আমার সৎকার

অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়


।।এক।।

চোঁয়ানো নয়ার কিনারে আরম্ভ যদি বাঁশি শুনলেই পাতা ঝরে পড়ে
ম্যাগনোলিয়ার ডালে ডালে ঝুলে থাকা বরফের ব্যথা
শিরোনামের পাগুলো ডিলিট করে দিতেই এই সকাল দেখ কিরকম আক্রান্ত আজ
চুপিচুপি ফিরে আসার জন্য।
এবারে তিনপাত্তির আসর।সব আঙুল হয়ে ঘুরে যাচ্ছে আমাদের বিবি সাহেবদের হেরে যাবার দৃশ্যগুলি।
কিভাবে মেমোরা ক্যাশ হতে হতে এই চান্দ্রমাস গেরিলা যুদ্ধের আগে প্রিয় ডাইরির কোনায় কোনায় লুকিয়ে রাখা শবদাহ
হয়তো আমাদের বিয়োগ তাগিদ।
যে যুদ্ধ হয়েছিল এতকাল তার কোনো ইতিহাস লেখেনি কেউ প্রেমিক মরে যাবে বলে।
বৃক্ষ আপাতত কারুর নয়।এই চোরাচালান সেকথাই বলে।
বৃক্ষের মেয়েরা সব নদী হয়ে চলে গেল সীমানার দিকে।ওখানে রোদ ছিল না তখন।
ছিল না পোড়া কাঠের গন্ধ সব মাংস মাখানো।
এসো নেশাগ্রস্থ খাতাগুলি
যাদের আগুন দিয়ে আমি জ্বালিয়ে দেব চোখ থেকে নেমে আসা শহর
আশাতে টাঙিয়ে রাখা তোমার শীৎকারের তীব্র গন্ধগুলি

।।দুই।।

সেরে ওঠা মখমলের বাতাস বিলোতে দিইনি। ঘাড়ে এসে বসতে দেখেনি বোতাম খুলে ফেলার শব্দ।
যারা চুমু নিয়ে বসেছে বাজারে তাদের উন্মাদে আজ খোয়াই নেমেছে।
তিনরঙের প্যাভেলিয়ন। আমা তেতুল আর ছোলা মাখা। ক্রমশ টপকানো সিঁড়ি ধব ধবে সাদা এই মিশেল তবুও পারলো না প্লাতিনি হতে কালো সেই তিগানার পাশে। বাবু চেয়ার ধার করলেন। পালটে নিলেন সরেজমিন। মায়েরা তবু ফিরেও তাকালো না ঘরময় জলের দিকে। যার তলায় চলে গেছে চিঠিরাও কোন শব্দ না করে।
এভাবেই ইতি টানতে গিয়ে যে খই ছেটানো তার বর্ষপূর্তী উৎসবে তুমি সন্তানসম্ভবা।
ভরাট বুক থেকে দুধ গড়িয়ে যাচ্ছে নিজের ইচ্ছে মত।


।।তিন।।

জলের পরিভাষা নিয়ে চলে গেল কাব্যগ্রন্থ। লিখতে লিখতে দেখ পাথর ভেঙে যাচ্ছে। নদী ভরে উঠছে কোন কোন প্রকাশকের খোঁজে।আমাদের তখন আলো ছিল না।ছিলো না শীতের শাড়িতে রাখা নিশ্চিন্ত গোলাপ।
জমি হারানোর গল্প যারা জানে তাদের তাকানোয় সেই পুরোনো মায়ের শব্দ। ফিরে পাওয়া পথ আর কোতোয়ালি ঘিরে জেলেদের রাত্রি সংলাপ।
জাল খুলছি। আজ মায়ের চুল না পেলে স্নানের প্রসব হবে না।
চোখ না ডুবলে বিয়ের তারিখ লিখবে না কেউ বৃষ্টি পুড়িয়ে।...
।।চার।।
হারানো প্রকাশ আরো যুদ্ধ ছুঁয়ে গেল।
তুমি তাকে খুলেই দেখলে না।
এভাবেই ভাল আর মন্দ জুড়ে যায়

ঠোঁটের পিনড্রপ ক্রমশ শরীর হয়ে ওঠছে দেখ
পিঠের আসবাবে।

।।পাঁচ।।

বউ-এর পা থেকে সরে গেল শরীর।
আলোকিত উঠোন কিম্‌বা এইযে বুকের মঙ্গল
তাকে আর শুয়িয়ে দেব না গল্পের পাশে।
এখন
আমাদের লবণ ছাড়া যাকিছু সামলানো।
বেদানার বালিশের কাছে, কান্না জমাতে।

বাংলো বলার চেয়ে শুরুর পরে কয়েকটা পাখি।
দেখতে দেখতে নেমে এলো গানের নতুন।
ছায়াতে আর কথা নেই।
মুখোমুখি এইতো ফসলের পরবর্তী ঘরদোর।
সিঁথি ভাঙতে ভাঙতে গাছ বড় হল।

আমাদের দীর্ঘ পরশ তবু কুয়াশা হবে না।
অলীক হবে না।

।।ছয়।।

এবার শূন্য ফুরিয়ে যাবে শতাংশে।
যখন বেজায় এলো
তুমি দেখতে পেলে হলুদ আর জল।
এই মশারীর চারপাশে তবু হয়রানি।

বালিশ থেকে বেরিয়ে আসছে চোরাগোপ্তা।

তুমি আগুন জ্বালালে
এখন ঘরময় শুধুই আগুন

মলাট পুড়ে যাচ্ছে…..কি দারুণ মাংসের গন্ধরা শুধু জেনে যাচ্ছে
জেগে থাকার কবিতাগুলি

।।সাত।।

গল্প সেতো হারিয়েই আছে গল্পের আসেপাশে।
এখন কিছু সবুজ আর পোকারা।
আমি হেঁটে যাই এদের হঠাৎ দিনের কোনো সাহস জুগিয়ে।
ওপাশে সুরের গন্ধ।বাজালো যে মানুষটা
তাকে দেখে এলাম ডাঙায় বসে আছেন।

