স্বপ্ন ও কবিতার অন্বেষণ

শামশাম তাজিল

 .

স্বপ্ন নিয়ে কিছু লেখার চাইতে মানে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, সূত্রায়ন ইত্যাদি করার চাইতে স্বপ্ন দেখা ভাল। নিরাপদও। তাতে কিছু না করেই স্বপ্নপূরণ করা সম্ভব। তা সেটা কীভাবে সম্ভব? এই ভাবনারই দরকার কই,তারচেয়ে স্বপ্ন দেখে ফেলাই সহজ, উত্তম! কলেজে পড়ার সময় ফিজিক্স স্যার বলতেন, স্বপ্নেই যখন খাবি, বড় রসগোল্লাটাই খাইস। আমার অবস্থাও হয়েছে তেমন। যখন ঐহিকের জন্য স্বপ্ন নিয়ে কিছু লেখতে বসেছি, তখন থেকেই ভাবছি কী লেখা যায়। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যখন মগজ নিঙড়ে কিছু বেরুচ্ছে না তখন ভাবলাম, স্বপ্নের ব্যাখ্যা, কারণ, ফলাফল ইত্যাকার নানা কিছু না ভেবেই কিছু স্বপ্নের কথা বলে ফেলি।
স্বপ্ন কী? এই জিজ্ঞাসার উত্তর দেবো না। বেশির ভাগ মানুষই স্বপ্ন দেখে। প্রায় সকলেই দেখে।স্বপ্ন সাধারণত স্বপ্ন-দ্রষ্টার জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গীর কোন ত্রুটি সংশোধন করে বা পরিবর্তনের সুত্রপাত ঘটায়। কখনো তা ভবিষত্যের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস। এই বিষয়েই কথা বলব লেখার কোন পর্যায়ে। তবে কেউ কেউ ঘুমের মাঝে যে স্বপ্ন তা দেখে না। ইয়ুঙ তাদেরকে হতভাগা বলেছেন। মানুষ নানাভাবেই স্বপ্ন দেখতে পারে। ঘুমিয়ে, শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে। চোখ বন্ধ করে,খোলা রেখে। তাতে স্বপ্নের হেরফের হয় না। আমার এইকথা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানে মনঃসমীক্ষণের সমর্থন লাভ করবে কিনা জানি না। কিন্তু এইটুকু উপলব্ধি করেছি, সেই উপলব্ধি থেকেই লিখেছিলাম, 'ঘুমের মধ্যে আমি কোন পাপ করতে পার না'। ঘুমিয়ে কেউ কোন পাপ করতে পারে না। তাতে বুঝা যায়, স্বপ্নে যে যাই দেখুক না কেন তাতে পাপ হয় না। স্বপ্ন আমাদের পাপ থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
প্রশ্ন উঠতে পারে, স্বপ্ন নিয়ে লেখতে গিয়ে প্রথমেই কেন পাপের প্রসঙ্গ এল। সহজ করেই বলি, স্বপ্নেই আজিজ্ঞাসমরা স্বাধীন। সেই স্বাধীনতাও আপাত স্বাধীনতাই। বাস্তব জগতে যা করতে পারি না__ স্বপ্নও বাস্তব, সেটা অতিবাস্তব__ স্বপ্নে তা অবলীলায় করে ফেলি। কেউ বাঁধা দিতে আসে না। তাই আমি স্বপ্নের এই স্বাধীনতা উপভোগ করতে চাই।

