বেস্ট অব ফাইভ

অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

একঃ ভাষা
ডোরাকাটা দেখেই অস্ত্র হাতে মশাল হাতে
যারা যারা ছুটে এসেছিল তাদের সবার অন্ধতা
গাছে গাছে টাঙানো জরিদার
হো হো হাসির শব্দে সেই তাদেরই বুকের ভিতর থেকে
উড়ে যাচ্ছে ভয়ার্ত পায়রা ও শালিখেরা
খুঁচিয়ে মারার আগে কালো ও হলুদ থেকে
চাঁদ বা সূর্যের গল্প পড়ে উঠতে পারেনি কেউই
নিজেকে বোঝানোর দায় দুর্বোধ্য ভাষার থাকেনা
তাই নিরন্ন দুপুরের ঘরে কাঠের উনুনে
পুড়ে যাচ্ছে খিদে ও দু একটি খুচরো পয়সা

দুইঃ গনিত
যা কিছু অমীমাংসিত
ধরে নাও, কোনো একটি চিহ্নে তাকে ধরো
এক্স ওয়াই বা জেড যাহোক একটা
বিন্দুমাত্র সংশয় লেখা হলে
হাড়ের সুড়ঙ্গ দিয়ে পিঁপড়েরা চলাচল পথ করে নেবে
লাভ-ক্ষতি, জমা-খরচের ওপর দুলছে অসতর্ক সেতু
আর তুমি জলের নাব্যতা সূর্যাস্ত দেখে লীন
ভুল অংকে যেখানে পৌঁছতে চাইছ
সেই সমীকরণের শেষে
মৃত্যু নট ইকোয়াল টু বেঁচে থাকা



তিনঃ বিজ্ঞান
সমস্ত স্বতঃসিদ্ধই ব্যাখ্যাতীত নয়
যে আগুন পোড়ায় আর যে আগুন আলো ধরে
ধর্মত উভয়েই এক
মাত্রার সামান্য হেরফেরে বিস্ফোরণ লেখা হয়
কম্পাঙ্ক মেপে যাবতীয় সতর্কতা
হৃদ্ঘাতের গল্প ছুঁতে পারেনি যেখানে
সেই পর্যন্ত টুকরোগুলো ইতস্তত
যুক্তি পরম্পরা সাজিয়ে সিঁড়ি রক্তের আঠালো থেকে
আলাদা করতে পারছেনা বিপন্নতা ও ভয়





চারঃ ইতিহাস
বলা ও না-বলা
সব কথাদেরই নিজস্ব ঘ্রাণ থাকে
কুকুরছানার মত তাদের অনুসরণ করে হাওয়ার শরীর
আর শরীর থেকে ঝরঝর পড়তে থাকে
দাঁড়ি কমা সেমিকোলন বিন্দু বিসর্গ
নির্মোহ হয়ে ওঠার পথ ধরে
আর কোনও ডাক এসে পৌঁছলেও
তার শ্বাসের শব্দ চাপা পড়ে যায়
যতদিন না খননকর্মী এসে তাকে উদ্ধার করে
জীবিত, মৃত বা জীবন্মৃত



পাঁচঃ ভূগোল
যখন জোয়ার ভাঁটার খেলা আচম্বিতে
আকাশের দিকে না তাকিয়েও বোঝা যায়
কোন পক্ষ, কত চাঁদ
কতখানি অন্ধকারে জেগে থাকা ঐ নক্ষত্রপুঞ্জ
বালিঘড়ি নিজের নিয়মে ওলটপালট হয়
একদিন বলেছিলে, তবু আজ
ঢেউ থেকে কতটা তফাতে দৌড় দিলে
এমনকি জলেরও চিহ্ন থাকবেনা
মরা কোটালের রাতে সমুদ্র সরে যাবে চোখ থেকে
সেটুকুই পাঠ্যক্রমে থাক