৩ নং ধানুস নগর বাস ডিপো

মোসাব্বির আহে আলী



এক.
বাস কোম্পানিটার নাম জনতা ট্রান্সপোর্ট কোং । বাসের ফ্রন্ট গ্লাসের বাম পাশে সে কথাটাই অর্ধচন্দ্রাকৃতির মত করে লেখা। তার নিচে সোজা নীল রঙে লেখা ধানুস নগর টু আশিসপুর । ধানুস নগর এখানে একটা আধা-মফস্বল শহর । আর তার তিন নম্বর মহল্লায় জনতা বাস সার্ভিসের ডিপোটির অবস্থান। এই ছোট মফস্বল বাজার থেকে ২৩ কিলো দূরে আশিসপুর এই রুটের সর্বশেষ স্টপেজ । অর্থাৎ রুট টা গিয়ে দাঁড়ালো ধানুস নগর টু আশিসপুর। কুড়ি টাকা ভাড়া। আপ- ডাউন চলিশ্ল টাকা।
রাজেন আজ ৭ নং বাসের এর হেল্পারি পেয়েছে । এরকম প্রতিদিনই ডিপো ইন-চার্জ বাসের ডিউটি শিডিউল সুবিধামত ফিক্সড করে দেন । ইন-চার্জ গত রাতে তাকে ৭ নম্বর ঠিক করে দিয়েছে । এই ইনচার্জ হল জমেল শেখ। বয়স প্রায় পঞ্চাশ । এতটা ভাল দেখতে নয় সে। কিছুটা বদখত- আবার কিছুটা মায়াবী। তার ব্যবহারও এরকমই আধাআধি। বাসের ড্রাইভার তো– কতদূর আর মহৎ হবে সে! কথাটা প্রায়ই সে ভাবে আর বলে- ‘বেকেরই ত শইল্লে কেদা রে ভাই। আমি জোহরে ভাল অইবার চাইলে আছরে পারি না।’
সে-ও জওয়ানির শুরুর দিকে হাবিবনগর জিন্দাপুর রুটে পুরনো কাঠ-বডির হালিমা ট্রান্সপোর্ট বাসের হেল্পার ছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে সেসবেরই গল্প করতে বসে জমেল। গল্প করতে গেলে এই রাজেন ই ভরসা। এর আগে ওর বয়সি দুইটা ছেলে এই ডিপোতে কাজ করে গেছে । শালারা ছিল চোর আর কাটখোট্টা নেশাখোর। মহাজনের প্যান্ট শার্ট সহ দামি কার পার্টস নিয়ে পালিয়েছিল । ফলে জমেলের মুখও সেদিন পুড়ে গিয়েছিল । চুন পোড়া মুখে ডিপো-সর্দার জমেল বেশ কদিন রাজেন কে সহ্য করতে পারে নি। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিরুপায়ভাবে ঠান্ডা হয়েছে।
জমেল শেখ কে রাজেনের খবরটা প্রথমে দেয় শাহবাজপুর ফাঁড়ির আব্দুল পুলিশ। বলে- ছেলেটা অসহায়। ওর বাবা বছর বহু আগে থেকেই নাই । মা’র খবর তেমন বলতে চায় না জমেল। শুধু বলে সেই মহিলা ইস্লামপুর বাজারের পাশে থাকত। এখন নাকি সেইখানেও কেউই নেই। শুনে খুব মায়া লাগে জমেলের । আগে জমেলের এসব শুনলে মায়া লাগত না। এখন লাগে । যেন বয়স হচ্ছে আর মমতার এন্টেনায় সিগ্নাল শক্তিশালী হচ্ছে।
অন্যান্য দিনের মত আজ সরস পান মুখে নিয়ে মধ্যমা আর তর্জনীর ফাঁকে কে-টু’র প্যাকেট থেকে একটা কে-টু সিগারেট আটকায় সে। প্রজাপতি ম্যাচের একটা পঙ্গু কাঠি দিয়ে সেটার মুখাগ্নি করে । বলে- ‘বুচ্ছত রাজেন, আমি তহনই বহুত জোরে চিল্লাইতে পারতাম । ধর, তহন আমার বয়স ১৫-১৬ অইব। বিনিপুর- জহরগঞ্জ- কালাম পাড়া- পাল হাঁটি- জিন্দাপুর । কত স্টপেজ ! চিক্কুর