পারাপার

ধীমান চক্রবর্তী


মোহ

শ্মশান টপকে যেতে যেতে
ঘড়ির কি মনে পড়ে আপাদমস্তকের কথা ।
দৌড়তে দৌড়তে
রাস্তায়। গাছ খানিকটা গাছ গাছ খেলে ।
নির্বাক ফিল্ম-- কয়েকবার চোখ পিটপিট করলো । অলসতা কাউকে কাউকে
শনিবার হতে দেয় না।
খালি রেস্তারাঁ। কালো কফি ও নিয়ন আলো বন্ধুত্ব পাতায়।
কোনো কোনো সংখ্যা । মধ্যরাতে
বিবাহ খুলে বসে। ড্রয়িংরুমে একজন আরামকেদারা ।
অচেনা কেউ আসবে ভেবে প্রতিদিন
নিজেকে পোড়ায়। জাগিয়ে রাখে সংখ্যা ও শব্দ ।


পারাপার


স্পর্শ করলেই। সেলাই মেশিন ভুলে যায়
তাকে অন্য কেউ চালিয়েছিল। জ্যামিতির
নাম দিলে চক্রবর্তীত বন ।
ঢুকলেই অনেক টুকরো। ভেঙে পড়া স্বপ্ন ।
বর্ষাতি গায়ে কয়েকজন মৌমাছি ।
তাদের সুগন্ধী সাবানে প্রতিটা সকাল হয় ।
জলপাই বাগান ও হয়।
কিছুটা । মৃত্যু ও জীবন খাতায় লিখে ,
ডাবল এন্ট্রি অডিট করছে হাত ফেরতা
এক - আধঘণ্টা।
একজন আষাঢ় মাস দাঁড়িয়ে আছে ঘুমাবে বলে ।
দেওয়ালের ভিতর হাততালি দোভাষী হল।
জামা খুলতে খুলতে জামার ছায়া ,
প্রসঙ্গের মধ্যে ঢুকে কাকে যেন হাত নাড়লো ।
অনিবার্য হল ।





যা হতে পারে


শীতল ধাতব মুদ্রা । রাত্রি হলেই
একটা ডিম ফাটিয়ে দরজা জানলা হয়ে ওঠে ।
রাস্তা হারানো ইনসোমনিয়া ।
মাদকের ডান হাত টেনে তালি দেয় ।
কিছুটা ব্রহ্মাণ্ড হল ওই শব্দে । হল
দশ আঙুলের জন্মদিন।
ফিসফিস করে গাইছে রাস্তা পারাপার ।
খোলা বাথরুমে সাবান মাখে ঘটি
না ডোবাপুকুর।
সন্ধ্যেবেলার কলকাতা ।
অর্ধেক খোলা ঠোঁট । ইস্ত্রি করছে ,
অনুসরণ না করে আসা দুটি পা ।
সাবান মাখছে মেয়েলি নখের হিসহিস শব্দ ।



উত্থান


মর্গে গেলেই সফেদ পায়রার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ।
নানারকম চিহ্ন।
জন্মানোর পর বিষণ্ণ একাদশী সব মুছে ফেলে ।
কুয়াশায় মাথা দোলাচ্ছে
লালশাক আর - ইউরেকা - বলে একটা চীৎকার ।
উল্কি আঁকা গন্ধ ।
আড়চোখে দেখে জন্মান্তরিত সেলাই মেশিন ।
ভ্রু বাঁকাতে বাঁকাতে একজন কর্কশ ও
দুঃখী বিজয়া দশমী ,
ক্রমশ একলা হতে থাকে ।
প্রতিদিন ভোরবেলা একটা ক্লান্ত ব্লেড ,
ফালাফালা করে দিচ্ছে ।
ডুবে যাওয়া পৃথিবীর কান্না ।


স্বপ্ন : ভেতর বাইরে
------------------------------

ব্যাকরণে সবুজ , গাছ হেঁটে যায় পাখিদের দালানবাড়ি ।
বৃষ্টি অঙ্ক কষে মিল্কি ওয়ে নামায় । নামায়
লাজুক পশম
শব্দের টুকিটাকি হিস্ নিঃশ্বাসে খুলে যায় ।
নকল স্বপ্ন রোদচশমায় ভালোবাসা হল। রাত
আটটার অন্ধেরা
ফিল্ম ও কাঁটাচামচ নিয়ে আলোচনা করে ।
রূপকথা মেঘ।
যে আমায় খুন করতে পারে ,
তাকে আধপোড়া চাঁদনি তুলে দিই।
তাকে দিই শ্যালো মেশিনের এক্কা দোক্কা।
উড়ন্ত ঘুঘু ।