ভালবাসবার পর

মেঘ অদিতি



: আপনার লেখার মাঝে থেকে থেকেই আপনার অতীত উঁকি দেয় আর কী বিষণ্ণতা
যে ছড়িয়ে রাখেন প্রতি লেখায়।

: আমার অতীত? মানে কী? আপনি আমাকে চেনেন?

: আমার সাম্প্রতিক কালের একটা ছবি পাঠাই দেখুন তো চিনতে পারেন কি না!

: স্ট্রেঞ্জ! ছবি পাঠাবেন কেন! আমি তো আপনার ছবি.. সরি, না খুব চেনামুখ
তো নয়, আপনি কে?

: হুঁ.. ১৯৮৯..ব্যাচ ১২২.. আশেক মাহমুদ কলেজ

: কে আপনি?

: নিশা আপনাকে অনেক দিন ধরে পাগলের মতো খুঁজে যাচ্ছি আমি..

সুগন্ধী জেসমিন আর ঝুলবারান্দার একটা দোলচেয়ার, দোয়েলের সখ্যতা যখন এদের সাথেই নিবিড় তখন নিস্তব্ধ পুকুর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক একলা গাছ অথবা একজন মানুষ দেখছে গ্রীষ্মউড়ানের সেই বিকেলে এক আনন্দময়ীর উচ্ছ্বাস। আনন্দময়ী মানে সে, একটা ছোট্ট দোয়েল যে রিনরিনে কন্ঠে গান গাইলে পথচলতি মানুষ পর্যন্ত থমকে দাঁড়ায়। আর গাছ হতে পারে গাছ অথবা একজন মানুষ যে তখন অবধি দোয়েলের কন্ঠই শোনেনি কিন্তু কনে দেখা অন্য এক আলোয় দেখতে পেয়েছে তার চোখ দুটোর অদ্ভুত কারুকাজ। দোলচেয়ারে দোল খাওয়া দোয়েলও কখন দোল থামিয়ে থমকে গেছে জারুল গাছের গায়ে আরেকটা গাছ দেখে।

যে কথা বলছিলাম, সেই গ্রীষ্মবিকেলে কিউপিডিয় তীর গিয়ে কাকে যে প্রথম বিদ্ধ করেছিল সে কথা আমাদের অজানা। তবে কুয়াশা ফুঁড়ে মাঝে মাঝেই দেখা দিত যে বিষণ্ণ মুখ তাকে আমরা চিনতাম ভীনদেশী পুরুষ বলে। হয়ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সে শহরে সে বেড়াতে এসেছে প্রথমবার। তার সাথে আলাপ হবার আগেই আমরা দেখতে পেয়েছিলাম দোয়েলের বাড়ির ধারে যে পুকুরঘাট, সেখানে রাতের অন্ধকারে তার সিগারেটের জ্বলে ওঠা আগুন। অনেক পরে বুঝতে শিখেছিলাম সিগারেট থেকে যে স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হত তার নাম আসলে অপেক্ষা।

এভাবেই হয়তো এক একটা ঘটনার জন্ম হয়।

দোয়েলের দু বেণীতে তখনও এক ফোঁটা আধ ফোঁটা কৈশোর জেগে তবে বনেদী বাড়ির দোয়েলের পায়ে কবেই উঠেছে রুপোর শিকল। দোয়েল বড় হয়েছো, ছেলেদের দিকে হ্যাংলার মতো তাকিও না। কারো সাথে কথা বলো না। দোয়েল, ও দোয়েল ওড়না জায়গায় না থেকে গলায় কেন ঝুলে আছে.. উফ দোয়েল ফোন বাজলেই কেন দৌড়ে দৌড়ে আসো, দোয়েয়েয়েললল..

অতসব নিষেধের রক্তচোখ। অতএব দোয়েল নিভৃতচারী। বন্ধুহীন। থাকার মধ্যে আছে কেবল এক ঝুল বারান্দা। আর ওই দোলচেয়ার। ওটুকুই দোয়েলের আপাত আকাশ। এভাবেই দিন যায়। তারপর কবে গ্রীষ্ম পেরিয়ে আসে বর্ষা। গাছের পাতারা সতেজ হয়। আর কত শত ‘না’ এর ভেতর হ্যামিলনের বাঁশিটা ঠিক তখনই বেজে ওঠে। ডাকবাক্সে নীল খাম, বকুল গন্ধমাখা চিঠি। হয়তো এভাবেই গড়ে ওঠে সম্পর্ক। হয়তো সেই চিঠি খুলবার আগে কান পাতলে পৃথিবীর লাবডুবও শুনতে পাওয়া যায়। চিঠির প্রাপক? সেই পুকুর ধার, একটা গাছ আর একজন.. মনে নেই? আর সেই মানুষটাকে দেখলে দোয়েলের কেন যেন জারুল গাছকে মনে পড়ে। অমন বর্ষা বিকেলে এদিক ওদিক ভালো করে দেখে নিয়ে দোয়েল চিঠিটা শেষে খুলেই ফেললো। ওমা দীর্ঘ কোনো চিঠি তো এটা নয়। কেবল লেখা,

‘ভালবাসি, বড় ভালবাসি। ভালবাসি জন্মের মতো। ভালবাসি মৃত্যুর মতো।‘

ন’টি শব্দের তিনটে লাইন, কিন্তু তার গভীরতা.. কী একটা ঘটে যায় মনে। আলো ভেসে ভেসে ঝরাপাতা হয় বিকেল। বুকের রোশনাইয়ে বাজে চৌরাসিয়া। আর দোয়েলের চোখ বেয়ে নেমে আসে অবিরল শ্রাবণধারা..

এ প্রসঙ্গে বলে নেওয়া ভালো সে যে মানুষটাকে এ গল্পে প্রোটাগনিস্ট দেখাতে চাইছিলাম সে আসলে গল্পের বাইরেই রয়ে যায়। একে ভীনদেশী, তায় ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়া, আমাদের সাথে মিশলেও একটা দূরত্ব রেখেই যেন মিশত। বলা বাহুল্য আমি, আনোয়ার, মিন্টু, আমাদের দোয়েলজনিত ঔৎসুক্য এবং দোয়েলের ঝুলবারান্দার দিকে তার মনোযোগী চোখ এসব থেকে আমরাই প্রথম তার সাথে ভাব করতে উদ্যোগী হই। আমাদের ভেতর মিন্টু কিছুটা চুপচাপ অথচ ভীনদেশীর সাথে তারই কী করে যেন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যে সব বিকেলে দোয়েল দোল খেতে ঝুলবারা্ন্দায় আসত না, সেসব বিকেলে আমাদের সাথে থেকেও ভীনদেশীকে দেখতাম আনমনা। গ্রীষ্মকালীন ছুটি দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল, ভীনদেশী তখন আরেকটু বেশি চঞ্চল। মিন্টুর কাছে পরে জানতে পেরেছিলাম, ডাকপিয়নের দায়িত্ব মিন্টু হাসিমুখেই তুলে নিয়েছিল কাঁধে। তো যা বলছিলাম- এ গল্পে তাকে খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না অথচ সেই তো দোয়েলকে চেনালো নন্দিনী, ছুটি অথবা ম্যাকলাস্কিগঞ্জ। মৈত্রেয়ী দেবী, পত্রী বা বুদ্ধদেব গুহ। জঙ্গল চিরে চরাই উৎরাই পেরিয়ে যাওয়া যে রাস্তাটার কথা সে দোয়েলকে লিখতো বহুবার দোয়েলও তো মনে মনে কবেই সে রাস্তাকেও ভালবেসে ফেলেছ। অথচ সামনাসামনি তাদের দেখা বা কথা, সে সুযোগ কই। কেবল একটি দিন, রৌদ্রোজ্জ্বল একটি সকালে তারা মুখোমুখি হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। কলেজের করিডর ভর্তি তখন ছেলেমেয়েদের হুল্লোড়। জানাশোনা মুখগুলো ওদেরকে দেখছে .. লাল হতে হতে দোয়েল আর মুখ তুলে চোখে চোখ রাখতেই পারলো না। আর সে, ভীনদেশী, মাথাভর্তি একরাশ ঘন কালো চুল, শ্যামলকান্তি পুরুষ তখনও কী অপেক্ষায় দোয়েলের মুখের দিকে তাকিয়ে, দোয়েল কিছু বলো…বলো কিছু..!

