শেষ পারিজাত

নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

যে গল্পটা এখন আপনাদের সঙ্গে করবো এটা ঠিক বানানো গল্প নয়, এই ঘটনা সত্যিই ঘটেছিলো। তাও তেরোবছর আগের ঘটনা। আমার জীবনে কেনো সবকিছু তেরোবছর আগেই ঘটে জানি না। যাই হোক, বলছি শোনেন।

তখন আমি ভার্সিটি সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। আমাদের ভার্সিটি গ্রামের ধারে অনেকগুলি বনের মধ্যে ছিলো; বকুলের বন, সেগুন ও শালের বন, জারুলের বন, চালতার বন, বাতাবিলেবুর বন, তেলসুরের বন, পলাশের বন, ঝাউয়ের বন, কৃষ্ণচূড়ার বন, হিজলের বন, আরো অনেক বনের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো আমাদের ভার্সিটির বিল্ডিংগুলি। শহর ছিলো বাইশ কিলোমিটার দূরে। শাটলট্রেনে যাওয়া-আসা করা লাগতো। ক্যাম্পাস থেকে স্টেশনে যেতেই এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হতো। এই পথ আরো অনেক বছর আগে পাহাড় কেটে বানানো হয়েছিলো।

একদিন ক্লাস শেষে কাটাপাহাড়ের মাঝখান দিয়ে স্টেশনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে আমার মাথার ভিতর কবিতা তৈরি হচ্ছিলো—
শেষ পারিজাত রং পাল্টালো, শেষ অপরাজিতা পারিজাত হলো; কাঁটা আর লতায় সকলই এলোমেলো, এলোমেলো। আমি পারিজাতের লাল আর অপরাজিতার নীল মিলিয়ে বানালাম বেগুনি জারুল। লাল আর নীল মিলে সব জারুলের ফুল, অদূরে একসারি গাছের ছায়ায় কাঁদছে বকুল। ক্ষয়িষ্ণু পথের রেখায় পদচিহ্ন আছে প্রিয়তম পাপ, কোথাও সচকিত হয়ে আছে আমার সন্তাপ। দুহাতের দশটি সাপ দশ দিগন্তে মেলেছে পাখা। শেষ পারিজাত ছিলো তাহার বুকের বোঁটায় আঁকা। কাহার? সে জন্মাবধি ধোঁয়ার ভিতর মুখ লুকিয়ে রেখেছে তার অজানিত মুখ।

একটু দূরে সামনে দেখলাম, ভিড় ঠেলে দীঘল ছায়া ফেলে একা একা নন্দিতা হেঁটে যাচ্ছে সূর্যাস্তের দিকে। নন্দিতা মানে নন্দিতা। আমি তার ছায়া ছুঁয়ে যেনো ছায়ার চেয়ে দীর্ঘ পা ফেলে তার পাশে চলে গেলাম। তার কণ্ঠে মৌসুমী ভৌমিকের অনন্যের খোঁজে গানটা, ... সারি সারি সব বাড়ি/ যেনো সার বাঁধা সব সৈন্য/ সব এক ধাঁচ/ সব এক রং/ তুমি কোথায় থাকো/ অনন্য...

আমাকে দেখে সে গান থামিয়ে দিলো। মনে মনে আমারও অনন্য হতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু আমি অনন্য নই। সে বড়ো বড়ো চোখে আমার দিকে তাকালো। কিছু বললো না, হাঁটতে থাকলো। মনে হলো, তার মন খারাপ। ভাবলাম, পারিজাত নিয়ে আমার গল্পটা তাকে শুনিয়ে দিই। আমি বললাম, ‘একটা গল্প শুনবে?’
‘তেরোবছর আগের গল্প? বলেই সে ফিক করে হাসলো।’
‘হুঁ।’
‘বলো। তোমার গল্পগুলি খারাপ হয় না।’
‘এইটা পারিজাতের গল্প।’
‘ধুর গাধা! পারিজাত তো স্বর্গের ফুল।’
‘হুঁ, স্বর্গের ফুল তো বটেই। আমি মেঘদূতে পড়েছি। কিন্তু তুমি তো জানো না, মান্দারগাছকেই পৃথিবীতে পারিজাত বলে। আর স্বর্গে যেই ফুলকে পারিজাত বলে তাকে আমরা শিউলি নামে জানি।’
‘যাহ্! তুমি বানিয়ে বানিয়ে বলছো।’
‘না, পুরাণে লেখা আছে, আমি তোমাকে দেখাতে পারবো।’
‘কী লেখা আছে?’
‘লেখা আছে শিউলিরই আরেক নাম পারিজাত। এই ফুল স্বর্গে থাকে এই জেনে শ্রী কৃষ্ণের দুই স্ত্রী সত্যভামা ও রুক্ষ্মিণীর খুব ইচ্ছে হলো তাদের বাগানও কুসুমিত পারিজাত ফুলের ঘ্রাণে ভরে উঠুক। কিন্তু পারিজাত সেতো স্বর্গের শোভা! আর কৃষ্ণ স্ত্রীদের সুখি না দেখে থাকতেই পারে না। তাই একদিন চুপিচাপ লুকিয়ে স্বর্গের পারিজাতগাছ থেকে একটা ডাল ভেঙে এনে সত্যভামার বাগানে এমনভাবে রোপণ করলো কৃষ্ণ, যেনো সেই ফুল রুক্ষ্মিণীর বাগানেও ঝরে পড়ে সুগন্ধ ছড়ায়। আর এই জেনে দেবরাজ ইন্দ্রতো ভয়ানক রেগে গেলো! এমনিতেই ইন্দ্র কৃষ্ণকে পছন্দ করতো না তেমন। তাই যা হবার তা হলো, ইন্দ্র অভিশাপ দিলো যে কৃষ্ণের বাগানের পারিজাতগাছ ফুল দেবে, কিন্তু কখনো ফল দেবে না, তার বীজে কখনও নতুন প্রাণেরও সঞ্চার হবে না...।’
‘আচ্ছা, তাই বুঝি শিউলির কোনো ফল হয় না!’
‘হুঁ।’

