গম্বুজ

অভিষেক ঝা



স্বপ্ন আর যৌনতার ভিতর কেমন যেন এক আক্ষেপ থেকে যাওয়া প্রেমময় দূরত্বের সম্পর্ক অসহনীয় ভাবে সহাবস্থান করে, না কি , সহাবস্থান করতে চায়, না কি, না চেয়েও সহাবস্থান করে চলে, না কি, অসহায় ভাবে অবস্থিত হয় শুধু ? যৌনতার শুরু স্বপ্নের ভিতর দিয়ে , না কি, স্বপ্ন শুরু হয় ভিতর যৌনতার আলপথ বেয়ে , না কি, স্বপ্ন আর যৌনতা আল বরাবর হাঁটতেই থাকে পরস্পরের দিকে ? এই যে তোমার কলারবোন বেয়ে পাখিদের এক কিনার থেকে আরেক ইচ্ছেয় সরন দেখছি, সেখানে স্বপ্ন’টা কার ? পাখিদের? ওরা কি কেবল তোমার টনসিলের ধুকপুক আর বুকের লাবডাবের মধ্যবর্তী এক ইচ্ছায় আটক হয়ে আছে, না কি, ওরাই তোমার ধুকপুক আর লাবডাবের হরেক বিন্যাস ও সমবায়ে স্বপ্ন তৈরি করে? পাখি’গুলো ছিল তোমার সেই কবে থেকে বুনে যাওয়া ইচ্ছার প্রকাশ, না কি, ইচ্ছেটা প্রকাশ করতে তুমি পাখির কথা ভেবেছিলে? তুমি না কি প্রায়ই স্বপ্ন দেখতে একটা পাহাড়ের ঢাল থেকে অবাধ পতনের? আচ্ছা, পাখি’গুলোকে তো আয়নায় নিজেকে দেখবার সময়, বা সেলফি তোলার সময় ছাড়া তুমি দেখতেও পাও না, পাখি’গুলোকে যখন তুমিও দেখ না, আমিও দেখি না, অন্য কেউও দেখে না, তখন পাখিগুলো তোমার কলারবোনের আকাশ জুড়ে থাকে তো, না কি, সেই সময় ওরা অন্য কারো স্বপ্নের কলারবোনে ঢুকে থাকে? ওরা ফিরে আসার পর, ওরা কি তোমার সেইসব স্বপ্ন, যা তুমি আধো- আধো ভাবে বিনির্মাণ করতে পার, আর ভাবতেও পার, ওগুলো তোমার আধো-আধো ভুলে যাওয়া স্বপ্ন ?
সুবিশাল এক দীঘির সামনে আরও সুবিশাল হয়ে যে দুপুর পড়ে আছে, তাদের ছেদবিন্দুতে যে লোকটা স্নান করছে তুমি তার স্বপ্নে অনুপম এক ভয় হয়ে আছ । এসব জলের তলে অজস্র অবদমন মুখ বুজে মাটি হয়ে বুদ্বুদ হওয়ার ক্ষণের অপেক্ষায় কত কাল ধরে চুপ হয়ে থাকে।যারা শ্বাস বন্ধ করে জলের তলে যেতে পারে তাদের ঘিরে ধরে সেই দমবন্ধকর অবদমনরা, স্বপ্নসম হয়ে ওঠে সময়। স্থির হয়ে একসময় বুক চাপ দেয়, ধরপড়িয়ে ভেঙে যায় সব। এই সুবিশাল দু্পুরের সামনে সুবিশাল এক দীঘি সেইসব অবদমনকে খানিক ভুলতে চেয়ে ছোট্ট তোমার সাহায্য নেয়। জলে তোমার ছোঁড়া ইটের হঠাৎ করে জলকে ছোঁয়ার ঝপাং এক শব্দে , ও না দেখতে পাওয়া এক স্বপ্নিল স্বরের রিনরিনে হাসিতে সে ভয় পেয়েছিল, স্বপ্নে যেমন ভয় দেখা যায় না, কিন্তু পাওয়া যায় --- অনেক অনেক দিন পর ঘরে বসে, তুমি হেসে গড়াতে গড়াতে বলছিলে।ঘোর জুড়ে তখন দীঘির তল। আর... একটা ছোট্ট বুদ্বুদ সুবিশাল দুপুরের দীঘি হয়ে যাওয়া অংশটা শরীরে নিয়ে উপরে উঠতে শুরু করে...
লোকটার চোখ তুমি দেখো নি, তাই তার চোখের কোণে ভয়ের সাথে একফালি জলপরীকে দেখার ইচ্ছের যে স্বপ্ন খেলছিল, তার সাথে তোমার মোলাকাত হয় নি সেই নিকষ আলোর দুপুরে। আলোতে ঢাকা পড়েছিল সব ইচ্ছে । অবদমিত হয়ে আবার দীঘির তল খুঁজে নিল আরেকটি স্বপ্ন । আমার সাথে তার দেখা হয়েছিল বোধহয় একবার । অনেক অনেক দিন পর গভীর রাতে গমের ক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে ফকসির পাল্লায় পড়েছিল । আগুন জ্বালিয়ে চারটে মেয়ে ন্যাংটো হয়ে নেচে চলেছে, হুম হুম করে কি যেন এক সুর, এগিয়ে আসছে... ঘুম লেগে থাকা মশারির ভিতর তেষ্টা নিয়ে জেগে উঠি ; এ স্বপ্ন কেন দেখলাম তা নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ভাবছিলাম আমি; আর সে সময় তক্ষকের শব্দ -স্মৃতি জাগিয়ে তোমার কলারবোনে লেগে থাকা একটি পাখি বলে বসেছিল ক্যা হো ক্যা হো। বাকিটা জুড়ে ভেজা গমের গন্ধের ম ম করা মৌতাত।
স্বপ্নের মত আজকাল নাকে আসে সে গন্ধ, না কি, সে গন্ধ শুধু স্বপ্নেই পাওয়া যায় ? স্বপ্নে কি গন্ধ পাওয়া যায় ? তবে কি যৌনতার গন্ধে স্বপ্ন জন্ম নেয় ?যে লোকটি পাখি’গুলো খোদাই করেছিল তোমার কলারবোনে সে কি পাহাড়ের ঢাল থেকে অবাধ পতনের স্বপ্ন দেখত বারবার, না কি, তার এখনও না দেখা স্বপ্নে একটি পতনের অবাধ সম্ভাবনা ছিল বলেই সে পাখি’গুলোকে আমাদের স্বপ্নের পাখি করে দিয়েছিল?
-----------------------------