নন্দনতত্ত্ব

শিবলী মোকতাদির

নন্দনতত্ত্ব

তোমারে কাছে ডাকি, রসে-বসে প্রতীকি বন্ধনে
ফুলশয্যার নন্দনতত্ত্বে চলো আজ নিজেরাই আড়িপাতি!

শুনে, আতর আর গোলাপের ঝাড়ে
তপ্ত বোতলে বরফের ন্যায় ব্যক্ত হতে থাকো
তুমি কেমন বউ গো! কেমন তরো ইয়ং
আঁচলের গিটে খালি খালি ভয়-ভীতি বেঁধে রাখো?

যতই ইন্ধন দেই সুর হয়ে সেজে ওঠো
ভয় কী, আমিই মন্ত্র আমিই পুরোহিত।

তুমি কিন্তু ততটাই পরিত্রাহী।
চিরকূটে লিখে দাও,
‘সেকালে ঘটত সবই রেওয়াজ মাফিক
আর আজ ঘটনার শুরু মর্জি মাফিক।’

কী করি বারুদ ভেজা, বুঝিনি আগে
এতটা অহংকার থাকে যে আগুনে...

পরিশেষে আলোচনায় অর্থনীতি ভেসে ওঠে।


ও পলাশ, নিয়োজিত শিমুলের বনে

বহু দিন পর পরিত্যক্ত বনে ফিরে এসে—
মনে হলো, জনপদে আগুন ধরেছে অভিমানী এই দেশে।
অতিতের গুপ্ত লতা-পাতা ধীরে ধীরে বিবিধ অলীক অনুষঙ্গে
ঘটনার মতো বন্দি, লিপিবদ্ধ হয়ে আছে; অসহায় নানা রঙ্গে।
যেন আজ শিমুলের ডালে-ডালে বিপ্লবী সুরের আনাগোনা
ক্রমাগত বধিরের মতো অপরাধী করে— সেইরূপ ব্যথিত অচেনা।
এইসব ঋতুর নিষিদ্ধ নগ্ন প্রকাশনা ঢেকে দিতে;
দু’হাতে বুজেছি চোখ, নিরুপায় অন্ধের ভঙ্গিতে।
শুনি দূর থেকে ছুটে আসা বিদেশি ছবির দমকলে—
অশুভ বাতাস কেটে কেটে থামিয়েছো দাবানল, নিয়োজিত যোগফলে।
তবু যতবার পালাতে চেয়েছি, দেখি তুমি আলতা-জড়ানো-পায়ে
সদ্য ঋতুময়ী, লালশাড়ি পরে মিশে যাও; নির্বাচিত পলাশের গায়ে গায়ে।
আর আমি ভয়ে, নিষিদ্ধ লজ্জায়, বিকশিত ভূগোলের অচেনা অরণ্যে
অযথাই ব্যক্ত হতে থাকি, প্রতিটি পলাশ— শিমুলের ব্যাকরণে।


প্রত্নবিদ

শিলার উপরে শিলা, ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে আছে প্রাণহীন
এই থাকা আয়েশী রাতের মতো চন্দ্রফাঁদে গড়া
তদুপরি নিকটে যখন যাই হাতে থাকে দুরবিন
ভ্রমে, ভুল করে আমি নিজেই বেঁধেছি হাতকড়া।

এখানে বাক্য, ওখানে বাগধারা তামাশায় ঘোরে হাহাকার
দর্শন— এবার দরদী হও, গুল্ম— তুমি বলো তার ইতিহাস
বুনো বটের মতো দাঁড়াবার খানিকটা দাও অধিকার
এই নাও গোত্র, আপাত ধর্ম, দেখো খাঁটি দেহের নির্যাস।

আমরা এসেছি খালি হাতে সিলসিলা মগজে ধরে বিঁধনাস্ত্র
সলজ্জায় নানান পঙ্ক্তিতে ভর করে এসেছি চর্যার হুমকিতে
এইদিন রাত হবে ভুবনের দেহ থেকে পড়বে ঝরে বস্ত্র
আলাপ জমবে যখন আঁধারই খুলে দেবে বেণির ফিতে।

তুমি তো লুপ্ত! বুঝি কতটা রাগে বেজে ওঠে তার রাগিণী
মোহরের মায় কী করে করবে মাত আমি যে প্রত্নবিদ!
কত যে ভূত কত যে ভিক্ষু ছিলো তারা অভিমানী
বিনোদন ছেড়ে দেখি বিবিধ চোখে নেমে আসা নিদ।