হ্যাঁ/ না যুদ্ধ! ক্রীতদাস ক্রীতদাসী - একটি ড্রিম ডকুমেন্টারি

তমাল রায়




'স্বপ্নই তো সে,যে আমাদের আত্মাকে দিকনির্দেশ করে। আর তার পাঠানো ছবি,আমাদের প্রাত্যহিকতাকে বুঝে নিতে সাহায্য করে,তবে তাকে ভালো না বেসে উপায় কই'?

(আঁশ ছাড়ালে মাছ কি আর মাছ থাকে ততটা!স্বপ্ন আর এই সব ধূসরিত পাখসাট জীবন কে আলাদা করার সাধ্যি কই,তাই পেটের মধ্যে মাথা ঢুকে গেল,আর মাথায় আকাশ,হাত আর পা হয়ত হাত ধরাধরি করেই চলতে লাগলো,এলোমেলো,কিন্তু সেও তো এক যাত্রাই...)

একটি সরিসৃপ জন্ম যেভাবে শুরু হয়
ভাস্কর,এরপর হেঁটে চলবে,একটি মৃত্যুর দিকে,যেমন
বিকেলের সারাংশে বিকেল হেঁটে চলেছে একক উচ্চারণের দিকে। আপাতত বিপ্রতীপে কানার চক্ষু: নির্বন্ধ। দূরনিয়ন্ত্রিত শিশিরে ধূলা জমে,শুকনো খটখটে। হেমন্ত আসলে এমন হয়। হেমন্ত থেকে ঔপনিবেশিক দূরত্বে বর্ষার পূর্ণতা(!) হয়তবা। যাকে মায়া অথবা সমাজ অথবা সভ্যতা নামেই জেনেছে পূর্বসূরি,উত্তর পুরুষে যা নিছক ভার্চুয়াল নামক আঠাই। অথচ স্টিকিনেস নেই,দেওয়াল জুড়ে আরশোলার পেছনে টিকটিকি দৌড় নেই,অথচ...তাসের দেশ বা ঘর ভেঙে পড়লে নিঃশব্দে,দুঃস্বপ্নের মত জেগে রয়েছে কেবল দুটি চশমা পরিহিত সমাহিত চক্ষু। কেবল আহ্নিক চলনের চপল বাস্প এসে ঘোলাটে করেছে কাঁচ। আর ফটর ফটর হাওয়াই চপ্পলের শব্দ কি তবে কোনো তাচ্ছিল্যই ছুঁড়ে দিলো,অলক্ষ্যে তবে? দূরে হোম দে ব্রট দ ওয়ারিয়র ডেড,মৃত্যু এসে থমকেছে,আঙিনায়। পাখি আসে,শব্দ নেই,এখানে নারী আছে,পর্বান্তরের ন্যায়, এ কেবল পুরুষ পৃথিবীর ক্রন্দন,যুদ্ধ ক্ষয়, দীর্ঘশ্বাস... আর ছায়া হ্রস্বতার মিডাস স্পর্শ থেকে স্পর্শক হতে গিয়ে কেন্দ্র বিকর্ষণমুখী ছিটকে পড়া...
অনিশ্চিতে তাকে গালিব বলেই ডেকো,আড়ালে বৃষ্টি নামছে,আচমনে পিতৃতর্পণ। স্লো মোশনে গলিতে মিশছে গলি,সিঁড়ি উঠে যাচ্ছে চিলেকোঠায়,আর ফ্রিজড। খোলা চিলেকোঠা বেয়ে চুঁইয়ে নামছে হলুদ রক্ত। এ কি তবে সরিসৃপ জন্ম?

প্যান্ডোরার বাক্সে রইল অন্ধকার
'আর,যন্ত্রণা হল এক শব্দ দূষণ। যে দূষণ ছাড়া সঙ্গীত পূর্ণতা পায় না'

