শেফালি কি জানে?

হাসনাত শোয়েব




সম্পর্ক কেবল পাখিদের মধ্যে হয়ে থাকে। তারা জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা একা কথা কয়। বন্ধুহীন পাখিরা এমনই। তারা কেবল একা একা নিজের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। একটা বৃত্তের ভেরত বসে তারা ঘাস খায়। আর থাকে একটা হলুদ বাসের জন্য অপেক্ষা। তাদের ঘড়িগুলো এলুমিনিয়ামের তৈরি। সেখানে তারা সময় দেখে আর মনে মনে শিস দিয়ে গান করে, "It's four in the morning, the end of December/ I'm writing you now just to see if you're better." এভাবে তারা নিজেদের ফেমাস ব্লু রেনকোটের গল্প বলে। শেফালি এবং মিরনের গল্প বলে, সাথে মুফত হিসেবে আসে নওশাদও। যেন এক আরব্য রজনীর উপাখ্যান।
পাখিরা সাধারাণত যে সম্পর্কের জন্য উন্মুখ থাকে তাকে আমরা মাছ বলে জানি। আর পাখি ও মাছের কোলাজে থাকে মাছরাঙা। মাছরাঙা মূলত পাখিদের জারজ। তার সংসার তাই সবসময় জলে। সে কখনো জলের মতো ঘুরে ঘুরে একা একা কথা বলতে পারে না্। সে কেবল জলের দিকে তাকিয়ে হাহাকার করে। তার মন বিষাদে ভরে উঠে। মাছরাঙা তাই ভবিষ্যৎ বলতে পারে। যেভাবে সে বলেছিল শেফালি এবং মিরনের গল্প। তাদের সমূহ মিলন এবং বিচ্ছেদের গল্প।
আজ মাছরাঙাদের শুক্রবার। তাই আজ আমাদের মাছরাঙাটি দেরি করে ঘুম থেকে উঠে। তার ভবিষ্যত দেখার সময় পার হয়েছে আরো পঁচিশ মিনিট আগে। এর মাঝে মিরনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ডানাসহ উড়ে গেছে শেফালি। শেফালির পালকে লেগে আছে পাখিদের রক্ত ও ঘামের গল্প। অদ্ভুত এক সম্পর্কের ইতিবৃত্ত।
মানুষের উড়ে যাওয়ার লুকিয়ে আছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। যেমন শেফালির উড়ে যাওয়ার মধ্যে আছে ব্রক্ষ্মান্ডের গোপন সব রহস্য। মিরন সেইসব সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে থাকে। আর ভাবতে থাকে ঘাম এবং নুনের সম্পর্কের কথা। যেমনটা বলেছিলেন রনজিৎ দাস, ‘ঘামে যে রয়েছে নুন, তার অর্থ সমুদ্রে ছিলাম…'। পৃথিবীর এই সম্পর্কের কিছুই উদ্ধার করতে পারে না মিরন। ঘামের সাথে নুনের সম্পর্কের মতোই তার সাথে মিশে আছে শেফালি। এ কথা কি শেফালি জানে।