ছুরিতে ঠিকরানো আঁধিয়ার

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

লোর-চন্দ্রাণী

এসো, চাঁদ!
এসো, পূর্ণমাসির পিলা-চাঁদ!
ঢালো মান্না আমার মরু-রোমকূপে,
ছাদ ভেঙে যাক আকাশের।

তুমি—
মুগ্ধ ঘৃণায় নামো মধ্যে,
আমার কালো খুন-পসিনায়
জ্বেলে দাও ঘি ও মোম।

ওরা থম্‌কে থামুক।
ওরা—
ঐ আগুনের পাখি!
মর্ষকামুক, যারা বাইছিল নাও
সিলাডন নদীতে...

তুমি আসছ আমায়!
ওরা পায় যদি টের, কোশা
উল্টে দেবার পালা,
চাঁদ—

জানালায়, ও সবুজ-পরি!
ঢাল্ লালা এই
খোলা-হাঁয়।





ছুরিতে ঠিকরানো আঁধিয়ার

সন্ধ্যা আমার সন্ধ্যা
তোমার নির্জনতার ভিড়ে
আমার বন্ধু শয়ান
ঘাসের ফাগ-মাখা শরীরে

আমার বন্ধু নিথর
সে এক নিস্তরঙ্গ নদী
বইছে নিজের দিকে
আমি জিব ছোঁ’য়ালাম যদি

অমনি আমি পাথর
আমার বন্ধু হলাম আমিই
সন্ধ্যা আমার সন্ধ্যা
এখন তোমার গর্ভে নামি



ঢাক-ঢাক গুড়-গুড়




নিষ্প্রাণ লোকের ঢল, শিশুদের চোখের জল—
তোমার হৃদয় সব দেবতার, আমার নয়।
বিষপান, দড়ির ফাঁস, কিশোরীর শরীর-চাষ;
আকাশ : আলোর-অন্ধকারের সমন্বয়।



দ্যাখো দেখি এ কী মুশকিল
সব শালাই চায় মায়ের ভাগ—
ছানাপোনা করে কিলবিল,
আব্বে হাউয়ার পুত, যা ভাগ!
মা যদি গদিতে বসছেন
মন্দ-মন্থর বসন্ত-
বাতাসে কী এত কোস্চেন
খুলছে রাত-দিন বসন তোর?



আমরা কাইল দেখমু নাইল,
আমরা রাইত গুনতাছি,
পাণ্ডু নদ ধইরা যাও—
অধ্যাপক মুনতাসির
পথ বাতান; কিন্তু হায়
ভরদুপুর ভইরা আইজ
গঙ্গুবাঈ হাঙ্গলের
চন্দ্রকোষ হুনতাছি।



এসেছেন ইমাম আমার তোমার।
এনেছেন ইনাম, তামার হোমা।
আমাদের রুজুর পিছন দিকে
কে নড়েন, হুজুর, বৃহল্লোমা?



ও শত্রু শত্রু শত্রু রে—
কে রক্ত খা’স রে রগ ফুঁড়ে!
রাতের আধেক দিনের সিকি
জাহান্নামেও তোমার জিকির...
হামার গালাত তোমার গানা,
হামার থালাত তোমার দানা—
ও বন্ধু বন্ধু বন্ধু রে
মহাল্লা তোর সে কোন্ দূরে!




মাসুদ খানের কাছে কবিতা প্রার্থনা

মহাত্মা মাসুদ খান, কবিবর (না না, পয়গম্বর),
হজরত, আমার মুখি একবার তাকান তাক ক’রে,
দ্যাখেন কেম্বায় আমি পিছ্লা খাইছি পাকে-চক্করে,
আচমকা চান্দির উপ্রে ঘুইচা গ্যাছে মেঘলা নীলাম্বর—

কে জানি ঘুমের মধ্যে কাছাখোলা পাছায় লম্বর
বসায়া পগার পার, জাইগা দেখি বারো ফক্কড়ে
বাটোয়ারা করে মম লুঙ্গি ও ল্যাঙ্গট; আমি পাকড়ে
ধরতে গেলে দুইটা হাত-ই ছুইটা গিয়া মুক্ত স্বয়ম্ভর!

এবার ফরমান, গুরো, কী না-করলে কী হবে আমার,
অথবা না-হবে— অদ্য না-হওয়ারই জরুরত বেশি;
আগা-নাই পাছা-নাই, কত রমাকান্তকামার
হাতুড়-হাপর-সহ হালফিল আমার প্রতিবেশী!

আমারে অন্ততঃ একটা কবিতার কপনি বুইনা দ্যান,
তারপর তিব্বতে যাই “কায়মাসুদ”-আওড়ানো শ্রীজ্ঞান।




সীজ ফায়ার

তোমার কাফনে আমার বাঁশ
করো করো করমর্দন
খাওয়া শেষ, মাজো বর্তন

হাওয়ায় উড়ছে তাসের দেশ
হেলো আপা, মন ভালো তো?
মুখখানা ক্যানে কালো তোর?

আমরা আমার, তোমরা তার
মোর নায়ে তোর ধান্য,
তুমি ও আমি একান্ন।

শ্বেতপতাকায় বসেছে কাক
আমাদের জ্ঞানী শিক্ষক
তার শেষ কথা ঠিক হোক :

Now “B’desh” balanc’d, neither side prevails:
For nothing’s left in either of the scales.
(after Alexandre Pope)




পিউ কাঁহা

ইচিক দানা বিচিক দানা দানার উপর দানা হো
সহজ কথা যায় না কহা সহজে
রাগের মাথা বাঘের মাতা সোমায় হলি জানায়ো
কথার ফাঁকে দহিছে বিরহ যে
জাহাজ চলে মেঘের জলে সোনার চেয়ে সোনালি
হা-হা-কারে হারায় কত গ্রহ যে
ন’দের চাঁদের এড্ডা কেন দুক্ষুর রাতে শোনালি