যেন রথে করে অশ্রু এলো

সুব্রত সরকার

যেন রথে করে অশ্রু এলো

ধানফুলের মাঠে অশুদ্ধ ঋতু ওড়ে
ব্রাহ্মণ আমি আর চোখের জল
ধরে রাখতে পারছিনা কাপুরুষ,অন্ধ তারার দিব্যি
গৃহে আজ মোমবাতির দেবতা আসছেন।

সুরভিত মদ আমাকে লালন করে
মাংস পরমব্রহ্ম নিজেকেই ধরে নিজে খাই,
ইড়া-পিঙ্গলায় এত রক্ত কখনো ভালো হয় না
প্রেতের ছায়া পড়ে কমন্ডুলের জল
এবার অপবিত্র হবে,তারপর –
মেঘের নিচে স্কুল,অর্ধেক দিনের আলোয় যেন রথে করে
অশ্রু এলো নাড়ি-ভুড়ি বাচ্চাদের ব্রেনের উপর রাখা
অল্প কুয়াশা,রক্ত,শিশিরও কি কাঁদে
তবে তৃণে,মুর্চ্ছনায়?
পিশাচ,কাপালিক গায়ে মূত্রগন্ধ কিভাবে উপস্থিত হলে
রজ্জু,তুমি ভ্রম,আসলে সর্প ছিলে , ভাঙা
হাতের লেখা, তরোয়ালে ছিন্ন বই
কষ্ট করে উঠে দাঁড়াও তো,
না খাওয়া টিফিন হে, অনাথ ইরেজার
মুছে দাও, ভুলিয়ে দাও,এই সমস্থ অস্থির লেখার ।

ভগবান চল তোকে আজ জলে ফেলে দিয়ে আসি

লালগড়ের জঙ্গলে রাত্রি নামছে,নক্ষত্র আলোয় করুণ...
অপদেবতাদের খিদেয় আকর্ণ নয়ন
অন্ধকারে প্রসাদ খুঁজে বেড়ায় ... একজনের হাত গুলিতে
উড়ে গেছে , জগন্নাথ এখন কে তোমায় খাইয়ে দেবে কমরেড ?
ভগবান, চল তোকে আজ জলে ফেলে দিয়ে আসি ।

যখন পাতা কুড়িয়ে দিন কাটত, যখন
আগুনে ঝলসানো হত বুনো মেটে – আলু, যখন সেই
ঝিমধরা আগুনে ঝলসানো আলুর ভেতর
শঙ্খ - চক্র - গদা – পদ্মধারী নারায়ণ স্বয়ং এসে দেখা করতেন
মনে হতো যেন পাশের বাড়ির ছেলে – অশোক ।
ভরবান,চল তোকে আজ জলে ফেলে দিয়ে আসি।

অথচ ইউনিভার্সিটির সিঁড়ি দিয়ে একটু উপরে উঠলেই
ব্রহ্মহৃদয়,তুমি অভিজিৎ ,অরুন্ধতীদের ব্যাচে
আমারও তোও পড়বার কথা ... শ্রীফল দেখে কামবাহন
ছটফট করে উঠি , কিন্তু এই বনদেবী
চন্ডিকার ... সাবধান, রাত্রে নিজের দক্ষিণ হস্তে
বামস্তন ছিঁড়ে ফেলে সে কি অট্টহাসি ... সমবেত
বৃক্ষপ্রেতেরা তৃতীয় নয়নে দেখে
প্রেতজাগরণ
ভগবান চল তোকে আজ জলে ফেলে দিয়ে আসি ।

মিলনপল্লী প্রাইমারী স্কুল
তুই তো লবঙ্গফুল,হাতে গড়া রুটি মাংসের
সুরুয়া,গোস্ত,ডাল মাখা , তোর জামার হাতায় কিছু কলঙ্ক
লেগে থাকলো চিরকালের জন্যে এদিকে অর্ধদগ্ধ
বঁধুটিও ফিরে আসে পাড়ায় ও বউ হরিধ্বনি দে তবু বলছিস
গ্রীস্ম দুপুরের রোদ হল দৃষ্টি করোজ্জ্বল কোনো
বিভ্রম হয়নি যা দেখেছিলে
সত্যিই ভাসুরের সঙ্গে কেবল এখন ব্যথা করছে
গলায় , শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে খুব, মেঘচূর্ণের ভিতর নিমেষে
আত্মধিক্কার, কড়িকাঠ থেকে পা - দুটি শূন্যে
দুলছে, ও ছায়া এবার কৃষ্ণনাম কর, বালির উপর অন্ধকার
পড়ে যেন কঙ্কাল বলে মনে হবে,এ পাড়ায় কি তবে
কুকুররেরাও ডাকেনা, এখন রুক্ষ
মুখে একটা পান খাও , আমার আবার হুইস্কি
সেবনের সময় মনে ভাব আসে , কতদিন
অলকানন্দার পাড় ধরে হেঁটে চলে যাউই দেবপ্রয়াগ অবধি, বলছিল
খালি একবার হাত দেবো, কবিতা আমার আঙুল থেকে খুলে
গেছে এরপর রিক্সায় উঠে কেবল বলবেন –
মিলনপল্লী প্রাইমারী স্কুল