কচি ইঁদুরের রক্ত

ফজলুল কবিরী

সন্ধ্যার আড়াল নামতে না নামতেই তাদের উপর যখন আচমকা পূর্ণিমার আছর ভর করে তখন সবাই সমুদ্রের অদূরে কেওড়া বনের পাশে বালির উপরে গোল হয়ে বসেছিল। সমুদ্রের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে তারা ভাবছিল আহা পূর্ণিমার আলোতে সবকিছু কেমন চিকচিক করে! অদূরে জেলে-নৌকা থেকে টুংটাং আওয়াজ ভেসে আসে। এই ভর সন্ধ্যায় জেলেরা দল বেঁধে কী নিয়ে ব্যস্ত তা নিয়ে এই মুহূর্তে তাদের আগ্রহ নেই। একটা অচেনা লোক হঠাৎ কোত্থেকে এসে গলাটা এগিয়ে দিয়ে কী যেন শুঁকার চেষ্টা করলো। তারপর যেভাবে এসেছে ঠিক সেভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল। ত্রয়োদশী চাঁদের আলোয় গা ভাসানোর প্রস্তুতি নিতে নিতে তারা দৃশ্যটা এক পলক দেখে চোখ ফিরিয়ে নেয়। ওরা যখন মানুষটার অদৃশ্য হয়ে যাওয়া দেখতে থাকে, তখন ছোট্ট টগর তার বাপের তাঁবুটা নিয়ে কী পরিকল্পনা করে তা জানা যায় না। আজ সারা-দুপুর তাদের উপর দিয়ে খুব দখল গেছে। সবাই ক্লান্তির ভারে খানিকটা নুয়ে পড়েছে। তবুও পরিবেশটা কেমন গুমোট করে রেখেছে নিজেরাই। এই ফাঁকে টগরের বাপ কী একটা কথায় উসকানি দিলে তাদের গুমোট পরিবেশটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। টগরের বাপ সম্বোধনে সৈয়দ আবুল মুহিত মাঝেমধ্যে খানিকটা বেকায়দায় পড়ে। ছেলে একদিন নিজের নাম উজ্জ্বল করবে বলে জন্মের পর গরু জবাই করে আকিকা দিয়েছিল। কিন্তু ছেলের নাম তার পরিচয়টাকে এত দ্রুত বাতিল করে দিতে পারে এটা কখনো ভাবনায় আসেনি। অফিসের দু’চারজন সিনিয়র সহকর্মী কালেভদ্রে এই নামে ডাকে বলে এখনও নিজের নামটা ভুলে যায়নি। এই নিয়ে ছেলের উপর আলগা একটা ক্ষোভ টগরের বাপের আছে কি না কেউ বলতে পারে না। তবে বাদবাকিদের সময়টা যে সারাক্ষণ তার উসকানি আর বিদ্রুপের তিরে বিদ্ধ হয়ে পার হয় এই নিয়ে কেউ সন্দেহ পোষণ করে না।
আবু জাফরের সুগন্ধিযুক্ত হাসিতে বালির উপর কেমন একটা আছর ভর করে। একটু পর জেলেদের নৌকা থেকে ভাতের সোঁদাগন্ধ নাকে এসে লাগে। পেটে ক্ষুধা চাগা দিয়ে ওঠে।
সমুদ্রের তীরে গা এলিয়ে দিয়ে আবু জাফর আপনমনে বিড়বিড় করে ওঠে, পূর্ণিমা রাতের নজর পড়ছে ভাতে! টগরের বাপ ফোড়ন কাটে, সমুদ্র দেখা শেষ? আবু জাফর জবাব দেয়, এখনও স্বাদ মিটে নাই!
ঘ্রাণ পাইছেন? স্বাদ কেমন লাগে?
সমুদ্রের স্বাদ আজন্মই নোনতা লাগে।
তাইলে তো ভালই। জাউভাতে নোনা পানি মিশাইয়া আপনারে পরিবেশনের উপায় বাতলে দিতে পারবেন ভাবী সাবরে।
হ মিয়া, আমার বউ আপনারে কানে কানে বলছিল এই কথা। দুপুরে সূর্যটা শুধু আপনার মাথার উপরেই ঠেক দিয়া আছিল মনে হয়। আপনার মুখ দিয়া এখন ঠিকরে বের হচ্ছে তার তেজ।
