হেনোওসিসের ঝিম যেন না কাটে

বিদ্যুৎলেখা ঘোষ




কুহেলি বীজ :

শ্রাবণ পূর্ণিমা রাত । কখনো রুপোলি তরল বৃষ্টি । কখনো আঁধার করে আসে । তবু জানো আবছায়া ঐ আলোতে মনপুরা এক সুর ভেসে আসে । মৃদু । মন্থর । ঘোর লাগা আবেশে কোথাও তখন এদিক ওদিক বিক্ষিপ্ত পড়ে থাকা শুকনো বীজ ইলশেগুঁড়ি ভালোলাগায় নিষিক্ত হতে থাকে । শুকনো ধূসর মুখোশ সরে গিয়ে ক্রমশ সবুজ আরো সবুজ দুটো ডানা মেলে কিছু ইচ্ছে কোরক মাথা তোলে । এমনটাও তো হয় , কোনো বৃষ্টি নেই কোথাও । আছে আলো । প্রবল । তীব্র । তাপ এসে ঘুম ভাঙিয়ে দিচ্ছে ওরকমই শুকনো ধূসর বীজগুলোর । হয়তো অতটা সবুজ নয় তবু ডানা মেলেছে । দুপাশে মেলে ধরেছে নাহয় কিছু গোপন ইচ্ছেপত্র । লেখা নেই তাতে কোনো দেশের নাম । কোনো খবরদার রুল টানা । কিছু নিঃসঙ্গতারা ও ডানা মেলে দিয়েছিলো কত শত শত বছর । লৌকিক অলৌকিকের কেন্দ্রবিন্দু পেরোতে গিয়ে গ্রাম ভর্তি ব্যক্তিগত যা কিছু অদ্ভুত এক উপায়ে মিলেমিশে গিয়েছিলো রীতি মানা আশ্চর্যে । অদ্ভুত ঠিকই তবুও পরিচিত ঘটনা দুর্ঘটনারা যেন জগৎটাকেই খুঁজে বার করেছিলো সুনিপুণ পুনর্নিবেশ করে নিয়ে ।
মিশিয়ে নেবো এমন করেই সব অদ্ভুত আমার যত কুহক বীজ ইচ্ছেগুলো । তারপর ওর নাম দেবো গৃহিণীপনা । না একদমই , কোনো নারীর পাতে ঝোল টানা অক্ষরবিন্যাস বলে গৃহিণীপনাকে ভাবি না । একলাসে পাড়ায় যখন জীবন মোড়লের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় , ওঁর মুখে শুনেছি ওঁর নিজের গৃহিণীপনার সত্যি কাহিনী । ভীষণ সত্যি কথারা চাণক্যের বংশধর । তাই তাদের মুখের আদল ও একরকম । সূর্যজ্বলা । মিথ্যে ঝলসানো । ধোঁয়া সরানো আগুন । জীবন মোড়ল আগুন নিয়ে ছেলে ভোলানো গল্প বাঁধেন , স্বপ্ন রাঁধেন , খেতে দেন আমাদের মতো ছোটদের । নিজেও দুমুঠো খান ফুরসত পেলে । বাণী বনে গান গায় , মাছ জলে খেলা করে আর জীবন মোড়লের বাঁধা গল্পগুলো ছোট ছোট পাখিদের মতো পাখা মেলে ওড়ে । অগত্যা কাকতাড়ুয়ার ভুমিকা কাকেরা তখন ভালোবেসে আমাকেই দিয়ে দেয় কেন বুঝতে পারি না । কাকেরা ভালো । কাকেরা মানবিক মুখ এই একলাসে পাড়ায় । সামাজিক সাবান । হাতে এসে বসে , ঘাড়ে এসে বসে । হাঁড়িমাথায় ঠোকর ও দেয় । তবু চুনকালি হাসিটা আরও চওড়া হাসতে মন করে ।

গিন্নিবান্নি চলন :

