ইচ্ছে নদীতে কিছুক্ষণ

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়



ইচ্ছের গভীরে সাঁতরাই । একটা মেয়ে আকাশ হয়ে আসে । সেখানে সে ডানা রাখে । আমি তার বুকে চাঁদ পড়ি । ওই যে কলঙ্ক বলে যাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে তাকে ছুঁই , কলঙ্কিত হওয়ার ইচ্ছেপূরণ হয় ।
রোদের পাঠশালায় যাওয়ার অনুমতি নেই । ক্ষুধার্ত বাঘেরা
জিভ নিয়ে খেলা করতে করতে
দাঁত বসিয়ে দেবে । গোধূলির পর অন্ধ স্কুল আমাকে ডাকে । তারা আমাকে কালপুরুষ করে তোলে
আমি হরিণের পিঠে চড়ে ওদের কস্তুরি বনে যাই । ওরা জলের ছায়ায় আমায় নক্ষত্র সাজায় । আকাশী মেয়েটি নিজেকে খোলার পর আমাকে ধরে । ধরা
দেওয়ার ভিতরে একটা অনির্বচনীয় আনন্দ থাকে । লজ্জা খসে গেলে ভীষণ হালকা বোধ হয় । মেঘ সরে গেলে চাঁদে মুখ রাখি আর সমুদ্রের গোঙানি
শুনতে পাই । কামিনী ফুলের গন্ধ ঘিরে রাখে আমায় । সমস্ত শীত আর জড়তা কেটে গেলে এক আবহমান গ্রীষ্ম শরীর ধারণ
করে । কবির ইচ্ছে পূরণ হয় তার
কল্পপ্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হলে । একটা শিহরণ লাগে মহাকালের খাতায় । হাজার হাজার বছর তার অক্ষরের সুবাস নেয় মানুষ ।
ছোটবেলায় আমার হাতে কলম এলে কিছু লিখে ফেলা আর রঙ পেনসিল দিয়ে কিছু ছবি এঁকে ফেলা আর স্বপ্ন দেখা বড়ো লেখক হবো কিংবা শিল্পী । ইচ্ছে পূরণের এই জায়গায় নানা বাধা আছে সে খবর যতো বড়ো হলাম ততোই পরিষ্কার হয়ে গেল । রোদ্দুর হওয়ার ইচ্ছের উপর তখন অনেক ট্যুইশন করে টাকা যোগাড় আর সেই টাকায় পড়া চালিয়ে যাওয়া । একটা দৌড় ছিল আর অনেক পাঁচিল ডিঙিয়ে একটা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা । কিন্তু ওই যে মনের ভিতরে একটা ক্ষ্যাপা খুঁজে মরছে কবিতার পাতা । তার প্রেমে পড়লে আবার ইচ্ছে চাগিয়ে ওঠে । ঈশ্বরের হাত হয়ে ওঠে কলম । অক্ষর কর্মী হয়ে অক্ষর লিপি লেখা হতে থাকে ।
এই তো আনন্দ আর এই তো ইচ্ছে পূরণের গল্প ।
মায়াক্রিম মেখে পড়ে পাতাহীন গাছ
ওর ভিতরে অনেক গল্পের শাখাপ্রশাখা
ছায়া দেখছে আমি
কিছু দূরের রেললাইন
শালিক উড়িয়ে দিচ্ছে ট্রেনের সংবাদে
ভাবনাকে একটা জামা দিলে
সে রঙচঙে হয়ে ওঠে
কিছক্ষণ আগেও ওর স্তনে
মুখ দিয়েছিল একটা ধূর্ত শেয়াল
আর ও ক্রমশ আশ্চর্য থেকে ধূসর
ছোঁ একটা মৃত মাংস চাইছে
কাছাকাছি কাকের অভাবি ঠোঁট
পাঠের রক্তে কেউ ভাষাকে উসকে দিতে চাইছে
ঈশ্বরের কোনো গন্ধ নেই সূর্যে
তবু না এলে বেশ অন্ধকার
তোমায় ছুঁতে পারি না ইচ্ছে জন্মের পরেও