অস্ট্রেলিয়া

অর্ক চট্টোপাধ্যায়

জেরাল্ড মারনেন (১৯৩৯ - )

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের বাসিন্দা জেরাল্ড মারনেনের শিকড় আয়ারল্যান্ডে। তাঁর নটি গল্পের বইয়ের আট নম্বর A history of Books। ১৯৫৭ সালে রোমান ক্যাথলিক পাদরীর ট্রেনিং নেবার পর মারনেন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৮০র পর থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর নানা কোর্স পড়াতে থাকেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। সত্তরের দশক থেকেই শুরু হয় লেখালিখি Tamarsik Row (১৯৭৪) এবং A Lifetime on Clouds (১৯৭৬) দিয়ে, কিন্তু পরিণত শৈলীতে পৌছন আশি ও নব্বই দশকের Inland (১৯৮৮) এবং Emerald Blue (১৯৯৫) এর মত উপন্যাসগুলিতে। নানা পুরস্কারের মধ্যে ১৯৯৯ সালে তিনি প্যাট্রিক হোয়াইট পুরস্কার ও ২০০৯ সালে দ্য মেলবোর্ন প্রাইজ ফর লিট্রেচারে সম্মানিত হন। ঘোড়দৌড় দেখায় এবং গলফ খেলায় আগ্রহী মারনেন শহর থেকে দূরে প্রচারক্ষেত্রের বাইরে থাকতেই পছন্দ করেন, অনেকটা তাঁর একান্ত মনস্থ চরিত্রদের মত।

২০১৩ সালে জিরোমোন্দো প্রেস থেকে প্রকাশিত A history of Books বইয়ের নাম-উপন্যাসে মারনেন ২৯টি আপাত স্বতন্ত্র অন্তর্বয়নে সম্পৃক্ত অংশে একের পর এক অনামনীয় চরিত্র যাদের তিনি দৃশ্য-মানুষ বলে মনে করেন তাদের বহুবিচিত্র পাঠ-স্মৃতির জিগসো পাজল্ তুলে ধরেছেন সময়কে মনোগত স্থানের অধীন করে তুলে। বহুবছরের জীবন ও গ্রন্থের যাপন-পাঠের মধ্য দিয়ে যে বহুমুখী পঠন-স্মৃতি জাবর কেটে চলেছে মন নামক এক দৃশ্য-এককের ভেতর, তাকে তার অন্তর্লীন আন্তসংযোগের রসায়নে উদ্ধার করে আনাই এই উপন্যাসের লক্ষ্য। তবে এই পঠন-স্মৃতি এক বিশাল চোরাবালি যেখানে পঠন আর পতনের মধ্যে শুধু একটি ধ্বনির ভার্টিকালিটির ফারাক। মনোগহ্বরের এই দৃশ্য-গহীনই লেখকের চরাচর। এখানে এপিসোডিক এই লেখার একটা অংশ অনুবাদ করলাম যা আলাদা করে সম্পূর্ণ এক গল্পাণু হিসেবেই পড়ে ফেলা যায়। এই গল্পাণুর কোনো সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত অর্থের খোঁজ মিলবে সমগ্র উপন্যাসের পাঠে যার দিকে বর্তমান পাঠকদের চালিত করা অনুবাদকের অভিসন্ধি। তবে গল্পের এই অণু নিজের ভেতর থেকেই পাঠকের কাছে এক সমুদ্র উগরে দেবে বলে মনে হয়।

মারনেন এর আগে কখনো বাংলায় অনূদিত হননি এবং তাঁর অনুবাদ করতে আমাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। আমি তাঁর ভাষার মন্থর অথচ বিছিন্ন অতিকায়ত্বকে অনুবাদে মনোরম করে তোলার চেষ্টা করিনি কারণ আমার মনে হয় তা বিশ্বাসঘাতকতারই নামান্তর। এই লেখা সুখপাঠ্য নয়, কারণ তা সুখপাঠ্য হতে চায় না এবং অনুবাদকের মতে যে কোনো লেখারই এমন দাবি থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। দীর্ঘ এবং জটিল বুনোটে আক্রান্ত এই বাক্যগুলি দুরূহ এবং পাঠে পাঠান্তরে নানা ধরনের থমক তৈরী করে। অনুবাদ করার সময় আমি এই গদ্যের ইচ্ছাকৃত ব্যাকরণিক আড়ষ্টতার প্রতি বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করেছি। মারনেনের ইংরেজি এবং আমার বাংলা বাক্যবিন্যাসের বঙ্কিমতা ও দাঢ্য তাঁর উদ্বায়ী বিষয়বস্তুর সঙ্গে সমানুপাতিক এক শৈলীর পরিচয় বহন করবে এমন আশা করি।

