ইটস আ ওয়ান্ডারফুল লাইফঃ পার্ট টু ...

অনির্বাণ ভট্টাচার্য




ক্যালিফ। ম্যারিন কান্ট্রি। গলা থেকে বেল্টটা নামালেন রবিন উইলিয়ামস। থাক। সেকেন্ড অপিনিয়ন নিতে হবে। আঁচ করে ছুটে এলেন সুজান। ‘দা টেররিস্ট ইনসাইড অফ মাই হাসব্যান্ড’স ব্রেইন’। লিউই বডি। বেল্টে কিছুটা শ্বাস লেগে আছে। জড়িয়ে ধরলেন সুজান স্বামীকে। এবং রবিন স্ত্রীকে। একটু হাওয়া নিতে বেরোলেন। ম্যাটকে দেখা যাচ্ছে না। তবে দূর থেকে নতুন ছেলেটা টলতে টলতে আসছে। হিথ। তাঁর দিকেই চোখ। হাসি। বিড়বিড় করছে। হুইটম্যান? ‘দা পাওয়ারফুল প্লে গোস অন, অ্যান্ড ইউ মে কন্ট্রিবিউট আ ভার্স’। রবিন ঠোঁট কামড়ালেন। ‘সন অফ আ বিচ, হি স্টোল মাই লাইন’। পাশে ফিলিপ সিমুর হফম্যান। ম্যানহাটান অ্যাপার্টমেন্টে ওর পড়শি। ‘সিনেসডসে নিউইয়র্ক’। ছবির ভেতর ছবি। তার ভেতরেও ছবি। ‘যাদের কোনও ঘর নেই, কোনোদিন হবেও না। যারা একা আছে, চিরটাকাল একাই থাকবে’। অসম্ভব। রবিন রিলকে পড়েননি। এসব মিথ্যে। ফিলিপ, তোমার মুখে ওগুলো কিসের দাগ? – sycosis। অবশ্য তুমি psychosis-ও বলতে পারো। বানানদুটো আলাদা। মানেও। তুমি যদি পাগল হয়ে যাও, পরেরটা। আর যদি প্রথমটা হয়, তাহলে স্রেফ মুখে দাগ হয়েছে তোমার। - কিন্তু ফিলিপ, তোমার তো দুটোই হতে পারে? – হ্যাঁ, তা পারে...। আচ্ছা, ফিলিপ। এমন একটা ছবি করা যায় না। একজনের লিউই বডি। ডিমেনশিয়া। অ্যাকিউট ডিপ্রেশন। রোজ একটা করে সিম্পটম। বাঁচতে গেলে মরতে হবে। ঝুলে পড়তে হবে। বেল্ট। আর দুজনের ড্রাগ। মরফিন। তিনজন তিনজনকেই বাঁচানর চেষ্টা করছে। রবিন ফিলিপের দিকে তাকালেন। শরীরটা ফুলছে দুদিকে। মুখে হাসিটা একইরকম। আমিও ঠিক এরকমটাই ভাবছিলাম যে...। হাতে করে ধরা অ্যামফিটামাইন, বেঞ্জোডাইঅ্যাজিপাইনে র প্যাকেট লুটোচ্ছে ফুটপাথে। হবে রবিন। আমরা সবাই আবার একসাথে ছবি করব, বেঁচে থাকার...।