ধর পূর্ণর ভাত রাখা নেই তেমন কোথাও। যাদের তেমন ভাত নেই,তারা ভাত পাক। যার সুখ নেই,সে পাক সুখ। আলো আসুক। কথাগুলো বলা শেষ হতেই আলো নিভলো। প্রস্ফুটিত ফুলের মতই অন্ধকারেরও আছে সুগন্ধ। যে টের পাবার তা পায়। জমাট বাঁধতে বাঁধতে দুঃখগুলো পাহাড়। দেওয়াল ভেঙ্গে সে বেরিয়ে পড়ল। 'সে' এক আইরনিক অস্তিত্ব, হাত পা সবই আছে। হাত বাড়িয়ে সে যা যতটুকু স্বস্তির বর্তমান তাকে মুছে দিলো। পা দিয়ে মাড়ালো সম্ভাবনা। জিভ দিয়ে চেটে পুটে নিলো অতীত। ব্যাক গ্রাউন্ড স্কোরে তখন শোনা যাচ্ছে মিউজিক অব ডার্কনেস। বিষাদ কিনা জানা নেই,তবে এ এপিকাল সাগায় পরম স্বস্তিতে হাত পা ছড়িয়ে কেবল মহাকাল। মুখে মৃদু হাসি। নদীতে জল নেই,জলকেলিও। বাতাসের আনাগোনা নেই,গুঞ্জনও। ডুমস ডে,হয়ত এমনই কিছু। এরপর নোয়ার নৌকো চড়ে কেউ আসে। আপাতত এসেছে যে তাকে আমরা টাইম ম্যানেজমেন্টের বাধ্য সন্তান বলেই ভাববো। কালের ইতিহাস লিখতেও এসেছে কেউ। প্রতিটি ধ্বংসের পর আসলে সৃষ্টির আসার কথা। প্রতিটি শীতের ভেতর যেমন লুকিয়ে থাকে বসন্ত। আপাতত এটমিক বম্বার্টমেন্ট। আর নয়া দুনিয়ার সৃষ্টি লগ্ন। আর মুশকিল হল এই,যে প্যান্ডোরার বাক্স নিয়ে নৌকোয় উঠলো যে সে আসলে এক কবি। আর তার বাক্সে আবারও এক টুকরো অন্ধকার।


টবে ফুটে আছে মৃতদেহ

'জ্ঞান কেবল সত্যের ওপর নির্ভর করে দাঁড়ায় না,কিছু মিথ্যেও জরুরী,যেমন আলোয় মিশে থাকে আঁধার'

ফ্রেদরিকোর তেমন ভরসা ছিলো না বর্ষায়। গ্রীষ্ম আরামদায়ক হলে কেবল সমুদ্র তীরে,একা বসে থাকার সময় আলো আঁধারিতে চোখে পড়ত,একটা উজ্জ্বল আলোর অবিরাম ঘুরে যাওয়া। মার কাছেই শোনা,বাবা না'কি অমনটাই ছিলেন,শুনে সে আলোর সিঁড়ি বেয়ে,পৌঁছতে চেয়েছিলো টাওয়ারে। সেখান থেকে সমুদ্র কে চেনা যায়,একটানা সোঁ সোঁ সুরের গায়ে অক্ষর বসিয়ে গড়ে নেওয়া যায় ব্যালাড। যুদ্ধ তেমন বৃহৎ হয়ে ওঠে না। কিন্তু লড়াইটা তো থাকেই। ফলে টবে লঙ্কা গাছ,রেড রোজ,আর ক্রিসানথিমাম। চিঠি আর আসতো না। পাগলের মত মাথা নাড়াতে নাড়াতে ফ্রেদরিকো সময়ের কাঁটা কে উলটো করে দিলো। আর হাত দুটো লম্বা। তারপর ফট ফট কিছু শব্দ। আর ঘুম ছড়িয়ে গেল শহরে। বৃষ্টির ছাঁট লাগতে যখন হুঁশ ফিরলো টবে ফুটে আছে মৃতদেহ। সমুদ্র থেকে তার দূরত্ব মাত্র কয়েক হাত। বাকিটা ক্যামেরায় দেখানো হয়নি। কেবল বিশাল তারাভর্তি অডিটোরিয়াম এ তখন কেবল সমুদ্র গর্জন...

মানুষ আদতে এক ইনস্টলেশন আর্ট,সম্ভাব্য ধ্বংস থেকে কিছু দূর...

