বাঁজা

দীপক মান্না

সুলতা বাগদি গরুর দড়িটা গায়ের জোরে টানতে টানতে বলে ‘আয়না লো হারামিটা, আর কত জ্বালাবি? হাড়মাস যে এক করে দিলি।’ গরুটাও তেমনি ঠ্যাঁটা। কিছুতেই এক পা নড়ে না। তারপর জোরে টানতে গিয়ে এক সময় পা পিছলে মাটিতে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। সুলতার মাথায় রাগ উঠে যায়। সে পাশে পড়ে থাকা একটা কঞ্চি নিয়ে গরুটার পিঠে সপাৎ সপাৎ করে মারতে থাকে। গরুটাও হাম্বা হাম্বা করে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে তবুও এক পা নড়ে না। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পাশের বাড়ির কমলি পিসি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলে – ‘হ্যারে সুলতা, গরুটাকে অমন মারতেছিস কেন?’ সুলতা দাঁতে দাঁত চিবিয়ে ঝাঁজালো সুরে বলে – ‘মারব না তো কি করব! ওলাউটা আমার জীবনটা শেষ করে দিল। এমন গোঁয়ারে গরু আমি বাপের জম্মে দেখিনি। শুধু গাদা গাদা গিলবে, অথচ কোন কামে আসবে না, কি কুক্ষুনে যে বাঁজাটাকে মরতে এনেছিলাম কে জানে।’ ‘ওমা! বাঁজা বলছিস কেন রে?’ ‘বাঁজা নয়ত কি? কতবার যে পাল ধরানো হল তার ঠিক আছে? এখনও মাগির পেট হল’না।
ইতিমধ্যে শ্যামলী দাবায় এসে দাঁড়িয়ে শাশুড়ির সাথে কমলি পিসির কথা শুনতে থাকে। হঠাৎ তার দিকে সুলতা তাকিয়ে বলে ‘বলি, অমন সঙের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কি মজা দেখছিস? আমার যে এদিকে ঘাম ছুটে যাচ্ছে সেদিকে হুঁশ নেই? তাড়াতাড়ি নেবে এসে তোমার আদরের দুলালীকে গোয়ালে ঢোকাতে পারছ না?’
শাশুড়ির কথায় শ্যামলী তাড়াতাড়ি দাবা থেকে নেমে এসে গরুটার গায়ে হাত বোলাতে থাকে। তাই দেখে সুলতা বাঁকাভাবে বলে –‘উঁ...দরদ এক্কেবারে উদলে উঠছে! তাড়াতাড়ি ওকে গোয়ালে ঢুকিয়ে এসে সন্ধ্যে দাও।’ এই বলে সে ঘরে ঢোকে। শ্যামলী দুলালিকে আয় আয় করে ডাকে, দুলালিও তার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের ঘরে ঢোকে। কাঠকুটো আর ঘুঁটে জ্বালিয়ে গোয়ালের ভিতর ধোঁয়া দেয়, মশা তাড়াবার জন্য। তারপর মেজলায় খড়কুটো আর খোল মিশিয়ে খেতে দেয়। দুলালি অভিমানে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখদুটো ভেজা ভেজা। শ্যামলী তার গলায় হাত বুলতে বুলতে বলে –‘খেয়ে নে বোন, ওর কথায় রাগ করিসনি। আমাদের দুজনেরই যে পোড়া কপাল। আমিও তো তোর মতোই বাঁজা। এ জন্মে আমাদের আর এই বদনাম ঘুচবে না রে দুলালি।’ এই বলে সেও আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে থাকে। অবলা প্রাণী হলেও সে যেন শ্যামলীর দুঃখটা বুঝতে পারে। সে হাম্বা হাম্বা করতে করতে তার গায়ে মাথা ঘসতে থাকে।
শ্যামলী বাপ মরা মেয়ে। তার বয়স যখন মাত্র দশ, তার বাবাকে জমিতে চাষ করতে গিয়ে সাপে কাটে এবং তৎক্ষণাৎ তার মৃত্যু হয়। কোলের পিঠে একমাত্র ভাই সন্টু তার থেকে তিন বছরের ছোট। বর্তমানে একটা মুদীর দোকানে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালায়। চাষবাস করে, সংসার চালিয়ে তার বাবা খুব যৎসামান্যই জমাতে পেরেছিল শ্যামলীর বিয়ের কথা ভেবে। সর্বসাকুল্যে হাজার পাঁচেক টাকা হবে। বাবার মৃত্যুর পর তার মা সেই টাকা অতিকষ্টে বুকে করে আগলে রাখে। তারপর পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়।