আবু জাফর যুতসই জবাব দিতে পেরে একটু আরামবোধ করে মনে মনে। কথাটা হজম করতে করতে টগরের বাপ হাসে। তারপর ঠোঁটের পেশি খানিকটা সচল করে বলে, আসার সময় মনে হইছিল পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে আসছি। আমি তো ভাবছি বুকের এমন চিকন পাটা নিয়া আপনি স্পিডবোট-এর অজেয় শক্তি কেমন করে সামলাইছেন? বোটে উঠার আগে ওজু করতে ভুলে গেছিলেন—এই কথাটা সমুদ্রে অন্তত কয়েকশো বার আওড়ালেন!
ধুপ ধুপ করে আওয়াজ হয়। ক্রমাগত আওয়াজ বাড়তে থাকে। তারা বুঝতে পারে তীরে সমুদ্রের জলের গন্ধ আরও ঘন হয়ে উঠছে। আবু জাফর উত্তর দেয়, আপনার লগে থাকলে সমুদ্র তো ছাই, মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো টপকাইতে পারব। খারাপ হইত না। টগরের বাপ সায় দেয়, সমুদ্রের প্রেমিক আবু জাফরের মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো আরোহণের শখ আছে দেখে আমরা পুলকিত হইলাম। সেই সাথে পর্বত টপকাইতে গিয়া হাড়গোড় ভেঙ্গে গড়াগড়ি খাওয়ার দৃশ্যটাও একবার কল্পনা করতে পারি! আবু জাফর চুপ করে থাকে। টগরের বাপ পুনরায় ফোড়ন কাটতে কাটতে বলে, পর্বতারোহীর বিদেহী আত্মায় শ্রদ্ধা জানাইতে গিয়া আমরা কল্পনা করতে পারব মৃত পর্বতারোহীর মলিন মুখটার কথা। আমাদের কাছে অজানা থেকে যেত ঠিক কী কারণে আবু জাফর চেহারায় ভীতি নিয়া জীবনের শেষ মুহূর্তটাকে বিদায় জানাইতে চাইছিল।
কথা শেষ করে টগরের বাপ হাসে। সেই হাসি একটু পাক খেয়ে সবার ভেতর ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আবু জাফর কোনো কথা বলে না। তার কেমন যেন উতলা উতলা লাগে। আহা এখানেই যদি সলিল সমাধি হয়! শাহপরী দ্বীপের পরীরা বুঝি এখানে সমুদ্র-স্নানে আসে? সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় পরীদের ডানাগুলো কেমন করে ওড়ে তা দেখার লোভ জাগে তার মনে। সন্ধ্যা মাথায় নিয়ে তারা নেমে পড়েছিল নির্জনতার খোঁজে। ভুঁড়িঅলা পর্যটক, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, আর পুলিশের গুতানি এড়ানোর জন্য এদিকে সরে এসেছে। সমুদ্রের স্বাদ গায়ে মেখে তার মন মেতে উঠতে চাইছে। সারারাত ত্রয়োদশী চাঁদের শরীরের উপর ভালবাসার সুগন্ধি ছিটিয়ে রাতটা পার করে দিতে ইচ্ছে করে তার।
এই নির্জনে চাঁদের আলো আগুনের উল্কি হয়ে তাদের শরীরে বিঁধে। মনটা ভারি হয়ে ওঠে। নারিকেল জিঞ্জিরার হিম শীতল জল বালিতে একটা অদ্ভুত আওয়াজ তোলে। মানুষ আর সমগ্র জনপদ ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে।