বেঁচে থাকার কথা বলতেই হুড়মুড় করে উঠে পড়েন পীযূষকান্তি। এই বয়সেও। আশি ছুঁল। সেরিব্রালটার পর থেকে শরীরটা আর পোক্ত নয়। তবে দুটো জিনিস শুনলে চোখ চকচক করে ওঠে। ইংরিজি সাহিত্য। গান। আর রবীন্দ্রনাথ। মা স্মৃতিরেখার ছবিটা মুছলেন পীযূষ। গলা ছাড়লেন। ‘জীবনলতা অবনতা তব চরণে ...’। স্কেল ওঠাতে গেলে লাগছে ...। তবু...। এখন এসব বলতেন না। কালিকা বলাল। শিলচরের ছেলেটা। সিউড়ী থেকে গান সেরে ফিরল। - ফেরার পর জড়িয়ে ধরছিল লোকগুলো পীযূষদা। রবীন্দ্রনাথ করছিলাম। নিশিদিন এই জীবনের তৃষার পরে ভুখের পরে। পীযূষদা, বাবা চলে যাওয়ার পর তো রবীন্দ্রনাথ আসেননি। রামপ্রসাদ এসছেন। তাহলে কেন আজও ওই লোকটাই আমার গলা পেলে এখনো জড়িয়ে ধরে ফেলতে চায়? পীযূষকান্তি বলতে পারলেন না। কালিকা গাইছিল – ‘জলে কেন ডাঙায় আমি ডুবতেও রাজি আছি...’ পীযূষকান্তি গলা মেলালেন – ‘....যদি ভাসিয়ে তোলো তুমি’। দুজনের মাঝে ছায়ার মতো এসে দাঁড়িয়েছেন জর্জদা। কালিকা দেখতে পেলনা। পীযূষকান্তি দেখতে পেলেন। হাসলেন।

হাসিটা লেগে ছিল কুণালের। আছেও তো? ‘উৎসবের রাত্রি’র শেষটা করা হয়নি। যীশুদা বলে গেছে, কুণাল সেরে ওঠ। বুকে হাত দিয়ে বসে থাকলে চলবে? তুই না ফাইটার? যুগান্তের ভাইয়া। রাশি রাশি হেক্টর জমি ড্যামের জন্য তলিয়ে যাওয়ার জন্য স্বার্থপর দীপু এড়িয়ে যেতে গেলে যে বলেছিল, দীপুদা, আপনি একটা কাজ করুন। একটা কয়েন টস করুন। ছয় ছুটি পরে হবে কুণাল। অরুণ চ্যাটার্জির মতো গলা তোর। গ্রীকদের মতো দেখতে। রোগা হ’। তারপর চুটিয়ে অভিনয় কর। সব ছবি নিস না। কুণাল ঘোর ছেড়ে বেরলেন। শিলাদিত্যকে দেখা যাচ্ছে। কোঠারি মেডিকেল রিলিজ করে দিয়েছে? কুণাল হাঁফ ছাড়লেন। মায়ার মতো চোখ। ভরাট গলা। এর কিভাবে কিডনী ফেল করে! জণ্ডিস তো? তাও কি আর সারবে না? কাঁধে হাত রাখলেন। এই ছেলেটার এই দোষ। যখন তখন চোখে জল। ছুটতে ছুটতে ঝোলা ব্যাগটা ফেলে দিয়ে বসে পড়ল পীযূষ। ওরে আস্তে গাড়ি চালাস। বড় ভালো গায় ছেলেটা। সাঁতরাগাছি ব্রিজের আগে গাড়ি থামিয়ে সেদিন কত কথা। - আমাদের আরও ভালো ছবি করতে হবে পীযূষ। আরো নাটক। বড় বেশি টিভিতে ঢুকে যাচ্ছি যে। পীযূষ ঘাড় নেড়েছিল। সন্যাসী রাজা শেষ করল। জলনূপুর। - কুণালদা, চাপে আছি গো। পুজোর পর হবে একদিন...। এই সেদিনও ঋতুদা ডাকল। করতে হবে কুণালদা। আমাদের কিছু একটা করতেই হবে। - সে না হয় হবে...। এখন আপাতত কিছু একটা ধর না ...। ঢক ঢক করে এক বোতল ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিল। তারপর খাঁ খাঁ ইন্দ্রপুরী স্টুডিও মাতিয়ে গেয়ে উঠল ...’আমার যাওয়া তো নয়, যাওয়া...’। পাশ থেকে শিলাদিত্য হুহু করে কেঁদে চলছে। কুণাল, থামালেন না।