**********

‘বইয়েদের এক ইতিহাস’ উপন্যাসের একটি অংশ
অথবা পঠন আর পতনের অন্তর্বর্তী একটি অণুগল্প



একটা গল্পের অংশবিশেষ জুড়ে বসে থাকা ছাপা শব্দে ভরা দুটো পাতার ফাঁকে দেখা দিল সরু একফালি সাদা কাগজ। পাতাগুলো ছিলো একটা পেপারব্যাক ম্যাগাজিনের যার সাইজ এমন যে হাতব্যাগ বা বড় পকেটে সেঁধিয়ে যেতে পারে। মাত্র কয়েক মিলিমিটার চওড়া কাগজটা ম্যাগাজিনের স্পাইনের সাথে আটকানো ছিল ঠিক যেমন করে তার আগে-পরের অন্যান্য পাতাগুলো আটকানো। বছর চোদ্দোর একটা ছেলে ম্যাগাজিনের পাতাগুলো ফাঁক ফাঁক করে ধরে ছিল যাতে মাঝের সরু কাগজটাকে ভালোভাবে ঠাহর করা যায়। আরেকটু মন দিয়ে চেয়ে থাকার পর ও দেখতে পেয়েছিল যে কাগজের বাইরের দিকের কোণটা ভাঁজ হয়ে রয়েছে, যেন কেউ একজন, ঐ কাগজটা যে পাতার অংশ সেই পাতাটাকে যতদূর সম্ভব ম্যাগাজিন থেকে কেটে বাদ দিতে চেয়েছিলো কিন্তু তার কাঁচিজোড়া বইটার স্পাইনের এত কাছে চলে আসে যে লোকটা একবারে পাতাটাকে ঠিকমত কেটে উঠতে পারেনি; বেশ কয়েকবার কাঁচি চালাতে হয়েছিল, প্রত্যেকবার কাটার পর কাঁচির ব্লেডদুটোকে কাগজ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। ছেলেটা আরো একটু মন দিয়ে চেয়ে থাকার পর দেখতে পেয়েছিল যে কাগজটার একটা কোণ ক্যামন যেন জোড়াতালি দেওয়া আর আরেকটা কোণ একটু ছেঁড়া মতন। এর থেকে মনে হয়, যে লোকটা কাঁচি চালিয়েছিল সে তারপর আরেকবার সরু ওই ফালিটুকু ছিঁড়ে নেবার চেষ্টা করেছিল যাতে ওই কাগজটা যে পাতার ভেতরদিকের মার্জিন, তার ছিঁটেফোঁটাও পড়ে থাকতে না পারে।

পূর্বোল্লিখিত ছেলেটি মেলবোর্নের উপকন্ঠে শহরতলির একটা বাড়ির লাউঞ্জের এক কোণে বসে ছিলো। ছেলেটা ওই বাড়িতে তার বাবা-মা আর ছোট ভাইয়ের সাথে থাকতো। ঘরের কোণে যেখানে সে বসেছিল, সেখানে ছিল একটা বুককেস যার ভেতর খান তিরিশেক বই আর হয়ত শতখানেক নানান রকম ম্যাগাজিন। ছেলেটা তার কয়েকটা পড়েছিল আর অন্যগুলো উল্টেপাল্টে দেখেছিলো কখনো কখনো। প্রতিটা ম্যাগাজিন থেকেই সে একাধিক প্রবন্ধ জাতীয় লেখা পড়ে ফেলেছিল।

ছেলেটার লাউঞ্জে বসে একটা ম্যাগাজিনের ভেতর সরু একফালি ওই সাদা কাগজটা পাবার পর যখন পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে; যখন ঐ ছেলেটা ছেলে-লোক হয়ে উঠেছে, তখন ওই অত পত্রিকার অত শব্দ, অত ছবির মধ্যে থেকে সে শুধু দুটো সাদা কালো ইলাসট্রেশনের হাতে গোনা কয়েকটা ডিটেইল আর দুটো ইলাসট্রেশনের একটার ক্যাপশন থেকে হাতে গোনা কয়েকটা শব্দ মনে করতে পেরেছিল। শেষে উল্লিখিত ইলাসট্রেশনটা ম্যাগাজিনের যে সংখ্যায় বেরিয়েছিল তার নাম দেওয়া হয়েছিল 'হাঁটাহাঁটি'। ছেলে-লোকটার ওই ইলাসট্রেশন থেকে কয়েকটি যুবতীর ছবির হাতে গোনা কয়েকটা ডিটেইল মনে পড়ছিলো। ওই যুবতীরা জনা দশেকের একটা গ্রুপের মেম্বার ছিল। তাদের কয়েকজনকে তখনকার ওই লোক-ছেলেটির খানিক কম বয়স্ক আর অন্যদের একটু বেশি বয়স্ক মনে হয়েছিল। ওই দু ধরনের মেয়েদের মধ্যেই, একাধিকের পাশে একটা করে বাচ্চা দাড়িয়ে ছিল কিম্বা তাদের কোলে বিশ্রাম নিচ্ছিলো কিম্বা তাদের স্তন্যপান করছিলো। কয়েকটি মেয়ে বসেছিলো, বাকিরা দাঁড়িয়ে ছিলো, কিন্তু সবার চোখ ছিল ক্যামেরার দিকে। প্রত্যেকে তাদের কুঁচকি বরাবর একফালি কাপড় পড়েছিলো কিন্তু তাছাড়া তাদের অন্য কোনো আচ্ছাদন ছিল না। বসে থাকা মেয়েগুলোর মধ্যিখানে একটা দাড়িওয়ালা লোক বসেছিল যাকে তখনকার ওই লোক-ছেলেটার ভীষণই বুড়ো মনে হয়েছিলো। ছেলেটা এই দৃশ্য-মানুষগুলোর ইলাসট্রেশনের নীচের ক্যাপশনটা বেশ কয়েকবার পড়েছিলো তখন, কিন্তু লোকটা যখন ছেলে-লোক হয়ে উঠলো তখন তার ওই ক্যাপশন থেকে শুদ্ধু এটুকু মনে পড়লো যে ওই দাড়িওয়ালা লোকটার নামের আগে টাইটল্ দেওয়া ছিল 'কিং' আর মেয়েগুলো ছিলো ওর বউ।