‘এইবার তোমার গল্পটা বলো, শুনি।’

আমি নন্দিতার চোখে-মুখে শোনার প্রবল আগ্রহ দেখলাম। দেখে ভালো লাগলো। আর আমি গল্পটা বলতে শুরু করলাম—
তেরোবছর হবে। তখন আমি প্রাইমারি ইশকুলে পড়ি। অনেকদিন আমার বাবা কাজটাজ করতে পারেন না। রিকশা চালাতেন। একদিন রিকশা চালাতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কা খেলেন; হাত-পা ভেঙে গেলো। ছয়সাত মাস বিছানায় পড়ে আছেন। ঘরে খুব অভাব। আমার মা সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। এটা-সেটা বিক্রি করে করে প্রায় কিছুই নেই ঘরে। কখনো দুইবেলা, কখনো একবেলা খেয়ে দিন কাটে আমাদের ভাইবোনদের। আমরা নয় ভাইবোন প্রায়দিন একটা পোড়া লালমরিচ পাতের একপাশে রেখে তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নুন দিয়ে এক বাসন পান্তাভাত খেয়ে শেষ করি। গমসিদ্ধ, হেলেঞ্চাশাক, পাটশাক, কচুশাক দিয়ে খুঁদ আর লালচালের ভাত খেতে খেতে অরুচি ধরে গেছে।

একদিন মা নতুন নতুন শাক-সবজি আবিস্কারে নেমে পড়লো। কয়েকমাস পেলমবিচি আর মাষকলাই দিয়ে শাক হিশেবে রান্না করলো ইচিঝাড়ের পাতা, খেতে তেমন ভালো না। এইটা এক ধরনের ছোটো উদ্ভিদ, এক ফুট থেকে দেড় ফুট উচা হয়, রেইন্ট্রির চারার মতো, রাস্তার ধারে হয়। ইচিঝাড়ের পাতাতেও যখন আমাদের অরুচি হলো তখন একদিন মা নতুন এক শাক রান্না করে আমাদের খাওয়ালো, খেতে খুবই ভালো। আমরা খেয়ে খেয়ে ঢেকুর তোলে ঘুম যাই। কিন্তু বুঝতে পারি না এইটা কীসের পাতা।

পরের দিন দেখলাম, মা মান্দারগাছের পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে আঁচলে নিচ্ছে। আমরা বুঝতে পারলাম, এখন আমরা মাদারশাকই খাচ্ছি। মান্দারকে আমরা মাদার বলি।

গাভর্তি কাঁটা থাকে বলে আমাদের পাড়ায় প্রায় সবার ঘরের চারপাশেই সারি সারি মান্দারগাছ পোঁতা থাকতো সীমানা বেষ্টনি হিশেবে। দিনের পর দিন আমরা সেই বেষ্টনির পাতা খেয়ে যাচ্ছিলাম সিদ্ধ করে। আমাদের মান্দারগাছের পাতাগুলি প্রায় শেষহয়ে আসছিলো। আমার মা অন্যদের গাছ থেকেও মাঝে মধ্যে পাতা ছিঁড়ে নিচ্ছিলো।

একদিন সন্ধ্যায় উত্তর ঘরের জরিনাখালা মাকে দেখে ফেললো পাতা ছিঁড়তে। দেখে জিজ্ঞেস করে, ‘অ-বু, মাদারপাতা দিয়েরে কী গরিবি দে?’
মা মনে হয় লজ্জা পায় খানিকটা, শাড়ির আঁচলটা মাথায় ঘোমটার মতো টেনে দেয়। তারপর জরিনাখালার কথার জবাব না দিয়ে দ্রুতপায়ে ঘরে চলে আসে।

