পালাবে কোথায়!

আফসানা বেগম

কাল দুপুরে রিহ্যাব সেন্টারে শিরনকে দেখতে যেতে হলো। আগে তাকে দেখার ইচ্ছে হলেও আইনের নিষেধে দেখা করা সম্ভব হয়নি। কাল গেলাম অফিস থেকে দেয়া দায়িত্ব হিসেবে। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পরে শিরনের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল ভারতীয় সেই গ্রোসারি শপে যেখানে আমি পার্ট টাইম কাজ করতাম। আট বছর আগের কথা। আমি তখন মাত্র বছরখানেক হলো বাংলাদেশ থেকে এসেছি, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে পড়ি আর সপ্তাহে তিনদিন গ্রোসারি শপে কাজ করি। পড়তে এসেছিলাম অ্যাকাউন্ট্যান্সি; ভালো চাকরি পাওয়া যাবে, ভাগ্য বদলে যাবে, এই আশায়। কিন্তু এক বছর পড়ার পরে কী ভূত যে মাথায় চাপল, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধুর সুবাদে ক্রিমিনাল সাইকোলজি বিভাগে আসা-যাওয়া শুরু। সময় থাকলে বন্ধুর সঙ্গে খামোখা ঢুকে গিয়ে তার ক্লাসের পিছনের দিকে বসে থাকতাম। রহস্য উপন্যাসের মতো ক্লাস। অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি। ক্লাসে বসে থাকতে থাকতে মন বদলে গেল, মনে হলো এই বিদ্যা না শিখলে আমার জীবন বৃথা। পরের বছর কষ্টের টাকা নষ্ট করে আমি আবার নতুন করে পড়া শুরু করলাম মনমতো কোর্সে। গ্রোসারি শপের বাইরে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনেও নিয়মিত কাজ করতে হচ্ছিল। ঘড়ি ধরে চলা জীবন। অথচ তার মধ্যেও শিরনের সঙ্গে সামান্য সময় সহজেই কেটে যেত। তখনো আমার উচ্চারণে অস্ট্রেলিয়ান কায়দা সেভাবে আসেনি। এশিয়ান উচ্চারণের সঙ্গে মিলিয়ে আমি তার সাথে দরকারি আর দরকারের বাইরের কথাও বলতাম। শিরন অনায়াসে আমার সাথে ‘হাই, নাভিদ’ বলে কথা শুরু করত। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সবখানে উঠতে বসতে যেখানে আমি ‘ন্যাভিড’ শুনে অভ্যস্ত, অথচ মাত্র একদিন ভালো করে শুনে নিয়ে পরিষ্কার উচ্চারণে আমার নাম বলার চেষ্টা দেখেছিলাম শিরনের। যেদিন একেবারে শুদ্ধ করে বলতে পারল, হেসে বলেছিল, ‘বাড়িতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাকটিস করেছি।’ আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনে শুরু থেকেই সে খুব আগ্রহ করে আমার সাথে কথা বলত। কারণটা বুঝেছিলাম অনেক পরে। শিরন তখন হাসিখুশি আর ব্যস্ত ভঙ্গিতে দোকানে আসত। তার কী লাগবে আমার জানাই ছিল। সে আসতেই সেসব জিনিস এগিয়ে দিতাম। কোনোদিন একা আর কোনোদিন সঙ্গে তার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে শিরন দোকানে আসত। কোনোদিন আবার সময় না পেলে ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে দিত তার কী কী লাগবে। কাজ শেষে আমি সেসব তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরতাম। গ্রোসারি দোকানের বাঁধাধরা কাস্টমার আর সেলসম্যানের যতটুকু কথাবার্তা হওয়ার কথা, তার বাইরেও তার সাথে প্রায়ই নানান বিষয়ে কথা হতো। আমার দেশের কথা সে জানতে চাইত; বিশেষ করে আমাদের খাবার-দাবার অথবা সেসব উৎপাদন নিয়ে তার দেখতাম বেশ আগ্রহ। প্রথম প্রথম তার বাড়ির বারান্দায় বাজারের প্যাকেটগুলো নামিয়ে দিয়েই আমি চলে আসতাম। ধীরে ধীরে এমন হলো, সেগুলো রান্নাঘর অব্দি পৌঁছে দেয়াটাও ভদ্রতা মনে হতো। ফ্রোজেন আইটেমগুলো শিরনের সাথে হাত লাগিয়ে অনায়াসে ভেতরের বড়ো ফ্রিজারে রেখে দিতাম। সব রাখা শেষ হলে কোনোদিন শিরন আমাকে এক কাপ কফি খেতে বলত। রান্নাঘরের পেছনের বারান্দায় তার বানানো কফিতে চুমুক দিতে দিতে বাড়ির পেছনের দিকের লনের সবুজ ঘাসের দিকে আমি তাকিয়ে থাকতাম। সেসব অনেক আগের কথা। তারপর ডিগ্রি শেষ করে আমি সিডনি কোর্টে ইনটার্ন হিসেবে জয়েন করেছি। ভারতীয় গ্রোসারি শপের কাজ তার অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। শিরনের সঙ্গে দেখা হবার কোনো কারণ ছিল না তার পরে আর। কিন্তু তবু দেখা হয়েছিল কয়েকবার। গত দু’তিন বছরে যে ক’বার তার বাড়িতে গেছি, দেখেছি পেছনের দিকে মখমলের মতো সবুজ ঘাসের লন আর নেই, সেখানে বিচিত্র সবজির গাছ, পুরোটাই বাংলাদেশের গ্রামের বাড়ির অশেপাশের দৃশ্য।

