উড়ালকাব্য

জাহানারা পারভীন

উড়ালকাব্য

এমন করে মিথ্যে হবে
নুনের ঋণে লবনাক্ত
গরম ভাতের থালার প্রনাম!
ধোয়া ওঠা কফির মগে,পবিত্র ঘাম।

জোয়ার ভাটায় স্নানের হিসেব
কেমন করে দেব এখন?
কাছেই ছিল ফোরাত নদী,
তবুও তো জল মেলেনি- হাহাকারের কারবালাতে...

তৃষ্ণা বুঝি জারুল ফুলের মুচকি হাসি!
সারাজীবন সামলে রাখা ঠোটের পতন!
দ্বিধান্বিত মনের ঘরে দেহের জিকির?
গ্রীষ্মকালে জন্ম নেয়া ক্ষনজন্মা সম্পর্কের আত্মকথা?
সাদা ভেলার মিছিলে এক আততায়ী বোমারু মেঘ!
নাকি সে বোতলবন্দী জেহাদী জ্বিন!
হাজার বছর অপেক্ষাতে মুক্তিপনের..

অন্ধদেশে বিক্রী করা আয়নাতে সব
উঠল ভেসে কিসের ছবি?
বাণিজ্যতে সওদাগরের নৌকাডুবি!
মাঝির বেটি হাড়িকুড়ির মুল্য জানে,
কাজলরেখা মৌনতাকে ভাগ্য মানে;
মাটির ঘরে বন্দী রাখে অবাধ্য মন
ঠোটের সেলাই খুলবে না সে করেছে পন

বলবে কথা শুকপাখিটা বৃদ্ধ হলে?
লোহার পাটায় মেহেদি বাটি মনের ভুলে

নতজানু মাথার চুলে পায়ের আঘাত;
রঙিন চুলে ঢেকে রাখি তালুর বিবাদ।

সব কলহের দিন ফুরালে,
দেই পাহারা মধ্যরাতে নিজের কফিন;
কেই বা কবে শোধ করেছে,
নোনতা দিনের বাটি ভরা সামান্য ঋণ!








সাপ

করিডোরে পড়ে আছে সাপের খোলস
তার মানে, উপদ্রপ এখানেও
উপদ্রুত এলাকা থেকে এসেছিল যারা,
যারা অলস মফস্বলের জলে কেটেছে সাতার
তাদের সহবাসে জন্ম যে নতুন প্রজন্মের,
তারাও রেখে গেছে বংশবীজ

পরিত্যক্ত খোলস দেখে ভাবি,
এই পোশাকের জন্য শোক আছে কোনো, কিংবা স্মৃতি?
যেমন স্মৃতির ভেতর ফোটে হলুদ শর্ষে
পাকা শর্ষের তৈলাক্ত হাসি, তার রঙকি বৃদ্ধ গ্রামে
তিলক্ষেতে থাকা সাপের রঙের কাছাকাছি?
হাসি দেখে আজকাল কিছুই মনে হয় না,
কোনো মুগ্ধতা, বিস্ময়, বিরাগের কাছাকাছি নেই বলে
অন্ধকারে জ্বলে ওঠা সাপের মনিটিকে চেনা যায়,
চেনা যায় পোষা কবুতর,
সাপের মালা পড়ে, পায়ে, উড়ে গেছে নির্ভয়ে

এসব উড়াল অবমুক্ত করা হবে না? ছাপা হবে না
রক্তাক্ত পায়ের জলছাপ, আকাশ থেকে ঝড়ে পড়া রক্তের চিহ্ন

হন্টন

কুড়িয়ে আনা পাথরের গা থেকে
আলাদা করি রোদের ছায়া
বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মায়া..

পাথরের ছায়াও পথ আগলে দাড়ায়
নূপূর থেকে খসে পড়া নাচের মুদ্রা
জড়াই পায়ে।

পা তুই কোথায় যবি যা!




প্রতিটি মানুষই ব্যর্থ সহিস


রোলটানা পাটিগণিতের খাতা
তোমার কাছেও আছে কিছু ঋণ

কবে কোন ছুটির দুপুরে কাঁঠাল মুচিকে দেখিয়ে নখের ক্ষমতা,
কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি কুড়ানো লাল দিনে, কোমল কেশরে যুদ্ধ
বাধাতে বাধাতে তোমার বুকে কাটা একটি দুটি আঁচড়।

অন্তমিলে সাজানো কিছু খসড়া আবেগ, প্রাথমিক তুষ,
শব্দের দিয়াশলাই নিজ হাতে ছোড়া পেন্সিলে
আঁকা খড়ের গাদায়, স্বরচিত আগুনে পোহানো
শীতের উত্তাপ। চোখের সঙ্গে জাগিয়ে রাখা তোমাকেও।

তোমার শরীরে জমা ধুলোর প্রলেপ মুছে দিতে দিতে দেখিÑ
নিজের সব চেহারা একসঙ্গে ভেসে ওঠে মলাটের আয়নায়।

তবে কি প্রতিটি মানুষই এক একজন ব্যর্থ সহিস!