উল্লিখিত দুই ইলাসট্রেশনের দ্বিতীয়টা যে পাতায় ছাপা হয় তার ভেতরকার মার্জিনের কথা এর আগের প্যারায় বলা হয়েছে। ইলাসট্রেশনটা ছিলো একটি নগ্ন যুবতীর যে একটুখানি বালিয়াড়ির ওপর বসে ছিল আর তার সামনে ছিল বড়সড় একটা পাথর যাকে ছেলেটা বরাবরই সমুদ্র বা শান্ত খাঁড়ির পাশে উঁচু পাহাড়চূড়োর গোড়ার দিক বলে ভেবে এসেছিলো। অল্পবয়েসী দৃশ্য-মেয়েটি এমনভাবে বসেছিলো যাতে তার কুঁচকি ক্যামেরার আড়ালে থাকতে পারে, যদিও তার বুকদুটো বেশ দেখা যাচ্ছিলো।

উল্লিখিত ছেলেটা প্রথম ওই নগ্ন যুবতীর ছবি দেখেছিলো পূর্বোল্লিখিত সাদা কাগজের ফালিটা খুঁজে পাবার বছরখানেকেরও আগে। যখন ছেলেটা প্রথম ওই দৃশ্য দ্যাখে, সে ধরেই নিয়েছিল যে ওই ইলাসট্রেশনের আশেপাশের পাতার গপ্পে নিশ্চই অমন এক আপাত জনহীন খাঁড়ির পাশে বসে থাকা নগ্ন যুবতীর কথা লেখা আছে। পরে ছেলেটা জানতে পেরেছিলো যে ওই পাতাগুলোয় গপ্পটা যে আপাত-ঘটনাগুলোকে রিপোর্ট করছিলো সেগুলো হয়ত ঘটে থাকবে উনিশ শতকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের কোনো এক জায়গায়। এর থেকে ছেলেটা সিদ্ধান্ত ন্যায় যে ওই নগ্ন যুবতীর ছবি ম্যাগাজিনে বের করার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কোনো একটি ছেলে যার মনে প্রায়ই কোনো এক উঁচু পাহাড়চূড়োর পাশে এক জনবিরল খাঁড়ির দৃশ্য ভেসে ওঠে, তাকে আরো সহজে ওই জায়গায় একটি নগ্ন যুবতীর ছবি দেখানো।

উল্লিখিত ছেলেটির উল্লিখিত কাগজের ফালিটা খুঁজে পাবার পঞ্চাশ বছর পর, যে লোকটা ছেলে থেকে ছেলে-লোক হয়ে উঠেছিলো সে উল্লিখিত বুকশেলফের কোনো বইয়ের কোনো পাতায় পড়া কোনো বাক্য বা শব্দ-বন্ধ আর মনে করতে পারেনি। ও বড়জোর মাঝে মাঝে কোনো একটা বইয়ের শেষের দিকের পাতার কয়েকটা শব্দ মনে করতে পেরেছিলো, কিম্বা যাকে ঠিক বাক্য না বলে বলা যায়, ওই পাতার কোনো একটা বাক্যের অর্থ।

