যাচনা

মুক্তি মন্ডল

ফনী মায়া সঙ্গে নিয়ে ঘুরি
ভাবের ব্যবসায় মনোহরা কাজল আঁখি
গুরুর দিকে লটকে আছে জানি
আমি দেখি মানসপটের ঘাটে
তাহা প্রেম ছিল না
ছিল অন্য কোন মিনতি
রঙ্গভরা
ছলনাবিনাশী প্রণয়ে ফেরো কুসুম
হাল ধরো
গেয়ে ওঠো নিশিগান
উচ্চতর প্রেম
সাঙ্গ হোক ভোরের বাতাসে

এক

খুলে দাও মন কুঠুরির দ্বার
দেখ অন্তরীণে রাখা
দেহের গোপন ক্রোধ
তাকে ঘিরে নেচে উঠা রাত্রিঢেউ
চিরে চিরে
তুলে আনো স্বপ্নের মহুয়াফুল
পুরনো বাদল ঘ্রাণ মুছে
একা একা দেখ শয়নভঙ্গির ফনা

দুই

বিভ্রমের মাত্রা নেই আর
পিপাসার তলদেশে কুণ্ঠিত আদল
ভাঙা ছায়ার প্রদেশ ছেড়ে
আমাদের চোখাচোখি মেঘের কিনারে
উদ্ভাসিত নরম মনের মত
শান্তস্রোত
ভ্রান্তপথের কাঁটা সরিয়ে
জোড়া দিচ্ছে ভাষা
প্ররোচিত উষালগ্নের ডানায়

তিন

অষ্পষ্ট ধারণায় মুষড়ে পড়া শ্লোক
দীপ্তহরণে কলুষিত বৈরাগ্যে
চিহ্ন রাখার শয়নঘরে
লুকাতে চাচ্ছে মুখের কষ
ভাষারলীলায়
তুমি মুখখানি দেখাও আমাকে


চার

আমি শূন্যমুখ দেখতে দেখতে
উদাম কথার শরীরে ছিটিয়ে দেব
সংরক্ষিত প্রণয়ের মাংস ঘ্রাণ
কোন আলগা সম্পর্কের প্রশ্রয়ে
তোমাকে ছোঁব না
নদীর শুকনো তটে
তোমার হাত ধরে হাঁটবে
রোদ আর সবুজের স্নেহময় আশা

পাঁচ

দৃশ্যের ভেতর তোমার উপস্থিতিই
আমাকে টেনে নিয়ে
কাঠের কণায় লটকে রাখে
দূরে কাঠ চেরাইয়ের শব্দে
সম্পূর্ণ অনূদিত
নতুন
অন্য শব্দের কোমল গহ্বর
আড়ালের সম্প্রীতিতে জ্বলে ওঠে
শুভ্র কামনা

ছয়

এই বারুদ মাংসের গভীরে
কারুবাসনার চিতল পেটি
খুলে দেয় সুড়ঙ্গের প্ররোচনা
ভরে ওঠে
মন মল্লিকার শূন্য ঘর
ডাকে
পূর্ব রাগের ঝলক
ভাসিয়ে তোলে
মুছে যাওয়া স্মৃতির প্রবাল

সাত

ভুঁইফোড় প্রলাপে নত মস্তক
রঙফরসা বণিকের আঙুল
স্তব্ধ হোক
তুমি প্রফুল্লবাহারে খোল মুঠি
ভাষানগরে প্রণত হোক
তোমার অঙ্গপ্রতঙ্গে বহুবার
সাহসী পত্রবাহক
উড়ুক হলুদ খামে প্রণয়ীর হস্তরেখা


আট

ধরো সাবধানে পুষ্পধ্বনি
গভীর মন কারো সুবাস চায়
ধরতে চায় সহজে
সীমা ছেড়ে যাওয়া মেঘের কিনার
দেখতে চায় নিশিতে
নীরব মুখের রহস্য ঘেরা উড়াল


নয়

স্মরণ করো বাহুর নম্র ছায়ায়
কিভাবে ফুটিয়ে তুলবে
জীবনের ক্ষত চিহ্নগুলি
হর্ষব্যাকুল নাওয়ে কিভাবে
কথা বলবে
অন্ধবিনয়ী মুখোশ

দশ

সম্পর্কের বাইরে
অনন্য ঋতুবহ্নি ছুঁয়ে দেখ
তার আঁচে শরীর নাচাও
সঁপে দেওয়া মনের জলছাপে রোদ
ছিটকে এসে পড়ুক
যাচো সরল প্রাণের মত
মুছে যাক দীনতার দাগ
অধিকার ছেড়ে
মুক্ত করো শুদ্ধতর ভোরে
প্রহরান্তের সকল পুষ্পধ্বনি

এগার

রুদ্ধ করে রাখা অযথা
অপর দেহাঙ্গনে
নিক্ষেপ করো ঊষামুক্ত প্রহর
সিদ্ধতরনীর জল
ঠেলে উঠে আসুক লুপ্ত কুহুক


বার

ছিন্ন হওয়া সম্পর্ক - এই বাক্য
প্রীতির অর্ধগলিত দেহ
থেকে তুলে আনে মোহ
সৃজনসন্ত্রাস
পড়ে থাকে পৌত্তলিক
জড়াজড়ি করে
উচ্চাসনে বহুগামী স্ফটিক