তৃষ্ণার ক্যালরি বিতৃষ্ণার টক্সিনস

জপমালা ঘোষরায়

৪ঠা জুন
(ক)

অথচ লাউঞ্জে নেমেও কথা হল.....


টাওয়ার জোন অবধি গড়িয়ে এল একটা স্ট্রেচার, তারপরই ফিনাইলগন্ধ করিডোরের সেবা ও পরিষেবাসমূহ হেঁটে গেল মুসাম্বি সকালের দিকে....


ওয়াচ ক্যামেরাই অভ্যাসমতো জানালো স্তব্ধতার কথা এবং বেহুলা বুঝে নিল বাসরঘর ভেঙে বহুদূর যেতে হবে। মাঠকাঁদর মাটিতর মাটিতম মঙ্গলকাব্য পেরিয়ে বহুদূর....


দেয়ালের খুব কাছে অথচ গ্যালাক্সিরও পরে ছিল বেহুলা। না, এতে কোনো মিথোম্যানিয়া নেই, জাদুবাস্তবতা নেই, সচেতন ভাবেই বাউন্স করছে সেলাইন। তিন ঘন্টার ডেথ শার্টিফিকেটের উদগ্রীবে কনসিভ করল জরায়ুর ডায়মেন্সনে যে কথারা এত দিন প্রেম হয়ে ওঠে নি। গোপন গর্ভপাতে কাঁদলো জরায়ুর ডিং ডং শব্দেরা। পালকনির্ভার হতে হতে চিলার ট্রে অবদি এগিয়ে দিয়ে বেহুলা বলে গেল পর জন্মে আরেকবার এস। দরজা খোলা রাখবো।



(খ)



কেউ যেন ফরসেপ্টানে বের করছে গলায় বিদ্ধ পেরেক। কন্ঠনালী থেকে খুবলে আসছে রক্তাক্ত পেঁয়াজ। বিকৃত মুখ কিছুতেই দেখতে পারলো না আত্মজা। কালশিটে বরফ পায়ে কিছুতেই শেষ প্রণাম জানালো না। অথচ সারাজীবনের সমস্ত প্রণাম মৃতের কর্কট কোষপ্রাচীর ভেঙে ভেঙে নিউক্লিয়াস বিগড়ে দিতে লাগলো....


অসহায় চিৎকারের ভিতরেও একটা জাগরণ থাকে হয়তো......



খামোশ
--------------


হিপ অফ ব্রোকেন ইমেজ কে ভয় পেয়ে ফিরে আসার আগে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে এসেছিলাম তোমাকে ছেড়ে থাকা আর সম্ভব নয়, স্মৃতি রা নষ্ট হয়ে গেছে, আমাকে দ্বিতীয় নির্মাণ দিও। আমার অনিবার্য গোপনের পাত্রে বিষ আর বিষাদ ঋতুস্রাব ঢেলে দিই.... জরায়ুর অনন্ত কান্না.... অর্গাজমের বাসনাকে আদর না ভেবে অশ্লীল ভাবলে তুমি। আমি আশ্লেষ খুলে ফেলে রাহুবন্ধু অশ্লেষায় মৃত্যু মেনে নিলাম। আমাকে তুমিই বাধ্য করলে।


সিঁড়িপথ মনোপলি চ্যানেল নিয়ে একটা ঝুরো কবিতাও লিখেছিলাম শিশিরের নেটওয়ার্কে। প্রৌঢ় বিকেলের মতো অনুষঙ্গ থেকে উঠে আসা নীল দিগন্ত.... নীলের ভিতর চুমকি ময়ূর কাঁথাস্টিচ.. কানের দুলেও ময়ূর ছিল....ময়ূর বললেই আমার ঝমঝমিয়ে যৌন এসেছে চিরকাল। নীল টিপ নেলপলিশ .... শুধু ঠোঁটে খানিকটা শুকনো রক্তের মতো মেরুন লিপস্টিক লিপ্সাহীন আটকে ছিল বলেই "শিকঞ্জের পাখি খামোশ" ছিল।



নীল তিমি স্বপ্নেরাও যে ছিল না তা নয়, তবু এক পুরোনো বাইসাইকেলওয়ালা কেন জানিনা ব্লু-হোয়েল মৃত্যুর দিকেই হেঁটে গেল.... অনিবার্য গোপন....




তৃষ্ণার ক্যালরি বিতৃষ্ণার টক্সিনস --১৫
------------------------------------------------------


পোতাশ্রয়ী তৃষ্ণার ক্যালরি থেকে বিতৃষ্ণার যাবতীয় টক্সিনস সী সিকনেস জনিত বমনের ঘোলানি কে বাদ দিয়ে কোন উপনিবেশের চর্চা হয় না।



অহো রসতাত্ত্বিক আচার্য! অভিনব গুপ্ত! অভিনব ফর্মূলা মিক্সিং পাঞ্চিং করে আনন্দঘন সম্বিতের দ্বিতীয় নির্মাণে ক্যানন ভাঙল আপনার সুপার চ্যালেঞ্জিং ফ্লোটিং ইগো। ঘোঁতঘোঁত বাঙালিয়ানার কাঠিমুঠি মাদুর শতরঞ্জ ছেঁড়াচাদর লাখ স্বপ্ন ইনকার করে।


ব্যক্তিত্বের এত আঁচ নিতে পারি না বলে ব্যক্তিগত ঝিনুকের ভিতর কান্না হয়ে বাস করি। আপনার বিনয়ভক্ত বাহির শরপে রেখেছে চাকা, লাবডুব ভিতর বলছে ফিরে এস চাকা। নার্ভাস সিস্টেমে হার্বার্ট, অন্তরে রবি ঠাকুরের গান, ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সঙ্গীত। এত বৈষম্যের পাজ্ল! আগুন আর জলের যুযুধান.....



আনহোমলিনেস থেকে মিথ অফ হোম, মর্গ থেকে মৃন্ময়ীর রান্নাঘরে উঠে এসে সংস্থাপিত হচ্ছে সংঘমিত্রার পাকশালা.....মহেন্দ্র বাজার বসাচ্ছেন.... বাজার থেকে মিনাবাজার.... ঝুমকা গিরা রে.... মাদারিকা খেল....




মর্গের পাশে কি আপনার চশমা পড়েছিল? আপনার তথাকথিত দাবীদার বন্ধুরা কেউ কি তুলে রেখেছেন? প্রজ্ঞায় সমগোত্রীয় সর্বজ্ঞ আপনার পেপার ওয়েটের স্থাবর, চশমার জঙ্গম, আর যে পেনটাকে আপনি রসিকতা করে জাগ্রত পেনিস বলতেন?


সবখানে আপনার ঘাম আর থুতু লেগে আছে।