মানুষের অধিকার

প্রবীর রায়

লু

ছায়া কাটার কুড়ুল হাঁক পাড়ছে
ছিলকা ছিটকে রোদ্দুরের দিকে
করাত দাঁতে কাঁটছে ছায়াকান্ড
বাঁধ ভাঙার মত শব্দ
ভেঙে যাওয়ার মত হাওয়াগরম

সাজঘর
একা চলার মধ্যে রাস্তা সাজছে
ভিন্ন একা হচ্ছে আলাদা আলাদায়
মানুষ বদলে সাইকেল বদলে টোটো বদলে পুলিশভ্যান
বদলে জানালার চোখ বদলে ল্যাম্পপোস্টের বাকিটুকু
পাশাপাশি বসিয়ে গেলে একা ফিরে আসা অসম্পূর্ন


মানুষের অধিকার
শৃংখলায় যে শেকল থাকে তাকে মেনে নিয়ে
সারিবদ্ধ ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে
রংচটা ছোটখাটো ঘরটির দিকে
যেখানে নির্নয় হয় বিন্যাস হয় অবশেষে
ডানার কতটুকু মেলা যাবে ওড়ার হিসাবে

চিরকুট
হলুদ হয়ে আসা চিঠিটির ভার ওই মেয়েটি বুঝবেনা
সে লেখেইনি কোনওদিন হৃদয়নির্ভর নিজকথা ছেলেটির কাছে
মোবাইল বাহিত যাওয়াআসা মুছে যাওয়া শব্দগুলি
পুরনো হওয়ার মত ঘ্রাণ পাবেনা কোনওদিন
তাই সে হালকা রঙিন ডানার মত উড়ে যেতে পারে



পরামর্শ
বারবার তুমি টিকিয়ে রাখার কথা বলেছ
পুরনো অভ্যাসের মত দেখিয়ে গেছ
বিজয় কিংবা মৃত্যুর স্মারকস্তম্ভগুলি

আমার শহরটা গ্রামের মধ্যে ডুবে আছে যেন
একথা কেউ আর কাউকে বলছেনা
সমস্ত তর্কের শেষ হয়ে গেছে
সাদা পায়রার আকাশটা এখন প্রাচীন
এসো নতুন কথা ভাবি

অপরিচ্ছন্ন
কান্নার মুখগুলো হাসি জড়ান
আওয়াজে চমৎকার ধ্বনিমুখোশ
চীৎকার ক্ষয় আর ফুঁপিয়ে ওঠার মত আনন্দস্বর
এই খন্ড ছবিটা প্রসারিত হচ্ছে দেখেও
বিচলিত হচ্ছেনা কেউ
বরং হাততালিতে ভরে যাচ্ছে পৃথিবীচত্বর

সমর্পন
কিছুনার বদলে কিছু
ভাবনার এই পর্যায়টি মোক্ষম
হাত পেতে বসে থাকার মত অপেক্ষা
নিজেকে ভিখারী ভাবতে লজ্জা নেই
বায়ুচলাচল পর্দা ওড়ার মত সহজিয়া


দায়ভার
বলতে পারে কিনা
অবধারিত এই প্রশ্ন এসে যায়
যখন কান পেতে থাকি

চলতে পারে কিনা
জানতেই হয়
যখন হাত ধরতে চাই

বইতে পারে কিনা
ধারনায় আনা যায়
যখন ক্লান্তিকর এই সমারোহ

প্রাচীনপন্থা
একজন মমি বোঝাচ্ছিলেন মিশরীয় তত্ত্ব
স্বভাব ভুলে ক্লাসরুম পিরামিড আকার
আমাদের আটকে দিল পুরনো তর্জমায়

শিক্ষিকার মসৃণ ত্বক তার নীচে গুঁড়ো হাড়
ধরে রেখেছে প্রাচীন প্রলেপ
একুশ শতক আমাদের বোধে শুধু অঙ্কমাত্রা রেখে দিল

সুসময়
অবশ্যই পশুদের নয়
কেননা মানুষের দয়ায় তারা বেঁচে আছে
ছাঁটা চুল আর বাহারী পোষাকে যা ঘুরছে
তা আলো নয়
বিস্তৃত এ প্রসঙ্গে কেউ বলছেনা
কাদের সোনার দিন এসে গেল