'যারা অ-সুখ থেকে সুখের দিকে,তারা ধ্বংস থেকে অভিজ্ঞতায় সৃষ্টির দিকে পথ চলেছেন'
এরিক,মারিয়া আর রেমার্ক। এটা তিন বন্ধুর গল্প। বেড়াতে যাবার প্রাককালে ওদের কেউ তুলে নিয়েছিলো বৃষ্টির কবিতা,কেউ রৌদ্রের গান,আর মেঘ মল্লার এপস। এপস ডাউনলোড করলে প্লে স্টোরে যা হয়,কিছু ক্লাউড,পরে বৃষ্টি,আর ইনস্টলেশন পূর্বক বেহুদা সময়। যারা জানে,তারা জানে ইনস্টলেশন একটা আর্ট মিডিয়াম। ফ্রেম বাই ফ্রেম আসলে অনাবশ্যক কিছু এরেঞ্জমেন্ট,যা দ্বর্থক। এবং স্পেশ, টাইম এন্ড প্লেসমেন্ট সংক্রান্ত একটি বোধি বিদ্যা। আপাতত একটি ট্রেন,অনেক মানুষের মাঝে তিনজন মানুষ। যারা পরস্পর কে বন্ধু ভাবতেই পছন্দ করে। আর জানলার বাইরে অবিরাম ফ্রেম আফটার ফ্রেম হতে হতে,ফেডেড । গান একটি বহুমাত্রিক শিল্প। চিত্র একটি বহুমাত্রিক কলা। আর মানুষ যে নিজেই সাক্ষাত এক ইনস্টলেশন আর্ট। ট্রেন টি পেরিয়ে যাচ্ছে সেতু। ঝম ঝম আওয়াজ। যা বৃষ্টির ও হতে পারে। আর এপস,ওপেন করতেই চোখে পড়ল একটি সম্ভাব্য ধ্বংসলীলা।
হুঁ,ট্রেনটা ভেঙে পড়ছে,ছিটকে পড়ছে যাত্রীরা। প্রশ্ন একটাই,এরিক, মারিয়া আর রেমার্ক কি পড়ে যাবার আগে পরস্পর কে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল? এপসের প্রকৌশলে অবশ্য দেখাচ্ছে ওরা তিনজন তিনটি পাপড়ি বিশিষ্ট একটি ফুলে,রূপান্তরিত হল,ফুলটি নীল। যেমন বিষাদ। ফুলটি হয়ত অপরাজিতা।

পর্যটন অথবা ধূসরিত ধারাপাত

'হৃদয়ের পেন্ডুলাম সত্য থেকে মিথ্যেয় দোদুল্যমান নয়। ভুল ঠিকেও না। তা দোলে সেন্স থেকে নন-সেন্সে'
সাব্বির আপাতত পথে। নোতরদম থেকে যে রাস্তাটা সোজা চলে গেছে এঁদোগলি,সাইকেলে বিশ্বজয়ের এটাই ছিলো আলোকোজ্জ্বল পথ। সবুজে চাকার দাগ পড়েছে যতটুকু। ততটা গভীর নয়,তবু আড়াল বা আবডালে উঁকি দিচ্ছে দিলরুবা কিছু জ্যোৎস্না। ধরা যাক লোকটি জ্ঞানব্রত। অথবা সত্যব্রত। তৃতীয় বিশ্বের কাছে সাইকেল এক উপযোগিতা। পথে নদী পড়েছে ১৩৩ টা। নদীর পাশেইই গড়ে উঠেছিলো যে সকল সভ্যতা,তাদের কিছুটা দূরে পড়ে আছে একটি ধর্ষিত স্তন,কিছু দূরে কাটা যোনী,আর বাড়ানো হাত ও বিচ্ছিন্ন,শেষ মুহুর্তে কিছু বা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলো। পারেনি। পারেনা। স্ন্যাপশটে আপাতত সাইকেল পেরিয়ে যাচ্ছে,সে দৃশ্য। দৃশ্য ধারাবাহিকে দৃশ্যর জন্ম হচ্ছে। মন্দিরে তখন সন্ধ্যে আরতি। মসজিদে আজান। চার্চে ইভনিং প্রেয়ার শুরুর বক্তব্য রাখছেন পাস্টর। রীতিমত যুদ্ধের কায়দায় কেউ বেঁচে থাকছে বলে,ঠেলে উঠছে অফিস ফেরত লোকাল ট্রেনে। আশ্রয় থেকে অনতিদূর যেসব সৌকর্য,তাদের গায়ে আর মসৃণতার কণামাত্র নেই। কেবল নেগেটিভে,রোল ব্যাক করছে সময়। এপিডেমিকের মত ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে সীমানা থেকে সীমানায়,কেবল সাইকেলটা সেতু পেরিয়ে যাচ্ছে কুয়াশায়। এ সব নিতান্ত কোনো ধারাভাষ্য,যার গায়ে হয়ত বাস্প আর ট্রাম লাইন। দূরে,অলক্ষ্যে লাল অথবা ধূসরে হারিয়ে যাচ্ছে জ্ঞানব্রত,সত্যব্রত অথবা,সাইকেল নামক পর্যটক।