যাদবপুর 8B থেকে হাওড়াগামী E - 1 বাসে বসে আমার সিট থেকে ড্রাইভারকে দেখতে পাচ্ছি । সিনিয়র সিটিজেনদের পরেরই আছি । লক্ষ্য করছি ওর স্টিয়ারিং ঘোরানো , সাইড মিররে মাঝে মাঝে চোখ বুলিয়ে নেওয়া , আবার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া । এ যেন বনেদি ঘরের বড় বউয়ের প্রবল গিন্নিবান্নি চলন । একপাল সংসার টেনে নিয়ে চলেছে পূর্ণতার লক্ষ্যে । অথচ ঐ একপাল ছেলেমেয়েদের মধ্যে একজন ও নিজের গর্ভের নয় । তবু তাদের সামলে রেখে নিয়ে চলার গুরুভার তার উপরে ন্যস্ত । চলতে চলতে যদি ব্রেক ফেল হয়ে যায় বা স্টিয়ারিং বিগড়োয় তার বিপদ জানা আছে বলেই বুঝি তার কোনও ইচ্ছে থাকতে নেই খেয়ালখুশিতে স্টিয়ারিং ছেড়ে দেবার অথবা ক্লাচ ব্রেক অ্যাক্সিলারেটার থেকে পা সরিয়ে নেওয়ার । কিংবা স্টিয়ারিঙের পাশে পা তুলে দিয়ে দিব্যি নিটোল একটা আয়েসি ঘুম যাবার । আমি সন্ধান চালিয়ে যাই ড্রাইভারের ইচ্ছেগুলো কোথায় উৎস হয়ে রয়েছে ।
স্টেশনে এসে দাঁড়ালেই কত কত পায়ের নিভৃত আলাপ শোনা যায় । এ একান্ত কথন তোমার আমার কিংবা আরো যারা এসেছে এখানে এই হাওড়া স্টেশনে আদ্যিকাল থেকে জোড়া চোখের এই বুড়ো ঘড়ির নীচে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে , ঘিরে বসেছে তাদের ও । সংসারের বুড়ি দিদিমা ঠাকুমা মায়ের চোখের মতো বুড়ো ঘড়িটার বড় বড় গোল গোল চোখে ফুটে ওঠে সময়ের আগে পৌঁছতে না পারলে ট্রেন ফেল করার শাস্তির ফরমান নতুবা দীর্ঘতর প্রতীক্ষার অবসানে এবার মিলন হবে তারই সান্ত্বনা উদ্ভাস । ফিরে এসো তাড়াতাড়ি.. চিঠি দিও.. টেলিফোনে জানিও.. মেসেজ কোরো কিন্তু রোজ.. আবার কবে আসবে.. তবু মনে রেখো... নীল সবুজ হলুদ লাল চিরকুট ইচ্ছেগুলো উড়ছে বসছে ডানা জুড়িয়ে নিচ্ছে দৃশ্যমানতার পরোয়া না করে । ওদের কান্না হাসি বিরহ উষ্ণতা ওমে চোখাচোখি হয়ে যায় ডেন্ট সাহেবের সঙ্গে । এডওয়ার্ড ডেন্ট । বিলাতের বিখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা । একঘর কলকব্জা নিয়ে ঘড়ি বানাতেন । সবাই বলে তিনি নাকি লন্ডনের সেই সুপ্রসিদ্ধ চতুর্মুখ বিগ বেন ঘড়িটির মতো হাওড়ার জোড়া চোখের বড়ঘড়িটাকেও বানিয়েছেন । খানিকটা বিরতি নিয়ে মনে হল যেন বলে উঠলেন , বিগ বেন ঘড়িটা তিনি সম্পূর্ণ করে বানিয়ে যেতে পারেননি । তিনি মারা যাওয়ার পর ঘড়ি বানানো সম্পূর্ণ করেছেন তাঁর সৎ ছেলে ফ্রেডরিক ডেন্ট । জোড়া চোখের আমাদের এই বুড়ো ঘড়িটা ওই ডেন্ট সাহেবের কোম্পানিতেই তৈরি । টিক টিক করে লহমা পেরোচ্ছে কাঁটা পেরিয়ে যাচ্ছে সময় । কিন্তু বছরের পর বছর রংবেরঙের ইচ্ছেরা উড়ছে ভাসছে গায়ের জামার সঙ্গে সেঁটে যাচ্ছে মরছে জন্ম নিচ্ছে নতুন করে । অক্লান্ত গৃহিণীপনার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে না কিছুই । ডেন্ট সাহেব নেই । কিন্তু তার চোখের তারারা নজরদারি করে চলেছে নিস্পলক আবহমান ।

লাইটহাউস :

