গোলাপের মাংস

সমর রায়চৌধুরী

আপেল

মতো নয়, পৃথিবীও এক ধরণের আপেল
আলো ও অন্ধকারের আপেল
শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের আপেল
দৃশ্য ও অদৃশ্য
তুমি তার তুচ্ছ বীজ, অহেতুক বসে শুধু ভাবো
এক চ্যাপ্টা ও চৌকো পৃথিবীর কথা
এক সরু ও লম্বা পৃথিবীর কথা
এক তরল ও বায়বীয় পৃথিবীর দেখো ছবি

যারা বলে এর তিনভাগ জল, একভাগ স্থল
বলে, এর বয়স কোটি কোটি বছরেরও বেশি
বলে, এটি সৌরমন্ডলের একটি গ্রহ
তারা জানে না পৃথিবী আপেল বৃক্ষের ফল
আপেলেরই সন্তান
জানে না; জানো তুমি
তোমারই জন্মের সাথেই পৃথিবী জন্মেছিলো
তোমারই মৃত্যুর সাথে সেও হবে বিলীন
এই কথা, এই সব কথা, পরে বলা যাবে আরও-
এখন এই আপেলটি তুমি খাও, কেন না-
আপাতত এটিই তোমার অস্থায়ী ও সচিত্র পৃথিবী


অন্তঃসত্ত্বা

-কোথায় থাকো সারাদিন!
-তোমার ভিতরে। তুমি?
-আমি তোমার ‘ভিতরে’র ভিতরে
-তুমি কে?
-কেউ না, তুমি?
-আমি সেই ‘কেউ না’-এর কেউ না
-পাগল! তুমি কী বলো তো?
-কেন, তোমারই প্রতিশব্দ! তুমি?
-যদি বলি আমি তোমারই চিন্তার প্রতিধ্বনি- চলবে?
-চললেও আরও ঢের বাকি আছে জানা-
বলি যদি তোরই রক্ত আমি
-তবে পাই টের আমিও
মাংস তুই, মাংস তুই, মাংস আমার


গোলাপের মাংস

হয়েছিল বলে, তুমিও বৃষ্টির কাছে ঋণী থাকো
ভুলে সব, সারারাত এক হোটেল ঘরের বিলাসে...
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো মাঝে মাঝে
ডাকছিলো মেঘ; বৃষ্টির অপার করুণা—
বৃষ্টির প্রশ্রয়ই শুধু? আর কিছু নয়?
বুঝি আমি কতোটা হাঙর ভালোবেসে
তুমি গোলাপের মাংস তুলে দিয়েছিলে
তার ডিনারের প্লেটে
গোলাপের মাংস শুধু তারই প্রিয়!
এক প্লেট মরুভূমি নিয়ে বসে থাকি ঘরে, ভাবি—
শরীরের মেঘ-কাটা ভোরের রৌদ্র হয়ে ফিরে এলে
তোমার কথার ছায়া আমার ছায়ার কপালে যেন
ছদ্ম হাত রেখে না বোঝে
আমিও ভিতরে কী ভীষণ গোলাপ জ্বরে...
মনে মনে বলি, আবার যদি কোনদিন
তার মুখে তুলে দিতে যাও তোমার মাংসের গোলাপ
কিচ্ছুটি না বলে আমিও তবে চলে যাবো
অন্য কোন গোলাপের দেশে
চিরতরে