অরণ্য, গেরিলা যুদ্ধ অথবা আদিম বারুদ গন্ধ
'যে মানুষ স্বাস্থবান,মন ও শরীরে সে অত্যাচারী হয়ে ওঠে না,অত্যাচারিতই অত্যাচার করে। জমে বারুদ'।
ফুলমণি শহরে আসেনি। শহর এসেছিলো ফুলমণির কাছে। ট্রাম থেকে ট্রামের দূরত্বে লাইন আঁকা আছে কিছুটা। ফুলমণির তেমন কিছু নেই। থাকেও না। না ছাদের ঘর,না জ্যোৎস্না বিছানো শস্যভূমি। দাসীবৃত্তি তেমন কোনো স্বীকৃত উপজীবিকা নয়,যে বার্ধক্যে ব্যাঙ্ক ফ্লাডেড উইদ মানি। লাল আলোর তবু মাদকতা থাকে। ফুলমণির জ্ঞাতিগুষ্টির সকলেই আগাছার মতই ছড়িয়ে আছে গ্রাম-শহর ওরফে জঙ্গলগুলোয়। কেবল যৌন উত্তেজনার কথা ভেবে,যে মধ্যবয়সী জঙ্গল প্রেমী পর্যটকের দল,এখন ক্যাম্প ফায়ার করছে,বন বাংলোর হাতায়,সেখানে চিকেনের বদলে,ফুলমণিকে গেঁথে দেওয়া হয়েছে,আগুণে ঝলসে যাচ্ছে মাংস। পাশে স্বচ্ছ গ্লাসে রঙিন তরল হাতে কবি উদার কন্ঠে গাইছেন,আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে। হরতাল হবে এর পরের ক'দিন। খবরের কাগজ বিশেষ সংবাদ দাতার কলমে প্রভাতী বারান্দায় ছড়িয়ে দেবে,গেরিলা জমায়েতের কথা,বারুদ জমছে শালবনে।

বয়াম ভর্তি বিপ্লব ফেটে পড়ার আগে

'পিওর বা পরম বলে কিছু হয় না। যেমন সম্পূর্ণ রিয়েল আন-রিয়েল বা ভার্চুয়াল '
তিন্নি ভার্চুয়ালের মুখে লাথি মেরে চলে গিয়েছিলো,সে। পনেরো দিন পর ভার্চুয়ালেরই পোঁদে বাতাস করতে করতে সে হাজির। সবুজায়নের এই এক সুগম পথ। সবুজ আলোর মোহ হাতছানি। আলো জ্বলে নেভে। ঘুম ঘোরে গুমসুদা হয়ে যায় স্পর্শ-খুন। তিন্নি তেমন কেউ না। অথবা বিশাল কেউ,কেউ-কেটা। ঘুম আর জাগার মধ্যে ৭ ঘন্টা বাদ দিয়ে বাকি সময়টুকু জুড়ে কেবল,ভার্চুয়াল আলো আর আলোর সামনে মুখ। অক্ষর ভেসে বেড়ায় মুখের পর্দায়! হাসি, হাসিরা নাইতে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাইরের দুনিয়ায় আলো জ্বলে,নেভে,বৃষ্টি জলে নদী জন্ম নেয়,বাঁধ ভাঙে,পাহাড়ে ধস,উপত্যকায় গুলি। সে কেবল চার দেওয়াল থেকে নিজেকে গুটিয়ে পাঁচ ইঞ্চির ভেতর ঢুকে যায়। কাল হয়ত সকাল হবে। তিন্নি তখন শামুক। মেটামরফোসিস। এ সব হিজিবিজি উদ্ধারনপুরে আপাতত কার্ফু। রুট মার্চ করছে অনুভূতির ভুত। দেওয়ালে সার দিয়ে পিঁপড়ে চলেছে। একদিন স্পর্শ থেকে দূরে যাবার পথে,হয়ত শরীর ফিরে পাবে তিন্নি,আপাতত সবুজায়ন,গ্রীন কার্পেট জুড়ে নিউজফিড ঝাঁপিয়ে পড়ল ড্রয়িংরুমে,বেডসাইড টেবিলে বয়াম ভর্তি জ্যান্ত মাছ,ইকেবানা,আর বয়াম ভর্তি বিপ্লব। একটা ছোট টোকা আর ফেটে পড়তেই পারে বয়াম।