শৈশবে দাদা বাড়িতে যেতাম ঈদের সময়। ঈদ ছাড়াও যেতাম। পরিবহণ হল লঞ্চ। তিতাসের মৃদু ঢেউ কখনোই ভয়ের কারণ হয় নি। যেতেও সময় বেশি লাগত না। ঘণ্টাখানেকের ভেতরেই নবীনগর থেকে গোঁসাইপুর নামিয়ে দিতো। আনন্দেই কেটে যেতো সময়টা। ভাই-বোনদের হুল্লোড় হৈচৈ। এর ভেতরেই একটা বিষয় খেয়াল করতাম। একটা লোক সবার কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিচ্ছে। ভাড়া কী জিনিস তা তখনও বুঝি না। আমার ভেতরেও ইচ্ছা জাগে বড় হয়ে এই লোকটার মত হওয়া চাই। সেটা টাকার জন্যে নয়। সে চাইতেই সবাই আনুগত্যের ভঙ্গীতে টাকা দিয়ে দিচ্ছে __এইটা আমাকে আপ্লুত করে। বেশিদিন সেই স্বপ্ন টেকে নাই। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকে সব। ক্রিকেট খেলতাম সেই একানব্বই বিরানব্বই সাল থেকেই। তখন প্রাইমারী স্কুলে পড়ি। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে উঠতেই ১৯৯৭ সালেই বাংলাদেশ আইসিসি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা লাভ করে। তখন অষ্টমশ্রেণীতে পড়ি। এবার স্বপ্ন হল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা। বাংলাদেশি হয়েও তখন আমরা ভারত-পাকিস্তান নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। কেউ ভারতের সমর্থক, কেউ পাকিস্তানের। আমি দলের চাইতে ব্যক্তিকে বেশি পছন্দ করতাম। ভাল লাগত টেন্ডুলকারের ব্যাটিং, ওয়াকারের বোলিংয়ের মোহান্ধ ছিলাম। আবার ক্যালিসের সবই ভাল লাগত। স্কুল ফাঁকি দিয়ে খেলার স্বাধীনতা ভোগ করেছি। তা জাতীয় দলে তো খেলা হয় নি, কিন্তু লেখাপড়ার বাইরেও কিছু বন্ধু জুটেছিল।মাঠের বন্ধু।

কবিতা শৈশবে আমাকে অনুরণিত করত কিনা মনে নাই। মনে না থাকার কারণও আছে। গ্রামে বড় হবার নানারকম আনন্দ আছে। সুবিধা আছে। সেখানে নিয়মের নিগড়ে বাঁধা পড়ে না জীবন। মাছ আর পাখি ধরে ধরেই দিন কাটত। আর খেলাধুলাও ছিলই। তখন শব্দের প্রেমে পড়ার দরকার হয় নি। তবু আব্বাকে ছড়া লেখতে দেখে গোপন ইচ্ছা জাগে ছড়া, কবিতা লেখার। অষ্টমশ্রেণীতে পড়তে সময়ই প্রথম কবিতা লিখি। নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় মনির ভাই, তার পরিচয় আপাতত এইটুকুই বলি, তিনি পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, এখন উপসচিব __ আমাদের কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে গঠন করেন আরশীনগর সাহিত্যচক্র। সেখান থেকে হাতে লেখা ছোটকাগজ তিতাসনামা অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হত। একবার মনির ভাই একুশে ফেব্রুয়ারিতে কবিতা নিয়ে একটা অদ্ভুত আয়োজন করেন। দেয়ালে অনেকের লেখা কবিতা সেঁটে দেন। তা আমাদের মত বয়সী কিশোরকিশোরীর লেখাই। মানুষজন প্রভাতফেরি শেষ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কবিতা পড়ে মতামত লিখে দিয়ে যান। সেদিন কী এক কারণে আমি অনুষ্ঠানে থাকতে পারি নাই। বিকেলে খেলার মাঠে গিয়ে শুনি আমার কবিতা নাকি তৃতীয় স্থান লাভ করেছে পাঠকের মতামতের ভিত্তিতে। আর মনির ভাই পুরস্কৃত করেছিলেন আমাদের। আমি পেয়েছিলাম হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস 'তোমাকে'। আসলে সেদিন শুধু বইটা পাই নি। কবিতাপ্রেমের দেখাও পেয়েছিলাম। সেই কবিতাপ্রেম নিয়ে এখনও আছি। এভাবেই স্বপ্ন বদলে যেতে থাকে।

কবিতাই আরাধ্য আজকাল। কোলেরিজ স্বপ্নে কবিতা পেতেন। এর সঙ্গে তার অপিয়াম গ্রহণের সম্পর্ক যারা দেখেন তাদের প্রসঙ্গে এখানে আলাপ তুলব না। সেটা প্রসঙ্গও নয়। তেমন এক বিখ্যাত কবিতা Kubla Khan। যা স্বপ্নের ঘোর কেটে যাবার আগ পর্যন্ত অসমাপ্যরুপে সমাপ্ত হয় এভাবে:
For he on honey-dew hath fed,
And drunk the milk of paradise.
কবিতায় স্বপ্নের প্রসঙ্গ যখন এলোই তখন আরও কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। বলা হয়ে থাকে শেখ সাদি নবী মুহাম্মদ সাঃকে নিয়ে কবিতা লেখার এক পর্যায়ে কোনভাবেই কবিতাটি সম্পূর্ন করতে পারছিলেন না। তখন স্বপ্নের ভেতর কবিতার বাকি অংশটা পেয়ে যান। এটা হতে পারে তার গভীর চিন্তার ফল। ফার্সি জানি না। যে কবিতাটা তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় তার কিছুটা ইংরেজি অনুবাদে পড়া যাক।

