ইচ্ছের ছক্কা

অনিন্দ্য রায়




ইচ্ছে, এটুকু বললে ঠিক বোঝানো যায় না, কতটা তীব্র সেই চাওয়া হতে পারে; বোঝাতে সাধ, না তাতেও ঠিক হচ্ছে না, অভীপ্সা, অভিলাষ, আকাঙ্ক্ষা – কোন শব্দটা যে উপযুক্ত হরে আমি আজও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবুও যখন সে কথা মনে পড়ে না-পারাগুলো, বারংবার সেই ব্যর্থতাগুলোই ভেসে আসে, ভিড় করে আসে। আর সেই ইচ্ছেটা আরও জোরালো হয়ে আমাকে চেপে ধরে, এখনও, পরের বার পারতেই হবে, পারতেই হবে, লুডো খেলতে বসে প্রথম দানেই ছক্কা।
লুডো খেলতে বসে প্রথম দানেই ছক্কা, হ্যাঁ, এই ইচ্ছেই আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেরিয়েছে, এমনকি ঘুমের ভেতর স্বপ্নে-দুঃস্বপ্নে হাত থেকে বোর্ডে গড়িয়ে পড়েছে ডাইস, গড়াতে গড়াতে বোর্ডের অন্য প্রান্তে চলে যেতে যেতে হঠাৎ থেমে গেছে আর আমি অবাক হয়ে দেখেছি ওই ছয়তলঅলা কিউবের অপরের দিকে দুই অথবা তিন অথবা চারটি ফুটকি, কখনো হয়ত খুব জোর পাঁচ; কিন্তু কখনোই ছক্কা নয়।
কখনোই নয়, তা সে স্বপ্নেই হোক অথবা বাস্তবে, যাইহোক আমার ঘুঁটি, লাল অথবা নীল অথবা হলুদ।
সারাজীবন প্রথমদানেই ছক্কা ফেলার অবসেশন আমি বুঝতে চেয়েছি।
৬ – এই সংখ্যাটি হল পারফেক্ট নাম্বার, পারফেক্ট, নিখুঁত। কারণ, তাকে যদি আমরা ভাঙি
৬ = ১ × ৬
= ২ × ৩
এবার যদি আমরা ফ্যক্টরগুলো মূল সংখ্যাটিকে বাদ দিইয়ে যোগ করি সেই মূল সংখ্যাটিই ফিরে পাব।
( ৬ বাদ দিয়ে ) ১ + ২+ ৩= ৬
তাই ৬ হচ্ছে পারফেক্ট।
খেলার প্রথমেই পারফেক্ট কিছু হতে পারে না, তাই কোনোদিনই প্রথম দানে ছক্কা ফেলতে পারলাম না।
কতবার বুঝতে চেয়েছি কীভাবে দান পড়ে লুডোয়। ছোট্ট কৌটোটিতে ছক্কা ভরেছি এমনভাবে যেন নীচের দিকে মুখ করে থাকে ছয়। নাড়িয়েছি এত আস্তে যেন প্রাণভোমরা ভেতরে রয়েছে। ফেলেছি সন্তর্পনে। কিন্তু বারংবার গড়িয়ে গেছে, গড়াতে গড়াতে হয়ত ছয় উঠে এসেছে ওপরে।, মুহূর্তমাত্র, আবার সরে গেছে, যেভাবে মানুষের অপূর্ণ সাধ মাথা তুলেই আবার ডুবে যায়, লোভ দেখায় আরেকটু হলেই তাকে স্পর্শ করতে পারব।
আবার খেলতে বসি, প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, একা। বোর্ডে ছক্কা ফেলে তাকিয়ে থাকি, সেও গড়াতে গড়াতে গড়াতে গড়াতে থামে। ওপরের তলে পুট অথবআ দুই অথবা চার। ছয় নয় আবার দান দিই। জানি, কোনো না কোনো দানে ছয় পড়বেই আর ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে আমার ঘুঁটি। আবার ছয়, আবার একটি ঘুঁটি।
কোনো প্রথমই নিখুঁত হয় না বলেই আমরা খেলতে এত ভালবাসি। নিখুঁত হয় না বলেই বেঁচে থাকা এত চমৎকার।

( পরবর্তী পারফেক্ট নাম্বার ২৮, সেও এক ইচ্ছেপূরণের কাহিনী )