ইতিহাস প্রহসন ইতিহাস

'ইতিহাস কেবল পুঁথি নয়,জ্ঞান শাস্ত্র নয়। মানুষের রক্ত আর মাংসই ইতিহাস গড়ে'।

অ অমৃতর যাত্রা হয়ত ৪৬ বা ৪৭ এই শুরু। অমৃত তেমন কেউ নয় হয়ত কেবল সাক্ষী বহমান সময়ের। সাল বা তারিখ আদতে এক প্রথা মেনে ভারতীয় সকাল,বা দুপুর হতেই পারত,স্বাধিকার,স্বাধী তার সকাল। হল না। গণতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র স্বাধীনতা ঘোষণা করলো,জ্যোতিষীর পরামর্শে রাত ১২টায়। ধর্মের জয়! ধর্ম নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে। জন্ম হল ধর্মীয় রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র প্রধান নিজে কিন্তু ধর্মীয় গোঁড়ামির বাইরে থাকেন। জগন্নাথ হলে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে মিটিং কল করলেন,সান্ধ্য নামাজের সময়। রোজার মাস। কে যেন ছুঁড়ে দিলেন প্রশ্নটা,আপনি ধার্মিক? ধর্মীয় রাষ্ট্রের প্রধান! অথচ নামাজের সময় মিটিং? ধর্মকে ঢাল বানিয়ে প্রধান হলেন। অথচ...ধর্ম কি আদতে ইগোর আশ্রয়? অনেক দূরে কনসাশনেস,বিষণ্ণতার কোল ঘেঁষে,একটু নরম আলো। ভোর যেভাবে আসে,মৃদু সুর ও শব্দে ভৈরবীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে হয়ত কখনও। আপাতত অপেক্ষা...





নো ম্যানস ল্যান্ড

'ব্যথা হীনতা কখনও সচেতনতায় পৌঁছে দেয় না। আর উদ্বাস্তু '

নিখিল বা ধরিত্রী দুটি চরিত নয়,ফ্রেম ধরে রাখা দুই অস্তিত্ব। একটা নদীর নির্মাণ অথবা সহজিয়া পরাণ। কিছুটা বন্ধুর। কিছুবা বিধুর। আলো চলাচলে কেবল অনুক্ততা,যেমন রাখালিয়া বাঁশির উত্থান,আর কেমন পর পর যেন হরিদ্রাভ রঙ পাল্টে সবুজ হয়ে যায় আবার ধূসর... নিখিলের তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। নিখিল মানে এই সোলার ওয়ার্ল্ডের পুরুষ ফর্ম। নারীর নাম ধরা যাক ধরিত্রী। গান ভেসে আসার আগে যা কিছু ভাঙচুর,বা সৃষ্টি হয়। তারপর আবার যে কে সেই। নদীটা চলছে,পাশে সবুজ ধানক্ষেত,আকাশে মেঘ ভেসে চলেছে,উদ্বর্তনে যোগ্য যে সে থেকে যাচ্ছে। একটা প্রান্তিক স্টেশন,অপেক্ষায়। ট্রেন আসছে না। স্টেশনে বসা অন্ধ ভিখিরি ভিক্ষে পাচ্ছেনা। কুকুরগুলো ঘেও হতে হতে ধুঁকছে। শহরের জনসংখ্যা বর্দ্ধমান। বাসের পেটে ট্যাক্সি। ট্যাক্সির পেটে অটো,অটোর পাশে প্রাইভেট কার। আর তীব্র শ্রিলিং আওয়াজ। শীৎকার হয়ত বা। ক্যাঁ কু হুম দুম দড়াম। ক্যাওস,ক্যাকোফোনি। নিখিল কে স্থির রেখে ধরিত্রী ঘুরছে। মদ,গাঁজা,হেরোইন,ব্রাউন সুগার,আর যৌনতা। আর,বেশ্যাবৃত্তি। কিছু টাকায় বেচে দিলো শরীর,অর্থই ঈশ্বর। ইগো আর ইগো ব্রেকিং। খোসায় চাপ বাড়ছে,ভেতরে আখরোট। ঝিনুকে চাপ। মুক্তো অথবা না-মুক্তো। জল টল টল। টলেমি থেকে টল টল জল,কেউ কাঁদছে,কেউ কাঁদুনে কে স্বান্তনা দিচ্ছে,আর সর্বনামে আকাশ থমকালো কাঁটাতারে। লং শটে শিশুর দেহ,পড়ে আছে সমুদ্র উপকূলে। রিফিউজি। উদ্বাস্তুতাই,উদ্বাস্ ুতাই...