He reached the highest in perfection
He removed the darkness with his beauty
All his qualities are beautiful
Send peace and blessings upon him.

বাংলা সাহিত্যে সনেট প্রবর্তক মধুসূদন দত্ত তার বঙ্গভাষা কবিতায় স্বপ্নের প্রসঙ্গ এনেছেন এইভাবে:

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে__
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে! "

বাংলা কবিতার বরপুত্র ফিরে এসেছিলেন ঘরে। তার হাত ধরে বাংলা কবিতা আধুনিক হয়ে ওঠে। তার আগের আর পরের কবিতা এক থাকে নাই।
শুধু তিনি নন, আমাদের মহৎতম কবি রবীন্দ্রনাথের ' স্বপ্ন' কবিতার কথাও উল্লেখ করা যায়। তিনি বলছেন__

দূরে বহুদূরে
স্বপ্নলোকে উজ্জয়িনীপুরে
খুঁজিতে গেছিনু কবে শিপ্রানদীপারে
মোর পূর্বজনমের প্রথমা প্রিয়ারে

তার প্রিয়ারে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন। যখন তার প্রিয়া তাকে জিজ্ঞেস করেছিল:
' হে বন্ধু আছ তো ভালো? 'মুখে তার চাহি
কথা বলিবারে গেনু, কথা আর নাহি।

ব্যাপারটা তেমনই। স্বপ্ন যখন সত্য হয়ে আসে কিছু বলার থাকে না। নিজেকে ব্যক্ত করার ভাষা হারিয়ে যায়। তেমনই দেখা যায় শেকসপিয়রের ডক্তর ফস্টাসে। ফস্টাস যখন তার কাঙ্ক্ষিত নারী হেলেনকে স্বপ্নে সম্মুখে দণ্ডায়মান দেখতে পায় তখন সে ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারে না। কিছুটা দ্বিধা আর অবিশ্বাস নিয়ে তাকে বলতে শুনি __

Was this the face that launch'd thousand ships
And burnt the topless towers of Illium?
Sweet Helen, make me immortal with a kiss

আর এইটা প্রেমিকের চিরকালের আহবান। যেন মধুসূদনের সেই 'মায়ামন্ত্রধ্বনি', যা তিনি শুনেছিলেন নিশার স্বপ্নে।

শুধু কবি নন, বিজ্ঞানীরাও স্বপ্নে অনেক কিছু পেতেন। মেন্ডেলিফ স্বপ্নে পিরিয়ডিক টেবিলের সমাধান পেয়েছিলেন। আইন্সটাইন আলোর গালিচাতে গড়িয়ে যাবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার Photoelectric Effect__ যার জন্য তিনি ১৯২২ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন __এই স্বপ্নের সাথে সম্পৃক্ত। Alan Lightman ১৯৯২ সালে আইনস্টানের স্বপ্ন নিয়ে লেখেন তার বিখ্যাত উপন্যাস Einstein's Dreams। ভারতের বিখ্যাত গনিতবিদ রামানুজনের স্বপ্নের কথা তিনি ব্যক্ত করেন এভাবে: There was a red screen formed by flowing blood, as it were. I was observing it. Suddenly a hand began to write on the screen. I became all attention. That hand wrote a number of elliptic integrals. They stuck to my mind. As soon as I woke up, I committed them to writing.

