স্পেন

রোশনি কুহু চক্রবর্তী

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা (১৮৯৮ - ১৯৩৬)

লোরকার কবিতা সব সময়ে ভারাক্রান্ত করে দেয়, ওঁর কবিতায় আমরা পাই দক্ষিণ স্পেনের কথা, আন্দালুসিয়ার কথা, জিপ্সিদের কথা, বিপ্লবের কথা। ওঁর আয়ুষ্কাল খুব কম, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই লোরকা বিশ্ব সাহিত্যকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। GENERATION 27-এর কবি বলা হয় ওঁকে, ‘পোয়েমাস দে কান্তে খোন্দো’, ‘ইম্প্রেসিওনেস ই পাইসাখেস’, ‘রোমাণসেরো খিতানো’ ইত্যাদি ওঁর লেখার মধ্যে অন্যতম। উনি গানও বেঁধেছিলেন বেশ কিছু। কিছু স্যাটায়ারও লিখেছিলেন। লোরকার লেখা পড়ার সময় বার বার ওঁর জন্মভুমি গ্রানাদা, আর সিভিল ওয়ারের কথা চলে আসে। বেশ কিছু কবিতাই রুপকার্থে লেখা, পড়লে মনে হবে প্রকৃতি নিয়ে লেখা বা প্রেম নিয়ে কিন্তু গভীরে গেলে দেখা যায় তার মধ্যে অনেক ক্ষত। স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারের বিরুদ্ধে উনি, পাবলো পিকাসো আরও অন্যান্য সহশিল্পীরা প্রতিবাদে পথে নামেন। পরে ফ্রাঙ্কো বাহিনীর হাতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।

মূল কবিতা ‘La Guitarra’ অনূদিত হল এখানে। লোরকা লিখেছিলেন ফ্রাঙ্কোর শাসনকালে, যখন অনেক তরতাজা যুবকের প্রাণ ঝরেছিল, আর তাই গীটারের শব্দও কান্নার মত লাগছিল তাঁর!


গীটার

গীটারের বিষাদ মূর্চ্ছনা শুরু হল,
ঊষার পেয়ালাকে খানখান করে ভেঙে দিয়ে
গীটারের বিষাদ মূর্চ্ছনা শুরু হল,
চুপ করে থাকা আজ অর্থহীন,
নিস্তব্ধতা একেবারে অসম্ভব।
তুষারপাতের সময় ঠিক জল যেভাবে কেঁদে ওঠে
ঠিক যেভাবে বাতাসের চোখ দিয়ে জল পড়ে
তেমনি একসুরে বেজে চলেছে গীটারটা-
নিস্তব্ধতা একেবারে অসম্ভব।
ফেলে আসা সবকিছুর জন্য এই কান্না,
কান্না দক্ষিণের সেই উত্তপ্ত বালির জন্য।
যা সেই সাদা ক্যামেলিয়া ফুলগুলোকে ডাক পাঠায়-
লক্ষ্যহীন বর্শার জন্য সেই কান্না-
সকালবিহীন দুপুরগুলোর জন্য সেই কান্না-
আর সেই পাখিটার জন্য-
যে প্রথম প্রাণ দিয়েছিল ওই গাছেরই ডালে দোল খেতে খেতে-
ওহ‍! গীটারের সেই বিষাদ মূর্চ্ছনা।
আঙুল দিয়ে গীটার বাজানোর মতই
পাঁচটা তলোয়ারে বিদ্ধ ক্ষতবিক্ষত সেই হৃদয়।