আলোশিশু অন্ধকারশিশু

উমাপদ কর

আলোশিশু অন্ধকারশিশু

আলোর মধ্যে ছায়া মিশিয়ে এই দার্জিলিং ডুয়ার্স
চা রঙের একটা দিন
কতদিন আগে বলেছিলে উপহার দেবে
তুমি নও, দেবে তোমার উজাড় করা প্রকৃতি
কিন্তু এসব নিয়ে আমি কী করব!
যদি শিশুটি কাঁদতেই থাকে আর ঘ্যান-ঘ্যান বৃষ্টি
বারবার চায় তার মুখ চেপে ধরতে
এই আলোওয়ালা দিনটির অন্ধকার হয়ে আসা কি কোনো সূচক
যা মাপতে কোনো মিটার তৈরি হয়নি আজও
এই ছায়া মেশানো আলো নিয়েই বা আমি কি করব!
চায়ের স্বাদ মেটাবো কিসে, যদি দার্জিলিঙের শিশুটি
ডুয়ার্সের শিশুটির সঙ্গে একসাথে না খেলে?
যদি এ ওকে মুখ ভেঙায় আর সে খিলখিল হেসে না ওঠে!




গাইতে দেয় না

আমি আর রোদ লিখতে পারি না
রোদ লিখলেই আমার মাথায় হাজার ছাতা তরবারির মতো
ঘুরতে থাকে

তুই আর আলো বলতে পারিস না
আলো বললেই তোর চারপাশে কয়েক লক্ষ ওয়াটের বাল্ব জ্বেলে
জিজ্ঞাসা করা হয় ‘কী করা হয়?’

সে নিবু নিবু হাতেও আর আঁকতে পারেনা একটা বিমূর্ত চাকা
যা একইসঙ্গে বয়ে চলেছে আমাদের সবার অজস্র আবর্জনা আর ভালোবাসা
আঁকলেই তাকে কালো ড্রামে চুবিয়ে রাখা হচ্ছে ততক্ষনই
যতক্ষণ আঁকাটা অন্ধকার না হয়ে উঠছে

লিখবে তারা বলবে তারা আঁকবেও তারা
বাড়তি হিসেবে গাইবে গান
মিথ্যে করে গাইবে
‘ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না’
ক্লাউনের হাত হাতের উপরে নেচে নেচে তালি হতে থাকবে।




পঞ্চম

আজ বৃষ্টির পাঁচ দিন
আজ কোনো রবি সোম মঙ্গল নেই
পঞ্চম, এই তার পরিচয়
ডেকে দেখাই সবাইকে তার কালচে মুখ
আর নাতিশীতোষ্ণ হাওয়া
হাওয়াই তো সব এলোমেলো করে দেয়
ভেতর পর্যন্ত
কে তুমি বসে বসে নস্টালজিক হয়ে পড়ছো
গান করো এই হাওয়ায়, পান করো পরিতাপ
কে তুমি নিম্নচাপের খবর নিচ্ছ
তালুবদ্ধ করো হাওয়ার বৈকল্য
কে তুমি তিতি-বিরক্ত হচ্ছ এই কোনো বার-বিশেষের অভাবে
একবার হাওয়ার সঙ্গে নেমে উঠে ভিজে এসো
একবার পূবে যাও একবার দক্ষিণে
বলো, এবারে ভারমুক্ত হয়েছো কিনা
যতটা ভার কমালে হাওয়ার সঙ্গে মিশে যাওয়া যায় পঞ্চম দিনে



সোনার অক্ষর


লিখেছি অনেক, বালখিল্যের লেখা
আলুথালু বাদামি বর্ণের পাঁচটি অক্ষর
সোনার অক্ষরটি ঘোড়ার খুরে শুধুই চলমান
লাগামটি হাওয়া ধরে আছে, মাঝেমাঝে হেচকা
ছুটছে তো ছুটছেই, কখনো কি আমার হবে?
কিছুতেই না।
অধরার জন্য ফাঁদ পেতে আছি
দক্ষিণের বাতাসকে নিয়ে যাচ্ছি পূবে
একটা রিক্ততার মধ্যে তার বেঁধে নিচ্ছি দোতারায়
আলোকে বারবার ফিরিয়ে আনছি মণিকোঠায়
তবু সেই অক্ষরের মায়া থেকে মোহ ঘুচলো না
আমিও ছুটছি সমান্তরালে যদি একবার সোনার অক্ষরটি
ছুঁয়ে অনুভব করতে পারি! যদি তার পরতটিকে
একবার খুলে ফেলতে পারি রহস্যের!