রূপকের জন্ম ও বৃদ্ধি

আর্যনীল মুখোপাধ্যয়

আনন্ত্য, শূন্যতা ও নীল কোটর :: ডিসেম্বর ৩১::

বলা হয় আনন্ত্য আর শূন্যতা মহারূপক
মৃত্যু ও যৌনতার

আমরা সেখানেই। তোমার চুড়িদার আমার কোলে
পায়ের হাল্কা মল আমি ঘুরিয়ে যাই, জপমালা
আমরা সেখানেই, যেখানে
মেঘ ও মেঘোপমকে
গেঁথে গেঁথে তুলছে বিমানের সাদা সুতো

আমরা তার পাশে টেবিলে বসেছি
অনেক ফুল আর কাঁচি নিয়ে
গোলাপকে নিরস্ত্র করতে


লিরিকের বক্ররেখায়, ভালোবাসা, কলমের জিভ অনচ্ছ :: ১৪ই সেপ্টেম্বর ::

সেভাবে কিছুই আর বদলাবে না আমি জানি
লিরিকের বক্ররেখা
যেখানে যেভাবে উঠেছিলো, উথলেছিলো তরঙ্গে
যে পীনকোণা
মোটামুটি সেরকমই গড়পড়তা সব –

লালপতাকা তুলে হেঁটে আসছে স্বৈরাচারী মিছিল
রক্তবর্ণের মানে বদলেছে, সিনেপর্দার ধূমপান পেরিয়ে
এখন অন্য সতর্কীকরণ
পৃথিবী এদের নয় আমি জানি
তবু জানি সেভাবে কিছুই বদলাবে না

তোমার কলমের জিভ যেখানে ভালোবাসবে
সেখানে আমি পাতা
তবু ভালোবাসা
ঝরবেনা উত্তপ্ত ঝর্ণায়, সুদৃশ্যের সামনে দিয়ে
আর আমি স্পষ্টের সবটা দেখতে পাবো,
আড়ালে বিরক্ত হবো, আমি জানি

আড়ালের অভাবে ভুগি, তবু
মেঘের দেহরেখা পোড়া চুরুটের ছাইডগা দিয়ে আঁকবোনা
আমি জানি তুমি আমাকে অনচ্ছ
দেখতে চাও না।




নানা গঞ্জ, কুঞ্জে আমার ওপর তুমি, জলজ্যান্ত জলে :: ডিসেম্বর ৩০::


আমি আমার জীবনের নানা গঞ্জ, কুঞ্জ ও কোণ থেকে
নানা সুতো, দড়ি, তার, সংগ্রহ করে এনেছি
যা দিয়ে কিছু প্রতিমা ও প্রতীতী ধরবো
এদের দেখতে দেখতেই বেরিয়ে আসবে আমার
জীবনদর্শন।

ছায়ার একটা মিথ্যেশিল্প আছে

হাত তুলে রোদ আড়াল করলাম, আর
তুমি দেখলে তোমায় আলিঙ্গন করছি
তোমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করলাম-
‘ওই লোকটা বদমাশ, আত্মপ্রচারী, ওকে এড়িয়ে চলো’
আর তুমি দেখলে আমি তোমায় চুমু খেলাম।

পায়ের কাছে পড়ে থাকা আমাদের ছায়া দেখছিলে তুমি
আসলে ওটাই নৈকট্যের মানে।
জলের ছবি জাহাজের ডেক থেকে তুলে পাঠালে
আর আমি দেখলাম, তুমি চ’লে যাচ্ছো কোথাও
ফেনা বলছে, জল বলছে
তার ওপর তোমার, আমার দেহের ছায়া।
তুমি বললে - ভুল
আমার ওপর তুমি, বাথটাবের পাশে জ্বলছে
সুগন্ধ মোম
জলজ্যান্তর জলে আমরা দেখি নিজেদের ভাষা



জড়িয়ে ধরা, বাজ পড়া, ড্রেনের ধারের ছোট নদী :: ১৬ই সেপ্টেম্বর ::

এয়ারভেন্টের ভেতরেই সে কোথাও মারা গেছে
হয়তো সদ্যোজাত ছিলো
মায়ের সাথে পরিবারের বাকিরাও ধরা পড়ে
ফেলে দেওয়া হয়। ধরা পড়েনি
শুধু এটা; ভেন্টের চারপাশে একটা দুর্গন্ধ, ঘরের কোণে
যেখানে আমি পোশাক পাল্টাই
এভাবেই মনের কোণের কথাটা এলো

শেকলের একঘেয়ে হচ্ছে
দিনের আঙটায় একের পর এক দিন
একটানা এই প্রায়-একা থেকেও
সম্পূর্ণ একা না থাকতে পারা –
এর কোনো রূপক খুঁজিনি তো
‘বেড়া’ নামের পত্রিকাটির গ্রীষ্ম সংখ্যা এলো
মলাটে, পাতলা বেগনি চাদরের নিচে
একটা খালি-গা লোক শুয়ে

আগের জন্মে নয়, তুমি এ জন্মেই ভাল্লুক ছিলে
এত জড়িয়ে ধরার শখ
একটা গান ছিলো না? –
বাজ পড়লে চমকে উঠে জড়িয়ে ধরো আমায় তুমি

তাই বাজ পড়ে না
জল জমে না
ড্রেনের ধারের ছোট নদী দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে।