(আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা বহু ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনাকে ধরে...)

অগ্নিজিৎ




কারুর দোষে বাঁচতে নেই। বয়সের সঙ্গে তখনও সন্ধি হওয়া বাকী। দূরে গোসলঘরে যাওয়ার ভয় কাটেনি। তবু আমার বিকল্প — সন্তান। ক্ষেতে ক্ষেতে আখখেতে দাঁতের নরম নড়ে ওঠা। তরমুজের দানার মতো জমে ওঠে আমিবয়সিরা। কথাপ্রবণ উঠোনে দেহাতি কিতকিত। আচারের লোভে ইস্কুল। জমিফেরত বাবার সাথে সুহানা সফর। বৃষ্টি হাতমুখ মুছলেই... হরিয়ালি অওর ইয়ে রাস্তা।
আমি তখনও ছেলে অথবা মেয়ে হয়ে উঠিনি। লজ্জার বালাই নেই বন্ধুতায়। কুফির জন্য কাট্টিও সই — কেমন যেন ফুরিয়ে গেল আমার দখল করা এক্কাদোক্কার ঘর, কেবলই ওঠা নামা। বারেবারে একটা পরাবাস্তব গতি আমার ভেতর প্রতিনিয়ত। ঘটনার কোনও দূরবীন ছিল না। ঘুমও নেই, শুধু জেগে থাকা। পাতকুয়োর মতো হা-মুখ বিস্ফারিত।
চোরা জলস্রোত,
ধূম জ্বর,
আর
বমিপাত,
কান্নার থেকেও বেশি ঘুম পায় এখন। খিদে নাকচ রেখেছে ওষুধ। আমি জানতাম না নখের জন্য একটা চেহারাও দরকার। গোলাপি হয়েছি এভাবে। রাতগুলো কখন জেগে যায় ভুলে গেছি।
উঠোন,
গোসলঘর,
আখক্ষেত,
তরমুজের দানা,
সবাই বন্ধুত্ব ভেঙে দিল। হয়তো অন্য বন্ধুতায় পেতেছে ওরা। একবছরে যতটা বড় হয়, তার থেকেও বেড়েছি আমি। বয়স বাড়লে বন্ধু কমে যায় বুঝি!!! ঝগড়াও হয় না আর। শুধু ফিসফাস। কতগুলো মোটা মোটা লোক আর শক্ত হয়ে যাওয়া মহিলাদের আরও শক্ত প্রশ্ন। তখন এতো লাগত না। এখন কানেও যেমন...
আমার পেটে কারা যেন পাথর লুকিয়ে রেখেছে। আদালত, সংবিধান, পাথরের মতোই স্থানু।

ধর্ষণের বিকল্প সন্তান হতে পারে না।
আমার শরীর মাতৃত্ব অস্বীকার করছে।