পাইড়া পাইড়া পেসেঞ্জার ডাকতাম। আজমত ডেরাইবারের চোখের মণি আছিলাম। আমারে বহুত বালা পাইত। খাইতে বইলে গোস-মাছের টুকরা পাতে দিত। হের দেশের বাড়ি আছিল দিনাজপুর। এই ধানুস নগরে হেই একলা থাকত। তর মতই আমি তহন , ঠোঁটের উপরে হবায় গোঁফ জাগাইসে। কি যে শরম পাইছিলাম হেইদিন যহন বেলেড দিয়া মুছ টা কামাই ফালাই। আজমত ওস্তাদ হাসতেছিল আর কইতেছিল- বেডি বেডি লাগতাসে তরে’’
জমেল শেখ থামে। কিন্তু তার হাল্কা হাসি টা আরেকটু পরে থামে। সত্যি বলতে কি সে থামে না, ওকে কিছু একটা থামিয়ে দেয়। ইদানিং পুরনো দিনের কথা ভাবতে গেলে ওর মন বেশি খারাপ হয়। সাথে সাথে শরীর খারাপের বিষয়টাও চলে আসে।
জমেল শেখের আলসার সমস্যা। গত বিশ বছর দিনরাত টিপ মেরে ওর নাওয়া খাওয়ার ভীষণ অনিয়ম হয়েছে । শরীর চিকন কিন্তু পেট টা অহেতুক উত্তল । দু তিন বেলা টানা না খেয়ে হঠাৎ এক বেলা ঠেসে খেলে যেমন টা হয় আরকি। আর সাথেতো আছেই সিগারেটের দুই ইঞ্ছি ভুত। একটার আগুন দিয়ে আরেকটা। আগে অল্প খেত আর এখন ডিপো-ইন-চার্জ হওয়ায় শলাকা খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দৈনিক চোলাই টাতো আরও মাথা ঘুরিয়ে দেয় ওর। প্রতিদিন এশার পর এক বোতল না হলে চলে না । এশার পর সাধারণত রাজেন ওর মহাজনের কাছাকাছি থাকে না। মহাজন উল্টাপাল্টা হয়ে যায়। শেফালি ঘোষ- আব্দুল আলিম- মমতাজ- দের এইসব মনফুটো করা গান চলে। বিচ্ছেদি- মারফতি-সব এলোমেলো গাইতে থাকে। যেদিন পেটে বেশি পড়েসেদিন সবার শিডিউলটাও এদিক-ওদিক হওয়ার জোগাড় হয়। ডেপুটি মহাজন হিরনআলি সব গুছিয়ে দেয়। তারপরও যেদিন রাজেনের ছুটি থাকে সেদিন সে মাগরিবের পরপর ওস্তাদের কথা শুনতে বসে। রাজেন কেবলি শুনতে চায়। জমেল শেখের মাঝে মাঝে এই স্মৃতিবয়ান ওর কাছে অদ্ভুত ভাল লাগে। মাঝে মাঝে আৎকা গানের টানও- সবই ভাল লাগে। কেমন যেন মনে হয় গল্পটা। রাজেন ভাবে রাজেনের নিজের গল্প এটা । সেও বুঝি এই পথে হেঁটে হেঁটে গিয়ে একদিন ডিপো-সর্দার হবে। তারও পেট বড়- উত্তল হবে। কে-টু টানবে । ফাঁড়ির পুলিশদের ডেকে এনে হাজারী খেলবে।
সে আরও ভাবে --ডিপোর বাসগুলো মানুষের মতই। ক্ষুধা লাগলে, অসুখ হলে কিংবা ঘুমাতে চাইলে এখানে আসে। মানুষের মতই শরীরে কাদামাটি লাগলে গোসল করাতে হয় ওদের । গোল গোল পা ভাঙলে পা নতুন করে সারাতে হয় বা নতুন পা কিনতে হয়। চামড়ায় আঁচড় লাগলে পালিশ করতে হয়, ইঞ্জিন-বেচারা বিগড়ে গেলে ওপেন- হার্ট সার্জারির মত পাল্টানো বা ঢেলে সাজাতে হয়। এটা প্রতিদিনের অংক। এগুলোর মেরামত হিসাব, প্রতিদিনের বাসপিছু জমা- খরচ, ফাঁড়ি জমা, থানা জমা সব কিছুই দেখে জমেল শেখ। আর বলে -কি মাথা গুরুর!
