একটি খাদ্য বা রান্না বা চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কীকরণ

শুভ আঢ্য




হাইট - পাঁচফুট ন’ ইঞ্চি, ছাতি – বেয়াল্লিশ, কোমর – ছত্রিশ... এমনভাবে আপনাকে মেপে নিতে আমার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবে না। গ্রে ম্যাটারের তলায় টর্চ সেঁধিয়ে দিয়ে দেখে নেবো আপনার গ্রীষ্মকালের জানলা খোলা রাখার কারণ আর শীতকালে হিটারের অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখার পেছনেই তো আপনার স্টেনোর বসন্তকাল। উল্লেখ্য, দেখা তো সবই যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া পিপিং থেকে পার্কস্ট্রীট উঠে আসছে প্লেটে, হালকা ধোঁয়ার সাথে চিড়বিড়িয়ে উঠছে স্টেকের সাথে অন দ্য রক্‌স, আর পার্টনার, আমাকে আপনি খুঁজে বেড়াচ্ছন তলপেটে, খুঁজে বেড়াচ্ছন আলস্যে, আর মাইগ্রেনের তলায়?
অতএব আমি আছি, বহাল তবিয়তে আছি আপনার ভেতর, গোকুলে বাড়ছি আপনাকেই বধিব বলে, কারণ আপনি ছাড়া আর অস্তিত্ব কি’ই বা আমার! সকালে উঠে গার্গল, পরিমিত গ্রীন টি, ফাইবারযুক্ত থিন অ্যারারুট খেয়ে কন্সটিপেশনকে বাগে আনবেন ভাবলেন, প্র্যাকটিসও করলেন, ভাবলেন দুপুরের রোদে মাথা ব্যথায় মাইগ্রেনের ওষুধ নেবেন বা বাড়ি ফিরে নবরত্নের মাঝে আবার ফিটনেস স্যাভি হয়ে উঠবেন... কিন্তু সে অন্ধকারে আমি বেড়ে উঠছি আপনার গর্ভে, ডালপালা মেলে বিস্তার করছি বসতি। ভাবুন এক জনবসতির কথা যেখানে উচ্ছেদ নেই, রাষ্ট্র নেই, খবরদারি নেই, আইন নেই, শুধু এক নাগরিক মনের সুখে বিস্তার করে চলেছে বংশ যার হাত পা নেই, অণ্ডকোষ বা যোনিও নেই। বিনা ট্যাক্স বা জিএসটি’তে সে আদায় করে নিচ্ছে সমস্ত সুযোগসুবিধা, অথচ আপনি তাকে মনিটর করতে পারছেন না, জানতে পারছেন না অনিল কাপূরের মত লাল কাচেও তাকে দেখা যায় না বলেই তার নাম মিঃ ইণ্ডিয়া নয়, এমনকী আপনি তার নামও পারছেন না জেনে উঠতে। শুধু উপসর্গের মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছেন অস্তিত্ব। অর্থনীতি নিয়ে বসেছেন, মন দিচ্ছেন ফ্রি-রাইডার তত্ত্বে অথচ আটকাতে পারছেন না, আপনার টোলপ্লাজার গেটের সামনে নিজেই নিধিরাম হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আর সামনে এন্তারসে ঢুকে যাচ্ছে বাইক, আপনার মগজে জট পাকিয়ে যাচ্ছে, বাচ্চারা যেভাবে দড়ি পাকিয়ে মজা পায় এবং কাজ না থাকা বয়স্করা সেই গিঁট খুলে আনন্দ পায় তেমন জট... আপনার মাথায় আলো জ্বলছে, চোখের সামনে থাকতে থাকতে ব্লার হয়ে উঠছে দৃশ্য। দৃশ্যান্তরে আপনি দেখছেন ফিতে জড়িয়ে রয়েছে এক প্রাণ, এক প্রাণী।
চাপের বাইরে আপনি দেখছেন স্বপ্নে পিগিব্যাঙ্কের ভেতর থেকে বেরিয়ে আমি অনর্থ হয়ে উঠে আসছি আপনার শরীরে। কিউট গোলাপীর পোঁদের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে ধূসর করে দিচ্ছি ইকোসিস্টেম। প্রথমত আপনি চিনতে পারছেন না আমায়, দ্বিতীয়ত যখন চিনছেন আমাকে, আপনার ভেতর আমি ও টেপওয়র্ম বলে এক শব্দ যুগপথ ঢুকে পড়ছে। আপনি গুগুল করে জানছেন আমার অস্তিত্ব ধারক ছাড়া সম্পূর্ণ নয় অর্থাৎ এই পরজীবী আমি আপনার অঙ্গাঙ্গী সঙ্গী এখন, চিকিৎসকের কাছে জানতে পারছেন আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করার কথা। অথচ আমি থেকেই যাচ্ছি আপনাতে, খাচ্ছি একই খাদ্য, পুষ্ট হচ্ছি, আপনার মলেই কর্পোরেট হয়ে উঠে শুকিয়ে দিচ্ছি আপনারই ভরন্ত তলপেট, পুঁতে দিচ্ছি ফ্র্যাঞ্চাইজি আরও অন্যান্য অঙ্গে। ইচ্ছে বলে যা কিছু বুঝছেন তখন তার নিয়ন্ত্রক