তবে শিরনের সঙ্গে সেসব দেখা আর কালকের দেখা হবার মধ্যে পার্থক্য আছে। কাল ওটা ছিল দায়িত্ব। অবশ্য আমি একে কেবল দায়িত্ব মানতে নারাজ। শিরনের সঙ্গে আমার যে মানবিক সম্পর্ক ছিল বা এখনো আছে তার দোহাই দিয়ে আমি তার কাছে যেতেই পারি, যেতেও চাই। সেজন্য আমি কয়েকবার অফিসের কাগজপত্র দেখিয়ে চেষ্টাও করেছিলাম কিন্তু অনুমতি পাইনি। বারবারই আমাকে বলা হয়েছে শিরন কারো সঙ্গে দেখা করার মতো মানসিক পরিস্থিতিতে নেই। পরিচিত কারো সঙ্গে কিছু সময় কাটানো তার জন্য ভয়ানকও হতে পারে। রিহ্যাব সেন্টারের কোনো এক নির্জন ঘরে শিরনকে রাখা হয়েছে, এটুকু পর্যন্ত জানতাম। কিন্তু কখনোই শিরনের মতো হাসিখুশি একটা মানুষকে ওরকম একটা জায়গায় কেন যেন কল্পনা করতে পারিনি। শিরন কি বেশ খানিকটা আক্রমনাত্মক হয়ে গেছে যে তারা তাকে কারো সাথে দেখা করতে দিচ্ছে না? সে কি কামড়ে দেয় বা খামচে ধরে? এমন ভাবনা বহুবার আমার মাথায় এসেছে। কিন্তু খোঁজখবর করে দেখেছি তেমন কিছুই না। জানা সত্ত্বেও দুরুদুরু বুকে আমি শিরনের কাছে কাল দুপুরে উপস্থিত হলাম।

স্টিলের দরজায় চোখের সমান উচ্চতায় ছোট্ট বর্গক্ষেত্রে কাচ লাগানো। সেখানে চোখ রাখলেই শিরনকে দেখতে পাব। দরজার তিন ফুটের মধ্যে গিয়ে কেন যেন আমার আর আগাতে ইচ্ছে করল না। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, এই শিরনকে কি আমি দেখতে চাই? নিজে থেকে গেলে হয়ত ওখান থেকে ফিরেই আসতাম। লম্বা করিডোর পেরিয়ে যখন এগোচ্ছিলাম, আমি বুঝতে পেরেছিলাম শিরনকে রিহ্যাবের নামে আসলে জেলখানায় রাখা হয়েছে। পরিস্কার জেল, কোনো সন্দেহ নেই। শিরনকে অপরাধীই ধরে নেয়া হয়েছে। আমার কান্না পাচ্ছিল। শিরনের সামনে আমার বিষণ্ণ মুখ দেখানোর কোনো মানে হয় না। তাই হয়ত চলেই আসতাম। কিন্তু সিডনি কোর্ট আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল বন্ধু হিসেবে শিরনকে ভুলিয়ে ভালিয়ে উইটনেস বক্সে দাঁড়াতে রাজি করাতে যেটা তারা তিন মাস ধরে চেষ্টা করেও করতে পারেনি। অপরাধ প্রমাণিত না হলেও জেলখানার মতো সেলে তাকে রাখা হয়েছে বটে তবে জোর করে উইটনেস বক্সে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করানো বা টর্চার করে অপরাধ স্বীকার করানোর পক্ষপাতি তারা নিশ্চয় ছিল না।