শ্যামলীর যখন বছর কুড়ি বয়েস, তখন পাশের বাড়ির ওই কমলি পিসিই তার জন্য সম্বন্ধ আনে। পাত্রের নাম সুবল। পাকা বাড়ি, জমিজমাও বেশ খানিকটা আছে। মা বাবাকে নিয়ে তিনজনের সংসার। বাবা হরগবিন্দ একসময় চটকলের কর্মী ছিল। সেটা বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে জমিজমা দেখাশোনার কাজ করে।
সুবলের সঙ্গে যখন তার বিয়ের কথাবার্তা চলছে সেই সময় সুবলের মা অর্থাৎ সুলতা অনেক দানসামগ্রী চেয়ে বসে। কিন্তু শ্যামলীর মায়ের কাছে জমানো সেই হাজার পাঁচেক টাকা ছাড়া আর কিছুই ছিলনা, দানসামগ্রী তো দুরের কথা। শ্যামলী দেখতে শুনতে সুন্দরী হওয়া সত্তেও সুলতা দানসামগ্রী থেকে কিছুতেই পিছু হটতে চায় না। অবশেষে উঠোনের এককোণে বাঁধা দুলালিকে দেখে বলে বসে যে তাকে যদি দানসামগ্রী হিসাবে দেয় তবেই সে এই বিয়েতে রাজি। শ্যামলী প্রথমটায় বেঁকে বসে। কিন্তু তার মা তাকে বোঝায় ‘দ্যাখ মা, ওকে তো আর আমরা বিক্রি করে দিচ্ছি না।’ শ্যামলী মুখ ভার করে বলে ‘বিক্রি নয়তো কি! ও কি আর আমাদের দুলালি থাকবে?’ মা বলে ‘তা হলেও ও তো তোর সাথেই যাবে, তোর চোখে চোখে থাকবে!’
অবশেষে শ্যামলী বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। বিয়ের পরদিন গাঁদাফুলের মালা দিয়ে সাজানো, গোলাকার ছাউনিওলা, একটা ভ্যান বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। তাতে শ্যামলী আর সুবল উঠে বসে। আর একটি ভ্যানে নামমাত্র দানসামগ্রীর সাথে দুলালিকে তোলা হয়। শ্বশুর বাড়ি যাবার সময় শ্যামলীর মা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে –‘মা, সাবধানে থাকিস আর দুলালীকে দেখিস, অবলা প্রাণী, ওর যেন কোন কষ্ট হয় না।’ শ্যামলী ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে ‘মায়ের খেয়াল রাখিস আর যখনই ইচ্ছে হবে চলে আসিস।
সেই থেকে শ্যামলী আর দুলালি শ্বশুরবাড়িতে দুই বোনের মতো থাকে, একে অপরের সুখ দুঃখের সঙ্গী হয়ে।

শ্যামলীর একটু দেরিই হয়ে গেল দুলালির সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে। হঠাৎ শাশুড়ির গলার আওয়াজ পেয়ে গোয়াল ঘরের দরজাটা টেনে দিয়ে ছুটে আসে। সুলতা তাকে দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বলে – ‘গরুর সাথে গোল ঘরে রাত কাটাবি নাকি রে হতচ্ছাড়ি? বোনের সাথে সোহাগ করে সাধ মিঠছে না বোধহয়! এদিকে সন্ধ্যে হয়ে গেছে হুঁশ নেই? শিগগিরি জামা কাপড় ছেড়ে সন্ধ্যে দিতে যাও। আর গতরটাকে একটু বেশি করে নাড়াও। আমি ততক্ষণে তোমাদের পিণ্ডির আয়োজন করি গিয়ে।’