আমিই, সেই ব্যথার ধারণা, সেই ক্ষুধামান্দ্যর অভিজ্ঞতার পাঠ পড়াচ্ছি আপনাকে। অন্ত্রের বাইরে আমি এক পাকানো রাস্তা, তার বাইরে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কোথাও কোনো গন্তব্য খুঁজে পাচ্ছেন না, যেন মেঘ করেছে পাহাড়ের ওপর আর আপনি ধসের ভয়ে উঠতেও পারছেন না আবার নামতেও পারছেন না তরাই অঞ্চলে, যেন মেলার বাইরে রাইডের অপেক্ষায় কোনো বাচ্চা ছেলে বা মেয়ে দেখে রাইডটা ক্রমাগত তার মাথায় পাকিয়ে যাচ্ছে আর তা থেকে নেমে আসছে আনন্দ, আপনিও সে সবই ভাবছেন আক্ষরিক, শুধুমাত্র নেগেটিভ মোডে আপনার বাটন আমি চালু করে দিয়েছি আর তার রিমোট এখন আপনার হাতে নেই। আমি চাই আপনার পজিটিভ ভাবনা চুষে বেড়ে উঠতে, তার বদলে ট্রান্সফার করে দিচ্ছি আপনার মধ্যে অন্ধকার, আর বেড়ে উঠছি। এই’ই ভাল থাকা আমার, খাদ্য তৈরী আর আহরণ করে এভাবেই বেড়ে থাকা, এভাবেই পাকিয়ে রাখা বংশ ছড়িয়ে দেওয়া, কারণ আমার জোনোসিসের জন্য উপযুক্ত হিসাবে বেছে নিয়েছি আপনাকেই।
আপনার ভেতর আশঙ্কা ইনজেক্ট করে দেওয়াই আমার ইচ্ছে, আমার মতলব আপনাকে বাঁচিয়ে নিজে বেঁচে থাকা, আর আপনার অন্ত্রের ভেতর সাজিয়ে রাখা একটা নতুন শহর, যেখানে কিলবিলিয়ে উঠবে আমার ধড়, আমার স্কোলেক্স, ঘাড় ও শরীর। আমারই মত আরও আমি’রা ঘুরে ফিরে বেড়াবে সেই শহরময়, আপনার মাংসের ভেতর, অন্ত্রের পাশে, শিরা থেকে রক্ত, পুষ্টি নিয়ে তারা যুগ যুগ বেঁচে থাকবে। এই শহরের ভেতর আপনার চামড়ার তলায় সূর্যালোকের অভাবে, বিজ্ঞানের অভাবে চিকিৎসার অভাবে আমরা বেঁচে থাকব।
আমি ছড়িয়ে পড়ব আপনার থেকে অন্য আধারে, বেঁচে থাকবো গোলাপী পিগের ভেতর, কাঁচা মাছের ভেতর, আর বুনে যাবো অন্ধকার, অন্ত্রের ভেতরে অন্তহীন ইনজেক্ট করে দেবো রক্তবীজের বংশ। গ্রে ম্যাটারের তলায় আমি দেখতে পাবো আপনার ইচ্ছেরা ঘোরাফেরা করছে আর তাদের ভেতর মিশে তা পরিবর্তন করব, পরিকল্পনা, রাতের খাবার মেনু, স্টেনোর সাথে কথা বলার পদ্ধতি আর গ্রীষ্মকালে জানলা বন্ধ রাখার নতুন কারণ, শীতকালে হিটারের প্রয়োজনীয়তা, পার্ক্সট্রীট থেকে ভুলে যাওয়া চিড়বিড় করে ওঠা স্টেকের ধোঁয়া... বদলে প্রোথিত হবে মেডিসিন, আর পথ্যের আতিথ্য যা সহ্য করে উঠতে পারব না।
সরেও যাবো আমি আপনার থেকে এবং তার চান্স শতকরা পঁচানব্বই ভাগ, চিকিৎসাবিজ্ঞানই সে কথা আপনাকে জানাবে। তবু পিগিব্যাঙ্কের ভেতর থেকে আপনি ক’দিনের জন্য ঘুরে আসবেন গোলাপীর তলায়, সেই ধূসরতার ভেতর। মেলার রাইডের বাইরে থেকে দেখবেন আপনার পেটের ভেতর একটা জট পাকানো রাইডে আমি ও আমার মত আমি’রা দৌড়োচ্ছি, হেসে গড়িয়ে পড়ছি, ট্রান্সমিশন হচ্ছে আমার ও আমার মত আমি’দের অন্য আপনার ভেতর অথবা অন্য কোনো পিগিব্যাঙ্কে বা কোনো কাঁচা মাছে, লড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি আধার ছাড়া বেঁচে থাকার, লড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি অন্ত্রের ভেতর অন্য কোনো জটে, যেখানে এখনও আলো পড়েনি, নতুন চামড়ার তলায় আমার স্কোলেক্স, ঘাড় নিয়ে গা ঝাড়া নিয়ে উঠছি, নতুন ইচ্ছের ভেতর।
[বিঃ দ্রঃ – একটি ভিলেন মাফিক ইচ্ছা থেকে লেখা, ইচ্ছের নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তার ওপর পরজীবী হয়ে বসার লোভ থেকে এই বাক্য সংযোজন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে একাংশে নষ্ট ইচ্ছের সততার কাছে রিপুর বশ্যতা স্বীকার করা ছাড়া আর কিছু নয়। ভালো থাকুন, বিজ্ঞানে থাকুন। সজ্ঞানে থাকুন, স্টে অ্যালার্ট। ]