আমি কাঁপা কাঁপা পায়ে কাচের বর্গক্ষেত্রটার সামনে দাঁড়ালাম। হ্যাঁ, মোটা কাচে চোখ রাখতেই শিরনকে দেখা গেল। স্টিলের সিঙ্গেল বেডের এক ধারে শিরন বসে ছিল; দুই হাত বিছানার ওপরে ভর দেয়া, চোখ মেঝের দিকে। উঁকি দিয়ে আমি তার মাথার ওপরের দিকটা দেখতে পেলাম। মেহগিনি ধাচের বাদামি চুলগুলো গোছা গোছা হয়ে মাথার চারদিকে এলোমেলো রওনা দিয়েছে। হাতের সুগঠিত পেশীগুলো চোখ এড়ানোর কোনো উপায় নেই। লম্বা-চওড়া শিরনকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, আমার প্রিয় সানিয়া মির্জার কথা মনে পড়েছিল। পরে জেনেছিলাম যে অবসরে লন টেনিস খেলা শিরনের শখ। আমি তাকে এক পাশ থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম। সেখানে দাঁড়িয়ে মনে মনে তৈরি করা কথাগুলো আওড়ে যাচ্ছিলাম, কী করে তাকে রাজি করাব শুনানির সময়ে কোর্টে হাজিরা দিতে। শিরন কী যুক্তি দিলে আমি কী বলে তা খণ্ডন করব, সেসব নিজেকে মুখস্ত করাচ্ছিলাম। তাকিয়ে থাকতে থাকতে শিরন হঠাৎ মুখ তুলল, সামনের দেয়ালের দিকে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। আমি তাকে ভোলানোর চিন্তা বাদ দিয়ে কাচের আওতার বাইরে দ্রুত সরে এলাম। শিরনের সাথে চোখাচোখি হওয়াটা আরো খানিকক্ষণ এড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হলো। পাশ থেকে দেখলেও তার চোখমুখের আতঙ্ক আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম। এমন আতঙ্ক তার মুখে প্রথম দেখেছিলাম যেদিন শিরন হাসপাতাল থেকে ফোন করে তার বাচ্চা হবার খবর দিয়েছিল। ডেলিভারির পরে সেইন্ট জর্জ হসপিটালে ২০৩ নম্বর রুমে সে আছে বলে জানিয়েছিল, বলেছিল সময় হলে সেখানে যেতে। সেদিন বিকেলে কোর্টের কাজ বাদ দিয়ে আমি হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছিলাম। তার বাচ্চা হবে তা আমি আগে থেকেই জানতাম। তার বয়ফ্রেন্ড ততদিনে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সিঙ্গল মাদার হিসেবে কী কী ঝামেলায় সে পড়বে আর তখন তাকে কী করতে হবে, দেখা হলে বিশাল পেটের ওপরে হাত বোলাতে বোলাতে সে সেসব গল্প শোনাত। তখনো তার মুখে ছোট্ট একটা হাসি লেগেই থাকত। বোঝা যেত, সেসব সমস্যা তার জন্য আলাদা কিছু নয়, ছোটোকাল থেকে অনেককেই ওসব পোহাতে দেখেছে। তাছাড়া শিরন সাহসীও। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবে, এটুকু আস্থা তার ওপরে রাখা যেত। শেষের দিকে অবশ্য সে নিজে আর দোকানপাটে তেমন ঘুরতে পারত না, কখনো আমি তার জিনিসপত্র লিস্ট অনুযায়ী বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতাম। আমাকে কফি বানিয়ে দিয়ে শিরন সামনে বসে কচকচ করে সেলরি চিবিয়ে খেত। কখনো অর্ধেক করে কাটা অ্যাভাকাডো থেকে চামচ দিয়ে কুরিয়ে নিতে নিতে বলত যে ওই অবস্থায় একটাও বাজে জিনিস খাওয়া যাবে না, শরীরে সামান্য টক্সিক যেন না হয়, কফি খাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। ইনটার্ন শেষ করে তখন আমি পাকাপাকিভাবে সিডনি কোর্টে চাকরি পেয়ে গেছি। কাজের চাপ পুরো সপ্তাহ জুড়েই। বড়োসড়ো শরীর নিয়ে শিরন সারাদিন বাসায় একা একা বসে থাকে ভেবে একবার ছুটির দিনে তাকে প্রায় জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলাম। ডার্লিং হারবার থেকে জাহাজে চড়ে আমরা ম্যানলি বিচে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সারাদিন সমুদ্রের তীরে হাঁটব, শিরনের জন্য বাসার বাইরে ভালো একটা দিন হবে। বিচের পাশে থেকে পাতায় মোড়ানো প্রন ককটেল এনে দিতেই শিরন চমকে উঠেছিল, ‘না না, এই চিংড়ি কাঁচা, কৃমি থাকতে পারে, আর তাছাড়া এই চিংড়িগুলো হরমোন ট্রিটমেন্টে চাষ করা- এসব খাওয়া অসম্ভব।’ আরো বেশ কিছু খাবারে তার অনীহা দেখে শেষে প্যাকেটের জ্যুস আর বিস্কিটের উপরে ভরসা করেছিলাম। প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানের কলাম দেখিয়ে সে বলল, ‘এই যে নম্বর লেখা নামগুলো দেখছ না? এগুলো প্রিজারর্ভেটিভস। আসলে এগুলো হলো বিষ। এই অবস্থায় এসব খেতে বলো আমাকে!’ যুক্তির পর যুক্তি দেখিয়ে শিরন ব্যাগ থেকে কিছু শুকনো ফল আর বাদাম বের করে খাওয়া ছাড়া বলতে গেলে সারাদিন না খেয়েই কাটিয়ে দিল। তাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া আমার জন্য একরকম ঝামেলা হয়ে দাঁড়াল।
হাসপাতাল থেকে ফোন করে শিরন তার মেয়ে জন্মানোর কথা বলেছিল। ছেলে না মেয়ে হবে সেটা সে তার আগপর্যন্ত রহস্যই রেখেছিল। আলট্রা সনোগ্রাম করলে বাচ্চার ক্ষতি হবে, সে ব্যাপারে সতর্ক দেখেছিলাম তাকে। তার কথামতো সেদিন আমি বিকেল পাঁচটায় সেইন্ট জর্জ হাসপাতালে পোঁছলাম। রিসেপশনে কথা বলে সোজা চলে গেলাম দোতলায়। ২০৩ নম্বর রুমে কেউ ছিল না। এলোমেলো বিছানা, পাশে পড়ে থাকা আধা খাওয়া মিষ্টি কুমড়োর স্যুপ আর স্বচ্ছ প্লাস্টিকের শূন্য বেবিকট ছাড়া আর তেমন কিছু আমার নজরে পড়ল না। ভাবলাম কোনো রুটিন চেক আপের জন্য তাকে বাচ্চাসহ বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। বহুক্ষণ পরেও যখন শিরনের দেখা পেলাম না তখন নীচে নেমে রিসেপশনে জানালাম। শিরনকে হাসপাতালের কোথাও পাওয়া গেল না। তারা বলল শিরনের তখন রুমেই থাকার কথা, বাচ্চা জন্মানোর মোটে তিরিশ ঘণ্টা হয়েছে। শিরনকে ফোনেও পাওয়া গেল না। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরে তারা নিশ্চিত হয়ে বলল যে শিরন হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে চলে গেছে। ব্যাপারটায় এত অবাক হলাম যে আমার হাতে থাকা একটা গোলাপি টেডি বেয়ার, সাদা লিলিসহ একগুচ্ছ গোলাপি চন্দ্রমল্লিকার তোড়া যেন আমার শরীরের অঙ্গ হয়ে গেল। আমি সেসব কোথাও রাখতে ভুলে গেলাম। হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিশ্চয় শিরনের অ্যাকাউন্ট থেকে বিলটা আদায় করে নেবে কিন্তু সে এভাবে না বলে সেখান থেকে চলে যেতে পারে কী করে! কী করা উচিত বুঝতে না পেরে হাসপাতালের কাছের একটা কফিশপে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ। তারপর আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে সোজা শিরনের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। খানিকক্ষন বেল বাজানোর পরে শিরন দরজা খুলল। তার মুখে ভয়াবহ আতঙ্ক। শার্টের হাতা ধরে হ্যাচকা টানে আমাকে ভেতরে ঢুকিয়ে শিরন দরজা বন্ধ করে দিল। হাত থেকে পড়ে যাওয়া টেডি বেয়ারটা তুলে যত্ন করে বাচ্চাটার পাশে রাখল। আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না।