শ্যামলী কাপড় ছেড়ে সন্ধ্যে দেখাতে যায়। উঠোনে তুলসিতলায় প্রদীপ জ্বালে। তারপর রান্নাঘরে শাশুড়িকে সাহায্য করতে ঢোকে। হরগোবিন্দ জমি থেকে ফিরে দাওয়ায় বসে বিশ্রাম করছে। শ্যামলী বাটিতে করে তেল মাখান মুড়ি, কয়েকটা কাঁচা লঙ্কা আর আধ গ্লাস চা এনে রাখে। কিছুক্ষণ পর চায়ের কাপ হাতে সুলতা এসে বলে –‘বলি, আর কতদিন ওই বাঁজা দুটোকে বসিয়ে বসিয়ে গেলাবে শুনি? এবার যে না খেতে পেয়ে মরতে হবে। তার চেয়ে বলি এবার দুটোকে বিদেয় কর। ছেলের বিয়ে দিয়ে আমার ঘাট হয়েছে।’ হরগবিন্দ সুলতার মুখের দিকে চেয়ে বলে ‘বিদেয় কর বলতে?’ সুলতা বলে –‘বুঝলে না? কোন কথাই কি তোমার মাথায় একবারে ঢোকে না? শ্যামলী আর ওর আদরের গরু দুলালির কথা বলছি। যেখান থেকে এনেছিলে এবার সেথায় পাঠিয়ে দাও, মানে বাপের ভিটেয়।’ হরগবিন্দ বলে –‘কি যা তা বলছ?’ ‘আমি ঠিকই বলছি, কি হবে ও দুটোকে পুষে? কত আশা করে ছেলেটার বিয়ে দিয়েছিলাম! ভেবেছিলাম সংসারে একটা ফুটফুটে বাচ্ছা আসবে, এমন পোড়া কপাল সে সাধ আমার আর মিটল না। তার চেয়ে ওকে বাপের ভিটেয় পাঠিয়ে দাও, আমি পরে সুবলের আর একটা বিয়ে দেব।’
হরগবিন্দ কোন কথার উত্তর না দিয়ে ডিপে থেকে একটা বিড়ি বের করে ধরিয়ে টানতে থাকে। ওদিকে রান্নাঘরে শ্যামলী আটা মাখছিল। শাশুড়ির কথা তার কানে যেতেই বুকের ভিতরটা ধড়াস করে ওঠে। বাপের ঘরে গিয়ে উঠতে হবে ভেবে মুখে আঁচল চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। ভাই কোনোরকমে মাকে নিয়ে দুবেলা দু মুঠো খায়, এমত অবস্থায় সেখানে গিয়ে ওঠার থেকে তার পুকুরে ডুবে মরাই ভালো। এ বাড়িতে শাশুড়ির মুখের ওপর কারোর কথা চলবে না তা সে আগেই বুঝে গেছে। স্বামী পুত্র কারোর না আর পরের বাড়ির ঝিয়ের তো দুরের কথা। চোখের সামনে বউকে যা তা করে অপমান করলেও ছেলে মুখ দিয়ে একটা কথা বলে না বরং অন্য কোন আছিলায় সেখান থেকে সরে পড়ে। বিয়ের পর পর ভাই কয়েকবার দিদিকে দেখতে এসেছিল। দিদির মুখ থেকে তার শাশুড়ির অত্যাচারের কথা শুনে তাকে নিয়ে চলে যেতে চেয়েছিল। শ্যামলী তাতে রাজি হয়নি। একদিন তার ভাইকে দেখে শাশুড়ি মুখের ওপর বলে দেয় ‘এতো ঘন ঘন দিদিকে দেখতে আসার কি আছে? তোমার দিদিকে ঝিয়ের মতো খাটাচ্ছি কিনা দেখতে আসো বুঝি?’ সেই অপমানের পর থেকে ভাই আর দিদির ভিটেয় পা রাখে না। মাকেও আসতে দেয় না পাছে অপমানিত হয়। প্রথম দিকটায় শাশুড়ি খুব একটা খারাপ ব্যাবহার করত না কিন্তু বিয়ের বছর দুয়েক কেটে যাওয়ার পর যখন শ্যামলীর কোলে বাচ্ছা এলো না তখন থেকেই শাশুড়ির চোখে অন্যরকম হয়ে উঠছিল। শ্যামলীর প্রতি তার অত্যাচার ক্রমশই বাড়তে লাগল। পাড়ার বউ ঝিয়েদের কাছে সে বাঁজা উপাধি লাভ করে। শ্যামলী মুখ বুজে সব সহ্য করতে থাকে। যখন তার অত্যাচার সহ্যের সীমা অতিক্রম করে, সে দুলালির কাছে ছুটে গিয়ে তার গলাটা জড়িয়ে ধরে হাপুস নয়নে কাঁদতে থাকে। এ বাড়িতে একজনই আছে যার সাথে সে একটু কথা বলে নিজের মনটা হাল্কা করে। কারণ তার দুঃখ দুলালি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। কারণ সে ও বাঁজা। তাকেও উঠতে বসতে গালমন্দ অথবা লাঠির ঘা সহ্য করতে হয়।


