বেলিয়াতোড়

অংশুমান কর

বাস্তব

ছোট ছোট প্লট করে নাকি বিক্রি করা হবে জমি।

কেউ কেউ বলছে, উঠবে ফ্ল্যাটবাড়ি।

কিছু দূরে জঙ্গল। পাতলা। আগের চেয়ে।

দেখি। চেয়ে চেয়ে দেখি।

বাংলো। ফ্ল্যাটবাড়ি। বাংলো। ফ্ল্যাটবাড়ি।

শুরু হয়নি এখনও।
হবে, কিছুদিন পর।

সিমেন্ট, বালি, ইট দিয়ে দিয়ে মিস্ত্রি শেষ পর্যন্ত
যা বানাবে তা যতই ম্যানিকুইনের মতো সেজে উঠুক
তারে মেলে দেওয়া রঙিন শাড়ি
আর কেয়ারি করা ফুলের টবে
আসলে কঙ্কাল।

ইঞ্জিনিয়াররা জানেন।


কল্পনা

মাটির ছিল। একদিন।

এখন একটা রাস্তা পীচের।
সামান্য সিমেন্ট ছড়ানো আরও একটি
কংক্রিটের।

উড়ে আসা তুলোর আঁশটিকে
হাতে তুলে নিই
ভাবি, এই হল শেয়ালের লোম

অন্ধকারে...


পরাবাস্তব

ঠাম্মার একটা নেই। ক্যানসার কেড়ে নিয়েছিল।
জেনে ভয় লেগেছিল একটা বিকেলে।
আজ
বাচ্চাদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে নেমেছি মানে
এই নয় যে
আমি ঢুকে পড়তে চাইছি
‘ইচ্ছেপূরণ’ গল্পটির ভেতর,
নিজের মধ্যে কতটুকু খেলা বেঁচে আছে
জানতে চাইছি।
আমি শুধু তক্কে তক্কে আছি।
মওকা এলেই লাত্থি মেরে ফুটবলটিকে
দিগন্তের দিকে পাঠিয়ে দেব
তারপর বিকেলকে ফিশফিশ করে বলবঃ
যাও, তোমার কাটা স্তন লাগিয়ে ফিরে এসো...
ভয় নয়, বুক দেখাও।


জাদুবাস্তব

একটা টিউবওয়েল হয়েছে।

একটা টাইমকল।

কুয়োটিকে ঘিরে আজ আর কোনও
গল্প নেই।

যদিও কখনও নিউইয়র্ক, কখনও মুম্বাই
কখনও চেন্নাই আর কখনও কলকাতায়

গল্পে

কুয়োটি আছে...


মিথ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিশন কমে যাচ্ছে।

টের পাই।

দেশ বলতে অস্ট্রেলিয়ার লোকজন এখনও বোঝে
একটা মহাদেশ

আর আমি

একটা গ্রাম...