‘আশ্চর্য! তুমি কাউকে না বলে হাসপাতাল থেকে চলে এলে কেন?’

‘কোনো উপায় ছিল না।’ চোখমুখ লাল তখন শিরনের। কথা বলতে গিয়ে ঠোঁট থরথর করে কাঁপছিল।

‘কেন? কী হয়েছিল?’

‘হতো। আমি চলে না এলে তারা আমার বাচ্চার শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিত।’
‘এমন কথা কে বলল তোমাকে?’

‘কোন দুনিয়ায় থাক তুমি! জানো না এখনো? প্রত্যেকের গতিবিধি তাদের নজরে রাখতে চায় তারা। পোষা বেড়াল-কুকুরদের পর্যন্ত রেহাই নেই।’

‘কী যে বলো, শিরন, বাচ্চা হবার পরে তোমার তো ডাক্তারদের কাছাকাছি থাকার দরকার ছিল।’
‘মাথা খারাপ? আমার বাচ্চাকে আমার এদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তাই মাইক্রোচিপ লাগানোর আগেই চলে এসেছি।’

‘তাই বলে হাসপাতাল থেকে না বলে-’

‘বললে কি ওরা আমার বাচ্চাকে ছাড়ত?’

মাত্র আগের দিন যে বাচ্চার জন্ম দিয়েছে তার সাথে বেশিক্ষণ তর্ক করতে ইচ্ছে হলো না। বরং শিরনকে উত্তেজিত দেখে ওর কথাই মেনে নিলাম। তাতে যদি ওর উত্তেজনা কমে। বললাম, ‘আজকাল এরকম অবস্থা হয়েছে, আমি আসলেই জানতাম না।’

‘জানবে কী করে, তৃতীয় বিশ্বে তো সবাই এখনো সুখেই আছে। তোমরা জানো না এখানে কী ভয়াবহ অবস্থা। ফোনে কি রাস্তায় কোথাও কোনো কথা বলে শান্তি নেই। সব রেকর্ড হচ্ছে। এই যে আমরা কথা বলছি, কে জানে কোথাও কোনো রেকর্ডিং ডিভাইস রাখা আছে কি না। কথাবার্তা খুব সাবধানে!’
শিরন ঘরের ছাদের দিকে সন্দেহপ্রবণ একটা দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। তার সঙ্গে সঙ্গে আমিও ঘরের চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলাম। শিরনের এমন ধারণা কী করে হলো সেটাই ভাবছিলাম। তবে সব বাদ দিয়ে আমার তখন মনে হলো শিরনের বিশ্রাম দরকার। তার ওপর দিয়ে নিশ্চয় খুব ধকল গেছে, হাসপাতালে মিডওয়াইফ বলেছিল এগারো ঘণ্টা লেবার পেইনের কথা। তারপর সবার অজান্তে একদিনের বাচ্চা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসতেও নিশ্চয় তাকে কম কষ্ট করতে হয়নি। আমাকে চুপ থাকতে দেখে সে আবার শুরু করল, ‘তুমি কোথায় গাড়ি পার্ক করছ, কত স্পিডে যাচ্ছ, সব তারা জেনে ফেলছে। দেশজুড়ে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়ে গেছে। তুমি কোথাও সামান্য স্পিড বাড়াও কি সিগন্যাল অমান্য কর, ছবি উঠে গেল আর তোমার বাড়িতে ফাইনের চিঠি এসে গেল, ব্যস।’

‘যারা অপরাধ করছে তাদের ধরার জন্য ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার কি দরকার নেই, শিরন?’

‘শুধু তাদের ধরার জন্য সবাইকে অনুসরণ করা কেন? আর নজরদারি কি শুধু রাস্তাঘাটে চলছে? তুমি ফেসবুকে কোথায় কী লিখছ, কাকে কী মেইল পাঠাচ্ছ, সেল ফোনে কী কথা হচ্ছে, তুমি কি মনে কর কিছু গোপন থাকে? কারো জীবনে কোনো প্রাইভেসি আছে? সবাই তো আর অপরাধী নয় অথচ কারো একটা নিশ্বাসও এখন গোপন থাকছে না। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ডিভাইস লাগিয়ে বেড়াচ্ছে ওরা’
কথা বলতে বলতে শিরনের গলা খাদে নেমে এল। গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেবার জন্যই হয়ত শেষ বাক্যটা সে চোখ গোল গোল করে বলল আমার কানের কাছে ঘেঁষে। শিরনের কথা শেষ হলে কিছু দরকারি জিনিসপত্র হাতের নাগালে গুছিয়ে দিয়ে আমি ফিরে এলাম। পড়াশোনার বাইরে তখন পুরো সময়টাই আমাকে কাজ করতে হতো। খুব কমই যেতে পারতাম শিরনের কাছে। বলতে গেলে মাসে একবার। ফোন করলে বেশিরভাগ সময়ে সে ধরত না, ধরলেও কেবলই সতর্ক করতে থাকত, ‘সাবধান, এসব কথা ফোনে নয়!’ তাই তার অবস্থা জানতে চাইলে কখনো কাজ সেরে বেশ রাতে তাকে দেখতে যেতে হতো। বছরখানেক পরে একদিন আবছা অন্ধকারে দেখি তার বাড়ির পেছনের লনে ঘাস নেই। মাটি নিড়িয়ে সেখানে সে নানারকম সবজির গাছ লাগিয়েছে। হাসতে হাসতে বললাম, ‘আমি গ্রোসারি শপে কাজ ছাড়লাম বলে তুমি বাড়িতেই চাষাবাদ করা আরম্ভ করলে নাকি!’ শিরন বলল, ‘তা কেন, আমি সবকিছু নিজেই তৈরি করে খাওয়াচ্ছি বাচ্চাকে। দোকান থেকে কিনে কী করে খাওয়াব, চারা গাছ থাকতেই তারা কীটনাশকে ভরে দিচ্ছে, মিশিয়ে দিচ্ছে নানান প্রাণীর লালা আর মাইক্রোচিপ-’
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘কীটনাশকেও মাইক্রোচিপ! কী আবোলতাবোল বলছ?’
‘আবোলতাবোল হবে কেন? তুমি কি কিছুই জানো না? পরের জেনারেশনের সবাইকে ওরা নখদর্পনে রাখবে, তাদের অজান্তে একটা নিশ্বাসও কেউ কোথাও ফেলতে পারবে না। আমি অন্তত একজনকে বাঁচাই, তবেই আমার দায়িত্ব শেষ। আমার মেয়ের শরীরে কিছুতেই আমি ওসব ঢুকতে দেব না।’

শিরনের উদভ্রান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বুঝলাম, বিষয়টা তার ভেতরে স্থায়ী হয়ে গেছে। বুঝিয়ে-সুঝিয়ে কোনো লাভ হবে বলে মনে হলো না। কিন্তু ঘরময় হামাগুঁড়ি দিতে থাকা বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ‘আচ্ছা, তুমি কি তবে ওকে শর্করা জাতীয় কোনো খাবারই দিচ্ছ না? কিংবা ডিম অথবা দুধ?’
শিরনের মুখ বিষণœ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘কী করব বলো, ধান বা গম করার মতো এতটা জায়গা যে আমার নেই। আর পোলট্রি বা ডেইরি? সেসবে তো আমেরিকা তিরিশ বছর ধরে হরমোন ট্রিটমেন্ট চালাচ্ছে, কৃত্রিমভাবে বড়ো করছে।’

চুপ করে থাকলাম। কিছুটা রাগও হলো আমার; পাগল মহিলা বাচ্চাটাকে না খাইয়ে রেখেছে। শিরন আবার শুরু করল, ‘পারলে আমি বাচ্চাটাকে তোমাদের ওখানে পাঠিয়ে দিতাম। কেউ ওকে ট্র্যাক করতে পারত না।’

‘তোমার কী ধারণা, আমাদের মতো গরীব দেশগুলোতে কেউ কাউকে ট্র্যাক করে না? এই তো, ক’দিন আগেই একজন সাংসদের সাথে এক সন্ত্রাসীর কথোপকথন টেলিভিশনে শোনানো হয়েছে, জানো? তাও আবার সাধারণ ফোনে নয়, ভাইবারে বলা কথাবার্তা। তার ওপর নির্ভর করে সাংসদের পদও চলে গেছে। আর খাবারের কথা যদি বলো, ইচ্ছেমতো ফরমালিন আর কীটনাশক ঢেলে দেয়া হয়, মাপজোখ কিংবানিয়মকানুনের কোনো বালাই নেই। ভয়ানক সব জিনিস দিয়ে ফল পাকানো হয়, খাবারে অখাদ্য রঙ মেশানো হয়। আরো শুনবে?’