হঠাৎ নিভে যাওয়া উজ্জ্বল আলো অন্ধকারকে ধাঁধিয়ে দেয় । চারপাশে কালো কালো হাওয়া অবশিষ্ট আলোটুকু চুরি করে নিতে চায় । অনেকটা সময় পার হয়ে গেলে পর সন্ধিক্ষণের একটা আলো ফুটে ওঠে । অস্পষ্টতর তবু আলো তো । দরজার চৌকো ফ্রেম জানলা পর্দা , বাইরের গাছপালা আকাশ আবছায়া আলোয় কালোয় । এসবই তখন নজরে আসে নিজের করে.. ইচ্ছেমতো.. চোরাদৃষ্টির অগম্য..। কালো হাওয়া ভালো । এরকম কালো হাওয়া ছুঁয়ে গেলে বুঝতে পারি আলো ফুটবে এই একটু পর ।
ঠিক এভাবেই নদীগর্ভ থেকে একটা কবেকার জীর্ণ দুর্গ ফুটে ওঠে হুগলি দামোদরের সঙ্গমে দুবেলা ভাটা পড়ে এলে । আবছায়া আলোর মতো সেও আছে অথচ নেই । একান্ত চাওয়াগুলো মোহর হয়ে ওঠে বলে তাই দুর্গমতা নির্মাণ । জলদস্যুদের গোলাবারুদে চোখে ধোঁয়া, মাথা উড়ে কবন্ধ । তবু ইচ্ছেরা মোহর হয়, আর লোভ জলদস্যু । ভাঁটার জল থেকে মুখ তুলে পুরানো দুর্গ মণ্ডল মান্নাদের রাইসমিলের সঙ্গে রোজকার কথোপকথন সেরে নেয় । কেন না এটুকুই এখনও রয়েছে ওদের জন্য । দুর্গ নির্মাতার হয়তো কোনো নিজস্ব সমুদ্র ছিল না । কিন্তু তারও একটা সমুদ্র থাকুক এই পরিয়ায়ী চাহিদাটা ছিল মনে মনে । শান্ত শ্যামলিমার মাঝে এই উথালপাথাল মায়াময় উপকূলে অদৃশ্য পদচারণায় রবার্ট ক্লাইভ আর রং তুলিতে সেই ছবি ফুটিয়ে তুলছেন চিত্রকর নাথানিয়েল । দূরে স্নিগ্ধ নীল থেকে মুখ তুলে কথালাপে মত্ত সাহেবের দুর্গ । এখন ক্লাইভ সাহেব নেই । নেই রাজ চিত্রকর । নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা লাইটহাউসে কেবল ঘুম নেই প্রহরা । সময় ছবি আঁকে ইচ্ছেপটে দুপুরের অবসরে রুচিশীলা গৃহিণীর মতো ।


মা ও সেই লোকটা :