নাহ.. চোখমুখ লাল। দরদরিয়ে ঘাম পড়ছে কপাল বেয়ে। দোয়েল বলে উঠতেই পারে না। আসলে এমন হয়। বাইরে থেকে দেখে ভেতরটা বোঝাই যায় না, এই যে দোয়েল দাঁড়িয়ে ভালবাসার মানুষটার সামনে, বুকের ভেতর কত কী হয়ে যাচ্ছে। একটা গরম হল্কা মাথা থেকে পা, পা থেকে মাথা কখন থেকে ছুটোছুটি করছে, দোয়েল কি তা বোঝাতে পারছে। আজকাল ও ঠিকঠাক খেতে পারে না, শ্বাস নিতে পারে না, পড়তেও পারে না, বুক ধড়ফড়, ঘুমহীন রাত, চোখের তলে কালি .. অথচ মুখোমুখি, কথা নেই। এই দোয়েলই চিঠিতে কত কথার ফুলঝুরি যে ছড়িয়ে যায়।

এ অবধি দেখা হওয়া যা না হবারই সামিল তা হয়তো অতি সাধারণ ঘটনা কিন্তু সেদিন বিকেল নাগাদ এই অতি সাধারণ ব্যাপারটা আর সাধারণ থাকেনি। কে বা কারা ফোন করে বাড়ির প্রধানকে সবিস্তারে বর্ণনা করেছিল দোয়েলের প্রেম উপাখ্যান। কারা যেন বাড়ি বয়ে বলে গেছিলো, অতি সাধারণ নিম্ন আয়ের পরিবারের ছেলের এত সাহস? একটা অযাচিত বিকেল, কিছু ভুল সিগনাল, দোয়েলের জীবনে ঝড় হয়ে আচমকা ঢুকে পড়ে সেদিন। বনেদীয়ানার রাংতা মোড়ানো পরিবারে সেই মেয়েটিকে তখন রক্তচোখগুলো ঘিরে ফেলেছে ভীষণ আর অবিরাম প্রশ্নবাণ, দোয়েল কার সাথে কথা বলেছো, দোয়েল কলেজে আজ তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা কে? কী সম্পর্ক তার সাথে? তোমাকে কলেজে পাঠানো হয় লেখাপড়ার জন্য, প্রেম করতে নয়। এইসব রাবিশ নভেল তোমাকে কে দেয়? দোয়েল কথা বল দোয়েল.. ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারা এক একটা বই মুখের ওপর এসে পড়ছে, কোনো বইয়ের পাতা বই ছেড়ে ফড়ফড় করে উড়ছে আর একটা বিশাল ঘরের মাঝখানে দোয়েল দাঁড়িয়ে আছে। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে… তারপর রাতের অন্ধকার, আরও কী কী সব ঘটে যায় সে রাতে সেসব অজানা তার কিন্তু পরদিন, দোয়েলের ছোট্ট পৃথিবীটা এক ধাক্কায় পুরো ওলোটপালট। একটা ধূসর পৃথিবীতে একজন পূর্ণবয়স্ক যুবকের হঠাৎ অন্তর্ধানের মধ্য দিয়ে দোয়েলের পরবর্তী সকাল শুরু হয়। যে কালও ছিলো, হঠাৎ তার ছায়াটা পর্যন্ত ‘নেই’ । কেবল দোয়েল নয় আমরা কেউই তাকে আর খুঁজে পাই না। মিন্টুও কিছু বলতে পারে না। প্রথম দিন ঝুল বারান্দা থেকে তাকে দেখতে না পাওয়ার দুর্মর অভিমান থেকে টেনশন শুরু, দ্বিতীয় দিন থেকে দুশ্চিন্তা তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে, কী করবে দোয়েল এখন? কী করে খুঁজে পাবে.. চিঠিগুলোও তো আর নেই, সাবধানতায় পড়ার পরই পুড়িয়ে দিতে হয়েছে সব। যেমন মাটি ফুঁড়ে উঠেছিল একদিন তেমনই যেন হাওয়ায় উবে যায় সে। দু চারটে ছেঁড়াখোঁড়া বইয়ের বাইরে তার অস্তিত্ব কোথাও আর থাকে না। দোয়েল নিজেকে গুটিয়ে নিতে নিতে কবে ঢুকে পড়ে এক নির্বাক জগত। নিঃসঙ্গতায় ভর করে বাঁচা, তবু আবার নিজেই একদিন উঠে দাঁড়ায়। নিজেকে ফিরিয়ে আনে পড়ার টেবিলে। একে একে পরীক্ষাগুলো উতরে যায়। তারপর আরও কত সময় পেরিয়ে, কথোপকথনের পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে গেলে হলদেটে পাতার ছুটিও যখন তাকে ফেলে চলে যায়, তারপর এক প্রবল ঝড়ের রাতে পূর্বাপর স্মৃতিগুলো বিসর্জন দিয়ে সে পা বাড়ায় নতুন অধ্যায়ে।