থামাটা জয়দেবের স্বভাবেও নেই। আনন্দবাজারের অবিচুয়ারি পড়ছেন। শালা ...। এরাও সাংবাদিক! খিস্তি বেরিয়ে গেল। দুটো দিন ঘুম হয়নি। বাইরে এলেন। বারান্দা। আলো। হাওয়া। রাজনীতি আর প্রেরণা দিচ্ছেনা। বিশ্বাস। বিশ্বাস ভাঙা। আর তাছাড়া ‘আলোবাতাসের চেয়ে সার্থক প্রেরণা আর কিই বা আছে?’। ডায়েরী খুলে বসলেন। একেকদিন আগেরদিনের চেয়ে বেশি করে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে। তবু, মরাটা কাজের কথা না। মৃত্যু না। মৃত্যু না। ‘মৃত্যুকে ঘৃণা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই’। মল্লিকা আর নবারুণদা বসে। দূর থেকে হাত নাড়ল। ‘তোদের আরও ইউনাইটেড হতে হবে রে জয়দেব’। তারপর আগেরদিন দেখা তারকোভস্কির স্যাক্রিফাইসের কথা বলতে শুরু করলেন মানুষটা। ‘সব রোগ সেরে যায়। যদি তোর ইচ্ছেটা থাকে। শুধু প্রত্যেককে একটা স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে হবে’। পাশ থেকে হাসল মল্লিকা। কিছু কিছু নারী আছে, যার সঙ্গে কয়েকজীবন হেঁটে যাওয়া যায় একফোঁটাও কথা না বলে। সে হয়ত বলবে – ‘আমরা তো জানি পৃথিবী রমণী আকাশ আদিম পুরুষ...’। তবু, এ তো কথা নয়। শূন্যতা শুরু করার একটা জোর মাত্র। ‘সব অসুখ সারে, জয়দেব। ক্যান্সারও। সময় সব সারায়’। নবারুণদা বলে চলছেন। জয়দেব উঠে চলে গেলেন। জুরার মুখটা মনে পড়ছে। ওকে নিয়ে খেলাগুলো। উইংস অফ ডিসায়ার....। ‘সময় সব অসুখ সারিয়ে দেয়। কিন্তু সময় নিজেই যদি অসুখ হয়? হোয়াট ইফ টাইম ইটসেলফ আ ডিসিস?’

ভাস্কর অসুখ ভুলে গেছেন। এইসব সারেগামার ভেতর বলার মতো বেঁচে থাকার মন্ত্র যেমন নেই, বড় বেশি অসুখও তাই, বেমানান লাগে। এখন জীবন যাবে, আস্তে চলে যাবে...। শান্ত হতে হবে। এখন শুধুই শান্ত হতে হবে। বাসবীকে বলতে হবে রাতে শুধুই একটা ফাঁকা থালা দিতে। তারপর এঁটো হাতে বেশ কিছুক্ষন বিষাদ আঁকা। নাহ। এভাবে চলছে না। আজ সারারাত একটা খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তারপর কাল থেকেই চুটিয়ে সিনেমা, কবিতা, ডায়েরী...। বেনেপুকুর লেনে বাপ্পার সঙ্গে হাঁটছেন কবি। কবিতা নিয়ে কথা বলতে বলতে সময় কেটে যায়। ছেলেটা মেঘালয় থেকে জ্বর নিয়ে ফিরল। এখন একটু বেটার। চেরাপুঞ্জিতে প্রথম পাঁচদিন কোনো বৃষ্টি নেই। আর তারপরই। বাপ্পাদিত্য চুটিয়ে স্যুট করলেন। ভিজলেন। আহ। বৃষ্টি। কুয়াশা। মেয়েরা হাত ধরে হাঁটছে ছেলেদের। ছবি চলুক। তবু, পুরনো লেখাগুলো আবার নিয়ম করে খুলে বসতে হবে। আজ থেকেই। ভাস্করদাকে এগিয়ে দিয়েই। এত কম লেখা কেন? ‘দ্যাখো, তরমুজ খেতের পাশে দাঁড়িয়ে আছি আমি মালগাড়ির মতো। দ্যাখো, প্রজাপতির মতো আমার আঙুলগুলো আবার ঝুঁকে পড়েছে সাদা পৃষ্ঠার ওপর’। নাহ, কাশতে গেলে আর কোনো ব্যথা হয়না বাপ্পার।