পরদিন পাড়ার মেয়েরা দেখে আমাদের মান্দারগাছ সব প্রায় পাতাশূন্য। তারা গাছের তলায়ও দেখে পাতা আছে কি না। না, ঝরেও পড়েনি। তারা ভাবে, সব পাতা আমার মা-ই ছিঁড়ে ফেলেছে। কিন্তু বুঝতে পারে না এই পাতা দিয়ে মা কী করে। জরিনাখালা উত্তর পায়নি বলে আর কেউ মাকে জিজ্ঞেস করে না। কিন্তু তারা ঠিক করে চুপি চুপি দেখবে মা কী করে। স›ধ্যার পর তারা আড়াল থেকে মাকে পাতা ছিঁড়তে দেখে। তারপর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে মাকে দেখে বেড়ার ফাঁক দিয়ে সেই পাতা রান্না করতে, তারপর তা ভাত দিয়ে খেতে দেখে। এইভাবে তারা জানতে পারে মান্দারগাছগুলির ক্রমশ পাতাশূন্য হওয়ার আসল রহস্য।

আমাদের পাড়াটায় সব ঘরেই সকলসময় কমবেশি অভাব লেগে থাকতো। সবাই গরিব, কেউ মুটে, কেউ মজুর, কেউ মেইট্টাল, কেউ কাঠুরিয়া, কেউ রিকশাঅলা, কেউ ঠেলাগাড়ি ঠেলে, কেউ বা ফেরিঅলা, পাগল আছে দুইটা, তিনটা ভিখিরি। তারাও যেনো অভাবের ভিতর এক টুকরো আলো দেখতে পেলো, সমানে তারা মান্দারশাক খাওয়া শুরু করলো।

আমাদের পাড়ায় মোটে হাজারখানেক মান্দারগাছ ছিলো। হাজারখানেক মান্দার গাছের পাতা খেয়ে শেষ করতে আমাদের ছয়মাসও লাগলো না। নতুন পাতা গজালে তাও তুলে রান্না করে খেয়ে ফেললাম। তারপর আমরা পাশের পাড়ায় কিছু মান্দারগাছ ছিলো সেই পাতাও চুরি করে আনতে লাগলাম। শীতবসন্তে পাতাহীন গাছে ফুল ফোটে ফোটে আমাদের পাড়া টকটকে লাল হয়ে রইলো দিনের পর দিন। কিন্তু প্রতিনিয়ত পাতাহীন হয়ে থাকতে থাকতে একসময় সব গাছ মরে গেলো। যখন বুঝতে পারলাম, গাছে আর পাতা গজাচ্ছে না, গাছ মরে গেছে সবÑতখন সমস্ত পাড়ার ছেলে, বুড়ো, মেয়ে, শিশু মানে আবালবৃদ্ধবণিতা আমরা সবই একদিন সারারাত বিলাপ করে কাঁদলাম। আমাদের কান্নায় বাতাস ক্রমে ভারি হয়ে আসছিলো...

এই পর্যন্ত বলে আমি থামলাম। আমার আর বলতেও ইচ্ছে করছিলো না। দেখলাম, আমরা হাঁটছি না। কখন যে কাটাপাহাড়ের মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়েছি টেরই পাইনি। কেউ আর নেই, সবাই চলে গেছে। দেখলাম, নন্দিতার চোখ টলোমলো করছে, যেনো দুপুরবেলার দিঘি। সে বললো, ‘তারপর?’
‘আর বলতে ইচ্ছে করছে না। সরি, তুমি মনে হয় ট্রেনটা মিস করেছো।’
‘বাদ দাও। বাসে চলে যাবো।’
‘তোমার মনটা মনে হয় খারাপ করে দিলাম।’
‘আচ্ছা, সেই জন্য মনে হয় এইখানে আর কোনো মান্দারগাছ দেখা যায় না।’
‘হুঁ। কিন্তু একটা মান্দারগাছ আছে। মন্দিরের পেছনে।’
‘কোন মন্দির? দেখিনি তো!’
‘স্টেশনের বামদিকে যে কালীমন্দিরটা আছে না—তার পেছনে।’
‘আমাকে নিয়ে যাবে?’
‘চলো, যাই তবে।’
‘চলো।’