যুদ্ধ ,বোধ থেকে বোধি
'বিরক্তি গুলোকেও চিনো,সে বোধগম্যতার পথ কে সুগম করে। কিছু জয় করতে গেলে,তাকে গ্রহণ করতে হয় মন থেকে,তবেই তো বেরনোর পথ খুঁজে পাবে,যেমন যুদ্ধ'
জ্যাক ছিলো সেই ট্রেনের গার্ড। তারপর জানো,টয় ট্রেন চলে গেলে। আবার নিঝুম সব। আলো আছে টিম টিমে। কুয়াশাও অনেক। কিন্তু ওই যে বরফ পড়া শুরু হলেই যে যার বাড়ি। আর নইলে যে সকলে মিলে গুলতানি। সেটা আর নেই। কার্ফু নামলে যেমন হয় আর কি। সাঁজোয়া গাড়ি চলেছে সার দিয়ে। বুটের আওয়াজ। হাত ওপরে তুলে হেঁটে যাওয়া। ক্যাপ ফাটার মত আওয়াজ। গুলি চলছে হয়ত । বাস জ্বলছে, পুলিশের গাড়িও। ইতি উতি দুঃস্বপ্নেরা শেল্টার নিচ্ছে,পাহাড়ের আনাচে কানাচে। মন্দ পাহাড় থেকে ভালো পাহাড়ে,যে রোপ ওয়ে,তাতে পর্যটক, মানে এরা পরিযায়ী সত্য-মিথ্যা। কিছু পর এরাও নামবে পাহাড়িয়া দোলাচলে। তখন হয়ত বৃষ্টি নামবে,বনধের পাহাড় জুড়ে। আপাতত নিপাতনে সিদ্ধি। থম থম করছে চোখ মুখ। হাই ফিভার আসলে,ফিভার এফ এম এ বেজে উঠবে,চোলি কা পিছে কেয়া হায়...কু কু কু কু।

তছরুপ হবার আগেই সে রওয়ানা দিলো ট্রেন। ট্রেন বর্ডার পেরিয়ে নামিয়ে দিয়ে আসবে খাবার,পানীয় জল,আরও দু সেট করে খাঁকি উর্দি। মাঝে বাফার স্টেট। তারপর ওয়ার ফ্রন্ট। খোঁড়া মেয়েটা প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধরতে না পেরে,লাইনের মাঝেই দোপাট্টা খুলে ওড়ায়। ট্রেন থামেনি। থামার কথাও নয়। কেবল গার্ড হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিয়েছিলো। তেমন কিছুই নয়। স্রেফ এক প্যাকেট জুঁইফুল। যেতে যেতেই হয়ত শুকিয়ে যাবে। গায়ে লেখা সোলজারের নাম,আর ব্যাটালিয়ন নং। দুধারে অজস্র পুরুষ আর মহিলা। শিশুও আছে কিছু। কারও নাক দিয়ে সিকনি পড়ছে। কারও বা পেট উঁচু। আগামী স্টেশনে অপেক্ষা করে আছে আরও অজস্র মানুষ। আর তো তিনটে মোটে স্টেশন। তারপর ই...

চলন্ত জানলার রডে আপাতত বসে একটি পাখি। ট্রেনের গতি স্লথ তারই সুযোগে কামরার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। উড়ছে । ধাক্কা খেল,সার দিয়ে রাখা বন্দুকে। তারপর উড়ে গেল বাইরে। যাবার আগে পিচিৎ করে খানিকটা পাইখানা করে দিয়ে গেল। ভেতরে গান চেনা একটা সুর,কিন্তু ঠিক মনে পড়ে না। পরের স্টেশনে ট্রেন থামতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ল অপেক্ষমান জনতা। মাইকিং হচ্ছে। ফুল ছুঁড়ছে লোকজন,কি উন্মাদনা। ওরা বিশ্বাস করে,এ দেশ তাদের মাতৃভূমি। আর কে না জানে,মা কখনও হারে না! যারা যুদ্ধে সমস্তটুকু দিয়ে লড়ছে,তারা অবশ্যই বীর সন্তান দেশ মাতৃকার। এতক্ষণ সবাই খুব ধন্য ধন্য করছিলো। প্রশস্তিমূলক কথায় ভরে গেছিলো,স্টেশন চত্তর। এমনিতে এসব স্টেশন কে,কেউ খেয়ালই করে না। কিন্তু এখন তো অন্য ব্যাপার। ...পোয়াতি মেয়েটা কি কুক্ষণে কেঁদে উঠলো কে জানে। এখন ভাবগম্ভীর পরিবেশে জলীয় বাস্প। সকলের চোখেই জল। মেয়েটা তার ইউ এস জি রিপোর্টের প্যাকেটটা গার্ডের হাতেই তুলে দিলো। ট্রেন ছেড়েছে। এখন স্লো বিটে প্যাট্রিওটিক সং বাজছে। ট্রেন এগোচ্ছে,সামনে কিছু দূরেই তো ওয়ার ফ্রন্ট...