গ্রাহাম গ্রীন নোটবুকে স্বপ্ন টুকে রাখতেন। শুধু বিজ্ঞানীরা নন, স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে গেলে ধর্মগুরুদের কথাও উল্লেখ করা লাগে নিশ্চিতরূপেই। বুদ্ধদেবের জন্মের পূর্বে তার কুমারী মাতা মহামায়া স্বপ্নে দেখেছিলেন স্বর্গীয় দেবদূত আবির্ভূত হয়ে তাকে বলল: দেখ বাছা, তুমি এমন একটি সন্তান ধারণ করবে যে রাজকীয় বংশের কুমার হয়েও সংসার ধর্ম ত্যাগ করে মানুষের কষ্ট লাঘব করবে। ফেরাউনের স্বপ্নের কথা কোরানে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত হয়েছে ইউসুফ আঃ-এর স্বপ্নের কথাও।সুরা ইউসুফে আছে:

যখন ইউসুফ পিতাকে বলল : পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সূর্যকে এবং চন্দ্রকে।আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।

আরও বিখ্যাত এক স্বপ্নের কথা আমরা জেনেছি। আব্রাহামীয় ধর্মগুলোতে পশু কোরবানির যে রেওয়াজ তার সঙ্গে ইবরাহিম আঃ-এর স্বপ্নে দেখা প্রিয় বস্তু কোরবানি দেবার স্মৃতি জড়িত। ফ্রয়েড স্বপ্নের সঙ্গে ধর্মীয় রীতির সম্পর্ক নিয়ে সেই জন্যেই আগ্রহী ছিলেন। তার A General Introduction to Psychoanalysis পড়লে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভাষাতাত্ত্বিক শঁপোলিয়ঁরের জীবনেও মিশরীয় প্রাচীন হায়ারোগ্লাফিক বর্ণমালা ও ভাষার অর্থ উদ্ধারের সঙ্গে স্বপ্নের নানা রকম সম্পর্কের কথা প্রচলিত আছে। এইসব উদাহরণ সম্মুখে রেখে এইটুকু উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি, মানুষের জীবনে স্বপ্ন ও তার গুরুত্ব সীমাহীন।

কথা বলছিলাম স্বপ্ন ও কবিতা নিয়ে। মধুসূদন আর রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের উল্লেখ করেছি। বাংলা সাহিত্য তাতে কতটা লাভবান হয়েছে তা সবারই জানা। আমিও প্রায়ই স্বপ্নে কবিতা পাই। কিন্তু মানসিক শক্তির অভাবে স্বপ্নগুলোকে ধরে রাখতে পারি না। তাই কবিতাগুলো হারিয়ে যায়। আলোচনা আর দীর্ঘায়ত করছি না।

তবে কয়েকটি স্বপ্নকে কবিতায় রূপ দিতে পেরেছি। তেমনই একটা কবিতা, আলিফ__ এক মূর্খের ফিকির। কবিতাটা পড়া যাক।
আলিফ_ এক মূর্খের ফিকির

সব কিছুর অর্থ বুঝবো আর আত্মোপলব্ধ হবে জগতের ভার তেমন ক্ষমতা নিয়ে জন্মাই নি;
উড়ন্ত পাখির গতির নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে।
ভোরবেলা বাসের পেছেনে দৌড়ানো বালকের আছে গন্তব্য।
বারান্দায় কাপড় শুকাতে দিতে এসে আকাশে তাকিয়ে থাকার রয়েছে কোনো না কোনো ব্যঞ্জনা,
কারণ!
রাত জেগে ঘুমকে পাহারা দেয় যে পুরুষ -আপাত তা হোক যতই নিরর্থক_তার উপলক্ষের শেষ নাই।
ঘুমের ভেতর চুম্বনের অবকাশে শরীর খুঁজে নেয় সামান্য বিশ্রাম,
প্রিয় মুখে কালিমা লেগে যাবার ভয়ে কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়

আব্বা স্বপ্নের ভেতর কেটে নিতে চাইলেন দুই হাত, আমি গলা বাড়িয়ে দিলাম!
কিন্তু গলায় ছুরি চালাবার আগে তিনি বললেনঃ হাত কেটে নেয়া হোক;
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছি মৃত্যু,_
হাত কেটে নেয়ার আগে মৃত্যু দাও, খোদা!
তিনি আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলেন।
'অনেক বেলা হয়েছে, ওঠে নাস্তা করো'-- এই বলে আব্বা ফিরে গেলেন অন্য ঘরে।
আমি তাকিয়ে ছিলাম তার শাদা গেঞ্জির কোথাও কোনো রক্ত লেগে আছে কিনা?
নিজের হাতের দিকে তাকাবার কথা আমার মনেও পড়ে নি।