হাতপাখা

সমীরণ ঘোষ

হাতপাখা
মরেই যেতাম। কিন্তু পালে এত হাওয়া
এত হাওয়া পালে ও পশ্চাতে
ফলত লোপাট

নাকি বেঁচে! নীচে নদীর চিরুনি
পাড়ে-লাগা নষ্টবাতিল দেহকাঁপ
শূন্যে ঝাঁপান দেয় উদ্বাস্তু কলোনির
ছেলেমেয়ে। জলের বুদ্বুদ ওঠে
মৃতচোখ স্পর্শ করে জলের আশমান

আকাশই তো। মেয়ে মদ্দ জেনানাজোয়ান বসে
তাস ছুঁড়ছে।একটা-দুটো পাখি একটা-দুটো
গরু মোষ খচ্চর গাধা এসে পাড়ের রেখায়

এ-নৌকো ওপারে যাবে!ছইয়ে চাপা অন্ধকার শ্বাস

এ-দেহ ওঠাবে যে ডোম তার নাস্তা আঙটপাত
এখনও প্রস্তুতির বাঁকে
ডোম নারী কাঠ গুঁজে হাল্কা তোলে, স্রোতে বাজে
আধখাওয়া খোট্টা প্রেমের গান

পাতার প্রলয়ে জাগা মহানিম, নীচে ফুলে ওঠা লাশ

শ্মশানের পাশে নিখিল স্বপ্নে ওড়ে হাতপাখা
..........


ব্যোম

লুফতে লুফতে নিজেকেই পেরিয়ে যাচ্ছি শ্রীহরিকোটাল
মোহনদাস যা বললেন, থাক মায়ে-পোয়ে
থাক বেড়ার পাশেই পড়ে পোষ্য বিকেলের একতারা

নক্ষত্রের শস্য নিয়ে বসে গেছে ব্রহ্মাণ্ডের খেতি
তাছাড়া পরশু তরশু করে কাটিয়ে দিলেই মাত

কে তুলবে রহস্যের পোঁতা খুঁটি। তুমিই শ্যাম
তুমিই সেগুন।সেলুনের ছুরিকাঁচি যেটুকু উড়ছে
তারপর অনেক অনেক সেতু রাক্ষসের

পায়ে মুছে গেল। মা বলেছে ভোর ভোর যাস
মা দিল চুমুর পথা আঠাভেজা
শালের দোনায় যাচ্ছে আমাদের আস্ত ঝরনা
সঙ্গে প্রবল টাঙ্গি সঙ্গে গোধিকা

লুফতে লুফতে নিজেকেই সেই যে যাচ্ছি, কড়ায়গণ্ডায়