ক্যাওস কসমিক ক্যাওস

'সমস্ত ক্যাওসেই থাকে কসমস,আর বিশৃঙ্খলাতে থাকে শৃঙ্খলা,যেমন বিতর্কই আলো ফেলে যুক্তির'।

এমদাদ আর বিষ্ণুপ্রিয়া কথার খেলায় মেতেছে। যেমন তর্ক।

: যে বা যারা ভীতু, সর্বদা দর্শন কে যুক্তি হিসেবে খাড়া করে,এ ছাড়া উপায়ই বা কি!
: কামু।
: হুঁ
: সত্য বড় প্রকট,আলোর মতই। চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। মিথ্যে বরং দূর নক্ষত্রের মত,যা আশপাশের অনেক কিছুই চেনায়।
: কে?
: বল দেখি।
: বুঝিনা।
: কে,সাত্র? সিমন দ বোভোয়ার?
: কামু।
: সত্যি বলে কি সত্যি কিছু আছে?
: জানিনা।
: কেন?
: আর মিথ্যে?
: এত জেনে কি হয়?
: কিছুই হয় না হয়ত। তবু তো মানুষ জানে।
: ইয়ং ইটালি কে গঠন করেন?
: জানিনা।
: মাৎসিনি।
: ইউ এন ও কবে প্রতিষ্ঠা হয়?
: জানিনা।
: ১৯২০, ১০ জানুয়ারি।
: আচ্ছা!
: পৃথিবীর স্বল্প স্থায়ী যুদ্ধ কোনটি?
: জানিনা।
: ১৮৯৬। ব্রিটেন আর জাঞ্জিবার। ৩৮ মিনিট। ব্রিটেন জিতেছিলো।
: আচ্ছা!
: আমেরিকায় ক্রীতদাস প্রথার অবসান ঘটান কে?
: জানিনা!
: আব্রাহাম লিঙ্কন।
: বুঝলাম। জাতি সংঘ বলে কি আদৌ কিছু আছে? না'কি বড়লোক দেশের দালালি করাই জাতি সংঘ!
: হুঁ
: কি হুঁ?
: যুদ্ধ কি শেষ হয় আদতে?
: কি জানি!
: ক্রীতদাস প্রথার অবসান হয়েছে? ইজ ইট?
: তোমার কি মনে হয়?
: এপ্রিল ১৪,১৮৬৫। গুড ফ্রাইডের প্রেয়ারে লিঙ্কন কে কেন খুন হতে হল?
: বেশ!
: আর জানো,যুদ্ধ টুদ্ধ কখনোই শেষ হয় না। চলতেই থাকে।
: আর মৃত্যু?
: কি?
: কিস্যু না,যেদিন প্রেম থাকবে না। আত্মমর্যাদা বোধ থাকবে না,সেটাই মৃত্যু! সে তুমি যতই বেঁচে থাকো।
আপাতত ছায়ার সাথে ছায়ার যুদ্ধ ল্যান্ডস্কেপে। কেবল বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে। কেউ হয়ত কাঁদছে। কেউ কান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগোপনে।
ভিজে ক্যানভাসে হেঁটে যাচ্ছে ছোট্ট চড়াই। ধোঁয়া উঠছে। জীবন না মৃত্যুর কে জানে!

কালেক্টিভ কনসাসনেস অথবা যেভাবে ডকুমেন্টারি...