********
এ অধ্যায়ে দোয়েলকে আমরা মিসেস চৌধুরী বলে ডাকতে পারি। আবার নাও পারি কেন না ইচ্ছের মা’ও একটি স্বতন্ত্র সম্বোধন। তবে মিসেস চৌধুরী বা ইচ্ছের মা ছাড়াও তার আর একটা নামও আছে। নিশি রহমান। হ্যাঁ দোয়েলকে এবার আমরা নিশি বলে ডাকবো।

নিশি রহমান এলিয়াস দোয়েল। এ সময়ের প্রমিজিং গল্পকার যার জীবনের একাংশে প্রেম এসেছিল স্বল্পসময়ের স্থায়িত্বে কিন্তু তা রেখে গেছে স্থায়ী গাঢ় আঁচড়। মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ, এ বিশ্বাসে সে দীর্ঘকাল জিইয়ে রেখেছিল তার অপেক্ষা। দিনের পর দিন হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়িয়েছিল যদি দেখা মেলে তার। তীব্র হাহাকার থেকে কতকত দিন সে কেবল মানুষের মুখে খুঁজে গেছে সেই মানুষের ছায়া। মানুষটা আহা সে মানুষটা কী মন্ত্রবলে শিখিয়েছিল ভালবাসতে। কী গভীরতায় বলেছিল ভালবাসার কথা.. কোথায় হারিয়ে গেলো.. পায়নি। তারপর হয়তো হালও ছেড়েছে একদিন তবে ভুলে যায়নি। সময় পেরিয়ে গেছে আপন নিয়মে। আবার ঝড় উঠেছে। পড়তে পড়তে উঠে দাঁড়িয়েছে ফের, জীবন দিয়েছে তাকে কত বিরূপ অভিজ্ঞতা। দাঁতে দাঁত চেপে সেই শুরু নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াই। কবে যেন পেরেও গেছে। গড়ে উঠেছে নিজের ভুবন। এ ভুবনে নিশি আর ইচ্ছে, ইচ্ছে আর নিশির কলম এরাই সব। এর বাইরে দোয়েলের চারপাশে যা আছে তা বিস্তীর্ণ এক যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে আজও দিনরাত গুলিগোলা, সন্ত্রাস, আক্রমণ, বিদ্রোহ, জয় পরাজয় আর আছে স্বৈরাচারী কোনো জেনারেলের কমান্ড। যা হোক, নিজের চাওয়া আর প্রাপ্তির হিসেব সে আর মেলায় না বহুদিন। কী পেলাম না, কী হলো না এসব ভাবনা নিশি বিগতজন্মের দোয়েলের কাছে ফেলে এসেছে। এখন এসব নিয়ে ভাবতে গেলে নিশির ঘুরেফিরে কেবলই মনে হয়, জীবন গিয়াছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার।