রাতে সুবল ঘরে ফিরে দেখে শ্যামলী বিছানার এক কোণে মুখ গুঁজে বসে। সে তার মান ভাঙাবার চেষ্টা করার জন্য এগিয়ে যেতেই বলে ‘আর কি, তোমার তো ভালোই হল, আমাকে এবার সবাই মিলে দূর করে দাও। তারপর আর একটা বিয়ে করে আনন্দে থাকো।’ সুবল তার কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। বিছানায় তার মুখোমুখি বসে জিগ্যেস করে –‘কি বলছিস তুই আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না, কার বিয়ের কথা বলছিস? আর তোকে তাড়াবেই বা কে?’ শ্যামলী চোখ মুছতে মুছতে বলে ‘আমি বাঁজা বলে মা আর আমাকে এ বাড়িতে রাখতে চায় না। তোমার আবার একটা বিয়ে দিতে চায়।’ সুবল বলে ‘কি সব যা তা বলছিস।’ ‘নিজের মাকে গিয়ে জিগ্যেস করো না, আজ সন্ধ্যেয় আমি নিজে কানে শুনেছি বাবাকে বলতে। আমাকে আর দুলালিকে বাপের ভিটেয় তুলে দিয়ে আসতে বলেছে। আমার আর ভালো লাগে না গো, নিত্যদিন গালমন্দ শুনতে, তার চেয়ে আমার বিষ খেয়ে মরাই ভালো।’ এই বলে সে সুবলকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। সে তাকে শান্ত করার জন্য বলে ‘তুই ওসব কিছু ভাবিস না শ্যামলী, আমি তোকে কোত্থাও যেতে দেব না, বিয়ে করা তো দুরের কথা।’ এই বলে সে শ্যামলীকে বুকে টেনে নেয়।

কয়েকদিন ধরে শ্যামলীর মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। মেয়ের চিন্তায় সে দিনের পর দিন ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর ডাইরিয়া হয়ে আরও কাহিল হয়ে পড়ছে। ভাইটার পক্ষে সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। পাড়ার বিশুকাকার মুখ থেকে মায়ের অসুস্থতার কথা সে শুনেছে। তাই মাকে দেখার জন্য তার মনটা ছটফট করতে থাকে। রাতে সুবল ঘরে ফিরলে শ্যামলী তার মায়ের অসুস্থতার কথা জানায়। সে কথা দেয় যে কাল সকালেই সে মায়ের সাথে কথা বলে তাকে কয়েকদিনের জন্য তার বাড়িতে দিয়ে আসবে।
সকাল হতেই সুবল মায়ের কাছে সে কথা জানায়। শ্যামলী তখন দুলালিকে জলায় বেঁধে দিয়ে আসতে গেছে। সুলতা ছেলেকে ঘরে ডেকে দরজা বন্ধ করে আদেশের সুরে বলে ‘যা বলছি মন দিয়ে শোনো, শুধু কয়েকদিনের জন্য নয়, ওকে ওর বাপের ভিটেয় চিরকালের জন্য তুলে দিয়ে এসো, আর ওদের ভিটেয় আর পাও দেবে না।’ সুবল কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু মায়ের চোখ পাকানি দেখে তার সাহসে কুলালো না। সে সেই মুহূর্তের জন্য মাথা নেড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
পরদিন, স্বামীকে নিয়ে শ্যামলী বাপের বাড়ি রহনা দেয়। যাবার আগে দুলালিকে জড়িয়ে ধরে বেশ কিছুটা আদর করে। তাকে একলা ফেলে যেতে তার বড়ই কষ্ট হচ্ছে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলে ‘তুই চিন্তা করিস না রে দুলালি, মা একটু সুস্থ হলেই আমি তোর কাছে ফিরে আসব। এ কদিন একটু সাবধানে থাকিস, শাশুড়ির কথা শুনিস, খেতে দিলে খাস।’ শ্যামলীর কথা শুনে দুলালি কিছুটা অস্থির হয়ে পড়ে, এরপর শ্যামলীকে চলে যেতে দেখে সে হাম্বা হাম্বা করে চিৎকার করতে থাকে। তার আশঙ্কা, হয়তো শ্যামলী তাকে ফেলে একেবারে তার বাপের ভিটেয় চলে যাচ্ছে। সেও এই জ্বালা থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাই খোঁটায় বাঁধা দড়িটাকে টেনে ছেঁড়ার চেষ্টা করে তারপর না পেরে এক সময় শান্ত হয়।

