কথা

কৌশিক বাজারী

কথা

প্রতিদিন এত যে কথা বলি সেও কি বলার মত কিছু? বল? তবু সারাদিন সারারাত কথা কথা কথা... সেইসব কথাগুলি যেন অর্থহীনতার মত গুঢ় এক প্রদেশের প্রান্তে ফুটে থাকে, ঝরে যায়, দুলে ওঠে কখনো কখনো। হঠাত ফসল কেটে নেওয়া মাঠ দেখলে মনে হয় ফসলের স্মৃতির গল্পগুলি এইখানে ছিল। চাষী ছিল, চাষীবৌ ছিল তার পাশে। তাদেরও গল্পগুলি, গল্পের কথাগুলি নিড়ানো মাঠের ধারে ছড়ানো রয়েছে--সেই বীজ! বর্ষা এলে আবার আবার সেই কথাগুলি শস্য হয়ে ফলে উঠবে? বল? সেও কি বলার মত কথা! …


অস্ত্র
.
এইবার তুমি একটা মারাত্মক অস্ত্র ছুঁড়ে মারবে বলে চোখ বন্ধ করলে। আমিও মনে মনে প্রস্তুত। হাওয়া থেমে আছে, জল চরাচরসারে স্তব্ধ হয়ে আছে নিচে, আকাশ ভেঙে পড়ার আগে মহাশূন্যের মত ঘন, কালো, স্থির! তুমি চোখ বন্ধ করে আছো। স্থানুর ললাট থেকে তোমার শিখা নিভে যাচ্ছে ক্ষীণ হয়ে! এ কেমন অস্ত্র পূর্বাচল, আমি প্রাণপন রুখে দাঁড়াবার আগে নিভে যাচ্ছ কেন! খোলো, তোমার অক্ষিগোলকের নিচে পুড়ে যাওয়া পথ আমাকে দেখাও। আমি ত্রিলোকের ভস্ম মেখে একবার ফিরে যেতে চাই...



ভাব

...তোমার ভাবনা এক অন্ধকার বিদ্যুৎ-পাহাড়!
মাথার ভেতরে খেলে যায় অচানক! তুমি কেন্দ্রচ্যুত হও।
তোমার পৃথিবী দূরে পড়ে থাকে। তুমি দূর থেকে দেখো--
পর্বত হিমানী সফেন সমুদ্রের তীরে চন্দ্রালোক!
আমি ভুল করে স্পর্শ করতে যাই, আর বিদ্যুৎপৃষ্ট হই,
মুহূর্তে! তোমার ভাবনাগুলি পাহড়ের মতো মাথার উপরে ভেঙে পড়ে।
আমি চেতনা হারাতে হারাতে দেখি--
তুমি বহুদূর অন্ধকারে প্রদক্ষিণ করে চলেছ
দূরে পড়ে থাকা তোমার নিজস্ব পৃথিবী,
পর্বত হিমানী সফেন সমুদ্রের তীরে তোমারই চন্দ্রালোক…