ব্যথা বলতে সারা গায়ে একটা দগদগে বোধ আছে হ্যান্সির। ওপর থেকে ভেঙ্গে পড়ার মতো একটা ব্যথা। হ্যান্সি মানে ক্রোনিয়ে। হ্যান্সি মানে স্বপ্ন। স্বপ্নভঙ্গ। একটা বিশ্বকাপ দেশকে দেবেন না? টেবল পাহাড়ের দেশে হ্যান্সি প্লেন থেকে নামেন। দুচারটে হুক। ফিল্ডিং প্র্যাকটিস। হাত ঘোরানো। সারাদিন। সন্ধের পর প্লেন ধরেন। কে চোকার্স? লড়াকুদের, স্বপ্নকণ্ঠদের কোনও ট্রফি লাগে না। তবু। একটা বিশ্বকাপ সাউথ আফ্রিকাকে দেবেনই ক্রোনিয়ে। ম্যাক? প্যাট? অ্যালান? তৈরি হও মেট। অনেক দূরে একা একা প্র্যাকটিস ফিলের। ফিল। ফিল হিউজ। পোজিশনটা হাতছাড়া হয়ে গেছে। এমনিতেই দল খুব একটা ভালো খেলছেও না। পেস দরকার। পেস খেলতে হবে। আগুন। শনকে বলা আছে আরও জোরে করতে। শন। শন অ্যাবট। বাউন্সার। ফাস্ট। ছেলেটা এখনো আসছে না কেন? ঘড়ি দেখলেন হিউজ। দেরি হয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ার লোকটা পাশে এসে দাঁড়াল। দরকার নেই শনের। ফিল দেওয়ালে বল ছুঁড়লেন। জোরে, আরো জোরে। লোকটা ব্যাটের সামনে এসে ফিল্ডিং করছে। ‘মেট, প্লিজ উইঅ্যার হেলমেট’। লোকটা হাসল। কী হবে? আর তো মাত্র তিনটে বল। ঢাকা আবাহনী। তারপর ফিরে গিয়ে দলে ঢুকতে হবে। ইন্ডিয়ার টিমে। লাস্ট ম্যাচ পাকিস্তানের এগেন্সটে। তারপর এগারোটা বছর? এগারোটা? নাকি সময় থেমে আছে? টেন, নাইন, এইট ... কাউন্টডাউন শুরু করলেন রামন। রামন লাম্বা।

