আকাঙ্ক্ষা ও দাঁড়কাক

বিজয় দে


আমার এই গল্পটি আকাঙ্খামূলক ; লিখলাম আর কিছুক্ষণ আগে যা দ্যাখা গেল ; গল্পটির চোখ তখনও ফোটেনি অথচ একটি সাদাকালো শিরোনাম গল্পের দিকে সোজাসুজি এগিয়ে আসছে
পৃথিবীর গলা টিপছে পৃথিবী ; আসলে এই হচ্ছে শিরোনাম কিম্বা এরকমও ভেবে নিতে পারেন ; দেশের গলা টিপছে স্বদেশ
সবাই একবাক্যে বললো ‘কিন্তু গল্পের ভেতরে গল্পটি কোথায় ‘এ’তো হিংসা...হিংসা...সম্পূর্ণ হিংসা’
তারপর থেকে আমার কলমে আর বাক্য নেই ; সব আকাঙ্ক্ষা কেন জানিনা হিংসা হয়ে যাচ্ছে
তারপর পৃথিবীতে যত গলা-টেপার আখ্যান ছিল তার বাইরে গিয়ে অন্য একটা ইতিহাসের ভেতরে ঢুকে গিয়েহিলাম
ধর্ম’র গলা টিপছে ধর্ম’; ধরুন,শেষ পর্যন্ত তোমার বা আমার গল্পটি এরকম হবে কিনা জানিনা


লিখিত গল্প ; লাটিম কিম্বা হাট্টিমাটিম যাই হোকনা কেন আসলে গল্পের ভেতরে যা আছে প্রধান, সে এক এলোমেলো চরিত্র সে কখনওবা চরিত্রহীন .. কখনওবা. যেমন এখন , হঠাৎ চিৎকার করে বললো ‘হে হিংসা ,গোপন ও প্রকাশ্য হিংসা গলার ভেতরে যত জলাভূমি আছে আমৃত্যু টিপতে থাকো... সব কিছু নষ্ট করে দাও’
‘ক্রোধ...ক্রোধ.. সম্পূর্ণ ক্রোধ’ ; যেন এই একটি বাক্যেই গল্পটির একমাত্র পরিত্রাণ ।শুধু টের পেলাম আমার গলায় চেপে-থাকা দশ আঙুলের দাগ ক্রমশ আমাকেই যেন একটা ভুতুড়ে গল্প করে দিচ্ছে


সবাই দেখেছে ,লেখালিখির কাছাকাছি একটা শারদীয়া দাঁড়কাক ...
কাক ; তার কতদিনের পুরোনো চোখ দিয়ে দেখে নেয়... সে যা দ্যাখে ,আকাশের চতুর্দিকে ছাপা বুনিয়াদী অক্ষরগুলি পূজোসংখ্যা হয়ে পৃথিবীর দিকে নামতে নামতে কিভাবে যেন নিরক্ষর মাইল মাইল ছায়াচিৎকার...
সবাই দেখছে, কাকটি এবার উড়ে এসে গল্পটির ওপরে শরীর জুড়ে বসলো।
দাঁড়কাক যখন ডাকে তখন প্রতিবেশী একটি নিশ্চিত আখ্যান আর আখ্যান যখন চিৎকার করে তখন ইতিহাস উত্তুরে বাতাস হয়ে বইতে থাকে
ইতিহাস যখন চোখ বুজে শুয়ে থাকে তখন আমার গল্পের ভেতরে দাঁড়কাক-হত্যার মহড়া শুরু হয়