সাথে আরেকটি ভাববার বিষয় থাকে রাজেনের ও। ওর মায়ের ভাবনা। ওর মা ইস্লাম্পুরে নাকি জিন্দাবাজারে ? সেখানে একটা পাটকলে নাকি রাইস মিলে নাকি বাজারের পেয়াজের আড়তে কাজ করে যাচ্ছে অনেকদিন। ও প্রতিদিন ই ভাবে। ভেবে ভেবে সন্ধ্যার দিকে জমেল শেখের কাছে গল্প শুনার আয়োজন করে।
সাকুল্যে ২৩ টা বাস আছে এই ডিপো তে। ফলে ড্রাইভার- হেল্পারও সংখ্যায় অনেক। ঝক্কি-ঝামেলাও সে বরাবর । গাড়ি এক্সিডেন্ট ত মাঝে মাঝে হয়ই। সেদিন মহাজনের মাথা ঠিক কাজ করে না। মালিক বেচারা পাগল হয়ে যায়। সে পাগলামির চূড়ান্ত চাপ জমেল শেখের ঘাড়ে এসে পড়ে। তখন পুরো ডিপো জুড়ে হায় হায় শুরু হয়। ধমকে ধমকে ডিপোর বেলা গড়ায়। রাজেন ও চুপচাপ থাকে। মহাজন কে তেমন একটা ঘাঁটায় না কেউ । রান্নার মুখরা বুয়াটা পর্যন্ত ভয়ে থাকে। অযথা ডিপোর তাগড়া পোলাপানদের দেখলে অভ্যস্ত ইশারাটাও করে না। বুকের কাপড় ঠিকঠাক রাখে। মহাজনের সামনে অনভ্যস্ত হাতে মাথায় কাপড় দেয়ারও চেষ্টা করে ।
দুই .
রাজেনের মনটা সেদিন বেশ খারাপ। গাড়িতে এক প্যাসেঞ্জার তার মাকে একটা খারাপ গালি দিয়ে ফেলেছে। ভুলে দুইতিন বার ভাড়া চাওয়াতে ওকে এই গালিটা খেতে হয়েছে। ওটা ওর কাছে তেমন কিছু না,প্রতিদিনই এরকম গালি ওকে অগত্যা নীরবে সামলাতে হয়। সমস্যা এখানে নয়। ওর আক্ষেপ হল -কেন বারবার শুধু ওর মাকেই গালি খেতে হয় ? গালিগুলো কি বিশেষভাবে কেবল মায়েদের অপমান নির্দেশ করছে ? ওর বাবাও তো ওর জন্মের জন্য বহুলাংশে দায়ী। ওই বেটার খবর রাজেন কখনই কারো কাছ থেকে পায়নি। সেই ছোটবেলায় নিজের মাকে কত জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু কোন উত্তর সে পায় নি। কেবল খিস্তি-খেউরের মত কয়েকটা নির্দিষ্ট ডায়ালগ ওর মুখস্ত হয়ে গেছে।
‘ওই বেশ্যার বেটা। ওর কিড়া ধরা সুনায় আরো কিড়া পড়ুক। হারামজাদার কথা আমাক জিগাস করিস কেন? আমি কি তোক খাতি দিতেছি না? তো বারবার ইক কথা পাড়িস ক্যান?