কিন্তু তাদের এই অবকাশযাপনের ফাঁকে আগুনের লেলিহান শিখা যখন কেওড়া বন পুড়িয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছিল আকাশের দিকে তখনো কেউ ভাবতে পারেনি এই অনিষ্ট কার মাধ্যমে হতে পারে। শো শো বাতাসের শব্দ সমুদ্র থেকে তেড়ে এসে তাদের ঘিরে থাকা কেওড়া বনের নিবিড় আশ্রয়টাকে খানিকটা উলট-পালট করে যায় একটু পর পর। বাতাসের বেগ সামলাতে গিয়ে কেওড়া বনে একটা দূরন্ত নড়চড় তৈরি হতে থাকে ক্ষণে ক্ষণে। আর সেই নড়চড়ে তাদের বসার জায়গাতে বেশ কিছু বেপরোয়া কেওড়া গাছের ডাল প্রচণ্ড বেগে দোলা খেতে থাকে। একে তো তীর ধরে আসতে থাকা নোনা বাতাস, তার উপর কেওড়া গাছের দুলুনিতে তৈরি হওয়া আয়েশ মিলিয়ে তাদের মধ্যে এক স্বর্গীয় অনুভূতি খেলা করে।

আবু জাফরের ঈষৎ টাকযুক্ত মাথার দিকে থাকিয়ে টগরের বাপ একটু খ্যাপাটে হওয়ার বাসনা পোষণ করে। মৃদু হেসে সবাই শুনে মতো করে বিগত রাতের স্বপ্নের কথা বলে। বলে যে, ছেঁড়াদিয়ার কেওড়া বনে সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া ইঁদুরছানার রক্ত মাথায় মাখিয়ে নিলে আবু জাফরের মাথার টাক চুলে ভরে উঠবে। এই কথায় সবার মধ্যে নতুন হাসির রসদ জোগাড় হয়। সবার ভেতর বাড়তি কথা বলার একটা ঝোঁক তৈরি হয়। দাউদ ভাই সকাল থেকে একমাত্র সন্তানের সাথে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকার শোকে খানিকটা গুম হয়ে ছিল। চৌদ্দো বছর বয়সে মেয়েরা ঠিক কী রকম আবদার বাপের কাছে করতে পারে তার একটা তালিকা তৈরির ব্যাপারেও কদিন থেকে সবার সাথে আলোচনা করে যাচ্ছিল। পিতা হিসেবে তার ঠিক কী ধরনের গুণ মেয়ের কাছে উপস্থাপন করা জরুরি তা জেনে নেওয়াও প্রয়োজন মনে করছিল। এই বিষয়ে তাকে নানারকম তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে আবু জাফর। দাউদ ভাইয়ের ধারণা আবু জাফরের কাছে যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্ঠা দেখানোর দুর্লভ ক্ষমতা আছে। তাদের ভেতর এই-যে এতদিনের একটা জমজমাট পরিচয়, এই পরিচয়সূত্রে তৈরি হয়েছে একটা অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ। এই যোগযোগসূত্রে তারা নিয়মিত উপভোগ করে পরস্পরের ভ্রমণসঙ্গ। তার মধ্যে আবু জাফরের সাথে তিনি নিয়মিত যেকোনো বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে অভ্যস্ত। টগরের বাপের কথায় বেশ পুলকিত বোধ করলেন সত্যি কথা, কিন্তু এই কথার প্রত্যুত্তরে আবু জাফর ঠিক কী বলতে পারে তা আন্দাজ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আপাতত নিজেকে এই আলাপে জড়ানো থেকে বিরত রেখে খানিকটা চুপ মেরে থাকার চেষ্টা করে। দাউদ ভাই, টগরের বাপ কিংবা আবু জাফর ছাড়াও এই দলে আছে ফরিদ মামার মত রসময় মানুষ। তিনি প্রতিটি কথার ভেতর একটা অগ্নিনিরোধক বাণী এমনভাবে উপস্থাপন করার ক্ষমতা রাখেন যে, তিনি যখন আলাপে অংশ নেন তখন তার কথার উত্তাপ সবাইকে খানিকটা উদ্দীপ্ত করে। কেওড়া বনে আদতে ইঁদুর বাস করার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না সে-বিষয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কিন্তু টগরের বাপের এই রসালো কথার জবাবে তারও কিছু বলার তাড়না তৈরি হয়। তিনি সোৎসাহে বলে ওঠেন, কচি ইঁদুরের রক্তে মাথার টাক সারাবার উপায় তিনিও আগে শুনেছিলেন। আবু জাফর এই বিষয়ে একবার চেষ্টা করে দেখলে ক্ষতি হবে না বলে তারও বিশ্বাস।
আবু জাফর কোনো কথা বলে না।

টগরের বাপের ডান হাতে ঝুলে থাকা সিগারেটটা পুড়তে পুড়তে ফুরফুর করে উড়ে যাচ্ছে কেওড়া বনের গহীনে। ধোঁয়া থেকে ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের পোড়া পোড়া গন্ধ বাতাসে পাক খেতে থাকে। ছোট্ট টগরকে পাশে রেখে টগরের মা বাকিরা যেখানে আসন গেড়েছে সেখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে বসে নির্জনতা উপভোগের সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে। টগরের বাপ এই সুযোগে তামাকে দুয়েক টান দিয়ে ফেলার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায় না। তাদের আলোচনায় কচি ইঁদুরের রক্তবিষয়ক হইচই অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। আবু জাফরের টাকসমস্যার সমাধান নিয়ে বেশ একটা হুল্লোড় তৈরি হয়। আর তা সবাইকে খানিকটা বেখেয়ালি করে। তাদের অজান্তে বসার জায়গার পাশেই সিগারেটের একটুকরো আগুন একটা কেওড়া গাছের শুকনো ডালকে চুম্বন করে।

