবে না


ছোটো ছোটো পর্যটন থেকে শুরু হয়েছিল এই গল্পগুলো। অথচ আমরা ভাবতাম নায়িকাদের ঠোঁটের নীচেই জন্ম নেয় এক একটা ট্যুরিস্টস্পট, আর বসন্ত বললে এমন একটা পাখির কথা মনে আসে যার সাথে বিবাহের হালকা সম্পর্ক থাকে
সেই প্রথম প্রস্রবণ দেখা, প্রথম উষ্ণতা সম্পর্কে একটা ধারণা। বিষাদ যতটা দেবতার মতো, তারো বেশি তুলো উড়লো আকাশে। হাওয়া কাটতে কাটতে হাওয়া কাটতে কাটতে পেলাম এক দীর্ঘ খাদ যার কাছে যাওয়াটা তখন থেকেই নিয়মিত হয়ে উঠল


আঁশগুলো ছাড়িয়ে রাখছি। আঁশুগুলো। নখের ধারে বিকেল কেটে চুঁইয়ে পড়ছে। কেউ কেউ নেহাত অক্ষর হতে চেয়েছিল, এখন আঁশগুলো সাজালে তাদের ছবি ফুটে উঠছে, বকলমে আঁশুগুলো একএকটা ফ্রেম
ধারাবাহিক অনিশ্চয়তা বলার জন্য যেসব গল্পের কাছে যাওয়া যায় তাদের ভাষা ক্রমাগত পালটে যাচ্ছে। পাঠক সম্পর্কে যে কোনও ধারণাই কিছুটা বিশেষণহীন হয়ে পড়ছে