গাছ গাছ ভর্তি তারা ফুটে রয়েছে শিউলি হয়ে । ঘন অন্ধকার সুবাসিত চারিদিকে । মা মুড়ি ভাজবে মানে মুড়ি ভাজা শিখে নেবে সেই রাতে । মেয়েবেলায় জামশেদপুরের সাকচি থেকে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত সাঁই সাঁই সাইক্লিং করে ইকনমিক্স পড়তে যাওয়া সেই মেয়ে মা হয়ে নানান পরীক্ষা উতরে যেতে যেতে এক অজ গাঁয়ে এসে এটাও শিখে নেবে প্রত্যক্ষভাবে । বাড়ি বাড়ি মাথায় করে প্রয়োজনমতো চালের বস্তা পৌঁছে দিয়ে যেতো চাষিদের পরিবারের রাবেয়া মাসি । দুধের সর চাল চল্লিশ টাকা মন । টুপটাপ শিউলি ঝরছে । মায়ের তোড়জোড় চলছে । ' কেজি কেজি দুধের সর সনে কাশির মহিষী করুণা ' বলে বাবা হাসতে হাসতে ঘরে চলে গেলেন । দুধের সরে যে মুড়ি হয় না সেটা ভাজতে ভাজতে মা বুঝতে পারছে । বড় একটা লোহার কড়াইয়ে বালি তেতে উঠে কালো হয়ে গেছে । হাতে ধরা অল্প এক গুচ্ছ নারকেল পাতার কাঠির নাড়াচাড়ায় গোল গোল ঘুরছে বালি । চাল থেকে ফুটে উঠছে মুড়ির মতো কিন্তু মুড়ি নয় । নিঝুম কালো অন্তরীক্ষে গ্যালাক্সিরা যেমন ঘোরে অযুত অজস্র গ্রহ তারা আন্তঃনাক্ষত্রিক ধুলিকনা প্লাজমা আরো সব অদৃশ্য পদার্থ নিয়ে । আমরাও ভেসে চলেছি ওরকমই । আমাদের বাসস্থান সমেত মিল্কিওয়ে আকাশগঙ্গায় আলসে অতন্দ্রিলা হয়ে । কোটি কোটি বছর পূর্বে কারো ইচ্ছেয় সৃষ্টি হল মহাবিশ্ব । পরিপূর্ণ নাথিংনেস থেকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশেরও কম সময়ে সে ডানা মেলেছে কবেই । উড়ান ভরছে নিরন্তর নিঃসীম পাখসাটে ।
সিসৃক্ষু সেই লোকটাকে তুমি বা আমি কেউই দেখিনি । আমরা আমাদের মা'কেই দেখি । মা'দের মুঠোয় ধরা সংসারের রশি । মহাবিশ্বে ফোটনকণা বিস্তৃত প্রসারিত এখনো । তবু সৃষ্টিপুঞ্জ টেনে বাঁধা কেন্দ্রাতিগে , আপেক্ষিকে । এর নাম যদি দিই ' ধৃ ' তবে তার কাছেই তো ধরা থাকে যাবতীয় , আবর্তিত হতে পারে সবকিছু । খেলুড়ে সেই খেলারামের চিদকণা নিয়ে আমাদেরও পুনরপি যাওয়া আসা চিরনতুন হওয়া মা'কে ঘিরে । হ্যারিকেনের আলো কমে এসেছে তখন । মা'কে কালো দেখাচ্ছে । উনুন ও নিভু নিভু । মা ঘুমোবে না । অপেক্ষায় আছে ভোরের । পরবর্তী কল্পবীজ শরীরে ধারণ করে কিছু সময় কালরাত্রিকা নিষ্ক্রিয় থাকে যেমন কল্প আরম্ভের পূর্বে । সকালে স্নান পুজো সেরে মা আবার চাল কিনে নিয়ে আসবে । এবার ঠিক ঠিক মুড়ি হয় সেরকম চাল । এমনসব পরিকল্পনা মায়ের মধ্যে ডার্ক ম্যাটারের মতো জমে আছে । বিগ ব্যাং এর আগে সমস্তকিছু নিয়ে সংকুচিত কৃষ্ণবিন্দু এখন মা । সেই কৃষ্ণবিন্দু যেখানে খেলারাম সেই লোকটার সমস্ত ইচ্ছেরা কালো কালো হয়ে জমেছিল আলো পাবে বলে । শ্রাবণী চাঁদ মাখা ঘন রাত.. অনেকটা নিঃসঙ্গতা.. জীবন মোড়ল.. E - 1 বাস.. ডেন্ট সাহেব আর তার ঘড়ি.. হুগলি দামোদরের কাছে মিনি সমুদ্র.. ক্লাইভের দুর্গ.. লাইটহাউস.. শিউলি ফুল.. সাইকেল.. মা.. রাবেয়ামাসির মাথায় করা চালের বস্তা.. পাতার কাঠির গুচ্ছ..আমাদের বাসস্থান মিল্কিওয়ে.. ঔঁ.. আমেন.. জিন.. বিগ ব্যাং...সব সবকিছু ঐ কৃষ্ণাঙ্গীর গৃহিণীপনায় একাঙ্গী । তুমি আমি বা ঐ সিসৃক্ষু খেলারাম অথবা কোনো বিদঘুটে যাকে কখনো কখনো অসহ্য মনে হয় , একদমই ভাল্লাগেনা কিংবা রামরহিম ডেরাবাবার মতো পাপী সবাই একীভূত হয়ে উঠছে পড়ছে ভাসছে একসাথে...' I am he , as you are he , as you are me , and we are all together ' । সোহমে সেই নিরবচ্ছিন্ন চেতনা প্রবাহ... ' The whole never loses contact with its part , they are never lost or forgotten '... । একটা তাৎক্ষণিক ভুলের নাম ভিন্নতা । কোয়ান্টাম ফিজিক্স বলে , সামগ্রিকভাবে আমরা সেই বিশুদ্ধ চেতনা বা ' Oneness ' , কিন্তু নিজেদের ব্যক্ত করছি ভিন্নতায় । বিভিন্ন সময়ের বিবর্তনে বিশুদ্ধ চেতনা প্রবাহে দ্রবীভূত থেকেও নিজ বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই ঐহিকে ভিন্ন তথা দ্বৈত হয়ে রয়েছি ।
আমি বলি বেশ তো । থাকুক না দ্বৈততা । স্বকীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিড়িং বিড়িং লাফিয়ে চলুক না সেসব গঙ্গাফড়িং ইচ্ছেগুলো । উল্টে দিক পাল্টে ফেলুক বাঁধ ভেঙে দিক আটকে পড়া জীবনস্রোতের । যেমন করে চাইছে আকাশ তেমনি করে চাওয়া যাক তেমন সুরে সুর মিলিয়ে দিক । এগিয়ে নিয়ে চলুক সভ্যতাকে । দ্বৈততা যেন দৈত্য হয়ে শুভ ইচ্ছের ডানা ভেঙে পিছনে ফেলে না দেয় । এটমবম ডেরাবাবা না হয়ে ওঠে । গ্রীকোরোমান সভ্যতায় লেট অ্যান্টিকুইটি যুগ থেকে এই অতীন্দ্রিয় একত্ব বা Onenessকে বলা হত হেনোওসিস । মা'রাই সেই লোকটা.. মা..প্রতিদিন মহালয়া ভোর... মা..আলোর বেনু... ভুবন মেতে ওঠে অ্যান্টিকুইটিতে । এসো চিয়ার্স বলি । হেনোওসিসের ঝিম যেন না কাটে । ইচ্ছে করে না ?