পোকা একটা জলের নামও হতে পারে।
হতে পারে গাছেদের যা যা নাম তুমি উৎসর্গ করেছিল
ছবির আকারে

আমরা সবটাই পারি
কিন্তু করি না বলে কিছু জিনিস ফেলে আসা হয়। রেখে গেছে বলি।


।।আট।।

এভাবেই ফিরে পাওয়া আজো ক্লাসঘরের বাইরে সাজানো
তাকালেই বুঝতে পারি আর কোনো পথ নেই ঠিকানা সামলানোর।
কিছু কি ছিল আদোও?
নাকি সবটাই বলে ফেলার সাথে
গুটিয়ে নেওয়া বর্ষা যেমন
মানুষটার কিছু কিছু নীরব
আমাকে ঝাপসা করে। বন্ধু শেখায়।

।।নয়।।

রাখা আছে সূর্যাস্ত এই ঘরের ভেতর। আর মাঠ থেকে তুলে আনা গোলাপজল।
বিন্দু থেকে খানিকটা পিনের সুরও সাথে।
সরাইখানায় এখন ফোঁটা ফোঁটা জন্মের অপেক্ষা।
জ্বলছে অ্যাশট্রে থেকে তুলে রাখা বন্ধু’র ক্রমাগত।
হাটুমুড়ে বসে থাকা শেষের হাত ধরে।
আমাদের সীমিত কাগজে কেউ আর উলু দিচ্ছে না।
ভেজা চোখের কাছে একটু রোদ আর পাখি বসে আছে
শরীর সামলাতে

।।দশ।।

হারানোর এই পর্বে তোমাকে আর কিছু জানাচ্ছি না।
গল্প সেতো হারিয়েই আছে গল্পের আসেপাশে।
এখন শুধু সবুজ আর তাদের পোকারা।
আমি হেঁটে যাই এদের হঠাৎ দিনের কোনো সাহস জুগিয়ে।
ওপাশে সুরের গন্ধ।বাজালো যে মানুষটা
তাকে আজও দেখে এলাম ডাঙায় বসে আছেন।
পোকা একটা জলের নাম হতে পারত।হতেই পারতো।
গাছেদের যা যা তুমি উৎসর্গ করেছিল
সেইসব প্রিয় লেখাগুলি দেখ ছবির আকারে
আমরা সবটাই পারি
করি না বলে কিছু জিনিস ফেলে আসা হয়।
এভাবেই ফিরে পাওয়া যতটুকু
আজো ক্লাসঘরের বাইরে সাজানো।

।।এগারো।।

বিস্তারিত বিবরণ আর বারবার রান-আউট।
মুছতে মুছতে একদিন নিজেকেই মুছে ফেলা শান্তনালয়ে কেউ বিভা হয়ে উঠছে না যখন
আমার ল্যাজে আমিই পা দিলাম।
তাকালাম আরশির দিকে।
দেখি ব্যথা আর ব্যথার শরীর যখন রোগের শতাংশ জেনে গেছে আরো কিছুটা বিয়োনোর বেলায়
তখন এই সমাচার এলো...
পৃথিবীতে নাকি নদী বহু প্রকার। নৌকায় আজ তামাক সাজিয়েছে সবাই নিজেকে জ্বালাতে

।।বারো।।
হয়তো পাশাপাশি। লিভ করলে দুইহাতে কয়েকটা মনে পড়া গান এখনো।
বাজতে বাজতে পড়েও যায় বীণার অভ্যাসে।অবিশ্বাস্য উধাও সেরে নিতেই আমার রুমাল আজো
রোজকার মত সামান্য রোজগারের আশায়।

বসে থাকতে থাকতে দেখি দেশি ঘড়িটার কাটাগুলোও কেমন ঠিকঠাক নিভে নিভে এলো।

।।তেরো।।

উলের কাটায় এই সেয়ানে সেয়ানে রং মিশে গেলে বাকি তবু বাকিদেরই ডাকনাম।।
আবার নামতে নামতে ঠিক যুদ্ধের পুরোনো মুখ।যেখানে যোদ্ধারা শুধু বাজার আর বিছানার গন্ধ পায়।আর সিগার

নাভির চারপাশে মেলে রাখা ছায়াদের কাছে এইসব পাঠক পৌঁছে দেওয়া।
কিম্বা মিছিল উপেক্ষা করে যারা ফিরে এলো
বিষয়হীন শিকড়ের কাছে তাদের পাঠের উত্তরগুলি
আবার লিখে ফেলবে জরুরী অবস্থা বিক্ষিপ্ত শরীর আর প্রমাণ আলেখ্য।

।।চোদ্দো।।

বিকেল আবার ঘসে দিচ্ছে দেওয়াল। গতকাল ছিল বিজয়ার নাছোড়।
একটা জাফরি ডাকলে হাত পড়ে নেয় বন্দিশ।
উঠতে উঠতেই লাগাম ফিতের এতটা বকুনিও।
সিঁড়ি্রা লুকিয়ে দেখেছিল। মনে পড়া বোতাম পিঠের দুইপাশে।

শেষ পর্যন্ত হাত ধরে নিতেই
আমাদের নদীর নাম পাথরচাটা
হাতড়ানো তুলিটার রোদ
চলে গেছে ভুটান পাহাড়ে

সমস্তটাই ডুবে
লেগে থাকা একমুঠো শীত

তুমি এসে রং দেবে বলে

আর ওপারে যাওয়া হল না