শ্যামলী বাড়ি ফিরেই দেখে মা বিছানায় শুয়ে। মেয়ে-জামাইকে দেখে মা-ও বিচলিত হয়ে উঠে বসার চেষ্টা করে। শ্যামলী তাকে বসতে সাহায্য করে। তারপর একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে। শ্যামলী আঁচল দিয়ে মায়ের চোখ মোছাতে থাকে। মা ও মেয়ের কান্না দেখে সুবলের মনটাও কিছুটা ভারাক্রান্ত হয়। সে বিছানার একধারে মাথা নিচু করে বসে থাকে। একটু পরে শাশুড়ির কাছে তার অসুস্থতা সম্পর্কে খবরাখবর নিতে থাকে। শ্যামলীর মা তাকে রান্নাঘর থেকে সুবলের জন্য একগ্লাস জল আর প্লেটে করে কয়েকটা নাড়ু এনে দিতে বলে। সুবল তাই খেয়ে বেরোনার জন্য প্রস্তুতি নিতেই শাশুড়ি কাঁপা স্বরে বলে ওঠে – ‘বাবা কোথায় চললে? এতদিন পরে এলে, কয়েকদিন থেকে যাও!’ সুবল বলে –‘না, আসলে বাড়িতে অনেক কাজ আছে, তাছাড়া যেখানে কাজ করি সেখানে কামাই করলে চলবে না।’ শাশুড়ি তাকে আজ দুপুরে অন্তত খেয়ে যাবার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু সুবল তাতেও রাজি হয় না। শ্যামলী তাকে থাকার জন্য অনুরোধ করে না। কারণ, সে জানে এটা তার শাশুড়ির হুকুম। সে সুবলকে এগিয়ে দিতে গেল। কিছুটা যাবার পর পিছন থেকে সে সুবলের হাতটা টেনে ধরে। সুবল থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বলে –‘কি রে? কিছু বলবি নাকি? শ্যামলীর দু চোখে জল। সে বলে ‘আমি জানি তুমি কেন থাকলে না, মা নিশ্চয়ই তোমায় থাকতে বারন করেছে।’ সুবল কথা ঘুরিয়ে বলে ‘ওমা মা থাকতে বারন করতে যাবে কেন? তুই তো জানিস, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি, একদিন কাজে না গেলে দু পয়সা ঘরে আসবে না। শ্যামলী করুণ মুখে সুবলের দিকে চেয়ে বলে –‘আমায় কবে আনতে আসবে তবে?’ হঠাৎ সুবলের মায়ের কথাটা মনে পড়ে যায়। সে যে তাকে আর ঘরে তুলতে চায় না। মুখে বলে – ‘তুই তো সবে এলি, এখন কিছুদিন মায়ের কাছে থাক। আমি সময় হলেই তোকে নিয়ে যাব। চিন্তা করিস না।’ এই বলে এগোতে গেল। শ্যামলী আবার হাতটা টেনে ধরাতে সুবল বলে ওঠে ‘কিরে আবার কি হল?’ শ্যামলী কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে ‘ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া কোরো আর আমার দুলালিকে একটু দেখো, ও যে আমার হাতে ছাড়া খেতে চায় না।’ ‘ঠিক আছে, তোকে অত চিন্তা করতে হবে না, আজ থেকে আমিই দুলালিকে খেতে দেব, তুই বরং নিজের খেয়াল রাখিস।’ এই বলে সে হাঁটা লাগাল।
দুপুরে সন্টু বাড়ি ফিরেই দিদিকে দেখে আনন্দে নেচে ওঠে। কতদিন পর দিদি বাড়ি এলো। কিন্তু আশপাশে জামাইবাবুকে দেখতে না পেয়ে বলে –‘হ্যারে দিদি, জামাইবাবু আসেনি?’ ‘এসেছিল, চলে গেছে। ওর বাড়িতে কিছু কাজ আছে তাই।’ ‘কাজ আছে না ছাই! তোর ওই দজ্জাল শাশুড়িই থাকতে বারুন করে দিয়েছে।’ ‘বড়দের অমন কথা বলতে নেই সন্টু।’ ‘বলতে নেই মানে? রাগ করিসনা দিদি, ওর শরীরে এতটুকু মানুষের চামড়া নেই।’ শ্যামলী চোখ পাকিয়ে বলে ‘সন্টু! বড্ড বুড়োদের মতো কথা শিখেছিস দেখছি।’ সন্টু রাগান্বিত সুরে বলে ‘বলব না তো কি করব? নিজের শরীরের কি হাল করেছিস দেখেছিস? বাড়ির সব কাজ তো তোকেই করতে হয় আর ওই বুড়ি পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকে। আমি কি কিছু বুঝি না মনে করিস। সেবার তোদের বাড়িতে গেলাম যখন কি অপমানটাই করল আমাকে। আমাকে যদি এতগুলো কথা বলতে পারে তাহলে তোর সাথে কি না করে।’ অসুস্থ মায়ের সামনে এতগুলো কথা বলায় শ্যামলীর সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। সে সজোরে ভাইয়ের গালে একটা চড় কসিয়ে দেয়। সে কাঁদো কাঁদো হয়ে দ্রুত পায়ে পাশের ঘরে গিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকে। শ্যামলীও চোখ মুছতে মুছতে রান্নাঘরে যায়। দুপুরে থালায় ভাত বেড়ে ভাইকে ডাকতে থাকে। কিন্তু সে কিছুতেই সাড়া দেয় না। বুকের ভিতর একরাশ অভিমান নিয়ে শুয়ে থাকে। শ্যামলী ঘরে ঢুকে ভাইয়ের গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে বলে ‘আমায় ক্ষমা করে দে ভাই। মন থেকে তোর গায়ে হাত তুলিনি, মায়ের এখন অসুখ। তার সামনে এই কথাগুলো বলাতে হঠাৎ মাথাটা গরম হয়ে গিয়েছিল। কি করব বল? তোর অভাগী দিদির কপালে যে সুখ নেই। সে যে আজীবন দুঃখী হয়ে জন্মেছে। এই বলে সে আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে থাকে। দিদির কান্না শুনে সন্টু উঠে বসে দিদিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে –‘দিদি তুই আর ও বাড়িতে যাস না, ওরা তোকে খাটিয়ে খাটিয়ে মেরে ফেলবে। তার চেয়ে তুই এখানেই থাক।’ দিদি চোখ মুছে ভায়ের মাথায় হাত বুলতে বুলতে বলে –‘তা কি হয়রে ভাই? ওখানে যে যেতেই হবে, ওখানে যে আমার মতো আর এক অভাগী আছে।’

শ্যামলীকে রেখে আসার পর থেকে দুলালিকে সুবলই চান করায়, খাওয়ায়, মাঠে নিয়ে যায়। গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে বলে –‘ খেয়ে নে দুলালি, আর কয়েকদিন পরেই শ্যামলীকে নিয়ে আসব চিন্তা করিস না।’ কিন্তু দুলালি তার কথায় সেভাবে ঘাড় পাতে না। খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। মাঠে গিয়েও চুপ করে বসে থাকে। সে বুঝে গেছে যে দুলালি আর এ বাড়িতে আসবে না। তার দজ্জাল শাশুড়ি তাকে তুলবে না। মাঝে মাঝে মনে হয় শিং দুটো দিয়ে তুলে আছাড় মারে কিন্তু সে সুযোগ আর হয় না। এরই মাঝে সুলতা একদিন তার স্বামী হরগবিন্দকে ডেকে বলে ‘গরুটাকে শেষবারের মতো পাল দেওয়াও, এর পরেও যদি বাচ্ছা না আসে তাহলে ওকেও শ্যামলীর ভিটেয় পাঠিয়ে দাও। বসিয়ে বসিয়ে গেলানো আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।’ সেই মতো হরগবিন্দ একদিন দুলালিকে পাল ধরিয়ে আনে।

এদিকে সুবলের মনটাও বেশ কয়েকদিন ধরে ভারাক্রান্ত হয়ে আছে। শ্যামলীকে ভীষণ দেখার ইচ্ছে হয় তার। সে বোঝে, মা না হতে পারার জন্য তাকে এ বাড়িতে অনেক গঞ্জনা সইতে হয়। কিন্তু মায়ের মুখের ওপর তার কথা বলার সাহস নেই। মা যখন শ্যামলীকে দু চার কথা শোনায়, তার ভীষণ খারাপ লাগে, তাই সে নানা আছিলায় সামনে থেকে সরে যায়। মাঝে মাঝে তার মনে হয় যে শ্যামলীকে নিয়ে অন্য কোথায় চলে যায় কিন্তু তার যা রোজগার তাতে তার পক্ষে সম্ভব নয়। মনে মনে ভাবে যতদিন না শ্যামলীর পেটে বাচ্ছা আসে ততদিন তাকে এ বাড়িতে আনবে না। কারণ সে আর চায় না এ বাড়িতে সে অপমানিত হোক। সে ঠিক করে শ্যামলীকে গিয়ে সে কথাই বোঝাবে।