আশ্চর্যের বিষয়! ইদানিং রাজেন ওর মায়ের ওই বিশ্রী গালিভরা কথা গুলোও প্রায় ভুলে যাচ্ছে। ভুলে যাবারইতো কথা। ইসলামপুর না জিন্দাবাজার কোথায় যেন ওর মা কাজ করে। তিন-চার বছর ধরে খোঁজে খোঁজে সে হয়রান। কই, কোথাও তার মা নেই। সেই যে এক বাদলা দিনে পেঁয়াজের আড়তে কাজে গিয়ে আর আসেনি। এই তো বছর ঘুরল কেবল ফাঁড়ির এক পুলিশ তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
আজ দুপুরে জমেল শেখ গোশত দিয়ে ভাত খাবে। গতকালের ৮ নং গাড়ির এক্সিডেন্টের ঝামেলা আজকে সকালে মিটেছে। মালিক ঠান্ডা হয়েছেন। সেই খুশিতে আজকে জমেল শেখ বাজারে বেশি টাকা দিয়েছে । আর বলে দিয়েছেন যেন গরুর কচি গোশত যেন আলু দিয়ে ঝোল করে। আজকে ডিপোতে তাই সুঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। গোশতের আনচান ঘ্রাণ গাছপালা, বন বাদার- টিনের চাল সব সব জায়গায় বাড়ি খেয়ে খেয়ে ঘুরছে। শাপলা বুয়ারও বেশ মন ভাল। নিজের ছেলেটাকে এনে রান্নাঘরেই খেতে বসিয়ে দিয়েছে। ছেলেকে খেতে বসিয়ে একপাক মইদুলের ঘরেও ঘুরে এসেছে সে। গোশতের ঘ্রাণের সাথে শরীরের ঘ্রাণ মিশিয়ে সে এক অন্য খাবার মেখে খেয়ে এসেছে। খুব দ্রুত। কেও কিছু টের পায় নি। কিন্তু সেটা মইদুলের ঘাম ভর্তি চুলের চিকচিক দেখে ডিপো- ইন-চার্জ বুঝতে পারে । সে খাওয়া অবস্থাতেই লুঙ্গির উপর দিয়ে কিছু একটা চুলকিয়ে নেয় সন্তর্পণে । ভাতের পরপর দুটি গ্রাসের মাঝে একটু সময় নেয় জমেল শেখ। তারপর আবারো গপগপ খেতে শুরু করে।
দুপুরের এই ঘটনার পর থেকেই আজ জমেল মহাজন কিছুটা বেচইন। সে-ই অনেকদিন হল সে গ্রামের বাড়ি যায় না। বউকে টাকা পাঠিয়েই খালাস। অন্যকিছু পাঠানোর তার ফুসরত নেই। সেই উত্তরবঙ্গে যাওয়া আসাতেই ৩ দিন লাগে। থাকবে ক’ দিন আর? আর এদিকে একদিন না থাকলে আস্ত বাস নিয়েই উড়াল দেবে ডিপোর ঈমানদার লোকজন। ফলে জমেল শেখ এখানে বউ-বিবির আদর পায় না। অবশ্য ইচ্ছে করলেই সে শাপলা বুয়াকে আটার দলার মত গুলিয়ে ফেলতে পারে কিন্তু সে তো ইন- চার্জ। এই ডিপোর সর্দার। ভেবে ভেবে নিরুপায় সে ক্লান্তই হয়।
সেদিন সন্ধ্যা আসে অবাক উত্তেজিত ভঙ্গিতে। জমেল শেখের ডেপুটি হিরনালি আজ ২ লিটার চুলাই এনেছে। মহাজনই বাড়িয়ে আনতে বলেছেন। রাজেন এদিকে এসবের কিছুই জানে না। সে শুধু তার মত করে নানান কথা ভাবে। মহাজনের মুখে কথা শুনতে তার ভাল লাগে।
তিন.
