লিডিয়া ডেভিসের পাঁচটি ছোটগল্পের অনুবাদ

ভাষান্তর: শাফিনূর শাফিন

বাসন্তী-রাগ
পাতাগুলো খুব দ্রুত বাড়ছে দেখে ভালো লাগছে।
শীঘ্রই ওরা আমার প্রতিবেশী আর তাঁর হরদম চ্যাঁচানো বাচ্চাটাকে ঢেকে দিবে।


সঙ্গী
আমরা একসাথে এখানে বসে আছি। আমি আর আমার হজমক্ষমতা। আমি একটা বই পড়ছি আর সেটা একটু আগে খাওয়া দুপুরের খাবার নিয়ে কাজ করছে।


ঘরদোর দেখভালের পর্যবেক্ষন
এসব ময়লার নিচে
মেঝে কিন্তু সত্যিই দারুণ পরিষ্কার।


ভুলে যাওয়া
তুমি আমাকে এডিথ হার্টন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলে।
বেশ, নামটা খুব চেনা চেনা ঠেকছে।


কি মুশকিল
বছরের পর বছর মা আমাকে স্বার্থপর, নির্লিপ্ত/নিস্পৃহ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ইত্যাদি বলে বেড়াতেন। প্রায়সময় বিরক্ত থাকতেন আমার উপর। যদি তর্ক জুড়ে দিতাম, দুহাতে নিজের কান চেপে ধরতেন। যা যা করতে পারলে আমাকে বদলানো যেতো তিনি তা-ই করেছেন, কিন্তু বছরের পর বছর আমি বদলাই নাই, কিংবা যদি বদলাতামও, আমি ঠিক নিশ্চিত না আদৌ বদলাতাম কিনা, কারণ এমন কোনো মুহুর্ত কখনোই আসে নি যখন আমার মা বলতে পারতেন, “তুমি তো আর স্বার্থপর, নির্লিপ্ত/নিস্পৃহ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ইত্যাদি ইত্যাদি নও।’ এখন, আমি সেই মানুষ যে নিজেকে বলি, “কেন তুমি অন্যদের কথা আগে না ভেবে পারো না, কেন তুমি শুধু নিজের কাজেই মন দাও না, কেন তুমি পরিণাম কী ঘটতে পারে তা মনে রাখো না?” আমি অস্থির হয়ে যাই। মায়ের প্রতি দরদি হয়ে পড়ি। কি কঠিন আমি! কিন্তু আমি তাকে এসব বলতে পারি না, কারণ সেইসাথে আমি এ-ও বলতে চাই, আমাদের মধ্যে ফোনে যা কিছু বার্তালাপ চলছে, শুনছি এবং নিজেকে বাঁচানোর জন্যই তৈরি করছি।


একজন নারী, ত্রিশ বছরের
বয়েস ত্রিশের একজন নারী তাঁর শৈশবের বাড়ি ছেড়ে যেতে চায় না।
কেনই বা ছাড়বো? এরা তো আমারই বাবা মা। তাঁরা আমাকে ভালবাসেন। কেন কাউকে বিয়ে করতে হবে যে কিনা শুধু ঝগড়া করবে আর চিল্লাবে আমার উপর?
তারপরও, নারীটি জানলার সামনে উদোম হতে পছন্দ করে। সে আশা করে কোনো না কোনো পুরুষ অন্তত তাকে দেখবে।