ওদিকে সুবলের পথ চেয়ে শ্যামলী বসে থাকে। তাকে নিতে সুবল আর আসে না। জানলা দিয়ে দূরে রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে থাকে। রোজই ভাবে আসবে কিন্তু তার দেখা পায় না। তবু তার বিশ্বাস সে নিশ্চয়ই তাকে নিতে আসবে। মায়ের মুখের ওপর কথা না বললেও অতটা খারাপ সে নয়। শ্যামলীকে সে ভালোই বাসে। গর্ভে সন্তান আসেনি বলে কোনোদিন কোন কটু কথাও বলেনি। কখনও মন খারাপ করে বসে থাকলে কাছে ডেকে নিয়ে অভিমান ভাঙাতো। কিছু বায়না করলে, লুকিয়ে এনে দিত, পাছে মা দেখে ফেলে। দুলালিটার জন্যও মনটা ছটফট করতে থাকে। তাছাড়া ভায়ের সংসারে এভাবে কতদিন আর থাকা যায়। এমনিতেই তাদের কষ্টের সংসার।

সেদিন সন্টু তার মাকে নিয়ে বড় পিসির বাড়ি গেছে রাসের মেলা দেখতে। শ্যামলীকে বলা সত্তেও সে যায়নি তার একটাই কারণ, যদি সুবল তাকে নিতে আসে এবং ঘটলও তাই। শ্যামলী রান্নাঘর থেকে হঠাৎ সুবলের গলার আওয়াজ পেল। প্রথমটায় বিশ্বাসই করে উঠতে পারছিল না। রান্নাঘর থকে দৌড়ে বেরিয়ে এসে দেখে, হ্যাঁ, সত্যি সত্যি সুবল এসে উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে। আবেগে আর উচ্ছ্বাসে তার চোখে জলের ধারা বইতে লাগল। সে এক ছুটে সুবলের কাছে গিয়ে তার হাত ধরে ঘরে নিয়ে আসে। তারপর তার বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। সুবলও তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বিরহ জ্বালা মেটাতে থাকে। শ্যামলী একরাশ অভিমানী প্রশ্ন একনাগাড়ে তার দিকে ছুঁড়ে দিতে থাকে। সে তাকে বুকে জড়িয়ে তার সব অভিমান ভেঙে দেবার চেষ্টা করে। শ্যামলী শান্ত হলে সুবলের কাছে দুলালির খবরাখবর নেয়। সে চলে আসার পর থেকে বেশিরভাগ সময়টা সুবলই টার দেখাশোনা করে জেনে বেশ খুশি হয়।
দুপুরে খাবার পর সুবল বিছানায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। শ্যামলী পুকুরঘাট থেকে এঁটো বাসন মেজে এনে ঘরে ঢুকতেই সুবল ছুটে গিয়ে দরজায় সেকল দেয় তারপর শ্যামলীকে পাঁজাকোলা করে বিছানায় নিয়ে গিয়ে ফেলে। এক ঝটকায় তার বুকের কাপড় সরিয়ে দিয়ে কামনার খেলায় মেতে উঠতে চাইল। শ্যামলীও বাধা দিল না। সেও তাকে জাপটে ধরে সেই খেলায় পুরোপুরি সাথ দিল।
বিকেলে ঘুম থেকে উঠে সুবল দেখে শ্যামলী চায়ের কাপ হাতে তাকে ডাকছে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে শ্যামলীকে কাছে ডেকে বলে –‘শোন, তোকে একটা কথা বলার আছে।’ ‘কি কথা গো?’ –‘বলছি কি, তুই হয়তো ভাবছিস আমি তোকে নিতে এসেছি। কিন্তু তা নয়, আমি শুধু তোকে দেখতে এসেছি। তোর জন্য কয়েকদিন ধরে মনটা কেমন করছিল। তাই কাউকে না জানিয়ে লুকিয়ে এসেছি।’ সুবলের মুখে এমন কথা শুনে তার মাথার ভেতর আগুন জ্বলে ওঠে। ঘৃণামিশ্রিত তীব্র স্বরে সুবলের উদ্দেশ্যে বলে –‘তার মানে? নিয়ে যাবে না তো কি করতে এসেছ এখানে? শরীরের জ্বালা মেটাতে? কেমন পুরুষ মানুষ তোমরা? নিজের স্ত্রীর কথা একটুও ভাবনা! দুদিন পর আসছি বলে এলে একমাস পরে, তাও বলছ দেখতে এসেছ? কেন কি অন্যায় করেছি আমি?’ সুবল তাকে হাত ধরে বোঝানোর চেষ্টা করে। ‘দ্যাখ, আমার কথা শোন, তোর কষ্টটা আমি বুঝি! কিন্তু আমি কি করব বল? মা আর তোকে ও বাড়িতে তুলতে চায় না আর আমিও চাইনা ও বাড়িতে গিয়ে তুই অত্যাচার সহ্য করিস। তার চেয়ে তুই এখানেই থাক, আমি তোর সমস্থ খরচ দিয়ে যাব। কিছুদিন যাবার পর মাকে ঠিক বুঝিয়ে তোকে বাড়ি নিয়ে যাব কথা দিচ্ছি। আর যদি একান্তই না মানে আমি অন্য কোথাও ঘর নিয়ে একসাথে থাকব। তুই শুধু আমায় একটু সময় দে।’ শ্যামলীর মুখ দিয়ে কোন কথা সরে না। সে জানলার গরাদ ধরে অবাক হয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। তার সমস্ত রাগ কান্না হয়ে শাড়ির আঁচল ভিজিয়ে যাচ্ছে। সকালে সুবল আসার সময় শ্যামলীর মনের মাঝে খুশির বন্যা ডেকে এনেছিল, এখন তার চলে যাবার সাথে সাথেই তা শুকিয়ে পুনরায় মরুভূমির চেহারা নিল।

কারোর কারোর জীবনে দুর্ভাগ্য চিরসঙ্গি হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে সুখের চারা উঁকি দিয়ে উঠলেও অসময়ের ঝড়ে তা ধূলিসাৎ হয়। শ্যামলীর জীবনটাও ঠিক তেমনই ছিল। সুবল চলে যাবার কিছুদিন পরেই তার গর্ভে সন্তান আসে। কিন্তু সেই সুসংবাদ তার স্বামীর কানে পৌঁছল না। রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে দোতলার ছাদ থেকে পা পিছলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। পেটে বাচ্ছা থাকায় সে কথা শ্যামলীর কাছে গোপন রাখা হয়। পরে বাচ্ছা ভূমিষ্ঠ হলে তাকে সব জানানো হয়। এরপর একদিন ভাইকে সাথে নিয়ে সে শ্বশুরবাড়ির দোরগোড়ায় এসে দাঁড়ায়। তাকে এবং তার কোলে বাচ্ছাকে দেখে সুলতা যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করতে থাকে। বাচ্চাটি যে সুবলের সে কথা তারা কিছুতেই মানতে চায় না। সে ভাবে শ্যামলীর পেটে নিশ্চয়ই অন্য কারোর সন্তান। সে ঝাঁটা নিয়ে পাঁচজনের সামনে শ্যামলীকে বাড়ি থেকে বের করার জন্য উদ্ধত হয়। রাগে দুঃখে অপমানে ভাই দিদিকে বলে – ‘আর এক মুহূর্ত নয় দিদি, এরপর ওরা চাইলেও আমি তোকে কিছুতেই এখানে থাকতে দেব না। তুই আমার সংসারেই থাকবি। আমার দুমুঠো জুটলে তোদেরও জুটবে।’ এই বলে সে দিদিকে নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করে। শ্যামলী ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে জমির ওপর দিয়ে হাঁটতে থাকে। হঠাৎ দেখে মাঠের মাঝখান থেকে একটা গরু দড়ি ছিঁড়ে তাদের দিকে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসছে, পিছনে সদ্যজাত সাদা ধবধবে একটি ছানা। কাছে আসতেই দেখে দুলালি আর তার মেয়ে। সে বাচ্চাটাকে ভায়ের কোলে দিয়ে দুলালিকে আর তার মেয়েকে আদর করতে থাকে। দুলালিও তার মাথা দিয়ে শ্যামলীর গায়ে ঘসতে থাকে। শ্যামলী কাঁদতে কাঁদতে বলে – ‘চ বোন, তোকেও আর ও সংসারে থাকতে হবে না।’ এই বলে তিনজনে বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে।