নীল নীলিমা

রিমি দে


তিনমাথা ভিন্ন করে বসে আছে
মাথা আর মাথাতেই নেই
পাতা ধোয়া জল নামে
পা বেয়ে গভীর পাতালে

জল নামে
স্থল নামে
পাহাড়েও গেয়ে ওঠে বাঘনখ
মাথা আরো ভারি হয় প্রেমে
মাঝেমধ্যে উদভ্রান্ত হাওয়া আসে
ঘন নীল হয়ে উঠি
মাথার ভিতরে প্রবল মাথারা নড়েচড়ে

ঘোর কেটে গেলে
আবার প্যান্টালুন্সে যাই দিব্যি

গাছের নীচের ওই ডানপাশে
স্থির এক ঢেউ বসে আছে
ঠিক বসা নয়
উদভ্রান্ত নীলের কাছাকাছি থেকে
আরো গাঢ কালো হয়ে থাকা


ধস নামে
খসে যায় ঢেউয়ের আগল
বামদিকে সেবক বাজার ওর
পারাবার খুলে দেয়

মুখের ভিতরে এক কুৎসিত মুখ জেগে থাকে
দুধে জলে বড় করি তাকে
তেলে তিলে আরো আরো কালো
নিবিড় লালের থেকে নীলরং ঝরে পড়ে
আজকাল, আজকাল মুখোশের মতো
ঘন কালো নানান শেডের হাসিমুখ
বিষাদের নিষাদ থেকে গলে পড়ে বেদানার দানা
রূপের ধরন দেখে বিন্দুমাত্র বিচলিত নই
এমন ধারণা নিয়ে লালসার লালা জমা করি
লুকনো মুখর গুলো মাঝরাতে কড়া নাড়ে

শিকল খুলে দেই মহানন্দার

উবু হয়ে বসে আছে রাতের সম্রাট
খানা খন্দ তুলে এনে জমা করে
বুকের নিবিড়
নিজের শরীর থেকে খুলে রাখে
বেদনা ও নিষাদ
ধীরে রাজা দূর্বাঘাস ছোঁয়
রাত থেকে রাতের মহিমা ছিঁড়ে নেয়
রাত যত বড় হয় রাজা তত গাঢ রাত
দুই হাতে মরু ও পাহাড় নিয়ে নাচে
বটের ঝুরির মত নেমে আসে মনের ঝালর
প্রবল বসন্ত ঝেঁপে এলে ত্রিভূবন কাঁপে
ঝাঁপতালে গেয়ে ফেলি বিষের বিষাদ
যেন আমি চাপে আর পাপে পিষ্ট হই
ঘোমটার আড়াল রেখে চন্দ্রবোড়া খেলি
নিজেই নিজের শীৎকার ভোগ করি

এরকম রানী নিয়ে রাজার বনবাস