'শৈশব আদতে বাহিরের আনকনসাস কে জড় করতে করতেই,কনসাসে পৌঁছয়। যেমন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জুড়ে তৈরী হয় মহাদেশ। আর বড় হওয়া মানে কনসাসনেসের এক্সটেনশন'
ঋতিকা ওরফে কনসাসনেস দাদুর হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে,ছ বছরের কন্যা সন্তান। পথ যেমন হয় উঁচু নীচু। সব পথেরই শেষ থাকে। আসলে থাকেনা। এটা হাইপোথিসিস। গল্প লিখতে গেলে,ছবি আঁকা বা মুভি নির্মাণের সময় যেমন কিছু স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন মাস্ট। কিন্তু চূড়ান্ত নয়! দাদুর নাম ইগো আর শিশু কন্যার নাম কনসাসনেস। বাকিটা সময় বলবে। মানে কাহিনীতে রং ঢং লাগাবে সেই। দাদুর স্ত্রী বিগত হয়েছেন প্রায় অনেকদিন। তার নাম ছিলো আনকনসাস। তার সন্তানদের কেউ ছিলো লিবিডো,কেউ ইডিপাস বা ইলেক্ট্রা। নিয়তি নামক জ্যোতিষী এদের বড় করায় বাধা হননি। কেবল কনসাসনেসের ঠাকুমাকে তুলে নিয়েছিলেন,সময় মত। যার গর্ভ থেকেই এই সব কনসাসনেসের বাপ কাকার জন্ম। যা বলার প্রয়োজন তা হল,এই পথ চলাটাই একটা সিনেমা। যাতে বাতাসের মিহিগুঁড়োর মত লেগে আছে সাররিয়েল বা সুপার রিয়েল। দূরে একটা পাহাড়। ধরা যাক এটা উত্তরের এক জনপদ। পাহাড় টাহার যদি এনসার হয় খামখেয়ালির,তাহলে বলা যাক,এনারা উত্তরেই জেনারালি অভিষিক্ত। যেমন ধ্রুব তারা। যদিও ধ্রুব এক ভেগ টার্ম। ভক্ত প্রহ্লাদ বরং এপ্রোচেবল। এখানে বলা বাহুল্য মিসোজিনি আছে। মিথোজীবিতাও আছে। ধরা যাক পাহাড়ের কোলে একটি গ্রামের নাম নকশালবাড়ি। আর ইগো নামক দাদু তার নাত্নী কে নিয়ে হেঁটে চলেছেন এক স্মৃতি সৌধ প্রদর্শনে। নাত্নী কনসাসনেস, আপাতত আঙুল তুলে দেখাচ্ছে একটি নদী। জল বয়ে যেত কখনও। এখন খটখটে শুকনো। দাদু অবশ্য আকাশ ভরা সূর্য তারার নীচে দাঁড়িয়ে সেসব কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। কারণ সন্ধ্যে নামছে,পাখিরা ঘরে ফিরছে। আর কুয়াশা জড় হয়েছে অনেক। যেমন হয়। ধান ক্ষেতে মৃত্যুর নোটিশ বা বিপ্লবে। কেবল কুয়াশায় হারিয়ে গেছে তার নাত্নীটি। স্বজন হারানোর দুঃখে তিনি শোকে কিংকর্তব্যবিমূঢ়! আর কুয়াশার দিকে তাকিয়ে অস্ফুটে বলে চলেছেন :কালেক্টিভ কনসাসনেশ। আর নাত্নী শুকনো নদী পেরিয়ে দাদুকে খুঁজতে খুঁজতে হাতে পেয়েছে চিরকুট। লেখা লুক আউট সাইড ইজ ড্রিমিং,লুকিং ইনসাইড ইজ এওকেনিং। শেষ আলোটুকু সম্বল করে,নাত্নী এপারে,আসতে চেষ্টা করছে। পেরে উঠছে না। বয়সোচিত কারণেই সে নিরুদ্বিগ্ন। দাদুকে এলোপাথাড়ি দৌড়াতে দেখে,সে হাসছে। ভাবছে এও এক খেলাই।
ঋতিকার পাশে আপাতত ভাস্কর,পূর্ণ,ফ্রেদরিক ,সাব্বির,এরিক,মারিয়া,র েমার্ক,ফুলমণি,জ্যাক,তি ন্নি,নিখিল,ধরিত্রী, এমদাদ,বিষ্ণুপ্রিয়া আর অমৃত জড়ো হয়েছে। সাথে রয়েছে আলো, ক্যামেরা আর অন্ধকার,নির্মাণ বা বিনির্মাণ চলছে একটি তথ্যচিত্রর,টাইম রিয়েল বা আনরিয়েলের প্রেক্ষাপটে। অথবা স্বপ্ন।

*** সমগ্র লেখাটির জন্য ঋণী ইয়ুং সাহেবের কাছে। কার্ল গুস্তাফ ইয়ুং। আর বাবা মা প্রতিবেশ।