‘বলো কী!’ শিরনকে বিভ্রান্ত দেখাল। তারপর আবার চোখে ঝিলিক তুলে বলল, ‘কিন্তু মাইক্রোচিপ, সেটা তো শরীরে বসাচ্ছে না, তাই না?’

শুধু সেদিন কেন, তারপর থেকে যতবার শিরন আর তার বাচ্চাকে দেখতে গেছি, তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বাচ্চাটা বলতে গেলে বাড়ছিলই না। অসুখবিসুখ লেগেই থাকত অথচ শিরন মাইক্রোচিপের ভয়ে তাকে ডাক্তারের কাছে নিত না। বোঝানো ছাড়া জোর করারও কিছু ছিল না; ব্যক্তিগত অধিকারবোধের জয়জয়কার সেখানে। কিন্তু আমি তো সেভাবে মানুষ হইনি, একটা বাচ্চার সাথে এত বড়ো অন্যায় আমার মেনে নিতে কষ্ট হতো। একবার অসুস্থ দেখে আসার পর থেকে কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারছিলাম না। দু’দিন পরে আবার গেলাম দেখতে। গিয়ে দেখি ভয়াবহ অবস্থা, যে কোনো সাধারণ মানুষ দেখলেই বলতে পারবে যে তাকে তখন হাসপাতালে নেয়া দরকার। শিরনকে ধমকে আমি তাকে কাছাকাছি হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিলাম। কী মনে করে সে বাধা দিল না, আমার সঙ্গেই গেল। সেখানে গিয়ে প্রথমে বাচ্চাকে স্যালাইন দেয়া হলো। শিরন হায় হায় করে উঠল, ‘দিল তো সুঁচ দিয়ে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে! আর বাঁচার কোনো রাস্তা নেই।’ আমি তার কথা শুনে না শোনার ভান করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। স্যালাইন দেয়ার পরেও চোখের সামনে ধীরে ধীরে বাচ্চাটা নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল। ডিউটি ডাক্তার বললেন, ‘ভয়ানক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এমন হলো কী করে? আরো আগে আসনি কেন?’ শিরন গলার রগ ফুলিয়ে বলল, ‘পুষ্টিহীনতা হবে কেন! আমি তাকে সবসময় ঠিকমতো খাইয়েছি।’ ডাক্তার হতাশ ভঙ্গিতে বললেন, ‘রোগ প্রতিরোধ করার মতো কোনো অবস্থাই তৈরি হয়নি ওর শরীরে।’ জানা গেল ফ্লু, নিউমোনিয়া, আরো বহু জটিল অসুখ একাধারে জেঁকে ধরেছে বাচ্চাটাকে। হাসপাতালে দু’দিন ভুগে বাচ্চাটা মারা গেল। বাচ্চা মারা যাবার খবর জানার পরে শিরন পাগলের মতো সেখানকার জিনিসপত্র ছোঁড়াছুঁড়ি করতে লাগল। চিৎকার করে বলতে লাগল ডাক্তাররা তার বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। শিরনকে যখন কিছুতেই সামলানো গেল না তখন পুলিশ ডাকল হাসপাতাল কতৃপক্ষ। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত শিরন স্বীকার করেনি যে বাচ্চার মৃত্যুতে তার কোনো হাত আছে। জন্মের পরে শরীরে মাইক্রোচিপ ঢোকাতে পারেনি বলেই তার বাচ্চাকে ডাক্তাররা মেরে ফেলেছে, এই বদ্ধমূল ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেনি।