এদিন সন্ধ্যাটা বেশ আগেভাগেই নামে। রাজেন ডিপো সর্দারের প্রতিদিনের প্রায় কালো- কুচকুচে বাদামি চেয়ারটার কাছে এসে বসে। সে জানে মহাজন তার পেছনের ঘরে যাবে আরও ঘণ্টাখানেক পর। তার আগে সে এই এক ঘণ্টা ডিপোর খোঁজখবর নিবে- গাড়ি- সারাই, টাকা পয়সার গ্যাঞ্জাম সব মিটাবে। রাজেন এগুলাও খুটে খুটে খেয়াল করে। ফাঁকে ফাঁকে মহাজনের গলায় গান শুনে- গ্রামের গল্প শুনে। ভাবে এ গল্প তো ও জানে। চেনে। আজকে সে গল্পে আরও বেশি বিভোর। আজকের গল্প অন্যরকম ঘ্রাণের গল্প। মহাজনেরই এক সাবেক প্রিয় নারীর গল্প। রাজেন লজ্জা পায়। উঠে যেতে দাঁড়ায়। কিন্তু মহাজন বলে শরমের কি আছে এতে ? শুনতে তো পারিসই । আরামসে বয়।
রাত গভীর হতে থাকে। চাঁদ- জোছনা- বাতাস কিছুই তখন টের পাওয়া যায়না ইন্দ্রিয়তে । সর্দার আজ রাজেনের সামনেই চুলাইয়ের বোতল খুলে ফেলেছে। সাথে ডেপুটি হিরনালি জমেল শেখের সেবায় আরও নিবেদিত হয়। পেছনের ঘরে রাজেন আজকে এই প্রথম এল। কিন্তু রাজেনের তেমন খারাপ লাগে না। মনে হয় এই লোকগুলো ভালই তো । যা শুধু একটু চুলাই খেয়ে নেশা করে কিছু ভুলে থাকতে চায়। কাজের নানান চাপ সহ্য করতে এরকম পেছনের ঘরে আসে এরা । এটুকুই যা ।
রাজেন ভাবতে ভাবতে একটু অন্য মনস্ক হয়। দেখে দুই লিটারের চুলাইয়ের বোতল তার সামনে নিমেষেই খালি হয়ে পড়ে আছে । গান- বাজনায় হয়তো আরো ঘণ্টা খানেক অতিবাহিত হয়। একসময় রাজেন টের পায় পাশে তাকে জাপটে ধরে আছে দুজন আদিম জন্মান্ধ মাতাল। তার ও কিছুপর- হয়ত অনেক পর যখন রাত সামান্য একটু গভীর বা খুব গভীর - রাজনের চোখের সামনে আচমকা তার মায়ের ছবি ভেসে উঠে। তার বাবাকে নিয়ে ওর মায়ের খিস্তির কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে তার মায়ের ক্রোধান্ধ চেহারায় একটা গালির কথা। চোখে ভেসে উঠে একটা কীট আক্রান্ত শিশ্নের কথা যা তার সামনের চেনা লোকটির উলঙ্গ দেহে ঝুলছিল। মনে পরে শাপলা বুয়ার সন্দেহযুক্ত প্রশ্ন- ওয় রাজইন্যা, এই জমেল্ল্যার চেরার লগে তর চেরার অত্ত মিল কিয়ের লাইগা রে?’
ডিপো সুনসান তখন। কিন্তু উপরের অসীম আকাশ যেন ফেটেফুটে যাচ্ছিল অন্ধকারে, দিগ্বিদিক।