এই এখন রাত প্রায় দুটো। নিশিকে দেখা যাচ্ছে নিশির লেখার টেবিলে। টেবিল ল্যাম্পের আলো অকাতরে ওকে আলো দিয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে একটা পাশ বালিশ জড়িয়ে কখন বিছানায় ঘুমিয়ে কাদা। এ মুহূর্তে নিশির মনোযোগের চেষ্টা ইয়ুং এর ফোর আর্কেটাইপের পাতায়। নিশিকে এখন আমরা এভাবেই ছেড়ে দিতে পারি। বলতে পারি এখন তাহারা (নিশি এবং ইচ্ছে) সুখে কালাতিপাত করিতে লাগিল, আমার গল্পটিও ফুরাইলো।

কিন্তু চাইলেই কি সব হয়? নাকি ঘটিয়ে দেবো ভাবলেই ঘটানো যায়! হয়তো হয় না। হয়তো এই না হবার ভেতর জন্ম নিতে পারে আরেক আখ্যান। আর সেই আখ্যানের হাইওয়ে ধরে ঝরো স্পিডে যে গাড়িটা ছুটে যায় ফুলকির মতো, সেখানেও উত্থান ঘটতে পারে আবার কোনো চরিত্রের।

আপাতত ইয়ুং। আপাতত ফোর আর্কেটাইপ।

কিন্তু মন তার ইয়ুং এও স্থির নেই তো! কী হলো আজ। কেন থেকে থেকে নিশির চোখ দেয়াল ঘড়িটার দিকে ছুটে যায়। মাঝে মাঝে ঘরের এমাথা ওমাথা পায়চারি। রুখুসুখু মুখ, চোখের কোল বসা। মুখের উপর খুচরো চুলগুলো এদিক সেদিক পড়ে আছে। এত অস্থিরতা তো বহুদিন আগে দোয়েলের মুখে দেখা যেত। এই নিশি তো ধীর স্থির।

খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজের মুখটা ঘুরেফিরে অনেকক্ষণ ধরে দেখে আয়নায়, প্রশ্নটা তো নিজেকেই। কী হলো নিশি? পারছো না আর ধরে রাখতে?

মাঝরাতে ঘুমোতে যাবার আগে বরাবর ওর রুটিনটা এরকম- ব্রাশিং, ফেস ওয়াশে মুখটা ধুয়ে মুখে নাইটক্রিম মাখা। এবং ঘুমাবার আগে ইচ্ছেকে একটা চুমুও খেয়ে নেওয়া। কিন্তু সে এসবের কোনোটাই এখন করলো না। আজ নিশির অবিরাম লড়াই নিজের সাথেই। অবেশেষে..

: নিশি?

: হুম বলুন..
( কী বলবে কে জানে! বুক কেন কাঁপছে এতদিন পর আবার..)

: খুব রাগ আমার ওপর?

: স্মাইলি
(না রাগ হবে না.. কতগুলো বছর, মাস, দিন চলে গেছে। আজ
জিগ্যেস করছে রাগ কি না..)

: আমার সাথে কথা বলবে না?

: স্মাইলি..
( বয়েই গেছে আমার...)

: কী রেগে তুমি.. কথা বলতে চাও না? তুমি কি আমায় তাড়িয়ে দেবে?

: জীবন গিয়াছে চলে, কুড়ি কুড়ি বছরের পার..
(কী কথা থাকে আর এতগুলো সময় পেরিয়ে যাবার পর.. কত খুঁজেছি,
কীভাবে খুঁজেছি সেসব তুমি জানো? )

: দোয়েল..! কথা বলো প্লিজ।
দোয়েল.. আর ইউ দেয়ার?

: হুম?

সরি ,আমি নিশি। বলুন।
( ইশ.. আবার দোয়েল ডাকা হচ্ছে.. আর তুমিও নিশি, মরে যাই.. এই
অবেলায় ঠিক দোয়েলের মতই মুখ লাল করে বসে আছো। কী লজ্জা...)

: উঁহু, তুমি দোয়েল। আর 'বলুন' নয় 'বলো'...