রিহ্যাব সেন্টারের দরজায় কাচের বর্গক্ষেত্রটার সামনে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি কাচের পেছনে শিরন জোরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। বাইরে থেকে কোনো শব্দই পাইনি। বিশালদেহী গার্ড আয়েশী ভঙ্গিতে সশব্দে গ্রিলের দরজা খুলল। আমি ভেতরে যেতেই শিরন আমাকে জড়িয়ে ধরল। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘তুমি এখানে কেন! এখনই পালিয়ে যাও এখান থেকে। তোমার জান নিয়ে ভেগে যাও।’
আলিঙ্গনে তার হৃদকম্পনের দ্রুততা টের পাচ্ছিলাম। তার হাতের পেশীগুলো পাথরের মতো শক্ত হয়ে ছিল। আমি তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে থাকলাম। ধীরে ধীরে শিরনের শরীর শিথিল হতে লাগল। একসময় বেশ হালকা মনে হলো তাকে। সে যেন টেরই না পায় এমন আলগোছে তাকে বিছানায় বসিয়ে দিলাম। তবে বিছানায় বসেই সে আবার চমকে উঠল।
‘কেন এসেছ তুমি এখানে?’
‘তোমাকে দেখতে।’
‘চলে যাও। তোমাকে ওরা ট্র্যাক করবে। কারো রেহাই নেই।’
‘বাদ দাও, শিরন। তুমি উইটনেস বক্সে যাচ্ছ না কেন?’
‘কেন যাব? আমার বাচ্চাকে ওরা ঠান্ডা মাথায় মেরে ফেলেছে। এখন চায় আমি নিজে উইটনেস বক্সে গিয়ে বলি কী কারণে আমি তাকে এটাসেটা কিনে খাওয়াইনি? সে মারা গেছে এটা আমার দোষ সেটা প্রমাণ করি? এসব বললে তারা যে খাবারে হরমোন আর কীটনাশক দিচ্ছে, তারা যে শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দিচ্ছে, সেসব শয়তানি জায়েজ হয়ে যায়, না? আর খুনি হিসেবে আমাকেও শাস্তি দিতে পারে, বাহ্!’
‘তুমি ভুল বুঝেছ, শিরন। তুমি শুধু ওখানে গিয়ে বলো তুমি কেন মনে করছ যে তোমার বাচ্চাকে তারা খুন করেছে। কারণ দেখাও কেন তুমি হাসপাতালে ভাঙচুর করেছ। আর এখনইবা কেন তুমি যাকে পাচ্ছ তাকেই মারতে চাচ্ছÑ’
শিরন চুপ করে থাকল। আমি আঙুল দিয়ে তার এলোমেলো চুলে চিরুনি চালালাম। ইউরোপিয়ান পূর্বপুরষের দান শিরনের সাদা চামড়া আগের চেয়েও বেশি বলিরেখায় ভরে গেছে। থুতনির কাছে তিলের মতো যতগুলো দাগ দেখা যেত তা যেন আরো বেশি ঘন আর স্পষ্ট। মনে হলো লালচে চোখগুলো দুটো গর্তে আত্মগোপন করতে চাচ্ছে। চোখের চেয়ে চোখের নীচের ছাইরঙা বৃত্ত নিজের অস্তিত্ব বেশি জানান দিচ্ছিল। ছোট্ট ঘরটায় তার সাথে বহুক্ষণ কথা আর নীরবতায় কেটে গেল। বিকেল তখন প্রায় চারটা। কেসের শুনানির সময় হয়ে এল। শিরনকে নিয়ে বেরিয়ে এলাম। উইটনেস বক্সে দাঁড়িয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাঝখানে শিরন একবার জানতে চেয়েছিল, ‘সত্যি করে বলো, পোষা কুকুর-বেড়ালের ধমনীতে মাইক্রোচিপ লাগানো হচ্ছে না?’ প্রসিকিউটার উত্তর দিয়েছেন, ‘হ্যাঁ। এটা তাদের ট্র্যাক করার জন্য জরুরি।’ শিরন তখনই অস্থির প্রশ্ন করেছিল, ‘একইভাবে তোমরা মানুষকেও ট্র্যাক করতে চাও, চাও না? কারো স্বাধীনতার কোনো মূল্য আছে তোমাদের কাছে?’ প্রসিকিউটার অবাক হয়ে শিরনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। উইটনেস বক্সের কাছে সামনের সারিতে আমি বসে ছিলাম। শুনানি শেষে দুজন পুলিশ দুদিকে ধরে শিরনকে নামিয়ে নিল। ফিরে যাওয়ার সময় শিরন আমাকে পাশ কাটাতে গিয়ে থামল। আরেকবার আমাকে জড়িয়ে ধরল আমাকে। কানের কাছে মুখ নিয়ে নীচু স্বরে বলল, ‘আমি তোমার ভালো চাই। পালাও, নাভিদ।’
...................................................