আবু জাফরের মাথায় সত্যিই যেন কচি ইঁদুরের রক্তের ফোঁটা জমা হতে শুরু করে। তারা সমস্বরে সে-রক্তের ফোঁটা গুনতে থাকে। আবু জাফর খানিকটা অখুশি মনে এক-আধটু প্রতিবাদ করতে গিয়ে বারবার নাকাল হতে থাকে। ফরিদ মামার রসের-হাঁড়ি-উপচানো কথার বান ছুটতে থাকে আর টগরের বাপ সে-হাঁড়ি কেবল নাড়তে থাকে। তাদের খেয়াল থাকে না কোন ফাঁকে হাত ফসকে পড়ে যাওয়া আগুনের টুকরাটা নিমেষে কেওড়া বনের বেপরোয়া বাতাসে ধীরে ধীরে জ্বলে উঠতে শুরু করে।
আচমকা টগরের কান্নার শব্দ শুনে উৎকণ্ঠা নিয়ে সবাই সেদিকে থাকালে দেখে লাল আগুনের একটা গোলা হঠাৎ তাদের শরীর বেয়ে মাথার উপরে উঠে যেতে চাইছে। ভীতি নয়, একটা অজানা শঙ্কা তাদের শরীরের পেশিগুলোকে অবশ করে ফেলে। ছোট্ট টগর আগের মত চিৎকার করতে থাকে আর তার মা কিছু বুঝে উঠতে না পেরে ছেলেকে পাজাকোলা করে দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে। আবু জাফরের চোখে একটা কালো ধোঁয়ার কু-লি কোত্থেকে আছড়ে পড়ে। তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। পা-দু’টো তারপরও ঈষৎ জোর পাচ্ছে দেখে বাকিদেরকে অনুসরণ করে আগুনের গোলা থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সে নড়তে পারে না। তার চোখে ঘোর জমা হতে শুরু করে। ক্রমাগত আগুনের লেলিহান শিখা উপরের দিকে উঠতে থাকে আর জনবিরল জায়গাটা মুহূর্তেই শত শত মানুষে সয়লাব হয়ে ওঠে। আগুন থেকে দূরে সরে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে আবু জাফর দেখে শত শত জেলে যে-যার মতো করে হাতে পানির পাত্র নিয়ে অদূরে সমুদ্রের দিকে ছুটছে। মানুষের একটা দীর্ঘ সারি তৈরি করে তারা কেওড়া বনের দিকে এগিয়ে আসছে। টগরের বাপ ক্ষীপ্র গতিতে এগিয়ে এসে আবু জাফরকে বের করে আনার চেষ্টা করে। সন্ত্রস্ত গলায় বলতে থাকে কোস্টগার্ড-এর লোকজন পৌঁছানোর আগেই তাদের নিরাপদ দূরত্বে সটকে পড়তে হবে।

আবু জাফর গড়িয়ে গড়িয়ে টগরের বাপকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে। কেউ যেন কোমরে একটা আগুনের দলা বসিয়ে দিয়ে গেল। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে সারা শরীর। মাংসগুলো ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে।

ঘোরের মধ্যেই আবু জাফর দেখতে পায় অসংখ্য ইঁদুর কিচকিচ শব্দ করে কেওড়া বন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ইঁদুরগুলোর সারা শরীরে আগুনের লেলিহান শিখা। শরীরে আগুন নিয়ে সেসব ইঁদুর দিগি¦দিক ছুটছে আর গন্তব্যহীন হয়ে পুড়ে মরছে। আবু জাফরের হঠাৎ অনুভব করে টগরের বাপ আর কখনো কেওড়া বনে এসে কচি ইঁদুরের রক্ত জোগাড় করতে সক্ষম হবে না।

আগুনের গোলাগুলো শরীর আঁকা-বাঁকা করে বেপরোয়া ভঙ্গিতে সবাইকে তাড়া করতে থাকে।