উল্লিখিত শেলফের কোনো একটি বই বিশ শতকের তৃতীয় দশকে বেরোনোর পর থেকে অনেক হাজার হাজার লোক সেটা পড়ে প্রশংসা করেছিল; ছেলেটা ম্যাগাজিনের পাতার ভেতর থেকে পূর্বোল্লিখিত সরু কাগজের ফালিটা খুঁজে পাবার কয়েক বছর আগে বইটার ডাস্ট-জ্যাকেট পড়ে এমনটাই জানতে পারে। ছেলেটা হয়ত বইটা পড়তে শুরু করে দিতো, যদি না ডাস্ট-জ্যাকেট পড়ে সে জানতে পারতো যে বইটায় বর্ণিত ঘটনাগুলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা বেলজিয়ামে ঘটে। ছেলেটা কখনই সৈনিক, যুদ্ধ অথবা যুদ্ধাস্ত্র, ধ্বংস হওয়া ল্যান্ডস্কেপ বা বোমায় প্রায় নিশ্চিহ্ন বাড়ির কথা পড়তে চাইতো না; সে পড়তে চাইতো সাধারণ সব দৃশ্য-পরিসরের কথা যেখানে এক দৃশ্য-মানুষ যে ওর থেকে খুব একটা আলাদা নয়, হয়তো নিতান্তই ঘটনাহীন একঘেয়ে এক দৃশ্য-জীবন কাটিয়ে দিতে পারতো, কখনো কোনো দৃশ্য-দৌড় সভায় অংশ নিতো, সবসময় অপেক্ষা করতো কোনো এক দৃশ্য-নারীর জন্য যে হয়তো তার প্রেমে পড়বে একদিন, প্রায়ই এটা-ওটা বই পড়তো যেগুলো থেকে ওর মনের ভেতর নিতান্তই সাধারণ সব দৃশ্য-পরিসর এবং প্রায় নিস্তরঙ্গ সব দৃশ্য-জীবন সেঁধিয়ে যেতো, হয়তো কোনো একদিন সে এক দৃশ্য-গল্প লিখেও ফেলতো যেখানে অতি সাধারণ এক দৃশ্য-পরিসরে এক দৃশ্য-মানুষ যে কিনা ওর থেকে খুব একটা আলাদা নয়, সে হয়তো বেঁচে নিলেও বেঁচে নিচ্ছিলো...

যদিও সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো উল্লিখিত বইটা পড়বে না, ছেলেটা কোনো একসময় বইটার শেষ কয়েকটা পাতার ভেতর উঁকিঝুঁকি মেরেছিলো। (আগামী পঞ্চাশ বা তার থেকেও বেশি বছর ধরে ও এভাবেই উঁকিঝুঁকি মেরে যাবে। প্রায়ই এইসেই বইয়ের দোকানে কিম্বা কোনো বন্ধুর বাড়িতে বইয়ের শেলফের এদিকওদিক ও কোনো বন্ধুর রেকমেন্ড করা কিম্বা সুসমালোচিত কোনো বইয়ের শেষ কয়েকটা পাতা উল্টেপাল্টে দেখে যাবে। ছেলে-লোকটার এমন করার একটা কারণ পুরো বইটা পড়া যায় কিনা তা বোঝার চেষ্টা করা, আর আরেকটা উদ্দেশ্য, লোক-ছেলে হিসেবে প্রায়ই ওর যা মনে হয়েছে সেটাই আবার অনুভব করা: অর্থাৎ একটা গল্পের বইয়ের সংজ্ঞাই হলো তার কখনো শেষ হতে না পারা; অর্থাৎ একবার যা তৈরী হয়ে গ্যাছে, তা আর কিছুতেই নিশ্চিহ্ন হতে পারে না; অর্থাৎ যখনই কোনো এক ধরণের পাঠকের কোনো এক ধরণের লেখকের লেখা পড়ার মধ্য দিয়ে কিছু দৃশ্য-মানুষ আর দৃশ্য-পরিসর অস্তিত্ব পেয়ে যায়, তারপর থেকে সেইসব দৃশ্য-বাস্তবতা আরেক ধরণের পাঠকের অনেকদিন পর সবকিছু ভুলে যাওয়া স্বত্ত্বেও তাদের দৃশ্য-অস্তিত্ব বজায় রাখতে বাধ্য থাকে।)

উল্লিখিত ছেলেটি জানতে পারার অনেক বছর পরও মনে করতে পেরেছিলো, গুলির শব্দ আষাড়ে যুবকটির আষাড়ে মৃত্যুর আগের কয়েক মুহূর্তে কেমন যেন উঁচু পাহাড়চূড়োর কাছাকাছি সমুদ্র বা খাঁড়ির ঢেউয়ের শব্দের মত মনে হয়েছিলো; অমন একটা জায়গায় ছেলে থেকে লোক হয়ে ওঠার আগে ও একটা গ্রীষ্মের ছুটি কাটিয়েছিলো; সেটা ছিলো আষাড়ে ইংল্যান্ডের আষাড়ে এক দক্ষিণ-পশ্চিম।