মৃত সময়ের আখ্যান

অদ্বয় চৌধুরী


যে ঘরে সকালবেলা পায়েরা জলছাপ এঁকে দিয়েছিল সেটা ছিল এক মৃত ঘর। একটি ঘরেরও জীবন থাকে, থাকে তার যাপনসময়— যে সময় নিয়ত মাপা হতে থাকে দখিনা বাতাসে উড়ন্ত পর্দার ওঠা-নামার ছন্দে। রাতে, যখন চাঁদের ক্ষয়াটে আলো মাখবে বলে কাচের পাল্লা দুটো একে অপরের সঙ্গে মিশে এক হয়ে যায়, তখন আর দখিনা বাতাস আসে না ঘরে, দুলে ওঠে না পর্দারা। বরং, ঘরের মধ্যে থেকে যাওয়া হাওয়াগুলো মরে গিয়ে ভেসে ওঠে ছাদের কাছাকাছি যেখানে মাকড়শারা আপন ঘর বানিয়ে জীবনের অপেক্ষায় ওঁত পেতে বসে আছে। তখনই, সেই ক্রমশ দুখী হয়ে ওঠা চাঁদের আলোয় বন্ধ জানলার কাচে টোকা দিয়ে যায় কেউ। ঘুম ভেঙে জানলায় উঁকি দিলে দেখা যায় কেউ নেই। কেউ কি ছিল আদৌ? কারুর কি থাকার কথা ছিল? ওই শব্দটা, ওই কর্কশ অথচ ছন্দে বাঁধা ডাক কি জানলার বাইরে থেকেই এসেছিল? নাকি এসেছিল ঘরের মধ্যে যে আয়নাটা আছে সেটা থেকে? আয়নাটা কি এখনো বেঁচে আছে? ছায়ারা হারিয়ে গেলে আয়নাও হারিয়ে ফেলে তার জীবন।
ওই মৃত ঘরের আপন সময়কালে আমারও খানিক সময় মিশে ছিল, যে সময়টাও এখন মৃত। সময়েরও মৃত্যু আছে, যে মৃত্যু আসে স্মৃতির হাত ধরে।