আর কাউন্টডাউনের মজাটা হচ্ছে শুরুটা দশ থেকেই করতে হয়। চমকের জন্য। আর তাছাড়া ধৈর্য ধরার মানুষ কোথায়? কৃশানু নিজেও নন। বল পেলেই দৌড়। কাটানো। দশ নম্বর। নীল সাদা। বেঁটে লোকটা। দল...। দল বদল। লাল হলুদ। আঃ ...। কৃশানু ব্যথায় আনন্দ পান এখন। পা’টা সয়ে গেছে। ধুর? কোথায় গ্যাংগ্রিন? মাইনর কিছু হয়ত। এরকমই থাকবে। আর তাছাড়া কৃশানুর তাড়া কোথায়? অবশ্য পনিকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। টিভি অন করলেন। ইস্টবেঙ্গল আবার জুনিয়রকে নিয়েছে। ডেম্পো থেকে আবার। শালা, পারেও কিছু। এত গোলের ঠিকানা লেখা রিক্রুটমেন্ট এদেশ আগে করেনি। রাইটব্যাক ছেলেটা নতুন। বুঝতে পারছেনা। অবশ্য আগেরটা ভালো ট্যাকল ছিল। এবার অনেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর চিপ করে জালে। তারপর মাটিতে শুয়ে। কৃশানু আঁতকে উঠলেন। শ্বাস থেমে গেল যেন। সতীর্থদের কাঁধে সেলিব্রেশন করে উঠছেন ক্রিশ্চিয়ানো। যাক ..। কৃশানু চ্যানেল পালটালেন। কলম্বিয়া ক্যামেরুনের খেলা চলছে। ক্যামেরুনের ওই ছেলেটা। বল উঠলেই হেড করতে হবে। সেন্টার সার্কেলের কাছে। লুটিয়ে পড়ল। আবার উঠল। উঠল তো? হ্যাঁ। একইভাবে। এভাবে সেদিন সঞ্জীবও উঠেছিল। সবাই, সব্বাই, যেন একইভাবে ওঠে। খেলে। বাঁচে ...। কৃশানুর সারাদিন এভাবেই জনান্তিকে কাটে।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক গ্রুভের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একটা লোক। নিজের কেনা লং ইজেড প্লেন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর এন ফাইভ ফাইভ জে ডি। বহুদিন আর সিরিয়াস গানের ভেতর নেই। ‘ইয়েলোস্টোন, কামিং হোম’ ...। শেষদিকের ওটাই মনে পড়ছে। আবার কখনো আই অ্যাম সরি’র ওই হামিংটা। অ্যানির মুখটা। কিম্বা ঈগলের ঠোঁট। আকাশে ওড়া। এই সবই তো গান। সঙ্গীত। আবার স্টেজ মাতাতে হবে। ডিডিডিডিডিডিডি ... লালালালালালা ...। গলা খুলছে। ক্রমশ আকাশ কাঁপিয়ে গাইছেন জন ডেনভার। ‘ইন আ স্পেসশিপ ওভার দ্য মাউন্টেন, চেসিং রেইনবোস ইন দ্য সেটিং সান ...। সঙ্গীত, প্রার্থনা, শিশু, পাখি, জঙ্গল, কবিতা, অ্যানি ...। ‘হাউ ক্যান আই লিভ ইউ এগেইন ...’।

(কোনও প্রথাগত শেষ থাকল না লেখাটার। আরও অনেক কিছুই জোড়া যেতে পারত। যেমন ধরুন, ব্লগার খুনের পর চুপ করে বসে থাকতে পারছেননা সঞ্জীব চৌধুরী। পাশে বাপ্পা, দলছুট। সঞ্জীবের বয়স বাড়েনা। বাপ্পার কিম্বা ছোট্ট কিংবদন্তির, বাড়ে। কানের একপাশে চুলের গোছাটা সরিয়ে পিতার দিকে তাকিয়ে থাকে দুহিতা – ‘একজন তাজুল ইসলামকে পিটিয়ে লাশ বানানো হয়, একজন ভালোমানুষ মাঝরাতে বাড়ি ফিরে এলোনা...’। বা, শরীরের থার্ড ডিগ্রি পোড়া জায়গাগুলোর সেরে ওঠার দিকে তাচ্ছিল্যভোরে তাকিয়ে শুধু নায়িকা নয়, চরিত্রাভিনয়ে ফিরছেন মহুয়া, মহুয়া রায়চৌধুরী। চোখে সেই অদ্ভুত আকর্ষণ। কিম্বা ম্যাজিকাল একটা টার্ন নিয়ে ফিরে এসে নিস্কেন্স গুয়ারদিওলা রেন্সেনব্রিঙ্কদের গলা জড়িয়ে ধরছেন ক্রুয়েফ। অ্যাজাক্স বা বার্সার হয়ে এরম কত টার্ন নিয়ে হারা ম্যাচ বের করে ফিরে এসছি, এখন অসুখ থেকে ফিরে আসতে পারব না? অথবা নিজের প্যালোস ভারদেস এর বাড়িতে সারারাত চুটিয়ে মজা করছেন চেষ্টার বেনিংটোন-ক্রিস কর্নেল। মদ খাচ্ছেন। আত্মহত্যাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে গলা ছাড়ছেন – ‘হ্যালেলুজা...’।

আমি জুড়লাম না। প্রিয় পাঠক, আপনারা বাকিটা করুন...।)