আমরা হাঁটতে হাঁটতে মন্দিরের পেছনে চলে এলাম। মান্দারগাছটা বেশ একা দাঁড়িয়ে আছে। গাছটার মাথাভর্তি পারিজাত ফুল, রক্তলাল হয়ে আছে। পাতাও আছে কিছু। মন্দিরের গাছ বলে এর পাতা কেউ ছিঁড়েনি। নন্দিতা বললো, ‘আমাকে কটা পাতা ছিঁড়ে দাও না!’
‘কী করবে?’
‘বাসায় নিয়ে রান্না করবো।’
ওর কথায় আমি খানিকটা অবাক হলাম। কিন্তু কিছু বললাম না। আমি বেশকিছু পাতা ছিঁড়ে ওর হাতে দিলাম। ও পাতাগুলি যত্ন করে খালি টিফিনবক্সে নিয়ে ব্যাগে রেখে দিলো। তাকে বললাম, ‘পারিজাতের টিপ পরবে?’
‘পারিজাতের টিপ কেমন করে পরে আবার? এতো বড়ো আর লম্বাটে পাঁপড়ি! তিলকের মতো মনে হবে না?’
‘দাঁড়াও, দেখাচ্ছি।’

সে আলগোছে মান্দারগাছটার শরীরে হাত রেখে দাঁড়ালো। আমি দেখলাম সে হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে পারিজাতের রক্তলাল সকল ফুল নীল হয়ে গেলো। আমি মনে মনে একটা ধাক্কা খেলাম। এ কী! দুহাতে চোখ ঘষে আবার তাকালাম। দেখলাম, নীলই আছে। তাকে বললাম, ‘তুমি দেখতে পাচ্ছো, ফুলগুলি কেমন নীল হয়ে গেলো?’
‘না তো! লালই তো আছে।’
সে আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হলো, কী হয়েছে তোমার?
‘বুঝতে পারছি না।’
আমি দেখলাম, রাস্তায় এক ভ্যানঅলা তার ভ্যানের ওপর বসে বিড়ি খাচ্ছে। আমি তাকে হাতের ইশারায় ডাকলাম। সে বলতে গেলে দৌড়ে এলো, ‘কী হইছে, মামা?’
‘মামা, দেখেন তো, মান্দার ফুলগুলার রং নীল মনে হইতেছে না?’
‘না গো, মামা, এইগুলা সব তো লাল। আপনের মনে হয় মাথা ঘুরতাছে।’
‘হয়, মনে হয়। আইচ্ছা ঠিক আছে, আপনি যান, মামা।’

ভ্যানঅলা চলে যেতে যেতে সহসা আমার মাথায় মার্কেজের সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ে গেলো, ইউলিসিস, যে ইরেন্দিরার প্রেমে পড়ার পর বাড়িতে এসে যেখানেই হাত রাখে সব রঙিন হয়ে যায়। আর তার মা বুঝতে পারে, ছেলেটা প্রেমে পড়েছে। আমার মনে হলো নন্দিতা ভয়ানক কোনো যন্ত্রণা পাচ্ছে, যা সে কাউকে বলতে পারছে না। আমি যেনো প্রাণের গভীর থেকে তার কাছে জানতে চাইলাম, ‘নন্দিতা! কী হয়েছে তোমার?’
সে বললো, ‘ম্যাক্স আমাকে একটা চিঠি দিয়েছে আজ। ষাটপৃষ্ঠার চিঠি।’
‘ম্যাডম্যাক্স?’
‘হ্যাঁ।’ বলে মনে হয় সে একটু লজ্জা পেলো। তারপর বললো, ‘কই, পারিজাতের টিপ কেমন করে পরতে হয়, দেখাও।’
আমি গাছ থেকে পারিজাতের নীল একটা পাঁপড়ি ছিঁড়ে নিলাম। তারপর তাকে বললাম, ‘হাতটা দাও।’
সে ডান হাতটা আমার সামনে মেলে ধরলো। আমি পাঁপড়িটা তার হাতের তালুতে বিছিয়ে আমার ব্যাগ থেকে ড্রইং করার ফাউন্টেন-পেনটা বের করলাম। পেনের খাপটা খুলে পাঁপড়িটার ওপর রেখে একটা চাপ দিলাম; গোল করে পাঁপড়িটা কাটলো কলমের খাপের চাপে। তারপর তাকে বললাম, ‘হলো তো, তোমার পারিজাতের টিপ? এইবার নাও, পরো।’
সে টিপটা পরলো। কিন্তু ঠিক দুই ভুরুর মাঝখানে হলো না। বললাম, ‘একপাশে হয়ে গেছে।’
সে হাসলো সন্ধ্যার হাওয়ার মতো করে। তারপর বললো, ‘চিরদিনই আমার টিপ বাঁকা হয়। দাও, ঠিক করে দাও।’

আমি কম্পিত হাতে টিপটা তার কপালের মাঝখানে চাপ দিয়ে লাগিয়ে দিলাম। আর দেখলাম, সঙ্গে সঙ্গে টিপসহ পারিজাতের সকল ফুল নীল থেকে পুনর্বার লাল হয়ে গেলো।